أول 200 سطر.
অনুবাদ ও সম্পাদনায় : আরমান আল মাহমুদ
শ্রমিক?
শ্রমিক? শ্রমিক লাগবে আপনার?
না।
- শ্রমিক লাগবে আপনার, লাগবে? - কয়জন লাগবে?
দুইজনকে নিয়ে নিন।
- সালাম, জনাব। - সালাম।
কেমন আছো তোমরা?
- কী করছো? - গাড়ি চালাচ্ছি।
খানা খরচ কত তা জানো?
লাইনে আসো...
এক লাখ টোমান কিছুই না!
আমরা কীভাবে ফিরিয়ে দিবো?
বেশ, তারা কী চাচ্ছে?
স্বত্বপত্র কোথায় পাবো আমরা?
রেখো না! আপনি কি কল করতে চান?
কী?
- ফোনটা ব্যবহার করতে চান? - না।
হ্যাঁ, শুনছি...
কোথায়?
জাদুঘরের বাইরে?
কখন?
ঠিক আছে।
খোদা হাফেজ।
- আসুন এগিয়ে দিই। - না, আমি কাজ করছি ওখানে।
- আমি ওদিকেই যাচ্ছি। - আমি কাজ করছি।
- দেমাগ দেখাবেন না... - বললাম তো, কাজ করছি!
এদিকে আসুন, আসুন না, এক মিনিটের জন্য।
সালাম! কেমন আছেন?
আপনার যদি আর্থিক সমস্যা থেকে থাকে, তবে আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারি।
নেই।
- আর্থিক সমস্যা নেই? - না।
আমি সাহায্য করতে পারবো...
যান এখান থেকে নয়তো চেহারার মানচিত্র পালটে দিবো!
দূর হন!
সালাম।
- কেমন আছেন? - ধন্যবাদ, ভালো।
কী কুড়চ্ছেন?
প্লাস্টিকের থলে।
কীসের জন্য?
আমি এগুলো কুড়াই এবং পাশের কারখানায় নিয়ে গিয়ে গলিয়ে ফেলি।
মানে এগুলো বিক্রি করেন?
আঙ্গুলে কী হয়েছে?
সকালে কেটে ফেলেছি।
এখানে?
সুন্দর শার্ট! কোথায় পেয়েছেন?
গত সপ্তাহে ওখান থেকে পেয়েছি।
কালারটা সুন্দর, মানিয়েছে আপনাকে!
জানেন এটায় কী লেখা আছে?
কোথা থেকে এসেছেন?
"হিসি, হিসি... তোমার নুনুর সব বেশি বেশি..."
- ওদের কথায় কিছু মনে করবেন না। - ওরা খেলছে।
- কোথা থেকে এসেছেন? - লরিস্তানের কাছ থেকে।
তাহলে স্থানীয় না... লরিস্তান থেকে এসেছেন।
- আপনিও কি লরিস্তান থেকে এসেছেন? - সেরকমটা বলতে পারেন।
দিনে কত রোজগার হয়?
২০০, ৩০০, ৪০০... ৭০০...
টাকাগুলো দিয়ে কী করেন?
পরিবারের কাছে পাঠাই।
বিয়ে করতে চান না?
না, পরিবারকে সাহায্য করছি।
সাহায্য করছেন?
তো, আমি যদি কিছু করতে বলি করবেন?
কী?
একটি ভাল বেতনের চাকরি।
না, জানি না কীভাবে... আমি শুধু প্লাস্টিকের থলে কুড়াই আর সেগুলো বিক্রি করি।
কোথায় যাচ্ছেন?
#A Taste of Cherry...#
- কোথায় যাচ্ছ? - ব্যারাকে যাচ্ছি।
আসো, ভিতরে আসো।
সালাম।
সালাম।
ভাল আছো? কোথায় যাচ্ছিলে?
ঐযে নিচে... খুব বেশি দূর না।
নিচের ব্যারাকে?
- চৌবাচ্চার কাছাকাছি ওইটা না? - হ্যাঁ।
তোমাকে ক্লান্ত দেখাচ্ছে...
আমারও তা-ই মনে হচ্ছে।
- তুমি কি শ্রান্ত? - হ্যাঁ।
একজন সৈনিক কখনোই ক্লান্ত হয় না!
আপনি কী মনে করেন? দারাবাদ থেকে হেঁটে এসেছি।
- দারাবাদ থেকে? - হ্যাঁ।
কিন্তু আজকে তো ছুটির দিন...
আজকে রাত থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত আমার ডিউটি আছে।
তারপর কী করবে?
- কোথায় যাবে? - খালার বাসায় যাবো।
উনি মারা গেছেন, ওনার স্বামীর সাথে থাকি আমি, তিনি একজন দারোয়ান।
কতদিন হলো এখানে আছো?
কতদিন হলো এখানে আছো?
দুই মাস।
- এখনো প্রশিক্ষণে? - হ্যাঁ।
কোথা থেকে এসেছ?
কুর্দিস্তান থেকে।
- আর এখানে আর্মিতে আছো? - হ্যাঁ।
পরে কি থাকবে নাকি ফিরে যাবে?
- ফিরে যাবো। - বুঝিনি?
- বাড়িতে ফিরে যাবো। - কুর্দিস্তানে?
ভালো।
সেখানে থাকতে কী করতে?
কৃষক ছিলাম।
কৃষক?
পড়াশোনা করেছিলে?
- স্কুলে গিয়েছিলে? - খুব বেশিদিন না।
বেশ...
পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলে?
কেন?
আপনি জানেন পরিবারের অবস্থা...
পরিবারে কয়জন আছে?
নয়জন।
- নয়জন? - হ্যাঁ।
- সবাই কাজ করে? - হ্যাঁ, সবাই করে।
- তেহরানে কেউ আছে তোমার? - হ্যাঁ।
- আত্মীয়? - হ্যাঁ।
তেহরানে আমার দুইটা ভাই আছে।
তো, ওদের সাথে থাকছো না কেন?
ওরা বিবাহিত, ওদের বাচ্চাকাচ্চা আছে, ছোট্টখাট্টো ঘর...
সেখানে আমি থাকতে পারি না।
তোমার কাছে টাকাকড়ি আছে? সৈন্যরা বেতন পায়?
- টাকাকড়ি? - অল্পস্বল্প... বেতন ভালো না।
ওতে পোষায়?
না, পোষায় না...
তোমাকে কখন পৌঁছাতে হবে?
সন্ধ্যা ছয়টায়।
এখন পাঁচটা বাজে।
এক ঘণ্টা আগেই সেখানে চলে যাচ্ছ,
জায়গাটা কি এতোই পছন্দের?
না, আসলে সেরকমটা... না।
এক ঘণ্টা সময় পাচ্ছি আমরা, একটু হাওয়া খেয়ে আসলে কেমন হয়?
তোমাকে দেয়ার মতো আমার কাছে হয়তো ভালো বেতনের কাজও থাকতে পারে।
- তোমার রোজগারে সাহায্য করার জন্য। - ছয়টার মধ্যে ব্যারাকে পৌঁছাতে চাই।
কী?
ছয়টার মধ্যে ব্যারাকে ফিরতে চাই।
আমি দিয়ে আসবো।
চিন্তা করো না, দেরী হবে না তোমার।
যাবো আমরা? যাবো?
চলুন।
ছয়টার মধ্যে তোমাকে দিয়ে আসবো, চিন্তা করো না।
তুমি বলছো...
ব্যারাকে খুব একটা মজা নেই, তাইনা?
আমি কিন্তু মিলিটারিতে থাকাকালীন মজা করেছিলাম।
সেটা ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়।
আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সাথে সেখানেই দেখা হয়েছিল।
বিশেষত প্রথম ছয়মাসে।
আমার মনে পড়ে, সকাল চারটায় আমরা ঘুম থেকে উঠে পড়তাম...
সকালের নাস্তা সেরে, আমাদের বুট পালিশ করতাম এবং...
মহড়া দিতে বের হতাম। মেজরও আমাদের সাথে যোগ দিতো।
রেজিমেন্টে ৪০ থেকে ৪৫ জন ছিল।
মেজর গণা শুরু করতেন।
তিনি আমাদেরকে পুনরাবৃত্তি করতে বলতেন এভাবে: এক...
দুই...
তিন...
চার...
তুমিও কি এভাবে গুনো? একইভাবে?
বেশ?
কীভাবে গুনো?
লজ্জা লাগছে?
- হ্যাঁ। - কী?
কেন? তোমার বন্ধুদের সাথে ব্যারাকে গুনো না?
হ্যাঁ।
তাহলে আমাকে বন্ধু ভাবছো না...
অবশ্যই ভাবছি, আমরা বন্ধু।
না, আমরা একে অন্যকে চিনি না এমন আচরণ করছো তুমি।
- না, তেমন কিছু না। - বেশ, তাহলে?
সেরকম কিছু না।
শোনো, আমরা কীভাবে করতাম: এক...
দুই...
তিন...
চার।
এক, দুই, তিন, চার।
এক, দুই, তিন, চার।
- চলো, আমি বলার পর বলবে: এক... - এক...
দুই, তিন...
ব্যারাকে এভাবে বলো নাকি?
- সৈন্যরা এভাবে গুনে না! - আমি পারবো না।
অনেকক্ষণ ধরে আমার সাথে কথা বলছেন! জানতে চাই আপনি কী চান।
- তোমাকে কী করতে হবে তা? - হ্যাঁ।
জানো, বাবা...
তোমার জায়গায় আমি থাকলে, কাজটা কী তা জিজ্ঞেস না করে
পারিশ্রমিক কেমন সেটা জিজ্ঞেস করতাম।
তোমার মতো কারো জন্য,
কাজ তো কাজই। বেতনই সব কিছু।
এভাবে দেখলে সব সহজ।
এটা যেমন সামান্য কাজ না তেমনি পারিশ্রমিকও সামান্য না।
দশ মিনিটের মধ্যে, তুমি ছয়মাসের বেতন কামাই করতে পারো।
কাজটা কী?
কাজের কথা বাদ দাও, পারিশ্রমিকই আসল।
আপনাকে বলতে হবে সেটা কী!
শোনো, একজন শ্রমিককে যখন ভিত্তি খোঁড়ার জন্য বলা হয়,
সে কি জিজ্ঞেস করে, সেগুলো হাসপাতাল,
পাগলা গারদ, মসজিদ,
নাকি মাদ্রাসার জন্য? সে তার কাজ করে বেতন নিয়ে চলে যায়।
কখনো কী শ্রমিক ছিলে?
হ্যাঁ।
কীসের জন্য খনন করছো কেউ বলেছিল?
- না, কেউ বলেনি। - তাহলে আমাকে কেন জিজ্ঞেস করছো?
আমাকে সাহায্য করো, আমি পারিশ্রমিক দিবো।
সেটা খুব একটা কষ্টের না, তুমি দেখতেই পাবে।
ঠিক আছে?
কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?
ছয়টার মধ্যে আমাকে ব্যারাকে যেতে হবে।
No comments yet. Be the first to leave one.