أول 200 سطر.
নিক : আমার ছোট বেলাকার সেই সব দিনগুলিতে ...
...আমার বাবা আমাকে কয়েকটা ভালো-ভালো কথা বলেছিলেন
''সব-সময় মানুষের সবচে ভালো দিক গুলি খুঁজে খুঁজে বের করবে''
যেই কারনে , আমি আগে ভাগেই কোনও মানুষের চরিত্র বিশ্লেষণ করতাম না
কিন্তু এই ব্যাপারটাতে আমার নিজেরও একটা ''সীমাবদ্ধতা'' রয়ে গেছিলো
ঐ সময়ে , আমরা সবাই মদ খেয়ে মাতাল হয়ে থাকতাম
সময় যত গড়াতো ...
...আমরা আরও বেশি করে মাতলামি করতাম
আর তখন আমাদের কারুর মাঝেই নতুন কিছু করবার মন-মানসিকতা ছিলোনা
আমি যখন নিউ ইয়র্ক থেকে এখানে ফেরত আসলাম , সব কিছু আমার কাছে বিরক্ত লাগতো
ডক্টর : বুজলাম , মিস্টার কারাওয়ে .
নিক : একেবারে সব কিছুর ওপরে বিরক্তি এসে গিয়েছিলো
শুধু একজন মানুষ ছিল এর ব্যাতিক্রম
একজন মানুষ ?
মিস্টার কারাওয়ে?
গ্যাটসবি.
ডক্টর : তিনি কি আপনার একজন বন্ধু ?
তিনি ছিলেন...
...আমার দেখা সবচে আশাবাদী মানুষ
যার সাথে আমি বারবার দেখা করতে চাইতাম.
তার মধ্যে একটা ...
...ব্যপার ছিলো , মানুষকে বুঝার ক্ষমতা
সে ছিল...
সে যেন ১০,০০০ মাইল দুরের মাটি সামান্য কাঁপলেও সেটা বুঝার ক্ষমতা রাখতো !!
তোমাদের দেখা হল কিভাবে ?
নিক : একটা ... একটা পার্টিতে...
...নিউ ইয়র্কে.
নিক : ১৯২২ সালের সেই গ্রীষ্মে..
...শহরের মানুষগুলোকে যেন পেয়ে বসেছিলো...
... পাগলামিতে...
শেয়ারের দাম...
...রেকর্ড ছুলো...
...ওয়াল স্ট্রিট ফুলে ফেপে উঠলো...
...স্থির--নিশ্চিত আর...
...স্বর্ণালী সেই গর্জন...
পার্টিগুলা আরও বড়সড়.
নাট্যমঞ্চ আরও ...
...আরও চওড়া
বিল্ডিং আরও উচু উচু
ভালমানুষের দাম নাই আর...
...সবার হাতে অ্যালকোহল...
...দামেও সস্তা...
ওয়াল স্ট্রিটে তরুন আর উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানুষের ভিড়
আমি ছিলাম তাদেরই একজন
আমি শহর থেকে ২০ মাইল দূরে একটা বাড়ি ভাড়া নেই
আমি থাকতাম ওয়েস্ট এগ ...
...একজন সামান্য শ্রমিকের কটেজে , নব্য ধনীদের বিশাল বিশাল বাড়ির...
...মাঝে ছোট একটা বাড়ি
শুরু করার জন্য , আমি ডজন-খানেক ব্যাঙ্কিং আর বিনিয়োগের ওপরে লেখা বই কিনে নিয়ে আসি
সবগুলা আমার কাছে নতুন.
শেয়ার মার্কেট ...
...আবারও রেকর্ড ভাঙ্গলো. ক্লার্ক : বাজার শুধু উঠছে তো উঠছেই !
ওয়েল ,কোনও কিছুকেই ১০০% বলা যাবে না. আমি এখনই আমার সব টাকা খরচ করছি না.
নিক : ইয়েলে থাকতে আমি লেখক হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম...
...কিন্ত আমি সেই স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছিলাম
সূর্য যতই তার আলো ছড়াক...
...আর গাছ থেকে যতই পাতা ঝরতে থাকুক...
...আমি ঠিক করলাম...
...পুরো গ্রীষ্ম শুধু পড়াশুনাই করবো
আর হয়তো আমি পারতামও...
...যদি না...
...ঐ সব মৌজ-মাস্তির আওয়াজ...
...যা আমার মনোযোগ সরিয়ে দিতো...
...যে আওয়াজ আসতো...
...দেয়ালের ওপারের...
...বিশাল দুর্গ থেকে...
...যার মালিক এক ভদ্রলোক...
...এখনও যার সাথে দেখা হয়নি ...
...যার নাম গ্যাটসবি.
ডক্টর '. মানে...
...তিনি ছিলেন আপনার প্রতিবেশী .
আমার প্রতিবেশী....
ইয়াহ
যখন আমি এটা নিয়ে ভাবি , ঘটনা গুলি তখনই শুরু হয়...
...যখন ঐ রাতে আমি আমার কাজিন ডেইজীর বাসায় ডিনার করতে যাই
সে পুরান আমলের ধনীদের এলাকায় থাকে...
ইস্ট এগ
তার স্বামী আমেরিকার সবচে ধনী পরিবারের একজন উত্তরাধিকার
তার নাম...
... টম...
...বুকানান.
যখন আমরা ...
...ইয়েলে একসাথে থাকতাম , সে ছিল একজন...
...সুপার স্টার খেলোয়াড় . কিন্ত এখন আর তার সেই দিন নেই এখন সে ...
- ...ব্যাস্ত থাকে... - টেলিফোন , মশিয়ে বুকানান.
মারটল : আমি.... নিক :...অন্যসব বিষয় নিয়ে.
আমি না তোমাকে বলেছিলাম এখানে ফোন না করতে...
বোয়াজ
শেক্সপিয়ার !
- টম ! ওহ ! - হা-হা-হা!
আমেরিকার ইতিহাসের বিখ্যাত উপন্যাসটা কবে নাগাদ আসছে ?
আমি এখন ওয়াল্টার চেজের ওখানে বন্ড বিক্রি করি.
ডিনারের পরে, তুমি আর আমি , আমরা একসাথে শহরে যাবো.
- আমি পারবো না . - পুরানো বন্ধুদের সাথে দেখা করবো
- কালকে আমার অনেক কাজ পড়ে আছে . - ননসেন্স ! আমরা যাচ্ছি .
প্রথম দল , অল আমেরিকান .
দেখতে পাচ্ছ ?
এগুলির কারনেই আজকের এই আমি .
ফরেস্ট হিলস .
প্রিন্স অফ অয়েলস খেলেছিল আমার সাথে. কি বাজে খেলোয়াড়.
জীবনের মানে...
...শাসন করার মতন কিছু...
যদি তুমি সেরকম কেউ হয়ে হয়ে থাকো.
ওহ !
ওহ .
ডেইজি:
টম: হেনরি !
তুমি কোথায় ?
দরজাগুলো ...
বন্ধ করো .
মাফ করবেন . ধন্যবাদ .
ডেইজি: এটা কি তুমি , প্রিয় আমার ?
নিক : ডেইজি বুকানান, স্বর্গের রাজকন্যা
নিঃশ্বাস আটকে...
...আসার মতো তার সৌন্দর্য...
তার মতো রূপ ...
...দুনিয়ার কারুর মাঝে দেখার কথা...
...ভাবাই যায় যায় না.
শিকাগোর মানুষেরা কি আমাকে ভুলে গেছে ?
হ্যা . উম , অন্তত এক ডজন মানুষ তোমাকে তাদের ভালবাসা জানিয়েছে.
কি অসাধারণ.
তারা শোকে বিপর্যস্ত.
- তারা কাদছে . হ্যা . ডেইজি: না .
- আমি তোমাকে বিশ্বাস করিনা. নিক : বিলাপ করছে .
ডেইজি: আমি তোমাকে বিশ্বাস করিনা. - তারা চিৎকার করে জানান দিচ্ছে.
"ডেইজি বুকানান...
...আমরা তোমাকে ছাড়া...
- ...বাচতে পারছি না!" - এতো সুখ রাখবো কোথায়.
জর্ডান বেকার...
...সে একজন...
...বিখ্যাত গলফার.
নিক : সে আমার দেখা সবচে ভয়ঙ্কর ব্যাক্তিত্ত্ব .
আমি তোমাকে ম্যাগাজিনের পাতায় দেখেছি
নিক কারাওয়ে .
কিন্তু তাকে দেখে আমার ভালোই লাগছিলো
জর্ডান : আমি ঐ সোফায় ...
...অনেক-ক্ষন আছি
আমি তোমাদের দুজনকে পাশাপাশি রাখবো .
...আর আমি থাকবো ঐ সমুদ্র-পাড়ে !
- আমি তোমার কোনও কথা শুনতে পাচ্ছিনা . - তো , নিক ...
...ডেইজি আমাকে বললো ...
...তুমি নাকি ওয়েস্ট এগ থাকো...
...তোমার বাক্স-পেটরা নিয়ে...
...ঐসব সামাজিকতার সিঁড়ি ভাঙ্গা ...
...আদিম টাকাওয়ালা টাইপের মানুষের সাথে.
আমার চাকরিতে আমি মাসে মাত্র ৮০ ডলার কামাই.
তোমার জীবন চমৎকার
জর্ডান : আমি ওয়েস্ট এগ এর কয়েকজনকে চিনি .
আমি ঐ পাশের ...
...একজনকেও চিনি না ।
তুমি অবশ্যই গ্যাটসবিকে চেনো.
গ্যাটসবি ?
কোন গ্যাটসবি ?
মাদাম , ডিনার দেয়া হয়েছে .
ডেইজি: তুমি কি একটা গোপন কথা ...
...শুনতে চাও ?
- সেই কারনেই তো এতদুরে আসা . ডেইজি: এটা ঐ চাকরটার নাক বিষয়ক....
অবস্থা খারাপ থেকে আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে.
টম: আমি "বোকাসোকা" কথাটা ঘৃণা করি
আমার কানে একটা গুজব এসেছে যে তুমি নাকি বিয়ে করতে যাচ্ছ...
...পশ্চিমের বাইরের কাউকে. নিক : একদম বাজে কথা
- আমি অনেক গরিব. জর্ডান : তাদের অবশ্যই অনেক বয়স...
...যাতে তারা আগে ভাগেই মরে যেতে পারে.
নিক : আমরা কি আর কিছু নিয়ে কথা বলতে পারিনা ?
যেকোনো কিছু ...শস্যদানা
তুমি আমাকে বাজে অনুভূতি দিচ্ছ ...
...ডেইজি.
টম: সভ্যতা ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে .
তুমি কি ''রাইজ অব দ্যা কালারড এম্পায়ার' বইটা পড়েছো ?...
...গডারডের লেখা ? সবার এটা ...
...পড়ে দেখা উচিত . ব্যাপারটা হচ্ছে ...
...এটা আমাদের ওপরে নির্ভর করে , যে শাসক শ্রেণী...
...শুধুই কি এসব দেখেই যাবে...
...অন্য শ্রেণীরা...
...যতক্ষণ না নিয়ন্ত্রন নিয়ে নিচ্ছে .
টম ইদানিং কেমন হয়ে যাচ্ছে . মোটা মোটা বই পড়ে
টম: এটা প্রামানিত
বিজ্ঞানসম্মতও.
আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে.
হেনরি হেনরি : বুকানান রেসিডেন্স.
মশিয়ে উইলসন , গারাজ থেকে
মশিয়ে বুকানান.
মাফ করবেন , আমি এখনই আসছি
আমি দুঃখিত .
- তো... এই মিস্টার গ্যাটসবি যাকে নিয়ে তোমার এতো কথা ... টম: আমি এটা নিয়ে চিন্তা করলাম .
নিক :...সে আমার প্রতিবেশী . - শশশ ! কথা বোলোনা.
আমি ওদের কথা শুনতে চাই .
ডেইজি: তুমি কি কিরবে তা আমি জানতে চাইনা...
কিছু হয়েছে নাকি ?
- কেন , আমি তো ভেবেছিলাম সবাই জানে. - ওয়েল , আমি জানি না.
জর্ডান : টমের নিউ ইয়র্কে ...
...একজন প্রেমিকা আছে . নিক : প্রেমিকা ?
তার খাবারের সময়ে ফোন দেয়া ঠিক হয়নি . তোমার কি মনে হয় ?
ডেইজি: আমি কি তোমার কাছে বেশি কিছু চেয়েছি ? টম: ডেইজি , বাজে কিছু করো না .
তোমাকে টেবিলে দেখতে বড় ভালো লাগে.
তুমি আমাকে গোলাপের কথা মনে করিয়ে দাও. একটা চমৎকার গোলাপ...
...তাই না ? টম: তো... রাতের খাবারের পরে...
আমাকে কি আর গোলাপের মতো দেখায় না !!
টম: ...নিক শহরে যেতে চায় .
ইয়েল ক্লাবের ওখানে .
No comments yet. Be the first to leave one.