أول 200 سطر.
"আলেক্সান্দ্রিয়া"।
খোদা হাফেজ।
খোদা হাফেজ।
খোদা হাফেজ।
আম্মু...
নানুর লাঠিটা আমার কাছে রেখে দিই?
ঠিক আছে।
সিটবেল্ট পরো, নেলী।
বিদায় জানিয়ে দাও।
বিদায় জানিয়েছি।
- খাওয়ার সময় হয়ে গেছে? - হ্যাঁ।
আমরা পৌঁছে গেছি।
- তোমার রুম কোথায়? - এইযে এখানে, ডানদিকে।
তুমি চাইলে ফ্রিজটা বেসমেন্টে রেখে দিতে পারো।
আমি এটা সরাতে পারছি না।
আমাদের অন্যকোনো জায়গা থেকে শুরু করা উচিৎ।
- হাই। - হাই।
তুমি তোমার কুঁড়েঘরটা কোথায় বানিয়েছিলে, আম্মু?
আমাদের বাড়ির ঠিক পেছনে জঙ্গলে।
আমাকে কি কুঁড়েঘরটা দেখাবে?
আমার হাতে অনেক কাজ আছে।
সেখানে গাছ কি ৩ টা নাকি ৪ টা?
- ৪ টা। - মানে বর্গের মত?
হ্যাঁ।
আমিও একটা কুঁড়েঘর বানাতে চাই।
কীসের কুঁড়েঘর?
আম্মু ছোট থাকতে একটা কুঁড়েঘর বানিয়েছিল।
আব্বু ভুলে গেছে।
আমরা এই কাপবোর্ডের পাশের দেয়ালটায় রঙ করেছিলাম।
মনে আছে, মারিওন?
হ্যাঁ।
আমি বাইরে যাচ্ছি।
কী এগুলো?
আমার ছোটবেলার জিনিসপত্র।
তোমার নানু সব যত্ন করে রেখে দিয়েছেন।
নানু বানান খুব একটা ভালো পারত না।
- তুমি খুব সুন্দর ড্রয়িং করতে। - তাই নাকি?
এই শিয়ালটা সুন্দর এঁকেছ তুমি।
হ্যাঁ, ভালোই লাগছে দেখতে।
বাসাটা খালি করতে হচ্ছে বলে আমার ভীষণ মন খারাপ।
আমিও জঙ্গলে গিয়েছিলাম।
শুতে চলো।
এই জায়গায় থাকতে কি তোমার কষ্ট হচ্ছে?
এই রুমটা আমি পছন্দ করতাম।
কিন্তু রাতের বেলা এটা আমার পছন্দ হত না।
- কেন? - তোমার না জানলেও চলবে।
কিন্তু আমার জানতে ইচ্ছা করছে।
বাকিসব বাচ্চাদের মত তোমারও এখন ঘুমাবার সময় হয়েছে।
তুমি দেখি শুতে গেলে সবসময় প্রশ্ন করো।
কারণ এই সময়েই আমি তোমাকে কাছে পাই।
তোমাকে অপেক্ষা করতে হবে।
কীসের জন্য?
তোমার চোখগুলো অন্ধকারে অভ্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করো।
তখনই কালো চিতাবাঘটা হাজির হবে ; তোমার বিছানার শেষপ্রান্তে।
আমি আমার বালিশে তার হৃৎস্পন্দন শুনতে পেতাম।
সেটার শব্দ তীব্র থেকে তীব্রতর হত।
কিন্তু সেটা কেবল আমার হৃৎস্পন্দন ছিল।
- চিতাবাঘটা দেখতে পাচ্ছ? - না।
আমিও পাচ্ছি না।
আমারো মন খারাপ।
কেন?
নানুকে বিদায় জানাতে পারিনি বলে।
তুমি তো সবসময় তাকে বিদায় জানিয়েছ।
কিন্তু শেষের বিদায়টা ভালোভাবে জানানো হয়নি।
কারণ আমি বুঝতে পারিনি যে, সে মারা যাবে।
হয়ত নানুও বুঝতে পারেনি যে, সে মারা যাবে।
আমরা তো সেটা নিশ্চিতভাবে জানি না।
ঠিক বলেছ। আমরা জানি না।
সুযোগ পেলে তুমি নানুকে কীভাবে বিদায় জানাতে?
খোদা হাফেজ।
খোদা হাফেজ।
দাঁড়াও।
আমি বসার ঘরে ঘুমিয়েছিলাম।
- আম্মুর সাথে। - হ্যাঁ, সে আমাকে বলেছে।
আম্মুর মন খারাপ।
জানি।
সে আজ সকালে চলে গেছে।
আমাদের মনে হলো সেটাই ভালো হবে।
- তোমাকে একটা মিশন দিবো আমি। - কীসের মিশন?
হলঘরে একটা কাপবোর্ড খুঁজে বের করতে হবে তোমাকে।
তারপর আমরা শিগগিরই আম্মুকে দেখতে যাবো।
আব্বু? এটা কী?
এটা হচ্ছে প্যাডেলবল।
বলকে বাড়ি মারলে সেটা আবার তোমার কাছে ফিরে আসবে।
মানে এটা একা একা খেলতে হয়।
হ্যাঁ, বলতে পারো।
পারফেক্ট।
আমাকে একটু সাহায্য করবে?
নাম কী তোমার?
মারিওন।
আসো।
তোমার সোয়েটারটা দাও।
খাবে কিছু?
হ্যাঁ।
বসো।
তোমার নামটা তো বললে না।
নেলী।
আমি তোমাকে আগে কখনও দেখিনি।
আমি আমার নানুবাড়িতে থাকছি।
তোমার নানু কে?
উনি গত সপ্তাহে মারা গেছেন।
আমরা বাড়িটা খালি করছি।
আমার এভাবেই চকলেট খেতে ভাল্লাগে।
আমার নানু গত বছর মারা গেছেন।
তোমার মত তাঁর নামও নেলী।
বাথরুমটা কি হলের শেষপ্রান্তে?
হ্যাঁ।
চলে যাচ্ছ?
হ্যাঁ।
আমার বাসায় সবাই নিশ্চিত চিন্তা করছে।
আচ্ছা, বাই।
বাই।
আব্বু?
হ্যাঁ।
ঠিক আছ তুমি?
আমি ভেবেছিলাম তুমি হয়ত চলে গেছ।
আমি এখানেই আছি।
তুমি সোয়েটারটা উল্টো পরেছ। খোলো তো দেখি।
প্যাডেলবল খেলে কেমন মজা পেলে?
ইলাস্টিকটা ছিঁড়ে গেছে আর বলটা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।
আমি আম্মুর বানানো কুঁড়েঘরটা খুঁজে পেয়েছি।
গাছগুলো সেরকমই আছে, যেরকমটা আম্মু করেছিল।
তোমার কি কুঁড়েঘরটার কথা একদমই মনে নেই?
না।
কুঁড়েঘরটা আম্মু ঠিক তার অপারেশনের আগে বানিয়েছিল।
আমার মনে হয় না তুমি ভুলে গেছ ; তুমি আসলে তার কথা মন দিয়ে শোনোনি।
ঠিক বলেছ।
দড়িটা সুন্দর।
শুনে খুশি হলাম, কিন্তু এটা আমার দড়ি !
- এটা বইগুলো বাঁধার কাজে লাগবে। - কিন্তু দড়ির পুরোটা তো তোমার লাগবে না।
বেশ।
আমি এখানে কাটছি...
আরেকটু। ধরে রাখো।
তোমার বয়স কত?
আট। তোমার?
আমারো আট।
তোমার কি কোনো ভাইবোন আছে?
না। কিন্তু হলে খুব খুশি হবো।
আমিও।
তোমার কি পিপাসা পেয়েছে?
এখানে কতদিন থাকবে তুমি?
জানি না। বাড়িটা খালি করতে যতদিন লাগে।
আমরা একসাথে মজার মজার জিনিস করতে পারি।
আমাকে এখন বাড়ি যেতে হবে।
ঠিক আছে।
কী করবে তুমি?
জানি না।
আমার সাথে আসতে চাও?
- কোন রঙের গুটি চাও তুমি? - নীল।
দশ।
তিন।
ছয়।
"প্রতিটা খেলোয়াড়কেই একটা হাঁস বাছতে হয়।''
ছয় কোথায়?
তুমি এক পালা মিস দিলে, আমি দুবার দান দিবো...
পাঁচ।
এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ।
আট।
এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়, সাত, আট।
ছয়।
এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়।
হাই !
"তুমি অন্ধকূপে আটকা পড়েছ। আবার প্রথম থেকে শুরু।"
না !
হ্যালো।
হ্যালো, ম্যাম।
বাইরে গিয়েছিলে নাকি, মারিওন?
আমি সাবধান ছিলাম।
ডাক্তার পরে তোমাকেই কথা শোনাবে। উনার ধৈর্য আমার চেয়ে কম।
ডাক্তারকে কিছু না বললেই তো হয়।
আমরা এক ঘণ্টার মধ্যে বের হবো।
আমার শীঘ্রই অপারেশন হবে।
আচ্ছা।
এখন যদি অপারেশন না হয়, তাহলে বড় হলে আম্মুর সমস্যাটা আমারো হবে।
কবে তোমার অপারেশন?
তিন দিনের মধ্যে।
কী ব্যাপার? অন্য জগতে আছ মনে হচ্ছে।
আমার একজন নতুন ফ্রেন্ড হয়েছে।
সিগারেট ধরালে সমস্যা নেই তো?
ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তারপরও তোমার ইচ্ছা।
থ্যাংক ইউ।
- আমি কি ওর বাসায় ঘুমাতে পারি? - কখন?
জানি না, সে এখনও আমাকে আমন্ত্রণ দেয়নি।
আমরা তো এখানে আরও ২-৩ দিন থাকবো।
তুমি ওর বাসায় ঘুমাতে পারো, যদি সে তোমাকে আমন্ত্রণ দেয়।
আমন্ত্রণ ছাড়া কিন্তু সেখানে যাবে না।
আম্মুর অপারেশন কি সফল হয়েছে?
আম্মু তো তোমাকে সেব্যাপারে বলেছে, তাই না?
হ্যাঁ, কিন্তু সবকিছু হয়ত বলেনি।
তোমার ছোটবেলা নিয়ে আমাদের মধ্যে কখনও কথা হয় না।
আমরা তো সেটা নিয়ে সবসময় কথা বলি।
হ্যাঁ, কিন্তু সেগুলো তো কেবল ছোটগল্প।
কী বলতে চাচ্ছ তুমি?
আমি জানি তুমি কোন ক্রিসমাসে কী গিফট পেয়েছিলে, কিংবা পিজ্জা তোমার কত প্রিয় ছিল...
কিন্তু আসল জিনিসগুলো সম্পর্কেই তো আমি জানি না।
''আসল জিনিস'' বলতে?
এই ধরো, যেসব জিনিসকে তুমি ভয় পেতে।
বাকি সবার মত আমিও অনেক জিনিসকে ভয় পেতাম।
সেরকম একটা জিনিসের কথা আমাকে বলো তো।
তুমি কি ভুলে গেছ?
No comments yet. Be the first to leave one.