أول 200 سطر.
আমার নাম মিলেয়া। মিলেয়া আদনান হোসেন।
আমার জন্ম হয় জাকার্তায়।
আমার মা বেনদুং থেকে এসেছেন এবং উনি একজন ব্যান্ড শিল্পী।
আর বাবা একজন আর্মি অফিসার। উনি পশ্চিম শুমাত্রা থেকে এসেছেন।
তাদের বিয়ের পর, স্লিপি, জাকার্তায় চলে আসেন।
১৯৯০ সালে, বাবার বেনদুং এ পোস্টিং হয়।
আমি বেনদুং, বুয়াহ বাতুরের এক স্কুলে ট্রান্সফার নিয়ে নিই।
আর এখান থেকেই আমার গল্প শুরু হয়।
গল্পটা সেই মানুষটার ব্যাপারে যে আমাকে শিখিয়েছে...
রাত্রে ঘুমানোর সময় কাউকে উইস করার গুরুত্বটা।
অনুবাদকঃ সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
- গুড মর্নিং। - মর্নিং।
- তুমি মিলেয়া? - হ্যাঁ।
- আমি কি তোমার ভবিষ্যৎ পড়তে পারি? - ভবিষ্যৎ?
হ্যাঁ। ক্যান্টিনে আজ আমাদের আবার দেখা হবে।
- লিফট লাগবে? - না, লাগবে না।
কিন্তু একদিন তুমি অবশ্যই চড়বে।
বিশ্বাস করো বা নাই করো।
দেখা হবে।
জানিস আজ কী হয়েছে?
সকালে বাইকে করে এক ছেলে এসে আমার ভবিষ্যৎ পড়ার চেষ্টা করছিল।
ভবিষ্যৎ পড়ার চেষ্টা করছিল মানে?
বলছিল আমাদের নাকি ক্যান্টিনে আবার দেখা হবে।
- চিনিস? - না।
- তো, ক্যান্টিনে যাবি? - না।
তোর যে এখানে ট্রান্সফার হওয়া ২ সপ্তাহ হয়ে গেছে তা কি খেয়াল আছে?
হ্যাঁ।
লিয়া, আমি তোমাকে ক্লাস সেক্রেটারির পদে চাচ্ছি।
- সেক্রেটারি? - নন্দন ক্লাসের প্রেসিডেন্ট।
তা তো জানি। কিন্তু আমি কেন?
আরে, হ্যাঁ বলে দে না।
- হবে? - ঠিক আছে, তাহলে।
দেখি।
- তুমি মিলেয়া? - হ্যাঁ।
- এই চিঠিটা তোমার জন্য। - চিঠি?
আমার এক বন্ধু দিয়েছে।
- ওয়াতি কই? - ক্যান্টিনে গেছে।
আচ্ছা। দেখা হবে।
ও হচ্ছে পিয়ান। ২-ফিজিক্স-১ ক্লাসের।
- চিনিস? - না।
"মিলেয়া, ক্যান্টিনে আমাদের দেখা হবার ব্যাপারে আমার ভবিষ্যদ্বাণী ভুল ছিল।"
"সরি, কিন্তু আমাকে তোমার ভবিষ্যৎ পড়ার আবার সুযোগ দাও।"
"কাল আমাদের আবার দেখা হবে।"
- কিন্তু কাল তো রবিবার। - কী?
কিছু না। তো... সেক্রেটারি হিসেবে আমার কী কী কাজ?
- বাইরে অতিথি এসেছে। - আমার জন্য?
হ্যাঁ। কয়েকটা ছেলে এসেছে।
- তোমাকে একটা ইনভিটেশন দিতে এসেছি। - কীসের ইনভিটেশন?
- পড়লেই বুঝবে। কিন্তু পরে। - আচ্ছা।
- পিয়ান। আরবিতে কী বলে রে? - মানে?
'ইকরো', মিলেয়া।
পরে দেখা হবে।
- আমার বাসা কোথায় তুমি কীভাবে জানলে? - তোমার জন্মদিন কবে সেটাও জানি।
- আর এও জানি তোমার খোদা কে। - আল্লাহ্।
আমারও। এখন যেতে হবে।
সালাম দিবে নাকি দিবে না?
- আসসালামু আলাইকুম। - ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
চল।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আল্লাহর নামে শুরু করছি,
যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু ।
এতদ্বারা জানানো যাচ্ছে যে, মিলেয়া আদনানকে মন থেকে স্কুলে আমন্ত্রণ করা হচ্ছে...
আগামী সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার।
বেন্নির ফোন এসেছে।
- তোর বয়ফ্রেন্ড। - হ্যালো।
আমার জন্য আজ দিনটা খুব ব্যস্তময় ছিল। জুতা পরিষ্কার করেছি,...
জাকার্তায় আমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলেছি।
এদিকে, ঐ ভবিষ্যদ্বক্তার দেওয়া...
অদ্ভুত ইনভিটেশনের কথা ভেবে সারাদিন হাসছিলাম।
বিশ্রাম!
আটেনশন প্লিজ, যে সব ছাত্রছাত্রীরা সেপ্টেম্বরের বেতন দাওনি, তারা...
পরিশোধ করতে ভুলো না।
চলো!
শার্ট ইন করো! চলো!
পরের আনাউন্সমেন্টটা সুরিপ্ত স্যার করবেন।
লাইনে দাঁড়াও!
ইউনিফর্ম ঠিক করো।
- আবার। - কে ও?
দিলান।
স্কুলে পতাকা উত্তলন আমাদের মৃত বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আদব।
আমাদের দেশের নিয়মনিষ্ঠ ছাত্রছাত্রী প্রয়োজন।
সেদিন সকালে সেই ভবিষ্যদ্বক্তার নাম জানতে পারলাম... দিলান।
এটা জানার পরও যে, তোমাদের কেউ কেউ এই অনুষ্ঠানে তা দেখাওনি।
রাণী বলেছিল ও ২-ফিজিক্স-১ ক্লাসের।
আর বেনদুং এর নামকরা বাইক গ্যাং এর মেম্বার।
গ্যাং এ ওর পজিশন শরীরে শিহরণ জাগাতে পারে।
রণক্ষেত্রের সেনাপতি।
DILAN
DILAN 1990
বাসে করে বাসায় যাবে? তোমার সাথে আসব?
- কোথায়? - বাসে।
- দরকার নেই। - কিন্তু বাস তো সবার জন্য উন্মুক্ত।
- তুমি তো বাইক চালাচ্ছ। - সে নিয়ে চিন্তা কোরো না।
এই প্রথম তোমার পাশে বসেছি।
মিলেয়া...
তুমি অনেক সুন্দর।
থ্যাংক্স।
এখনো তোমার প্রেমে পড়িনি। কিন্তু এই বিকেলে, কে জানে?
দেখা যাক।
আমি ভবিষ্যদ্বাণী করছি যে খুব শীঘ্রই তুমি আমার নাম জেনে যাবে।
ওকে এটা বলতে দেখে, খোদার কসম মনটা চাইছিল যে বলি, "আমি অলরেডি জানি।"
"আর কোনো ভবিষ্যদ্বাণীর দরকার নেই। দয়া করে আমায় মুক্তি দাও।"
জানো আমাদের স্কুলের সবকটা ছেলেমেয়ে ফাউল?
একমাত্র স্টুডেন্ট যে সুরিপ্ত স্যারের অফিসে যেতে পেরেছে, জানো কে সে?
কে?
আমি!
সরি, তোমায় যদি বিরক্ত করে থাকি।
তোমার বাস।
আমি জাস্ট তোমার খেয়াল রাখছিলাম।
চাই না তোমার সাথে খারাপ কিছু ঘটুক।
আচ্ছা।
এই দাঁড়াও!
কিন্তু ও যাবার পর, ওর সাথে রূঢ় ব্যবহারের জন্য খারাপ লাগছিল।
ওর অবশ্যই মন খারাপ।
আসলে ও বেন্নির থেকে বেশি মজার, জাকার্তার আমার বোরিং বয়ফ্রেন্ড...
প্রায়ই কবিতা কপি করে, খালিল গিব্রানের বই থেকে
নাহয় আবুলমার্কা ম্যাগাজিন থেকে।
সত্যিই অদ্ভুত। ঐ ভবিষ্যদ্বক্তাকে বেন্নির সাথে কেন তুলনা করছি?
এটা রিদওয়ানের ডেস্ক, ও বসবে হানাফির সাথে।
এটা যেনার ডেস্ক, ওর পাশে বসবে রেভি।
লিয়া, তোর জন্য চিঠি।
কে দিয়েছে?
আর এই ডেস্কে?
পরে আবার করব। ব্রেক টাইম প্রায় শেষ।
আচ্ছা।
"একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি!"
"কাল বিকালে, আমি তোমার প্রেমে পড়ব।"
- কী আছে চিঠিতে? - না, কিছু না।
- তোর এত্ত খিদে পেয়েছে, রান? - নন্দন খাওয়াচ্ছে আমায়।
এখানে কি এই একটাই ক্যান্টিন আছে?
কেউ কেউ এখানে খায় আর কেউ কেউ বিক ইমের স্টলে।
- সেটা আবার কী? - বিক ইমের স্টল হলো...
স্কুলের পিছনে একটা ছোট্ট রেস্টুরেন্ট।
হ্যাঁ, তারা সেখানে সিগারেট খেতে দেয়।
অন্য স্কুলের পোলাপানও সেখানে খেতে যায়।
সেটা ওদের মজ মস্তি করার জায়গা।
- হাই, লিয়া। - হাই।
আমি "হাই" বলতে এসেছি।
- একটা ব্যাপার জানিস? - কী?
আমি লিয়াকে পছন্দ করি।
- কিন্তু ওকে বলতে বড্ড লজ্জা করে। - বলেই তো ফেললি।
- তোকে বলেছি, মিলেয়াকে না। - কিন্তু আমার মনে হয় ও তোর কথা শুনেছে।
ইন শা আল্লাহ। পিয়ান!
নন্দনের চোখে দেখেছি।
দিলান যখন ওকে সেসব বলছিল ওর খুব অস্বস্তি লাগছিল।
আমি বডি ল্যাংগুয়েজ পড়তে এক্সপার্ট নই।
কিন্তু রাণী বলেছিল, ওর নাকি আমার উপর ক্রাশ আছে।
কিন্তু জানতাম, স্কুলে অনেক মেয়ে আছে যারা ওকে পছন্দ করত।
দেখতে শুনতে ভালো আর বাস্কেটবলও ভালো খেলে।
দিলান, এখানে কী করিস?
- রাণী, এখানে বসতে পারি? - কী?
এখানে বসতে পারি?
তোমার কাছে পেপার আছে?
নিলাম।
যারা তোমার বয়ফ্রেন্ড হতে চায় তাদের লিস্ট :
১. নন্দন (২-বায়োলজি)।
২. আসলান।
৩. তবু (৩-সোসাল)।
৪. আসিল (২-ফিজিক্স)।
৫. দিলান (হিউম্যান বিং)।
তোমার নাম বাদে বাকিদেরগুলো কেটে দিলে কেন?
- তারা সবাই ব্যর্থ হবে। - তুমি ছাড়া?
হ্যাঁ। আমায় শুভেচ্ছা জানাও।
- গুড আফটারনুন, বাচ্চারা। - গুড আফটারনুন, স্যার।
তো আজ আমরা পড়ব মরফোলজি।
কেউ মরফোলজির ব্যাপারে জানো?
- না। - বেশ।
কারণ তোমরা আগে থেকেই জানলে, আমাকে টপিকটা চেঞ্জ করতে হতো।
এই! তুমি তো এই ক্লাসের না।
এখানে আসো।
- এই ক্লাসে কী করছ? - আমি ভুল ক্লাসে ঢুকে পড়েছি।
- বের হও। - সরি, স্যার।
শার্ট ইন করো!
বাচ্চারা, তোমাদের আরো বেশি করে মাছ খাওয়া দরকার...
যাতে ব্রেন পুষ্টি পাবে আর ভুলে যাওয়া থেকে তোমাদের রক্ষা করবে।
আব্দুলের মতো হয়ো না। নিজের ক্লাস কোনটা ওর সেটাও মনে থাকে না।
ও দিলান, স্যার!
ওর পুরো নাম তো আব্দুল দিলান, না?
- ভাবছিলাম তোমাকে লিফট দিবো। - লাগবে না।
কিন্তু আমার মন বদলেছি। কারণ জানতাম তুমি এটাই বলবে।
- আজ রাত তোমার বাসায় যাবো। - প্লিজ, না। আমার বাবা খুব কড়া।
- মারবে নাকি? - সিরিয়াসলি, এসো না।
আমি তোমার বাবাকে ভয় পাই না। আমার তো মনে হয় উনি ভালো।
- এমন কেন করছ? - তোমার বাসায় যেতে চাই তাই।
থ্যাংক্স, সোনা।
- বিক, কে এসেছে দেখ তো। - ও বাজারে গেছে।
আচ্ছা, আমি দেখছি।
- আসসালামু আলাইকুম। - ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
- কে রে? - একটা অদ্ভুত ছেলে।
অদ্ভুত?
- আসসালামু আলাইকুম। - ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
- কে? - আজব।
লিয়ার স্কুলের এক ছেলে।
বলছিল, ওকে নাকি ক্যান্টিনের তরফ থেকে পয়গম্বর হিসেবে পাঠানো হয়েছে।
বার্তাবাহক? নিজেকে পয়গম্বর ভাবে?
সে নাকি তাদের নতুন মেনুর প্রচার করছে। "তিন স্বাদের কাচ্চি বিরিয়ানি।"
- তিন স্বাদের কাচ্চি বিরিয়ানি? - আজকালকার ছেলেমেয়েদের কিছুই বুঝি না।
মাথায় সমস্যা আছে বোধহয়।
- হ্যালো। - গুড ইভনিং।
- মিলেয়া আছে? - আমি মিলেয়া।
দিলান বলছি।
No comments yet. Be the first to leave one.