أول 200 سطر.
"একটি আত্মার পরকাল যাত্রা – স্বর্গ বা নরকে" ফ্লেমিশ নর্দার্ন রেনেসাঁর মাস্টার জোয়াখিম পাটিনিয়রের ১৫১৫ সালের চিত্রকর্ম ল্যান্ডস্কেপ উইথ ক্যারন ক্রসিং দ্য স্টিক্স থেকে অনুপ্রাণিত।
অনুবাদ ও সম্পাদনা ~ জাহিদ হাসান ~
হ্যালো।
ঘুমাচ্ছিলেন?
ডিস্টার্ব করলাম নাকি?
না স্যার, বলুন।
আচ্ছা…
আপনার বন্ধু মিস্টার রমনের সাথে যোগাযোগ করতে পেরেছেন?
আমি ফোন করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ও ধরেনি।
যাই হোক, তার কাছে আপনার ফোন নম্বর আছে না?
এক কাজ করুন, আমাকে ওর নম্বরটা দিন।
ঠিক আছে।
আমি আপনাকে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
বিজ্ঞানের এতো অগ্রগতির যুগে…
আপনি ভূত বা অতিপ্রাকৃতের অস্তিত্ব কীভাবে প্রমাণ করবেন?
আমরা সেটা প্রমাণ করতে পারি না।
দেখুন, বিজ্ঞানের ব্যাপার হলো—
আপনি সেটা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বারবার পরীক্ষা করে দেখতে চাইবেন,
আর অতিপ্রাকৃত কর্মকাণ্ডে সেটা সম্ভব নয়।
আপনি কোন যন্ত্রগুলো ব্যবহার করেন?
আমার নিজের অনুভূতি!
কিন্তু হ্যাঁ, আমার প্রধান যন্ত্রগুলো হলো- ইএমএফ মিটার,
যা আশেপাশের ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ক্ষেত্র নির্দেশ করে,
ইভিপি মিটার, যার মাধ্যমে কোনো অজানা শব্দ বা আওয়াজ ধরি,
আর লেজার থার্মোমিটার, যা তাপমাত্রা বোঝায়।
আপনার জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অতিপ্রাকৃত অভিজ্ঞতা কী?
ভয়ঙ্কর… আহ…
আমার মনে হয় বাস্তবটাই ভয়ঙ্কর।
উদাহরণস্বরূপ, ভালোবাসা আর হারানো—এগুলো বাস্তব।
আর মানব মস্তিষ্কের কাজকর্ম ভীষণ জটিল হয়ে ওঠে, যখন তা ভালবাসা বা হারানোর মতো অনুভূতির মধ্য দিয়ে যায়,
কিন্তু আমি মনে করি…
এই ধূসর অঞ্চলের মধ্যেই… ভূতের জন্ম হয়।
আপনার সবচেয়ে শক্ত প্রমাণটা কী ছিল…
যেটা আপনাকে অতিপ্রাকৃত জগতের ওপর বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছিল?
একবার এমনই এক সেশনে
আমার কাছে এক অদ্ভুত অতিথি এসেছিল।
ইন্টারন্যাশনাল এক্সরসিজম অ্যাসোসিয়েশনের একজন সিনিয়র সদস্য,
হ্যাঁ,
ভ্যাটিকান সমর্থিত এক্সরসিজম স্কুল থেকে।
তিনি চাইলেন আমি তার এক সাবজেক্টের সাথে দেখা করি। অত্যন্ত ইন্টারেস্টিং সাবজেক্ট।
"অ্যানেলি"—
একজন স্বঘোষিত উচ্চপর্যায়ের শয়তান পুরোহিত!
সে নিজেকে ডাইনি আর শয়তানের প্রেমিকা বলতো, আর তেমন পোশাকও পরতো।
সে কিছু মানুষের জীবনের আঘাতের কথা বলে দিতে পারতো, যেমন বিশপের গোপন কথা।
সে এমন কিছু লোকের মৃত্যু কাহিনি জানতো, যাদের সে কোনোদিন দেখেনি, যেমন আমার দাদীর।
এটা কোনো মানসিক রোগ ছিল না; এটা ছিল… যা আমি কেবল অতিপ্রাকৃত ক্ষমতাবলেই বলতে পারি।
আর আমি বুঝে গেলাম, তার মধ্যে ভর করেছে।
কোন মেঘা অনেকবার ফোন করেছে!
হ্যালো।
মিস্টার রমন পেরুমালয়ন? আমি জোসেফ স্বামীনাথন, এডিজিপি, কেরালা পুলিশ।
বলুন।
আপনি কি কেরালায় রিয়েলিটি শো খুনের খবরটা দেখেছেন?
দুঃখিত, আমি ইদানীং স্থানীয় খবর দেখিনি।
এটা খুব জটিল কেস। সাতটা রহস্যময় মৃত্যু। কোন কুল কিনারা পাওয়া যাচ্ছে না!
তাই আপনাকে ফোন করেছিলাম জানাতে— আপনার বন্ধু মেঘার স্বামী,
মিস্টার রবি বর্মা, তাকেও খুন করা হয়েছে।
এডিজিপি জোসেফ স্বামীনাথন,
সংবাদ সম্মেলনে রিয়েলিটি শো মৃত্যুর পেছনে…
কোন ষড়যন্ত্রকে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন!
তিনি স্পষ্ট বলেছেন…
এগুলো একটি সিরিজ খুন…
যা করেছে বিজয়, যে এখন কোমায় আছে।
বিজয় এখন কোমায়।
সে অতিরিক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্রহণ করেছে,
ফলে পুলিশ বলছে, সে বিভ্রান্ত হয়ে গেছে।
হাই, বন্ধুরা! আমার চ্যানেলে স্বাগতম
অনেকেই জানেন, আমি বহুদিন ধরে অতিপ্রাকৃত ঘটনাবলি নিয়ে গবেষণা করছি।
রিয়েলিটি শো মৃত্যুর ঘটনা, হ্যাঁ…
আমি বারবার বলছি, পুলিশ যা বলছে তা ঠিক নয়।
ঐ বাংলোয় সেদিন রাতে অতিপ্রাকৃত কিছু ঘটেছিল…
হ্যাঁ…
অতিপ্রাকৃত, আর ভীষণ ভয়ঙ্কর কিছু।
ব্রহ্মগিরি দ্বীপ, এক ভয়ানক জায়গা।
ওটার এক অদ্ভুত আর রক্তাক্ত ইতিহাস আছে।
কয়েক বছর আগে আমি সেখানে একটা অতিপ্রাকৃত বিষয় তদন্ত করেছিলাম। যার ভিডিও এই চ্যানেলে আছে…
ডেসক্রিপশনে লিংক পেয়ে যাবেন।
পুলিশ আজই সব মৃতদেহ দাফন করতে চাইছে।
ওহ, ম্যাডাম চলে এসেছেন। ম্যাডাম…
উনি মৃত শো-ডিরেক্টর রবি বর্মার স্ত্রী।
ম্যাডাম, এই ভয়ঙ্কর হত্যাগুলোর পেছনে কে? কিছু বলুন, ম্যাডাম।
ম্যাডাম, প্লিজ!
গতরাতে আমি সেই পুলিশ অফিসার জোসেফের সঙ্গে কথা বলেছিলাম।
উনি কিছু ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেছিলেন।
আর আমার মনে হচ্ছে, এ কেসে আরও কিছু আছে।
আর আমার মনে হচ্ছে, এটাই সেই কেস যা আমরা খুঁজছিলাম।
আমরা কেরালা যাচ্ছি।
কি?
হাই।
-হাই। ওর নাম আন্না। -ও, হাই।
প্লিজ, ভেতরে এসো
সত্যি? ও ফোন করেছে?
হ্যালো স্যার, আমি জোসেফ।
রামান।
আপনি সস্ত্রীর চলে আসবেন, এটা জানতাম না।
ও আন্না, আমার রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট।
-ওহ, সরি, সরি। -কোনো সমস্যা নেই।
মেঘা, আমি তো ভাবছিলাম, ওর বউই বুঝি।
জোসেফ ফোন না করলে, এই দুর্ঘটনার খবরই পেতাম না।
তুমি এখানে একাই থাকো?
না, কাল পর্যন্ত মা-বাবা ছিলেন।
আমাকে ওরা একা রাখবে না বলেছিল, আমিই ওদের পাঠিয়ে দিয়েছি।
কখনো আমার ফোন ধরোনি কেন?
উম্... মানে...
আমি জানতাম, তুমি ফোন ধরবে না...
এখন তুমি বিখ্যাত আর সফল,
তাহলে, এখন তো আমার বাবার আরো ধুমধাম করে তোমায় জড়িয়ে ধরা আর নিজের ঢাক পেটানোর সুযোগ!
সেই ভণ্ডামির ঝামেলা এড়াতেই আমি ওদের পাঠিয়ে দিয়েছিলাম।
উচ্চবর্ণ নাম্বিয়াররা কবে থেকে নিচু জাতের মালায়ানদের গায়ে হাত দিতে শুরু করল? (মালায়ান – দক্ষিণ ভারতের এক আদিবাসী সম্প্রদায়, নাম্বিয়ার – উচ্চবর্ণের সম্প্রদায়)
– আরে, সরি। – হ্যাঁ।
আমি ওভাবে বলতে চাইনি।
তোমার কেসের তদন্ত তো এখনো চলছে, তাই না?
আমি যখন এখানে আছি, তখন তুমি আমার কাছে কী আশা করছো?
জানি না, রামান। সত্যিই জানি না।
পুলিশের তদন্তে আমার কোনো ভরসা হচ্ছে না।
একই রকম অভিযোগ, একই রকম ফলাফল।
সব একঘেয়ে, পুরোনো কাহিনি- এখানেও সেই নাটকই চলছে।
আর তাছাড়া, তোমাকে এতে জড়ানোটা জোসেফ স্যারের মোটেই ভালো লাগেনি।
তাই উনি একটু বিরক্ত আর খিটখিটে হয়ে আছেন।
দয়া করে এটা নিয়ে মাথা ঘামিও না।
শোনো, যে বর্মাজিকে খুন করা হয়েছে, সে আমার খুব ঘনিষ্ঠ ছিল।
মদের আসরে দারুণ সঙ্গী ছিল ও।
ও ছিল এক নম্বর প্লেবয়!
একেবারে প্লেবয়, বুঝলে!
তোমার রমন স্যার আর মেঘা কলেজে পড়ার সময় প্রেম করত,
এ কথা বর্মাজি আমাকে অনেকবার বলেছে।
যাই হোক, ভূতের পেছনে সময় নষ্ট কোরো না।
দেখছি মেঘার মন আর তেমন খারাপ নেই, এর কারণ কি আপনি, স্যার?
স্যার, এই নিন সব এইচডি আর ফাইলগুলো।
এতে এমনকি একটা মিউজিকসহ এডিট করা লাইনআপও আছে… ওই টিভি চ্যানেলের পাগলগুলো বানিয়েছে।
আর সত্যি বলতে গেলে, এই কেসটা বেশ ঝামেলার।
হ্যাঁ, সত্যি বলছি, এটা বেশ জটিল কেস।
ক্যারিয়ারে অনেক নৃশংস খুন দেখেছি, কিন্তু এটা…
এটা একেবারে আলাদা, খুব খারাপ, ভয়ংকর খারাপ।
মনে রাখবেন, আমি যা করছি, সবই আনঅফিশিয়াল।
কোনো গন্ডগোল করবেন না। তাহলে আমার চাকরি যাবে।
বর্মাজির স্টুডিওটা ওপরতলায়।
সেখানে গিয়ে হার্ডডিস্কটা চালিয়ে দেখুন!
তুমি রেডি?
হ্যাঁ।
অবশেষে আমরা এসেছি রবি বর্মা আর মেঘা নাম্বিয়ারের বাড়িতে।
জোসেফ স্যার আমাদের রিয়্যালিটি শোর ফুটেজ আর মেটারিয়াল দিয়েছেন।
এখন আমরা রবি বর্মার পডকাস্ট স্টুডিওতে আছি।
বর্মা ক্রাইম আর রহস্যগল্পের জনপ্রিয় পডকাস্টার ছিল।
এখন আমরা হার্ডডিস্কের ক্লিপগুলো দেখছি।
এটাই প্রথম ধাপ।
আমার নাম মীরা নন্দকুমার।
বয়স ২৪,
এবং এটা আমার প্রোফাইল।
আমি পালক্ক...
ও সরি... পালক্কাড় থেকে এসেছি।
আরেকটা টেক দেই?
হাই, আমি শম্ভু।
আমি তিরুবনন্তপুরম থেকে এসেছি।
আমার বয়স ২৪,
আর উচ্চতা ৫'১১"।
আসলে আমি বি.কম পড়ছি।
মানিপাল থেকে পড়েছি।
আমার নাম এলিনা।
বয়স ২৫।
আমি ব্যাঙ্গালোরে থাকি, কিন্তু বাড়ি কট্টাপ্পানা, ইডুক্কি।
আমার নাম বিজয়।
বয়স ২৭।
আমি নিউ মুম্বাইতে থাকি।
যদিও আমার বাড়ি আলাপ্পুঝা। এটা আমার প্রোফাইল।
হাই, আমার নাম তাশু।
আমি ৫'৬"।
ব্যাঙ্গালোরে থাকি।
আর এগুলো আমার প্রোফাইল।
আমার নাম পি. নারায়ণন,
উচ্চতা ৬ ফুট।
আমি কোট্টায়ম থেকে এসেছি।
কোট্টায়মের ডিসেন্ট জাংশনে আমার নাম বললে আমার সম্বন্ধে সব জানতে পারবেন।
ঠিক আছে? ওহ, আমার প্রোফাইল।
আমার স্বপ্ন, অভিনেতা হওয়া।
আমার প্রথম কাজ ছিল কাট্টাপ্পানার থাঙ্কম জুয়েলারির জন্য একটা অ্যাড!
আমাদের বাড়ির কাছে একটা বিশাল বিলবোর্ড আছে….
আমার চেহারা সহ!
গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে ব্যবসা শুরু করলাম।
ব্যাপক মারা খেলাম!
তারপর আরেকটা ব্যবসা শুরু করতে চাইলাম,
কিন্তু আবার মারা খেলাম!
ঠিক তখনই আপনাদের শো-এর অডিশনের বিজ্ঞাপন দেখলাম।
তখনই ভাবলাম, এখানে একবার চেষ্টা করে দেখি!
আজকাল প্রচুর রিয়েলিটি শো হয়…
কিন্তু সেসব খালি নাচ-গানের…
কিন্তু একটা ভূতের বাড়ির ভেতর রিয়েলিটি শো হচ্ছে,
যদি জিজ্ঞেস করেন, আমি কখনো অলৌকিক কিছু অনুভব করেছি কি না?
একবার মুম্বাইয়ের কান্দিভলিতে একটা অ্যাপার্টমেন্টে
তদন্ত করতে গিয়েছিলাম,
সেখানে, আমরা স্পষ্ট এক ছায়ার মুখোমুখি হই।
সরাসরি দেখেছি আমরা।
আমার শখ বলতে…
থাইল্যান্ডই আমার প্লে স্টেশন।
ভয়? বেশি ভয় নেই।
মানুষকেই বেশি ভয় পাই।
কেবল একটা জিনিস ছাড়া থাকতে পারব না…
তা হলো…
স্বাধীনতা।
ভূতের বাড়িতে বিশ্বাস?
আমার মা–বাবার সাথে আমার বাড়িতে এসে থাকুন, সব টাকা আপনাকে দিয়ে দেবো।
No comments yet. Be the first to leave one.