As primeras 200 linias.
চুপ থাকো!
হাত উপরে তোল! ডাকাতি করতে এসেছি!
সব টাকা এদিকে দাও, তাড়াতাড়ি করো!
এসব কী দিচ্ছো?
স্যার, এগুলো হলো ইয়েন।
আমি তো এইসব চাইনিজ টাকা নিতে আসিনি!
এগুলো চাইনিজ টাকা না, এগুলো জাপানীজ। খুব ভালো দর পাবেন।
বাজে কথা রাখো! আমাকে ইউরো দাও! ফ্রেঞ্চ ইউরো!
আমার কাছে কিছু ইউরো ছিলো। কিন্তু একটু আগেই কয়জন জাপানি এসে সব নিয়ে গেছে।
তারাও তোমার এখানে ডাকাতি করতে এসেছিলো!!
না, তারা তাদের ইয়েন পরিবর্ত করে ইউরো নিয়ে গেছে।
ধুর ছাই!
এই সব ইয়েন আমি এখন কোথায় পাল্টাবো? তোমাদের এখানে কোন ব্যবস্থা আছে?
আমার কাছে শুধু কিছু ব্রিটিশ পাউন্ড আর কানাডিয়ান ডলার আছে।
কোন ধরণের ব্যাংক এটা?
এটা মানি এক্সচেঞ্জ, স্যার!
আমি তো ভেবেছিলাম এটা ব্যাংক।
সমস্যা নেই, রাস্তার ঐদিকে একটা ব্যাংক আছে।
ওটাতে গেলে ইউরো পাওয়া যাবে?
হ্যাঁ, এটা তো খুবই বিখ্যাত ব্যাংক, বিএফসি
সবাই হাত উপরে তোল! ডাকাতি!
ঐ দিকে গেছে!
এই যে! স্যার কোথায় যাচ্ছেন!
স্যার কী করছেন!
কী অবস্থা! কেমন আছো!
আমি কন্টে, বাড়ি মন্টার্জি তে।
খাচ্ছো না কি?
না, এখানে বসে বসে হাগু করছি!
আমার সাথে ঠাট্টা করছো, তাই না?
এটা "লিটিল ক্র্যাকার" কমেডি শো?
আমার কাছে কী চাও তুমি?
এমনি জিজ্ঞাস করালাম। আমি জানি এটা "লিটিল ক্র্যাকার" কমেডি শো।
তুমি সব সময় গালের একপাশ দিয়ে চিবিয়ে খাও?
এরকম বিরক্ত করছো কেন?
জিজ্ঞাস করছি কারণ, তোমার বাম পাশের দাঁত সম্ভবত পোকায় খাওয়া। এজন্যই তুমি সবসময় ডান পাশ দিয়ে চিবাও।
আমার সাথে একজনের পরিচয় হয়েছিলো, নাম মিশ
নাকি মিশরা! যাই হউক, নামটা ভুলে গেছি।
চুপ করো! আমি একটু নিরিবিলি থাকতে চাই।
অহ, প্লিজ, তুমি খেতে থাকো, আমার কোন সমস্যা হচ্ছে না।
যার কথা বলছিলাম, মিশ! মিশরা! নাকি মিশা! জানিনা!
সে তোমার মত ছিলো, বাম গাল সবসময় ফুলে থাকতো।
আমি হাসতাম আর তাকে বলতাম,
'তুমি তো দেখতে গাধার মত, কিন্তু গাধার মুখের এক পাশের মত', হা হা হা!
-আচ্ছা, তুমি কি চাচ্ছো যে আমি তোমার মাথাটা ফাটিয়ে দেই? - না! ঠিক আছে!
আমি তাকে ডাকতাম 'অর্ধেক মুখা গাধা'
সেও তোমার মতই শব্দ করে খেতো, মনে হতো যেন একটা শুকর
তাকে বলতাম, 'তোমার মুখের অর্ধেক গাধার মত, কিন্তু খাও পুরোপুরি শুকরের মত'
আবার সে! একেবারে খচ্চর!
আমি তো কিছুই বুঝলাম না!
আমরা আলাপ করছিলাম, হঠাৎ সে আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো।
তাকে এভাবে রাখা যাবে না।
জানি, কিন্তু আমাদের সিঙ্গেল-রুম খুব বেশি নেই
তাকে যতবারই অন্য কারো সাথে রাখি, কিছু একটা ...
একটা উপায় হয়তো আছে
ভাল মত দেখো
এখানে কী দেখতে পাচ্ছো?
কাগজে ময়লার দাগ লেগেছে?
হ্যাঁ, ঠিক আছে
কিন্তু এই দাগ দেখে তোমার মাথায় কী ভাবনা আসছে?
মন দিয়ে দেখো
দাগ পরিষ্কারের জন্য ক্লিনিং শপে নিতে হবে?
কন্টে, দাগের আকৃতি টা কেমন বলো,
দাগ পরিষ্কার করা নিয়ে ভাবতে হবে না
অহ! মাফ করবেন।
একটা মাছি ছিলো ! মারতে পারিনি, পালিয়ে গেছে!
তো! দাগের ব্যাপারে বলো!
আপনার টাইয়ে দাগে লেগেছে।
না! কাগজের ঐ দাগের ব্যাপারে বলো।
এটা তেমন কোন সমস্যা না।
কিন্তু তোমার টাইয়ের ঐ দাগ খুবই বিশ্রী লাগছে।
নড়াচড়া করো না...
অহ! খোদা! পুরাই গর্দভ!
এবার ধরে ফেলেছি
আমি তো বলেছি ওটা একটা দাগ মাত্র।
না! আমার পক্ষে তাকে রাখা সম্ভব না।
অহ, না! আপনি এমন বলতে পারেন না।
আমি তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি, সে পাগল না
তার মানসিক অবস্থা সম্পূর্ণ ভালো এবং তার নিয়ন্ত্রণেই আছে
ডক্টর, যা ভালো হয়, কিছু একটা করো
আচ্ছা।
সত্য বলতে, সে অসম্ভব রকমের বোকা
ডক্টর, যেভাবে পারো, তাকে এখান থেকে নিয়ে যাও, আমি নিশ্চিত মানসিক হাঁসপাতালই তার উপযুক্ত জায়গা।
আমার ওখানে পাগলদের চিকিৎসা হয়, বোকামির চিকিৎসা না
বোকাদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ইন্সটিটিউট বানাতে যেতে পারে,
কিন্তু ওটা কত বিশাল আকারের বানাতে হবে ভেবে দেখো!
চলে এসেছো!
সারাদিন কেমন কাটলো?
ভালই, কিছু কেনাকাটা করলাম।
গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে কোন কথা বলছে না, এমনকি একটা শব্দও না
তার সম্পর্কে বেশি কিছু জানতে পারিনি
দেখ, এইসব নাটক আমিও করতে পারবো
কয়েক ঘন্টার জন্য চুপ করে বসে থাকা, সামনের দেয়ালে তাকিয়ে থাকা
আমরা লাশটা খুঁজে পেয়েছি।
তুমি সিনেমা দেখার মত দেয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকো, আমি তোমাকে দৃশ্যগুলো বর্ণনা করি
একটা জঙ্গল, মাঝ রাত্রি
প্লাস্টিকের ব্যাগ মাটি চাপা দেয়া আছে, ভিতরে একজন সুন্দরী মহিলার অর্ধগলিত লাশ।
ভোজেল একজন সুন্দরী মহিলাকে গুলি করে মেরেছে শুধুমাত্র তোমার শয্যাসঙ্গিনী হওয়ার কারণে
শুনতে ভালো লাগছে?
আচ্ছা ঠিক আছে, তোমাকে আর একটা দৃশ্য শুনাই
একটা ক্যাশ ডেলিভারি ভ্যানে রকেট হামলা হলো
রাস্তার উপর খুনোখুনি
একজন লোক হঠাৎ এসে ডাকাতদের কাছ থেকে সব টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চলে গেলো।
আগেরটার থেকে ভালো, ঠিক না?
তোমার কাছে কোনটা ভাল মনে হচ্ছে?
আচ্ছা এখন পরের দৃশ্যে যাই
ভোজেলের বাড়ির ঘটনা
তুমি তার সাথে অনেক দিন কাজ করেছো
ঐ বাড়ি কত বিলাসবহুল আর জাঁকজমকপূর্ণ সেটা তোমাকে আর নতুন করে বলা লাগছে না
ঐ বাড়িতে একটাই কুৎসিত জিনিস আছে, সেটা হলো ভোজেল নিজে
তুমি তার সাথে ঝামেলায় জড়িয়েছ, সে প্রতিশোধ নিতে উন্মুখ হয়ে আছে।
টাকা গুলো...
রুবি, আমি আসলে ভোজেলকে ধরতে চাই, তোমাকে না
টাকা গুলো ফেরত দিয়ে ভোজেলকে ধরিয়ে দাও
সাথে-সাথেই আমি তোমাকে এখান থেকে বের করে নিয়ে যাবো
দেয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকো, সমস্যা নেই আমার বিশ্বাস, তুমি ঠিকই আমাকে সাহায্য করবে
জঙ্গলের প্লাস্টিক ব্যাগের ঘটনাটাতে যদি তোমার মনকে পরিবর্তন করে, আমাকে জানিও।
কী অবস্থা? কী করছো?
আমার নাম কন্টে, বাড়ি মন্টারজি
তো আমি কী করবো!
তুমি কথা বলতে চাচ্ছো না।
অনেক দিন যাবত জেলে থাকলে এমন অবস্থা হয়।
তোমার এখানে কত দিন হলো?
আমি একজন আফ্রিকানকে চিনি। তার বাড়ি এন্টিলিসে।
আরে বোকা! তার বাড়ি যদি ক্যারিবিয়ান এন্টিলিসে হয়ে থাকে, তাহলে তো সে এন্টিলিয়াস। আফ্রিকান না!
না, সে তো আফ্রিকান। তার নাম জোসেফ।
অনেক এন্টিলিয়ানের নামও জোসেফ আছে।
তা জানি না।
হতে পারে!
দেখলে! এখন কিন্তু কথা বলছো তুমি।
কী নাম তোমার?
জোসেফ
তাহলে তো তুমি আফ্রিকান।
আরে গাধা! আমি এন্টিলিয়ান।
ঐ জোসেফের মতই, সেও আফ্রিকান
মার্টিনিয়ান, আর এন্টিলিয়ান
আমার সাথে ফাজলামি করছো?
আরে না, আমি তো বরং, আফ্রিকানদের পছন্দ করি।
এটাতে আমি ঠিক আশ্বস্ত হতে পারছি না
সারাক্ষণ শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে
তুমি তো জানোই
রুবি, অনেক ঝানু লোক
এসব টেকনিক তার উপর কাজ করবে না
অহ! না!
এই লোকটা আবার!
কী হয়েছে?
কন্টে!
ঐ ফালতু লোকটা পুরাই গর্দভ, যেখানেই যায়, গণ্ডগোল পাকায়
চেহারাটা দেখ!
২ সপ্তাহের মধ্যে ৫ জন বন্দীর মাথা খারাপ করে দিয়েছে।
কেমন আছো?
আমার নাম কন্টে, বাড়ি মন্টারজি
ওদিকে কী দেখছো?
আমিও একটু দেখি?
কিছু তো দেখছি না!
অহ, বুঝেছি!
ঐ মাকড়সাটা দেখছো?
আমি একবার একটা মাকড়সার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছিলাম, সত্যি বলতে, আসলে কোন কাজ হয়নি।
মাকড়শা কোন আগ্রহই দেখায় না
আমি যতই বলি এটা-ওটা করতে, শুনে না
এমনকি সামান্য ব্যাপারগুলোও না
বসতে বলি, শুতে বলি, সামনে-পিছনে যেতে বলি কিছুই করে না!
শুধু চুপচাপ একদিকে তাকিয়ে থাকে
আমার মনে হয়, মাকড়সারা আসলে কিছু বুঝে না
ব্যপারটা আশ্চর্য লাগে! হয়তো ঐ মাকড়শাটা একেবারেই বোকা ছিলো।
এরকম প্রায় এক মাসের মতো... পরে আর চেষ্টা করিনি
তুমি চাইলে এটার সাথে কথা বলার চেষ্টা করতে পারো,
কিন্তু কোন লাভ হবে বলে মনে হয় না।
তোমার চুল গুলো কিন্তু আমার খুবই ভালো লেগেছে
আর তোমার চোখ দুটো একদম ঘোড়ার মত
ঠাট্টা করছি না, আসলেই বলছি
তোমার চোখ দুটি সত্যিই ঘোড়ার বাছুরের চোখের মত
ভালই চলছে!
ছোট থাকতে আমি ঘোড়ার জকি হতে চেয়েছিলাম
কিন্তু এত বড়সড় ছিলাম যে আর জকি হতে পারিনি
ঘোড়ার দেখাশোনার কাজ করতাম
ওখানের ঘোড়াগুলোর এমন সুন্দর বড়-বড় চোখ ছিলো ঠিক তোমার চোখের মত
ঘোড়ার আস্তাবল (ঘোড়ার গোয়ালঘর) আমার খুবই পছন্দ কী সুন্দর ঘ্রাণ!
ঘোড়াগুলো কেমন বড়-বড় চোখ নিয়ে তাকিয়ে থাকে!
একটু দুঃখী দুঃখী চাহনি
এখানে তোমাকে পেয়ে আমি খুব খুশি
ঠিক সেই ঘোড়ার আস্তাবলে যেমন ছিলাম
ঘোড়াগুলোর পিপাসা পেলে এমন শব্দ করতো।
বাইরে চড়াতে নিয়ে গেলে কেমন করতো শোন...
আমি নিশ্চিত সে এই অভিনয় বেশিক্ষণ চালাতে পারবে না
জেলের সেলেই বসে থাকে সারাক্ষণ, কোন কথা বলে না
কারো সাথে যোগাযোগও করে নি
শুধু হকুম দিন, এখুনি তাকে শেষ করে দেই
কিন্তু আমার টাকার কী হবে?
রুবি কে চেনা আছে, জেলে সে বেশি দিন থাকবে না
জেলের গেটে আমি তার জন্য অপেক্ষা করবো
কন্টে, কী অবস্থা তোমার?
মিঃ ওয়ার্ডেন, আমি খুবই ভালো আছি
আচ্ছা! নতুন বন্ধুর সাথে ভালই জমেছে?
হ্যাঁ, খুব ভালো
সে তো চমৎকার, সবকিছুতেই তার উৎসাহ
সে তো কথা বেশি একটা বলে না
না
কিন্তু মন দিয়ে শুনে সবকিছু
তার সাথে যে কোন কিছু নিয়েই আলাপ করা যায়
আমার সাথে কখনোই তর্কে করে না, বিরক্ত হয় না
No comments yet. Be the first to leave one.