أول 200 سطر.
দেরী হয়ে যাচ্ছে।
আমাদের সাধ্যে আর কিছুই নেই, শান্তি।
কী করতে বলছ?
ওদের কথা শোনা ছাড়া উপায় নেই।
মেয়ে জন্ম দেয়ার ফল এটা।
যেতেই হবে।
ওকে রাজি করানোর জন্য এতো কাঠখড় পুড়তে হচ্ছে কেন?
হাত-পা ভেঙে বিয়ে করে ফেল, ভাই।
ওকে খাওয়াতে কি আরও বেশি খরচ হবে?
যেন আর মেয়েই পাব না আমরা।
আমার ভাইকে বিয়ে করতে মেয়েদের লাইন লেগে যাবে।
শুধু বল তুই...
আমার শ্বশুরবাড়ি থেকে আরও ভালো মেয়ে নিয়ে আসব তোর জন্য।
চুলকানির দল! ওর মত বদলে ফেলিস না।
আব্বা, গত ১৫ দিন ধরে ওকে মেরেছি আমরা।
সে কি মত বদলেছে? জেদি একটা মেয়ে!
তুই ওর প্রতি এতো পাগল কেন, ভাই?
এই জেদি মেয়েক বিয়ে করলে সুখে থাকবি ভেবেছিস?
ভাগ এখান থেকে!
ভাগ ডাইনি!
শান্ত হ! বেডিমানুষের সাথে গরম হবি না।
চল।
- ওকে চেতিয়ে দিলি কেন? - নাটক থামা!
বাদ দে। শার্ট পরে নে।
ঐ ঘাড়ত্যাড়া মেয়ের সাথে ওর বিয়ে দিতে চাও তোমরা?
আমার স্বামী আমাদের পরিবারকে নিয়ে কী ভাববে?
রানি, কখন কথা বলতে হবে সেটা জানিস না তুই।
- চল পান্ডি। - শান্তি, তোমার মেয়ে তৈরী?
আবার মারামারি শুরু করে দিস না।
ছ্যাত করে ওঠে ও! এসব মনে করানোর কী দরকার?
মন্দিরে যাব, পায়ে আঘাত পেও না।
পালাবি, হ্যাঁ?
শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে আসব বলে কাজ থেকে ছুটি নিয়েছি।
তুই কী বলেছিস?
কাউকে না বলেই ছুটি নিয়েছি। কাল দেখে নিব।
স্বজনরা সমস্যায় আছে।
তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। তারাও আমাদের পাশে দাঁড়াবে, ঠিক কি না?
- কী বলিস? - আসলেই।
আজ সকালে মাল বহনের সময় একটা বড়ো পোকা কামড়েছে আমায়।
এখনও ব্যথা হচ্ছে।
আকন্দের পাতা মারণঘাতী বিষেরও ঔষধ।
যাওয়ার পথেই অনেক পাব। ক্ষতে লাগিয়ে নিস।
বাইক তো আছে, ও কি আছে বাড়িতে?
ঐ ভাংরি চালাতে আবার চাবি লাগে না কি?
নিয়ে গেলেই হয়। ওরা রওনাও হয়েছে।
সেলভাম ভাই! আছো?
- কে রে? - আমি।
দুধের পাত্র সরাচ্ছে কেন?
মীনাকে পালামেদুর ওঝার কাছে নিয়ে যাচ্ছি। তোমার বাইকটা লাগবে।
- সন্ধ্যায় দুধ ডেলিভারি দিতে হবে। - তার আগেই চলে আসব আমরা।
বিলাচেরি যাচ্ছিস না কেন? ওখানকার ওঝার অনেক নামডাক আছে।
আমাদের হাতে কি আর ওসব আছে? পান্ডির বাপ সব ঠিক করেছে।
এতোগুলো গেঁড়ো? খুলতে দিন শেষ হয়ে গেলো।
সাবধানে চালাবি!
নিয়ে পালাবো না। চিন্তা করো না!
জিজ্ঞেস করতে মনে ছিল না।
শুনলাম তোর আব্বা নিখোঁজ। কোনো খবর পেয়েছিস?
ঐ অজাতের কথা বলিস না আর। মটকা গরম হয়ে যায়।
কেন?
পুরো গ্রামে দুইদিন লাগিয়ে খুঁজলাম।
তারপর শুনলাম সামানার পাহাড়ে আছে নাকি।
জানপ্রাণ ছেড়ে যখন ওখানে গেলাম, অজাতটা বলে:
“আমার খোঁজ করিস না, সাধুর ন্যায় জীবন কাটাবো আমি।
"আমি আর পরিবারের অংশ নই।”
চোদনা হয়ে গেছিলাম।
আম্মা তো গড়াগড়ি শুরু করে দিয়েছিল, ওনার হাত-পা ধরলো যাতে বাড়ি ফেরে।
কোনোরকমে রাজি করালো।
দুইদিন থাকলো, এরপর আবার পালিয়ে গেলো।
দেখ, কতগুলো বাড়ি হয়ে গেছে এখানে।
ভাইকে যখন বললাম আমার জন্য এখানে জমি কিনে রাখতে,
অবজ্ঞার সুরে বলেছিল, "এই জায়গায় কারও লাভ হবে না, গান্ডু।"
এখন দেখ কতকিছু হয়ে গেছে।
কাছে একটা মাছের আড়ৎ-ও আছে। হাইওয়েও হয়ে যাবে শীঘ্রই।
সামান্য একটু জায়গা যদি কিনতে দিত,
একটা বারি বানিয়ে এখানে থিতু হতে পারতাম।
আমার ভাই স্বার্থপর, যদি আমি ওর চেয়ে এগিয়ে যাই এই হিংসা করে ও।
চালাকি করে আমার মগজধোলাই দিয়েছে।
মন খারাপ করিস না, তুই বড়লোক হলে তোর কথা আমলে নিত।
তোর বাপ কল ধরেছে?
থামো, মা, কল ধরলে তোমাকে দিব।
শুধু রিংই হয়।
কী সমস্যা?
কে জানে আমার স্বামী যে কেন রেগে আছে আমার সাথে।
কয়টা দিনই হলো আসার, আমার পরোয়া তো দূর, কলই ধরছে না।
কী হয়েছে ওর?
মীনার ব্যাপারে শোনার পর থেকে,
আমাকে আর আমার পরিবারকে এমনভাবে দেখছে যেন, আমি কারও সাথে পালিয়ে গেছি।
তোর স্বামীকে ভালো করে চিনি আমি। কথা বলব?
দরকার নেই, ওকে খুব ভালো করে চিনি আমি।
এখন হয়তো কিছু বলছে না কিন্তু অপেক্ষা করো একটু...
ভাগ্নের অনুষ্ঠানে ঠিকই ঝামেলা করবে।
মনটা বিষিয়ে দিচ্ছিস কেন?
আমার ছেলের কান ফুটো করার অনুষ্ঠানের এক সপ্তাহ আগে...
ভেবেছিলাম সবাই এসে অনুষ্ঠানটা ভালোয় ভালোয় শেষ করবি।
কিন্তু যা হচ্ছে তাতে তো আমার ভয় হচ্ছে।
ভয় পাস না মুথু।
তোর ভাই পান্ডি সবার সামনে তোকে অসম্মান করবে না।
অন্তত লাখ টাকা খরচ করে সবার মুখ বন্ধ করবে ও।
এতো ছোটলোক মনে হয় আমাকে? টাকা, উপহারের ধার ধারি আমি ভেবেছিস?
আমাকে ভুল বুঝিস না পান্ডি।
তোর দুই বোনই তোকে ভয় পায়, আমাকে বলতেও মানা করেছিল।
- আমি কি কিছু লুকাই তোর কাছ থেকে? - আরে, দেখ, ওরা এসেছে!
লম্বা পথ ধরে কলেজের দিক দিয়ে আসলাম যাতে এদের দেখা না পাই।
- কীভাবে? - পকেট খালি করবে এরা, পান্ডি।
বদের হাড্ডি একেকটা।
দাঁড়া! সাইড কর!
আরও দুজনকে বাইকে নিতি।
আমাদের বাড়ির মেয়েকে ভূতে ধরছে।
পালামেদু যাচ্ছি ভূত ঝাড়তে।
- এখন? - স্যার, আমাদের বাড়ির মেয়েকে ভূতে ধরছে।
পালামেদুর ওঝার কাছে যাচ্ছি ভূত ঝাড়তে।
- পুলিশবাবু এদিকে আসছে কেন? - চুপ থাক।
- ও না কি? - জি।
কীভাবে?
একাই বাইরে গিয়েছিল মনে হয়, স্যার।
বয়স অনেক কম লাগছে। নে।
যা।
এবারের মতো মাফ করছি। ওকে দেখে রাখবি।
১০০ টাকার তেল দেন তো।
- শুনুন। - জি।
পূজার জন্য কিছু জিনিস লাগবে।
মুথু, প্রসাদ কিন্তু। নারকেল নেয়ার আগে দেখে নিস।
আমাদের বাগানের নারকেল সবসময় তাজা হয়।
সবচেয়ে ভালোটা দিন।
- মা, একটু ভাজাপোড়া নিই? - পুরো দোকানটাই কিনে নিবি? বস।
ওকে কিছু খেতে দে।
আমার বাইকের তেল ভরে নে।
কত হলো?
২৮৫ টাকার।
- সব মিলিয়ে, তাই তো? - হ্যাঁ।
চাচা, অন্য কারও জন্য না কি? আপনারই তো মেয়ের জন্য।
আপনি দিবেন না? এটাও আমার ভাইকে দিতে হবে?
এই, মুথু, বড়দের সাথে এমন বেয়াদবি করছিস কেন? আয় মুরুগা।
চুপ করেন আব্বা। শুধু চুপই করতে বলেন।
- আমার ভাই সবকিছুর টাকা দেয়। - শান্তি আম্মা, আপনি নামলেন কেন?
আমি কি অপারগতা দেখিয়েছি?
দিতেও তো চাননি।
ওঠ!
তোরই ভালোর জন্য বলি এসব।
মুথু, আমাদের চুপ থাকাই ভালো। আমাদের কথার দাম নেই।
চুপ থাকব ভেবেছিস?
অকাত দেখাতে হবে এদেরকে।
আমরা দিই বলেই আমাদেরটা খেতে পারে।
এরা কত বড় বেঈমান দেখিস না?
কিছু মনে করিস না, মুরুগা।
আমার মেয়েদেরকে তো চিনিসই।
যত গর্জে তত বর্ষে না।
একদম মায়ের মতো কুটনী।
- তোর কাছে তো আর নতুন না। - মোটেও না।
- তাহলে মন খারাপ করে আছিস কেন? - তা নয়।
যে ছেলেমেয়েকে আমরা বড় করলাম তারাই এখন টিটকারি মারে। এটাই কষ্ট।
এ আর নতুন কী?
আমারও নাতনি আছে।
যদি আমার পরিবারেও একই ঘটনা ঘটে?
চিন্তা করিস না।
মুথু, একটা কথা মনে পড়লো এখনই।
আমার ছেলে অসুস্থ থাকাতে দেবী মা-র কাছে মানত করেছিলাম,
I’d make an offering of a temple bell when he was cured.
ভুলেই গিয়েছিলাম!
এসবে গুরুত্ব দিস না কেন? এমন মানত ভুলে যাওয়া ঠিক না।
এতোদিনেও মানত পুরো করিসনি?
আমাকে বললে মনে করিয়ে দিতে পারতাম?
এই পথে অনেক যাওয়া আসা হয়।
একটা রাস্তা বানিয়ে দিলেই ভালো হতো।
শুনতে পারিনি!
"এই পথে সামান্য পরিবর্তন আনলেও আমি চলে যাব"
এমনটাই বলেছে দেবী-মা!
- তাই না কি? - হ্যাঁ, সত্যিই।
কারুথাকান্নানের নাম শুনেছিস?
ভেবেছিলাম ঐ নেশাখোর আমাদের মাঝেই মরবে।
প্রভাব খাটিয়ে চাকরি নিয়ে নাকি এখন ভালো অবস্থানে চলে গেছে।
ওর বাপ শুভ সময়ে ওর মাকে লাগিয়েছিল নিশ্চয়ই।
আমাদের কপাল, খারাপ সময়ই হবে।
খুশী থাকা উচিত, অন্তত আমাদের জাতের কেউ তো চাকরি পেয়েছে।
কার্থি, নাম।
- জলদি নাম। - স্যান্ডেল খোল।
- ওরা এখানে থাকুক। - মীনা চলো।
মুরুগা...আয়, পান্ডি।
দেখেশুনে।
দেবীর দিকে তাকাবি না। যতটা পারিস দূরে থাকবি।
ঋতুস্রাবের সময় শরীর অপবিত্র থাকে।
জানি, মনে করিয়ে দিতে হবে না।
এগোতে থাক।
অবশেষে কল ধরলে?
হ্যাঁ, মাত্র এসেছি দেবীর কাছে।
ওঝার দেখা এখনও পাইনি।
কী করছ? তোমার আশেপাশে কোনো আওয়াজ পাচ্ছি না।
কাজে যাওনি?
কাজেও যাওনি, ফোনও ধরছ না।
কী করছ তুমি আমার অনুপস্থিতিতে?
সবাই ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি যাতে আমাদের সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।
- জলদি কর! - আসছি, আব্বা!
আমার পাশে দাঁড়া, কার্থি।
কুমার, পবিত্র ছাই বের কর।
কর্পূর দে।
হে দেবী!
সুরেশ ঘন্টা বাজা!
তাড়াতাড়ি গিয়ে ওঝাকে দেখাই।
রানি বাইরে একাই অপেক্ষা করছে।
মীনা এখনও ওখানে আছে।
No comments yet. Be the first to leave one.