أول 180 سطر.
অনুবাদ এবং সম্পাদনা মোহাম্মদ ইউসুফ
"প্রেতকল্প" (পূর্ব জনমের সকল পাপ যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তখন পরের জন্মে জন্ম নেয় সেই দূষিত আত্মা প্রেত হয়ে। সেই প্রেত হয় ক্ষুধার্ত, লোভ আর লালসাই যার একমাত্র কাম্য।)
- আলপ্রাযোলাম। - প্রেসক্রিপশন আছে আপনার আছে?
এটাতো এক বছরের পুরনো প্রেসক্রিপশন, স্যার।
আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?
তোর লাইসেন্স হারাতে চাস?
ফার্মেসিতে আইসক্রিম বিক্রি করতে চাস?
হেই, যা ভাগ এখান থেকে!
খরার ব্যাপকতা বেড়ে যাওয়ায়,
কৃষকদের মাঝে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে।
দেশজুড়ে খরার ব্যাপকতা বিদ্যমান রয়েছে এখন।
এবং, খরায় মহারাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত...
একজন মানুষের যখন ভেতরটা ভেঙেচুড়ে যায়,
যা কিছুই করুক, তার ভেতরের আত্মবিশ্বাসটা আর ফিরিয়ে আনতে পারে না।
কুক্কুকে ছিনিয়ে নিয়ে আর পরিতোষকে মেরে,
ইসা আমাকে নপুংসক বানিয়ে দিয়েছে।
ঠিকমত চোষ না?
আমি শুধু একটা কথাই ভাবছিলাম, গ্যাং এ বিশ্বাসঘাতকতাটা কে করেছিল?
ইসাকে কে বলেছিল যে পরিতোষ বিয়েতে একা আসছে?
চোখ বন্ধ কর না?
উল্টো হ।
আমি বেশ্যাদের কাজ জানি না।
বাইরে মদ খেয়ে চুর হয়ে থাকো, করবি কীভাবে এসব?
তুই কিছুই জানিস না।
আমি সব জানি।
পরিতোষ ভাই মারা যাবার পর নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিস।
মুম্বাই খতম হয়ে যাচ্ছে, সাথে তুইও।
বদলা না নেওয়া পর্যন্ত তোর দ্বারা কিছুই হবে না।
এই কারতেকার?
দেখ রিপোর্টটা।
- কে? - ওই মহিলা।
- ধুর, আমি এটা দেখেছি। - আবারও ভালো করে দেখ।
ওসব কিছু না। সে প্রতিদিন এসে আমাকে বিরক্ত করে
- তুই কি পাগল? - বাদ দে।
এরকমটা করতে পারিস না। তার প্রতিবেশীর বাসায় চুরি হয়েছে।
- জানিস সেটা? - তো?
তো? ওই মহিলা এখন হাসপাতালে।
তারা তিনটা ছেলেকে খুঁজছে!
কারতেকার, আমরা মারা খেতে চলেছি!
ভালো করে রিপোর্টটা দেখ।
পড় এটা। আমি পরে আবার আসবো।
- ওটা ফেরত দে। - দুইটা আছে শুধু!
আরে, বাঙালি বুড়ার সেলিব্রিটি। কী এমন দেখছেন?
- কী হয়েছে, স্যার? - যান, গিয়ে নিজের কাজ করুন।
স্যার।
- তোর ছেলে কতদিন ধরে নিখোঁজ? - ১০ দিন ধরে, স্যার।
কাদের সাথে মিশতো?
বাজিল আর ফারাজের সাথে। ওরা পাশেই থাকে।
ছেলেগুলোর ব্যাপারে ওকে সতর্ক করেছিলাম।
তাই নাকি, মাদার তেরেসা?
তোর ছেলে দুধে ধোঁয়া তুলসী পাতা, তাই না?
সে ১০ দিন ধরে ফেরারী, ঠিক?
সোসাইটিতে ১০ দিন আগে, একটা চুরির ঘটনা ঘটেছে।
তিনটা ছেলে এই চুরিতে শামিল আছে।
বুড়ো দম্পতিকে মেরে, লুট করে পালিয়ে যায়।
তোর ছেলে আর তার বন্ধু তখন থেকেই নিখোঁজ!
আমার ছেলে নয়, স্যার।
এত বড় ঘর! ডুপ্লেক্স!
কোত্থেকে এসেছে টাকা?
আমি কারতেকার আর আমার বাসা ছোট।
এই ঘরের চেয়েও অর্ধেক।
- ও কাজ করতো, স্যার! - হ্যাঁ, বালের কাজ!
কম্পিউটার কোর্স করেছিল ও।
এটা দেখুন।
- হ্যাঁ। - দেখুন, স্যার।
দেখি, কোন কোর্স করেছে তোর ছেলে!
হ্যাঁ!
এখান থেকে ও বের হতে চাইতো, স্যার!
বাঙালি বুড়া থেকে।
- কিরে, হঠাত করে চলে আসলি? - ঘুম আসে না একদম।
- ঈশ্বর তোর মঙ্গল করুক। - ভাবলাম, এখানে একটু ঘুমাতে পারবো।
নে, খা।
যদি মেঘা থাকতো তোর সাথে, তুই সুখী হতি।
ঘর সেটা নয় যেখান থেকে সকালে বের হোস তুই,
ঘর সেটাই দিনশেষে যেখানে তুই ফেরত আসিস।
মা, আমার ওই ব্যাটের কথা মনে আছে? ক্রিকেট ব্যাট?
আমার জানের শত্রুটা? প্রত্যেকটা দিন যেটা তেল দিয়ে চকচকে করতাম?
বাবা ওটা পেয়েছিল কার কাছ থেকে?
মানে?
এটা বাইরে থেকে আনা হয়েছিল।
হ্যাঁ।
বাবার সামর্থ্য ছিল না এত দামী ব্যাট কেনার।
এখানে কী বিশ্রাম করতে এসেছিস নাকি তদন্ত করতে?
গাইতোন্ডে মারা যাবার আগে বাবার নাম বলেছিল।
গাইতোন্ডে যা খুশি তাই বলতে পারে।
এই বাড়িতে আমরা কেউই ঘুমাতে পারতাম না।
কিন্তু, তোর বাবা শান্তিতে ঘুমাতো।
কারণ, সে কখনও কোন খারাপ কাজ করেনি।
জোজোর কাছে ফাইল থাকলে এতক্ষণে পেয়ে যেতাম আমরা।
সব জায়গায় খুঁজেছি আমরা।
কী হয়েছে?
কী হয়েছে?
এটা? কিছু না, একটা বক্সিং এক্সিডেন্ট।
জয়া, তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে বলছ এটা কিক বক্সিং থেকে পেয়েছ?
সত্যিটা বলো। কী হয়েছে?
হেই, জয়া...
কী বলবো আমি?
মেরেছিল তোমাকে?
নাম বলো তার।
তাতে, কোন লাভ নেই।
মদ্যপ হয়ে গাড়ি চালানোর সময় দুজন মানুষকে মেরে ফেলেছিল ও।
কিচ্ছু হয়নি তার।
আর কী করেছে সে?
আমার ভালোবাসা। আমার সন্তান।
কুকি।
বেলকনি থেকে ওকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল ও।
বাচ্চা?
মদ্যপ ছিল তখন ও?
না, সে ওরকম মদ্যপ ছিল না তখন।
মানে?
সকালে নাশতায় রুটির সাথে মাখন লাগানোর মতো চেতনা ছিল ওর তখন।
চাইলেই পারতো।
আমরা ওর ব্যাপারটা দেখছি। তুমি চিন্তা করো না, ওকে?
আমার সাথে এসে কেন থাকছো না?
একাকী লাগে না নিজেকে?
লাহোরে আমার বাড়ির কথা মনে করিয়ে দেয় এটা।
আম্মা, এটা ভুলতে চাও না তুমি?
দেশ বিভাগের পর এটা আমাদের গড়া প্রথম বাড়ি।
তোর বাবা তার সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে এই বাড়ি বানিয়েছিল।
কীভাবে বাড়িটাকে ত্যাগ করে চলে যেতে পারি আমি?
আমার চিন্তা করা লাগবে না, সারতাজ।
শুধু তোর কাজ সততার সাথে কর।
হৃদয়টা হালকা লাগবে তাহলে।
মজিদ আলি খান- পুলিশ ইন্সপেক্টর সারতাজ সিং- পুলিশ ইন্সপেক্টর
বাল, অনেক দিয়েছি তোকে!
জয় হিন্দ, স্যার।
আমরা চাইলেই যা খুশি খেতে পারি না, তুই তো পারিস। খা, ভালো করে খা।
স্যার! আপনার মা কেমন আছে?
তোর কথা জিজ্ঞেস করেছিল।
আরে, স্যার!
- শোন। - হ্যাঁ।
হ্যাঁ, স্যার?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ভোশলের চ্যারিটি শো এর টিকেট।
জয়া মির্জা নাচবে।
শালিনী আর বাচ্চাদের নিয়ে যাস।
জি, বলুন।
কোথায়?
সিঙ্গাপুর থেকে জাল কারেন্সি এশিয়াতে পাঠাবার বড় হোতা শাংকি পুরোহিত।
তার সাথে হাঙ্গামা করার সাহস কারোরই নেই।
তারপর?
শামসুল! শামসুল!
আমরা দুজনেই পরাজিত।
তুই ঠিকমত তোর দায়িত্ব পালন করিসনি...
আমিও করিনি।
আমরা সিস্টেমকে অভিশাপ দেই...
বলি যে, এখানে কোন সৎ অফিসারের জায়গা নেই।
সৎ মানুষদের মুম্বাইতে জায়গা নেই, দেশেও জায়গা নেই।
কিন্তু, কে এই সিস্টেমটা বানিয়েছে?
মুম্বাইকে বানিয়েছে কে? ভারতকে কে বানিয়েছে?
আমরাই তো, মাদারচোত।
- হেই, দেবা কোথায়? - ওখানে।
ঠিকমত কর!
এই ছোটু! ওদিকে নিয়ে যা!
বেরিয়ে যা সব!
তাড়াতাড়ি!
বসুন।
শামসুল রেহমান।
ডায়মন্ড সোসাইটিতে দুটো ছেলের সাথে চুরি করেছে।
শুনেছি, স্যার।
ওর লাশ পাওয়া গেছে।
বাকি ছেলে দুটোও নিখোঁজ।
স্যার, এই ছেলেগুলো কোথায় গেছে, কোথায় আছে সেটা জানি না আমি।
তোরে জিজ্ঞেস করছি সেটা, মাদারচোত?
জিজ্ঞেস করছি তোকে?
এই যে এখানে ছোট ছোট বাচ্চাগুলো কাজ করে।
কোত্থেকে নিয়ে আসিস ওদেরকে?
তাদের বয়স কত? কত বেতন দেস তাদের?
শিশু শ্রমের ছুতো দেখিয়ে তোকে জেলে পাঠিয়ে দেব।
এরকম কিছু বলেছি তোকে?
এই ছেলেগুলো...
এই ছেলেগুলো একলা গ্যাং চালাতে পারে না।
তাদের এখানে একজন বাবা আছে।
না!
কুত্তার বাচ্চা! মাদারচোত!
স্যার, পানি!
বাঙালি বুড়ার এই ছেলেগুলো কাজ করত তোর এখানে?
কাজ করতো তোর এখানে? তাড়াতাড়ি বল, শুয়োরের বাচ্চা!
পানি...
পানি চাই তোর?
পানি চাই তোর?
No comments yet. Be the first to leave one.