أول 200 سطر.
মালখান....গাড়ি সাইড কর, সাইড কর, সাইড কর, সাইড কর.....
ভিড়ের পাশে, ভিড়ের পাশে......
ভাই সরে যান, সরে যান। আমাকে দেখতে দিন।
- পাশের হোটেল থেকে চাদর নিয়ে আসো। - চাদর আনতে গেছে স্যার।
- আপনার নাম কী? - আকাশ।
আকাশ, কী হয়েছিলো?
এই নিন চাদর।
চলো।
দ্রুত চালাও গাড়ি।
- এখন বলো কী হয়েছিলো? - আমরা একটি বাসে উঠি যেখানে ৫-৬জন লোক ছিলো।
আমাদের কাপড়-চোপড়, সব জিনিসপত্র নিয়ে এই রাতের বেলা উলঙ্গ করে বাস থেকে ছুড়ে ফেলে দিছে।
আমাদের উলঙ্গ করে অনেক মেরেছে।
তারা আমার সাথে যা করেছে তা বলার মতো না। প্লিজ আমার বাবাকে এসব বলবেন না।
মালখান, গাড়ি ধীরে চালা। ধীরে.....ধীরে.....
ওহ খোদা!
বাংলা অনুবাদেঃ শাহনেওয়াজ চৌধুরী
সাবটাইটেল ভালো লাগলে এক কাপ চা খাওয়াতে পারেন। বিকাশ # ০১৮১৯৭২৬৪১১
১২ ঘন্টা আগে.......
এখনো কাশি ভালো হয়নি?
- মনে হয় ঔষধ কাজ করেনি। - জানি না।
দেখি....ভালো কোন ঔষধ পেলে নিয়ে আসবো।
স্যার এ-ব্লক থেকে একটা কল পেয়েছি। কিছু লোকের সাথে অস্ত্র পাওয়া গেছে।
চল, চল
চল
জলদি আসুন। বন্ধুকধারী এখানে আছে।
উপরে দেখুন স্যার।
দেখে তো পুলিশের লোক মনে হচ্ছে। হয়তো কোন অভিযান চালাচ্ছেন।
সিউর কীভাবে হলেন স্যার? আমার তো সন্ত্রাসী মনে হচ্ছে।
যা ভাগ এখান থেকে....
জী, ম্যাডাম...
হ্যাঁ ম্যাডাম। সুধির সকাল থেকেই নজর রাখছে।
তোমার মালিক ঘরে আছেন?
কে?
- আসিম? - হ্যাঁ...
দিল্লি পুলিশ। তোমার বন্ধু ভুপেন্দার।
- তোই পুলিশ ডেকেছিস? - হ্যাঁ, তোই জেলেই থাকার যোগ্য।
তোকেই জেলে পাঠাবো শালি....
আরে পাগল হয়ে গেলি নাকি?
তো মূল কথা হলো, তোই পার্লামেন্ট ভবন উড়িয়ে দেওয়ার হুমকির কারণে পনেরো বছর সাজা পেয়েছিস..
এখন জেল থেকে ছাড়া পেয়ে তোকে যারা চৌদ্দশিকের ভেতরে ঢুকিয়েছিলো তাদের মারার জন্য অস্ত্র-শস্ত্র জোগাড় করছিস...
আর মন ভালো করার জন্য তোর বউকে অন্য মেয়ের সাথে পরকীয়ার কথা জানিয়ে দিলি।
আর রেগে তোর বউ সেটা আমাদের জানিয়ে দেয়ার কারণে তাকেও মেরে ফেললি।
তার উপর নজর রাখিস।
- কী হচ্ছে এসব? এ পর্যন্ত দুইবার। - গত মাসে কতো বিল আসছে জানেন?
- বিলের হিসাব রেখে আমার কাজ নেই। - কিন্তু আমার কাছে হিসাব আছে গতমাসের। আগের চেয়ে ডাবল।
রাতের বেলা আমার টিমের সবাইকে বিভিন্ন মামলা নিয়ে কাজ করতে হয়। তাহলে সবাই অন্ধকারে বসে কাজ করবে নাকি?
আরে ভাই লাইট অন কর। আমি বিল পেমেন্ট করে দেবো।
এটা পেমেন্ট করে দাও। পেট্রোলের বাজেট থেকে টাকা নিয়ে নাও।
- স্যারের উপকার তো করতে হবে। - অনেক অনেক শুকরিয়া....
তো মিঃ রাম প্রতাপ?
কাল ডিউটির সময় আপনি কোথায় উধাও হয়ে গিয়েছিলেন?
স্যার...
সারাদিন আমাকে কাজ করতে হয়। ঔষধ কেনারও সময় পাই না স্যার।
- আমার স্ত্রী অসুস্থ। - তাই নাকি?
কাজের চাপের কারণে আমি আমার ভাইয়ের বিয়েতে পর্যন্ত যেতে পারিনি। কাজ সম্পর্কে আমাকে জ্ঞান দিবি না।
দ্বিতীয়বার হলে....
- ওকে - স্যার...
আমি জানি তোর কাজ অনেক বেশি।
এই লাইনে কেউ নিজের পরিবারকে ঠিকমতো সময় দিতে পারে না।
কিন্তু দ্বিতীয়বার যেনো এই ভুল না হয়। বুঝা গেছে?
জী স্যার।
আপনি আমাকে ডেকেছেন বিনোদ ভাই?
হ্যাঁ, ম্যাম।
কী অবস্থা আপনার?
তো আপনার প্রথম সপ্তাহের ট্রেনিং কেমন লাগলো?
- ভালো, খুব ভালো। - বেশ।
কোথা থেকে আসছেন আপনি?
- চান্দিগড়। - চান্দিগড়? তো দিল্লীতে কেনো?
পাঞ্জাব পুলিশেও তো আপনাদের মতো সাহসী অফিসার দরকার।
বড় কোন শহরে কাজ করার অভিজ্ঞতার প্রয়োজন তাই এসেছি।
ঘরে মন টিকে না মনে হয়....
ব্যস....ভালো একটা কাজ....
বেশ....
তাহলে তো আপনাকে সালাম দেওয়ার দরকার। আমাদের ভবিষ্যৎ ডিসিপি সাহেবা...
জয় হিন্দ....
- কী হচ্ছে এখানে? - প্রণাম ম্যাডাম।
অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ!
এই চেকপোস্ট দিয়ে এতগুলো গাড়ি গেলো আর আপনি একটাও গাড়িও চেক করেননি..
তাহলে এই চেক পোস্ট কেনো দেওয়া হয়েছে?
সারাদিন চেক করেছি ম্যাডাম। এখন একটু বিরতি নিচ্ছি।
তার কী হয়েছে?
ডিউটির সময় গাঁজা টানছে!
কোন বিরতি ছাড়া লাগাতার দুইদিন ধরে ডিউটি করে যাচ্ছে ম্যাডাম।
আপনারা কাজে ফাঁকি দিচ্ছেন নয়তো মিথ্যা বলছেন।
যত্তসব!
- তাকে নিয়ে যাও এখান থেকে। - এই চল, চল।
- জী ম্যাডাম? - বিনোদ
ম্যাডাম, কী হয়েছে?
আমি এখন ভাসান্ত বিহার চেক পয়েন্টের সামনে। তোমার এখানে তিনটা কন্সটেবল কোন কাজই করছে না।
- আর একজন তো গাঁজা টেনে মাতাল হয়ে আছে। - ম্যাডাম প্রত্যেক কন্সটেবলের পার্সোনাল খবর রাখা তো আমার পক্ষে সম্ভব না।
আমাদের জনবলের অভাব সেটা আপনি জানেন। নতুন লোক পেলে এই সমস্যা হতো না।
বাহ!! তোমার কন্সটেবলরা যে কাজে ফাঁকি দিচ্ছে সেটা তো তুমি দেখো না।
এই ফাঁকিবাজদের এখান থেকে সরিয়ে নতুন লোক দাও।
- জী ম্যাডাম। - আমি এখানেই অপেক্ষা করছি।
তো চলুন, আমাদের ভবিষ্যৎ ডিসিপি সাহেবা....
চেক পয়েন্টে আপনার ডিউটি। বড় শহরের অভিজ্ঞতা নিবেন এখন।
আসিমকে তোর হেফাজতে রেখে গেলাম।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়েছে?
হ্যাঁ, জিজ্ঞাসাবাদ শেষ। জেলে ঢুকিয়ে দিছি। এখন তোর পালা।
বেশ...তাহলে এখন আর লাইটের দরকার নেই....
- কাজ কেমন লাগছে, নারায়ণ? - ভালো ম্যাম।
আপনি বাড়ি যান।
যান, যান। বাড়ি গিয়ে যত ইচ্ছা ফোনে কথা বলুন।
কী? দাঁড়াও?
কী বললে তুমি?
কিছু না ম্যাডাম, কিছু না।
জয় হিন্দ...
যাচ্ছি ম্যাডাম, যাচ্ছি।
হারামজাদা...
- ট্রেনিং এ আছো? - জী ম্যাডাম।
চেকপয়েন্টের ডিউটির ব্যাপারে কাউকে বলার দরকার নেই।
ড্রাইভাররা যেনো তোমাকে দেখে ভয় পায়। তাদের চোখের ভাষা বুঝতে হবে।
যদি সন্দেহ হয় তাহলে সেটা ড্রাইভারদের চেহারা দেখলেই বুঝতে পারবে।
- তারপর থামিয়ে তাদের চেক করবে। - জী, ম্যাডাম।
একাডেমিতে আপনি আমার ফেভারিট ছিলেন।
জোশি স্যার বলছিলেন যে, আপনিই তাঁর একমাত্র মেধাবী ছাত্রী ছিলেন।
রাস্তার দিকে নজর দাও।
জী ম্যাডাম?
- কিছু গাধার কাজ কারবারের মধ্যে আমি আটকে আছি। - ম্যাডাম আপনি কি চান আমার ডিমোশন হোক।
না, এখন না।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়েছে?
হ্যাঁ, রিপোর্ট কাল সকালে আপনার টেবিলে পেয়ে যাবেন।
বেশ....কাল কথা হবে।
ওকে, ম্যাম।
গান বন্ধ করো।
- আবার কী হলো ম্যাডাম? - আবার কী হলো মানে?
এ নিয়ে দুবার পুলিশ আমাকে থামালো। দেরি হয়ে যাচ্ছে আমার।
হয়তো কোন কারণ আছে। গাড়িতে কী?
স্কুলের বই।
খুলো।
বললাম স্কুলের বই, ম্যাডাম।
খুলতে বলছি...
- দেখুন, সব স্কুলের বই। - নিচে নামাও।
নিচে নামাও।
- অনেক ভারী, ম্যাডাম। - নিচে রাখো।
খুলো।
দেখুন ম্যাডাম, দেখুন...
এটাও দেখুন...
স্কুলের বই হাতির দাঁত দিয়ে বানায় নাকি!
তারপর বলুন, রিমা কেমন আছে?
ভালোই তবে একটু নার্ভাস।
মনে হয় মানিন্দরও নার্ভাস হয়ে আছে।
মাফ করবেন। আপনার সাথে যখন শেষবার কথা হয়েছিলো কিন্তু আপনি বলেননি কী চাকরি করেন?
- আমি দিল্লি পুলিশে আছি। - আচ্ছা, দিল্লি পুলিশ।
কোন পোস্টে?
এসটিএফ এর দক্ষিণ জেলার প্রধান হিসেবে কর্মরত আছি।
আচ্ছা। তাহলে আপনি আইপিএস অফিসার?
- না স্যার। আমি এখনো দিল্লি পুলিশের অফিসার হিসেবে আছি। - দু'টোর মধ্যে পার্থক্য কী?
পরীক্ষা আর প্রশিক্ষণের পর আইপিস অফিসার তৈরী হয়। তারপর তারা আমাদের মত অফিসারদের নেতৃত্ব দেয়।
কিন্তু আমরা তো কন্সটেবল লেভেল থেকে ধীরে ধীরে উপরে উঠি।
আমি বুঝেছি। এটা হিন্দুস্তানিদের জন্য ব্রিটিশদের উপহার।
- তাই না? - জী ঠিক বলেছেন।
আমি জানি, প্রথমে এটাকে বলা হতো “Imperial Police Service”
- জী ঠিক.... - শুধুমাত্র সাদা চামড়ার লোকেরাই জয়েন করতে পারতো।
আর স্বাধীনতার পর এটার নাম দেওয়া হলো “Indian Police Service”.
- তাই না? - জী জী...
আসলে এখনো এটা এভাবেই চলছে।
যদি এই সিস্টেমের পরিবর্তন হয় তাহলে দিল্লি পুলিশ বা যে কোন পুলিশের জন্য এটা ভালোই হবে।
কিন্তু যতদিন পর্যন্ত এই সিস্টেম পরিবর্তন না হবে ততদিন পর্যন্ত আপনি তো ডিসিপি হতে পারবেন না।
কিন্তু উনি স্পেশাল ফোর্সের প্রধান হিসেবে আছেন বাবা আর ডিসিপির সাথে উনার ভালো সম্পর্ক আছে।
হ্যাঁ, সেটা আমি শুনেছিলাম।
আচ্ছা আপনার সাথে কথা বলে ভালো লাগলো। আমি আপনাকে পরে জানাবো।
দেখুন বিয়ে তো আর ছেলেখেলা না।
- আগে আমি আমার পরিবারের সবার সাথে আলোচনা করে নিই। - জী, ঠিক বলেছেন।
তো কাজ কেমন লাগছে?
দারুণ। আজ ভার্তিকা চতুর্বেদীর সাথে দেখা হয়েছে।
- ভার্তিকা চতুর্বেদী? - হ্যাঁ
উনি আবার কে?
ডিসিপি দক্ষিণ জেলার।
- এভাবে আমাকে পটাতে পারবে না। - আমিও তাই ভাবছি।
ঠিক আছে, কথা বলবেনা আমার সাথে?
বলো আমার সম্পর্কে কী জানতে চাও?
কিছু না। তোমার সম্পর্কে যা জানা আছে সেটাই অনেক।
তাই নাকি?
- সেটা কি বিয়ের জন্য যথেষ্ট? - হ্যাঁ।
তোমার সম্পর্কে আমি তো কিছুই জানি না।
সারাজীবন পরে আছে জানার জন্য। যখন একসাথে থাকবো সব এমনিতেই জেনে যাবে।
মাত্র দু'ঘন্টায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে যে, আমরা সারাজীবন কী করবো?
আমার বাবা-মা দিল্লি আসছেন।
তারা আমাকে জিজ্ঞেস করবেন।
জানি না আমি কী করছি? আমি দিল্লি আসছি স্বাধীনভাবে থাকার জন্য।
তো স্বাধীনভাবে থাকার জন্য পুলিশে জয়েন করলে?
পুলিশের চাকরিতে এতই আত্মবিশ্বাস তোমার?
আসলে তুমি ছাড়া আমি সবকিছুতেই আত্মবিশ্বাস রাখি।
চলে যাবে?
আমাদের আবার দেখা হবে?
জানি না।
নিরবতা সম্মতির লক্ষণ।
- ভাই, দোয়ার্কা যাবেন? - না
- ভাই, দোয়ার্কা যাবেন? - না ভাই। মুনির্কা পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারি।
- নিয়ে যান না ভাই। - না ভাই, মুনির্কা পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবো।
সেখানে থেকে বাসে যেতে হবে।
- বাস পাবো তো? - হ্যাঁ, পাবেন।
তো বিচারক কয় তারিখ বলছে?
এক সেকেন্ড!
হ্যাঁ, বলো...
কতগুলো?
মজা নিচ্ছো না তো? চেকপয়েন্টে ধরছে?
তার নাম যেন কী? নিতি। আচ্ছা।
সে স্যান ডিয়েগো পড়াশুনা করতে গিয়ে এক বিদেশির প্রেমে পড়েছিল।
No comments yet. Be the first to leave one.