As primeras 200 linias.
বাবু সোনাকে দেখো কতো যত্ন করে গোসল করিয়ে দিচ্ছি!
তোর গালে গোলাপী ছোপটা পছন্দ হয়েছে, সিল্কী?
না, আমি যেমন আছি সেভাবেই দেখতে সুন্দর! আমার এসব মেকাপ লাগবে না!
জানি রে বাবু!
কিন্তু তোর আম্মু তো জানে না তুই কী পছন্দ করিস!
কিন্তু, বিশ্বাস কর তোকে দেখতে কিন্তু সিনেমার হিরোইনের মতো লাগছে!
হয়ে গেছে!
এখন অনেক ভালো লাগছে না?
তোকে যে ছেলে বেড়ালই দেখবে, ক্রাশ খেয়ে যাবে!
শোন, প্রেম পিরিতী করলে চেহারার যত্ন-আত্তি করতে হয়, বুঝলি?
আমার কথায় একমত?
এইতো হয়ে গেছে!
THE CAT
আপনি চলে এসেছেন!
অনেক কেনাকাটা করেছেন দেখছি!
একটা শপে ডিসকাউন্টের অফার দেখলাম কিন্তু তেমন কিছু কেনার ছিল না!
সিল্কী কই?
ও দেখতে বেশ সুন্দর!
সো-ইয়ন?
ওরে খোদা! আমার আদরের বাচ্চাটাকে দেখতে তো ভারি সুন্দর লাগছে!
বলেছিলাম না গোলাপী ছোপে ওকে দেখতে বড্ড সুন্দর লাগবে?
তাও, ওকে এভাবে মেকওভার করাটা ঠিক হয়নি। বেড়াল কিন্তু ক্রমাগত হাত পা শরীর চাটে!
সেজন্যই বেড়ালদের গলায় একটা প্লাস্টিকের ঝালড় লাগানো হয়।
শরীরের লোমগুলো আরেকটু ছাঁটতে পারতে?
এর আগে ছাঁটা হয়েছিল তাও বেশিদিন হয়নি।
শীতকালে কিন্তু ওদের ঠান্ডা লেগে যায়।
ঠিক আছে তাহলে।
কত পড়ল?
১২০০০ ওন দিলেই চলবে!
ওজন কমিয়েছেন নাকি? আগের চেয়ে একটু চিকন লাগছে।
সত্যি?
জিমে যাচ্ছি নিয়মিত, আর সিঁড়িতে করে উঠানামা করছি।
দেখ নিজেকে আয়নায়!
ওমা, কতো সুন্দর লাগছে তোকে!
সো-ইয়ন? মিসেস লি এখন বের হবেন!
ভয় পেও না!
স্থির থাকো, বাবু!
লিফটের আবার কী হলো?
তোর আবার কী হলো রে?
কেন যে ওর আসতে এতো দেরি হচ্ছে? খিদেয় পেট চোঁ চোঁ করছে!
বেড়ালের পিছেই সব টাকা গেল!
ফোন ধরছে না কেন? উফফুরে!
এইতো, ম্যাডাম আসতেছে!
ফোনে তো রিং হচ্ছে!
জান, তুমি কি লিফটের ভেতরে? ফোন ধরছ না কেন?
লিফটের দরজা খোলে না কেন?
মেয়েটা ঘরের ভেতরে যেতে চাচ্ছে না।
তাই, ছেলেটা ঘরের উঠোনে মেয়েটার জন্য আগুন জ্বালায়।
মেয়েটা ঘরের ভেতরে কেন যেতে চাচ্ছে না?
কারণ, ঘরের ভেতরটা বেশ অন্ধকার।
সে তো চাইলে ঘরের ভেতরে লন্ঠনও জ্বালাতে পারতো।
মেয়েটা হয়তো ঘরে ঢুকতে কোনো কারণে ভয় পাচ্ছিল।
ভয়ের কী আছে এখানে?
কারণ, ছেলেটার হাতে ছুরি আছে।
ছেলেটা মেয়েটাকে সুরক্ষিত রাখছিল।
যাতে, মেয়েটার ক্ষতি কেউ না করতে পারে।
সাবওয়ে দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করেছ?
জ্বি।
ভয় পাচ্ছিলে কিন্তু তেমন কিছু ঘটেনি, তাই না?
জ্বি।
কিন্তু, এখনও লিফটে উঠতে ভয় লাগে।
এখনও ঘরের জানালাগুলো বন্ধ করতে ভয় পাই।
বন্ধ করতে গেলে...
বুক ধুকপুক করে এই ভয়ে যে আগুন লাগবে অথবা দম বন্ধ হয়ে মারা যাবে?
হ্যাঁ।
আমি পুরোপুরি সেরে উঠছি না কেন? আমি তো প্রতিটা ওষুধ সময়মতোই খাচ্ছি।
ক্লস্ট্রোফোবিয়া থেকে সেরে উঠতে ওষুধই একমাত্র সমাধান নয়।
তোমাকে তোমার ভয়ের মুখোমুখি হতে হবে।
আগের ওষুধগুলোই লিখে দিচ্ছি।
এখানে কী হচ্ছে?
তোমরা এখানে কেন এসেছ?
এখানে দাঁড়িয়ে থেকো না। বাসায় যাও।
- কী হচ্ছে এখানে? - একজন মারা গেছে!
- অফিসার কিম! - হ্যাঁ?
এটার একটা ব্যবস্থা করো।
এটাকে থানায় নিয়ে গেলে হয় না? ক্রাইম সিনে তো বেড়ালটাও ছিল।
জনাব, এতোই যদি উদ্বিগ্ন হোন তবে ক্রাইম সিন থেকে স্যাম্পল উদ্ধার করুন?
সাবধান! বেড়ালটায় ভূত ভর করেছে।
থামুন তো, স্যার!
মেইনটেন্যান্স অফিসে যাও আর সিসি ফুটেজ নিয়ে আসো।
জ্যান-সেউক?
ওহ, হ্যালো!
ইউনিফর্ম'টা তোমাকে মানিয়েছে।
তাই?
তুমি কি এখানেই থাকো?
না, কাছের একটা পেট শপে কাজ করি।
বেড়ালটার গালে রঙ করেছি ঘন্টাখানেক আগেই।
বলো কী?
যে মহিলাটা মারা গেছে এটা তাঁর বেড়াল।
উনি মারা গেছেন? কীভাবে?
অতোটা শিউর না। বসের ধারণা, হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন।
ওহ...
কিছু মনে না করলে বেড়ালটাকে কিছুক্ষণ দেখে রাখতে পারবে?
কী?
পারবে না?
- সমস্যা নেই। পারবো। - বাঁচালে!
থ্যাংক ইউ!
বো-হি'র কী অবস্থা?
ভালো আছে।
তোমার নাম্বারটা পেতে পারি?
যদি উনার হাজব্যান্ড চায় তখন যেন কল করে জানাতে পারি!
উনি মারা যাওয়ার সময় বেড়ালটা উনার পাশেই ছিল?
মানুষ জানলে তো দোকানের ছায়াও মাড়াবে না!
উনার হাজব্যান্ড ফেরত চাইলে তখন ফেরত দিয়ে দেব।
তাহলে বরং ওটাকে তোমার বাসাতেই নিয়ে যাও।
সরো তো সামনে থেকে!
সোনা বাবু, এখানেই কিছুক্ষণ থাক, কেমন?
সিল্কী?
কী হয়েছে তোর?
আমরা বাসায় চলে এসেছি!
এখানে আমি একাই থাকি।
কেন জানিস?
বলবো না।
এখানে কোনো দরজা নেই।
কেন বলতো?
কারণ, দরজা বন্ধ হলে আমি ভয় পাই!
জানিস, বাথরুমেও কোনো দরজা নেই!
কেন? একটু আগেই কারণটা কিন্তু বলেছি!
বেচারা সিল্কী এখন মা হারা!
একদম কষ্ট পাস না! আমি তোর খেয়াল রাখবো!
হাই, বো-হি!
শুনেছি, এনিমেল শেল্টার থেকে চাইলে ফ্রি'তে বেড়াল দত্তক নিতে পারবো!
ভাগ্য ভালো থাকলে সুন্দর দেখতে একটা বেড়ালও পেয়ে যেতে পারি!
তুই কি কুকুর বেড়াল পালার মতো মানুষ?
আগেরটাকে তো লাথি মেরে তাড়িয়ে দিয়েছিলি, মনে নেই?
আরে নাহ! ওটা পালিয়ে গেছে!
তো, এখন আমার সাথে কি যাবি নাকি যাবি না?
চল না?
ঠিক আছে, যাবো।
- বো-হি? - হুম্ম?
আজকে না জ্যান-সেউকের সাথে দেখা হলো।
কোথায় দেখা হলো?
পেট শপের কাছেই। জানিস, ও না এখন পুলিশের জব করে?
বাবারে বাবা! পুলিশ হয়ে গেছে?
তুই ওর সাথে যোগাযোগ রাখিস নাই আর?
ঠ্যাকা পড়ছে নাকি আমার?
ওর সাথে ব্রেকআপ হয়ে গেছে।
এবং, সিদ্ধান্তটা খুশিমনেই আমি নিয়েছি!
আসলেই?
ওর কোনোকিছুতেই আমার কিছু যায় আসে না।
তুই তো ওকে পছন্দ করতি।
পরে কথা বলবো।
সিল্কী? আমার সাথে কি এখন লুকোচুরি খেলছিস?
কোথায় গেলি রে?
বড্ড দুষ্টুমি করছো!
এইতো তোকে পেয়েছি!
এখন কই পালাবি?
মেয়েটাকে কি এই প্রথম দেখেছ?
না, এর আগেও একবার দেখেছিলাম!
কোথায়?
শপে... জানালার বাহিরে দাঁড়িয়ে ছিল।
ছোট থাকতে চুল বব কাট রাখতে?
কয়েকবার বব কাট করেছিলাম।
৬ বছর বয়সে ওই ট্রমার সময়টা ফেস করেছিলে না?
স্মৃতিগুলো হয়তো স্বপ্নের মাধ্যমে বারবার ফিরে আসছে।
এটা সেরে উঠারই একটা ধাপ। সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।
- কী ভাবছিস? - হুম?
কিছু বলতে চাচ্ছিস আমাকে, না?
কী বলবো?
আমি তো বলেছি যে ওর সাথে সব চুকেবুকে গেছে। জ্যান-সিউক ছেলে হিসেবে খারাপ না।
ব্যাপারটা তা না।
এটাই তো ওই দোকানটা না?
হ্যাঁ, চল যাই।
নিখোঁজ কুকুর বেড়ালের ভান্ডার!
তুই লম্বা চুলো বেড়াল চাচ্ছিস কেন?
প্র্যাকটিসের জন্য, সই!
একটা অসহায় বেড়ালকে দত্তক নিচ্ছিস প্র্যাকটিসের জন্য!?
তো? এগুলো তো এমনিতেও বেশিদিন বাঁচে না।
কোনোটাকে নিলে এক প্রকার ওটার প্রাণ বাঁচাচ্ছি।
এটা করে কি ক্রাইম করে ফেলতেছি?
- তাও! - খুঁত ধরিস না আর, প্লিজ!
তোর বেড়াল প্রেম অতুলনীয়!
প্র্যাকটিস না, যত্ন নেব ওটার! খুশি?
কীভাবে আপনাদের সাহায্য করতে পারি?
একটা বেড়াল দত্তক নেব বলে ফোন করেছিল?
এক সেকেন্ড, প্লিজ?
লি?
একজন বেড়াল নিতে এসেছে!
কিরে, চিল্লাচ্ছিস কেন?
চুপ থাক!
এই বেড়ালটা কী সুন্দর!
এটা চিনচিলা বেড়াল।
ভারি সুন্দর দেখতে!
বেড়াল এত পছন্দ করার কী আছে?
কী?
আসলে...
এগুলো দেখতে বেশ কিউট!
এটার নাম কী?
উইট।
উইট?
ডিমউইট।
আপনারা ঘুরে দেখতে থাকেন।
তো কি ডিসাইড করলি?
এটাকেই নেবো! আমার "ডিমউইট"!
শিউর!
- শুনছেন? - জ্বি।
এগুলো বেশিদিন বাঁচেও না!
হুর!
বো-হি!
বো-হি!
No comments yet. Be the first to leave one.