أول 200 سطر.
অনুবাদ
অনুবাদ ও
অনুবাদ ও সম্পাদনায়ঃ
অনুবাদ ও সম্পাদনায়ঃ অনিক
অনুবাদ ও সম্পাদনায়ঃ অনিক কুমার
অনুবাদ ও সম্পাদনায়ঃ অনিক কুমার নাথ
এটি আমার করা সপ্তম একক বাংলা সাবটাইটেল। চেষ্টা করেছি একটি সম্পূর্ণ নির্ভুল ও সাবলীল বাংলা সাবটাইটেল উপহার দেয়ার।
সাবটাইটেলটি ভালো লেগে থাকলে ভালো রেটিং ও ফিডব্যাক জানাতে ভুলবেন না যেন।।
তলোয়ার...
বয়রা হয়ে গেলি নাকি?
তাড়াতাড়ি তলোয়ারটা দে!
বাবা!
আমি তোমার সাথে আসতে পারবো?
সীতা, বসে নিজের খাবার খেয়ে নাও।
মেয়েরা সাথে যেতে পারে না।
কিন্তু কেন?
মেয়েরা এরকম প্রশ্নও করতে পারে না।
তাকে সেটা বুঝিয়ে দেয়া উচিত তোর।
এসো ভাই, জোরাভার!
এখনো শুরু হয়নি কেন?
ঢুলি এখনো এসে পৌঁছায়নি।
আমরা তার জন্য অপেক্ষা করছি।
ওই নিচুজাতের ঢুলিগুলোও আজকাল বেশ লাটে উঠে গেছে।
পুরো এলাকাই তো খরার ছোবলে পড়েছে।
আর এদিকে ঢুলির সংখ্যাও তো কম।
প্রতিটা গ্রামই তো বৃষ্টির হওয়ার জন্য প্রার্থনা অনুষ্ঠান করছে। আর এই সুযোগে ওরাও দাম হাঁকাচ্ছে।
কিছু তো জায়গা দে।
এটার দম বন্ধ হয়ে গেছে বলেই তো বাজছে না।
এটা কি সিগন্যাল ধরতে পারছে না?
পেথা, রেডিওর থেকে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়া।
রেডিওর সিগন্যাল তোর পেটে ধাক্কা খেয়ে আবার দূরে চলে যাচ্ছে।
এই নে, আমি বসে গেলাম। খুশি?
- এটা তো জাদুর মতো কাজ করলো। - পেথা, এক কাজ কর!
তুই মাটিতে শুয়ে পড় তাহলে সিগন্যাল একদম পরিষ্কার পাবে।
এই রাভজি!
কি সুন্দর স্বর, তাই না?
কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু কিছুই তো বুঝা যাচ্ছে না, তাই না?
ওই রানমাল!
তুই আমাদের শত্রু জাতির রেডিও স্টেশন শুনছিস!
আমাদেরটা দে!
এই, মুখী বাপ্পা!
পুজো শুরু করার সময় হয়ে গেছে। তুই এখনো রেডিও নিয়ে গুঁতাগুঁতি করছিস কেন?
দেবী মায়ের দিব্যি খেয়ে বলছি, বাবা, রেডিও সিগন্যালটা ধরিয়েই আমি যাচ্ছি ওখানে।
হে দেবী মা, এই গদর্ভের মাথায় অন্তত কিছু সিগন্যাল দাও!
সর্বেশষ আবহাওয়ার তথ্যসূত্র মতে, কেন্দ্রীয় গুজরাট ও দক্ষিণ গুজরাটের দিকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
তাছাড়াও কুচ ও পশ্চিম গুজরাটে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আগামী সপ্তাহের দিকে বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তার মানে নিশ্চিত কোনো বৃষ্টি হবে না।
আরে গাধা! ওদের কাছে আবহাওয়া মাপার যন্ত্র আছে।
তারা শুধু এই বাতাস দেখে কিছু বলে দেয় না।
কিন্তু বাবা, রেডিও তো এটা গত ১০ বছর ধরেই বলে আসছে।
কিন্তু কোথায় মেঘ? তারা তো প্রার্থনাও করতে জানে না।
দেখ, ঢুলি এসে গেছে।
আজ, অল ইন্ডিয়া রেডিওতে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী সারা দেশজুড়ে জরুরী অবস্থা জারি করেছেন।
চলুন উনার বার্তাটি শুনা যাক ---
হে মা, আমরা আজ এই ঋতুর প্রথম গরবা পরিবেশন করতে যাচ্ছি।
আমাদেরকে সংকেত দিও, মা, যদি কোনো ভুল কার্য বা অসঙ্গতি হয়ে থাকে।
আর যদি কোনো নাটক, উৎসব, বলিদান তোমার আমাদের কাছে চাওয়ার থাকে, দয়া করে আমাদের বলো।
দয়া করে আর টানা ৩য় বৎসরও আমাদের জমি শুষ্ক করে রেখো না।
নাহলে আমাদের এই গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হবে।
জয় দেবী মা!
মা!
আমরা কেন গরবা নৃত্য করতে পারি না?
তোমার কখনো গরবা করতে ইচ্ছা হয়নি?
ঘুমিয়ে পড়!
'হিল্লারো'
সমস্যাটা হলো জিভার ঘরে পানি সরবরাহের ব্যাপারটা নিয়ে।
তাদের জন্য পানি এনে দেয়ার দায়িত্ব কেউ নিবে না মনে হয়।
এমন না যে কেউ এনে দিতে পারবে না!
কিন্তু অতিরিক্ত কলসি কে নিয়ে যাবে সাথে করে?
সব মহিলারাই নিজ নিজ ঘরের কলসি সামলাতেই ব্যস্ত থাকে।
জিভা শয্যাশায়ী আর সান্টোকের বেশ বয়স হয়ে গিয়েছে।
বাকি আছে শুধু তাদের পুত্রবধূ, কেসার!
কিন্তু সে তো বিধবা!
- তার তো যাওয়ার অনুমতি নেই। - তো তাহলে আর উপায়টা কি?
আমরা তো তাদেরকে এভাবে মরতে দিতে পারি না।
আমাকে কিছুক্ষণ ভাবতে দাও।
দেবী মা আমাদেরকে পথ দেখাবেন।
দেবী মা আমাদেরকে উপায় দেখাবেন।
বাহ, মুখী বাপ্পা!
আপনি সঠিক কাজই করতে চাইছেন। কি বুদ্ধি আপনার!
এই কারণেই তো তিনি এই গ্রামের প্রধান!
আপনি যথাযথ উপায়ই ভাবছেন, জনাব!
কিন্তু তিনি ভাবছেনটা কি?
এটাই যে, সুন্দরের বিধবা বউ কেসার বাকি মহিলাদের সাথে পানি আনতে যাবে।
তুই কি পাগল হয়ে গেলি নাকি, ভাগলা?
এক বিধবা বাড়ির বাইরে যাবে?
আরেহ, মুখী বাপ্পাই তো এই উপায়টা বলেছেন।
আর এটা শতভাগ সঠিক মনে হচ্ছে।
আমাদের পাশের গ্রাম ভুজ আর আঞ্জারে, মহিলারা সিনেমা দেখতেও যায়।
- তো, আমরা যদি সমাজটা সেভাবে... - সমাজ!
ভাগলা, সমাজ!
সমাজ নগ্ন হয়ে নাচতেও বলবে।
এর মানে কি আমরা সেটাও করবো?
না নাহ, আমরা শুধু তাকে পানি আনতে যেতে দিবো। এটাই...
এখন আমরা তো তিনজন মানুষকে মরতে দিতে পারি না।
এটাই একমাত্র উপায়।
গ্রামের সব মহিলাকে বলে দাও তার সাথে যেন কথা না বলে।
তাদের এটা বলো যাতে তার উপর নজর রাখে।
এটা এমনিতেও একটা খালি মরুভূমি।
এমনকি সে যদি ভুল কিছু করতেও যায়...
কার সাথে করতে যাবে?
এই আলোচনা এখন তবে এখানেই শেষ হোক।
বল, ভাগলা!
আমাদের জন্য শহর থেকে কি এনেছিস?
আমি লবণ এনেছি...
কিছু শস্যদানা আর কাপড়ও এনেছি।
এই যে!
আর কোনো খবর?
সর্বশেষ খবর হলো, জরুরী অবস্থা জারি!
জরুরী অবস্থা?
এটা তো পুরো দেশজুড়েই চলছে। জরুরী অবস্থা!
এমনকি কুচেও?
হ্যাঁ! কুচও তো এই দেশেরই অংশ, বাবা!
সেটা ঠিক!
কিন্তু এই জরুরী অবস্থায় কি হয়?
আপনি সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে পারবেন না।
নাহলে, তারা আপনাকে জেলে ঢুকিয়ে দিবে।
সরকার তো এখানে পৌঁছাতেই পারবে না।
তাহলে এই জরুরী অবস্থা আমাদেরকে কিভাবে ধরবে?
যখন কোনো মহিলা দেশ চালাবে, তখন তো এরকমই হবে।
আর কিছু?
আরেকটা জিনিস আছে...
দেবা বাপ্পা,
তোমার ছেলে অর্জুনের চিঠি এসেছে আর্মি থেকে।
এই যে, পড়ো।
জয় দেবী মা!
শুধু আমাদের বল সে কি বললো।
দেবা বাপ্পা!
অর্জুন বিয়ের জন্য ছুটি পেয়ে গেছে।
কিন্তু শুধু ১০ দিনের জন্য।
- শুধু ১০ দিন কেন? - জরুরী অবস্থা!
দেখো বাপ্পা! জরুরী অবস্থা তোমার অবধি কিন্তু পৌঁছে গেছে।
অর্জুন ফিরে আসার সাথে সাথে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদেরকে বিয়েটা নামতে হবে।
আর এটা ভালো হবে যে ততদিন পর্যন্ত যদি ওই বিধবা মহিলাকে বের হতে না দিই।
এটা অশুভ!
ঠিক আছে!
অর্জুনের বিয়ের পরই সুন্দরের বিধবা বউ পানি আনতে যাবে।
ততদিন পর্যন্ত, তাদের ঘরে পানি...
আমি ঠিক বলছেন, জনাব!
ততদিন পর্যন্ত, তারা আপনার ঘরে থেকেই পানি নিয়ে যাবে।
দেখলে? এই কারণেই তিনি এই গ্রামের প্রধান!
ঠিক আছে তবে, দেবাজি!
উৎসবের আয়োজন শুরু করা হোক।
পড়ালেখা করেছো?
কতদূর?
সপ্তম শ্রেণি!
হাহ?
সপ্তম শ্রেণি!
এটাই অনেক বেশি!
আমি শুনেছি শিক্ষিত মেয়েদের নাকি ডান গজায় বেশি।
আর শিংও নাকি গজায়!
তোমার কোনটা গজিয়েছে?
এখানে, আমাদের গ্রামে...
গোত্রীয় নিয়ম কিন্তু আগে আসে।
নিজের সীমাটা জানা থাকা ভালো।
তোমার ডানা বা শিং যেটাই গজাক না কেন সমস্যা নেই...
নিজ দায়িত্বে সেগুলো কেটে নিও।
যদি আমার থেকে কাটতে হয়, তাহলে সেটা বেশ কষ্টদায়ক হবে।
আমি শুনেছিলাম আমার বউ নাকি অনেক সুন্দরী।
কিন্তু আমি এটা জানতাম না যে, সে এতটা সুন্দরী হতে পারে।
তোমাকে পানি আনতে যেতে হবে।
দেরী করে ফেলেছো তুমি।
সব মহিলারা বাইরে অপেক্ষা করছে।
দাঁড়াও!
কেউ তার মুখ দেখেছিস?
গতকাল রাতে অর্জুন ভাই নিশ্চয় দেখেছে।
সে কি কোনোদিন নিজ চেহারাটা দেখেছে?
আমি শুনেছি সে নাকি সুন্দরী।
এখন তার সৌন্দর্য ওই চার দেয়ালের মাঝেই ধ্বংস হয়ে যাবে।
তার সৌন্দর্য আর জ্ঞান ওই রান্নাঘরেই ছাই হয়ে যাবে।
তারপর, সে সারাজীবন ওই রান্নাঘর থেকে হ্রদে আর হ্রদ থেকে রান্নাঘরে দৌড়েই জীবন পার করে দিবে।
আমাদের সাথে, আমাদের মতোই...
আমাদের মতো না!
সে শহরের মেয়ে।
একজন স্ত্রী কখনো কোনো শহরের বা গ্রামের হয় না,
সে শুধুমাত্র তার স্বামীরই হয়ে থাকে।
এবার যাও!
সবাই দাঁড়াও, এখানে দাঁড়াও!
শুনো মঞ্জরি!
ওরা হলো গৌরি, চম্পা, রাধা, মিনা, গঙ্গা, গোমতী, রুধি, কাঞ্চন...
পিউ!
এখন আমি সবাইকে পরিচয় করানো শুরু করতেই, হ্রদে পৌঁছে যাবে।
আর তখব আমাদের আর কথা বলা হবে না।
আর আমরা যদি কথা বলতে না পারি, তাহলে নিজেদেরই খারাপ লাগবে।
দেখ, আমাদের শুধু কথা বলার সময়ই হলো পানি আনাতে যাওয়ার সময়টা।
অন্য সময়, আমাদের মুখে তালা দিয়ে দূরে সরিয়ে রাখতে হয়।
কিন্তু এই, সাপটাই যদি ফণা তুলে দাঁড়াতে চায় তখন?
তখন আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে ছোবল মারার সমান হবে।
আরেহ গোমতী, আবার এসব সাপ, ছোবল শুরু করিস না তো!
এখন তাড়াতাড়ি তাকে জিজ্ঞেস কর নাহলে আমাদের হাতে আর সময় থাকবে না।
কি জিজ্ঞেস করতে চাও তোমরা?
দেখ, নতুন ব্যাপারটা হলো গ্রামে একটা নতুন বউ এসেছে...
এটা ছাড়া, নতুন তেমন কিছু ঘটেনি।
সেকারণেই আমাদের অনেক কিছু জিজ্ঞেস করার আছে।
ঠিক আছে, জিজ্ঞেস করো তবে।
আমি যা জানি তা তো বলবোই, আর না পারলে তো, ফেইল!
চিন্তা করো না। আমরা সবাই এখানে অকৃতকার্য!
হাঁটা ধর নাহলে দেরি হয়ে যাবে।
প্রথমে এটা বলো যে, শহরের মানুষেরা কেমন হয়?
অদ্ভুত ধরনের! তারা মাথা দিয়ে হাঁটে, তিনটা হাত আছে, আর পায়ের তলায় চাকা লাগানো আছে।
No comments yet. Be the first to leave one.