أول 200 سطر.
সমুদ্র।
এই মহাসাগরের গভীরে মিশে আছে আমার সমস্ত অনুভূতি।
জলের উপর প্রতিফলিত অসংখ্য ছবির মতো, উঁকি দেয় আমার স্মৃতিগুলো।
Translated By HABIB SIAM HASAN SHUVO MR.X
এই সমুদ্র আর বিশাল আকাশের মাঝে যে দূরত্ব,
ঠিক তেমনই দূরত্ব রয়েছে আমার আর তার মাঝে।
হ্যাঁ, চিরকালের মতো, আমার ভালোবাসার সাথে এক দীর্ঘ দূরত্বের সম্পর্কে আবদ্ধ আমি।
দেখুন।
ওই যে ও।
সন্তানের জন্য নেয়া প্রতিজ্ঞার কথা মনে আছে আমার।
ডিসেম্বরে ছুটি নিব।
তোমার কথামতো তিরুপাতিতেই ওর মাথায় টিকলি করাব।
বাবা শীঘ্রই বাড়ি ফিরে তোমাকে গান শোনাবে, বাবু।
- এখন মায়ের কথা শোনো আর ভালোভাবে থাকো। - কী?!
ফটো স্টুডিও?
মা, ফটো স্টুডিও না, ফটোশপ!
কোনো প্রকার আটা ময়দা না মেখে ওই মেয়েকে একটা ছবি দিতে বলো।
ভাগ!
এটা আপেলের মৌসুম না।
আপেলের মৌসুম এলে অবশ্যই নিয়ে যাব।
- খাবার তৈরি হয়নি, ৩০ মিনিট পর এসো। - আচ্ছা, শোনো...
বাবার খেয়াল রেখো, প্লিজ, উনি ভালো নেই।
অপেক্ষা করতে পারবে না? তাহলে বাবার পছন্দের ছেলেকেই বিয়ে করো।
এমনটাই হবে।
একটা কথা জানো?
নেট খারাপ...নেট খারাপ।
পরে কল করব।
হ্যাল...হ্যালো?
হেই, সুইটহার্ট।
মিস করছি তোমাকে।
ছোট মেয়ে অসুস্থ বললে।
সবসময় জানিয়ে রাখতে পারো না? কল দিয়ে জিজ্ঞেস করতে হবে?
এখন কেমন আছে?
- ওকে বলো, আমি শিগগিরই আসছি। - এই, মাইকেল।
- আয়...আয়। - কী?
মুকুন্দ স্যার! মুকুন্দ স্যার!
মুকুন্দ স্যার! মুকুন্দ স্যার!
মুকুন্দ স্যার! মুকুন্দ স্যার!
মুকুন্দ স্যার! মুকুন্দ স্যার!
মুকুন্দ স্যার! মুকুন্দ স্যার!
মুকুন্দ স্যার! মুকুন্দ স্যার!
মুকুন্দ স্যার! মুকুন্দ স্যার!
মুকু--
সোলজার্স, যাও, যাও, যাও!
যাও, অস্ত্র নিয়ে এসো।
ইনকামিং নাকি আউটগোয়িং?
- মিঠুন স্যার, আমরা পারব। - হ্যাঁ।
বয়েজ, হামলাকারীদের খুঁজে বের করো, পজিশন নাও।
রেডি, রেডি!
জলদি, বেজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করো।
শুটার আমার ডানে।
বামেও শুটার আছে।
পূর্বদিকটা কভার করো।
- ওয়াহিদ? - ইয়েস, স্যার।
- কাউকে দেখতে পেয়েছ? - না, স্যার।
- সোর্স? - চারিদিক থেকে গুলি আসছে।
আমার বন্ধু আমার ভাই
স্যার, বাম দিকে, আউট।
মেজর মুকুন্দ আহত হয়েছেন! মেজর মুকুন্দ আহত হয়েছেন!
- স্ট্রেচার! - দুটো স্ট্রেচার নিয়ে এসো!
দু'জন স্যারই আহত হয়েছেন!
ইনকামিং ফায়ার, কাম অন। ইনকামিং বুলেট, স্টপ!
- দ্রুত! দ্রুত! - স্ট্রেচার নিয়ে এসো!
তোলো!
আস্তে, সাবধানে।
মুকুন্দ স্যার। এসে গেছি, প্রায় এসে গেছি।
স্যার, প্রায় এসে গেছি।
- স্যার? - যাও! যাও!
মেজর মুকুন্দ, মেজর মিঠুন।
কিছু হয়নি, আপনারা ঠিক হয়ে যাবেন।
এটা কী?
রক্ত না এটা।
অন্য কিছু এটা।
আমি না...আমি না, আমি কিছু করিনি।
তোমাদের নতুন কমান্ডার মেজর মুকুন্দের প্র্যাঙ্ক ছিল এটা।
প্র্যাঙ্ক?
প্র্যাঙ্ক ছিল না, স্যার।
প্র্যাকটিস ড্রিল।
তব্দা খেয়ে আছ কেন?
তোমাদের সুবিধা অনুযায়ী উগ্রবাদীরা হামলা করবে না।
অঘোষিত আক্রমণের ক্ষেত্রে এই বেজ খুবই দূর্বল।
তাই সতর্ক থাকবে, সবসময় প্রস্তুত থাকবে।
প্রতিটা পোস্টে ছয়জন থাকার পরও কেউ পাহারা দিচ্ছিলো না কেন?
ফেন্সিংয়ে এতো সমস্যা কেন? স্যান্ডব্যাগ মাটিতে পড়ে আছে কেন?
স্যান্ডব্যাগ, ধেয়ে আসা বুলেট থেকে বাঁচার জন্য।
- হাবিলদার পালানি। - স্যার।
- এলার্ম কাজ করেনি কেন? - স্যরি, স্যার।
জ্যোতি, ম্যাগাজিন বদলাতে এতো সময় লাগলো কেন?
দুই সেকেন্ড, প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য হাতে শুধু দুই সেকেন্ড সময় থাকবে।
এজন্যই আমরা QRT
কুইক রেসপন্স টিম।
গেট গার্ড, সবসময় বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরবে।
আর তুমি, শুধু বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরলেই হবে না।
মাথায় পটকাও পরতে হবে।
একজন সৈনিকের
ছোট্ট একটা ভুল পুরো টিমকে শেষ করে ফেলতে পারে।
শুধু আমরা আর.আর সেনারা-ই কেন
লম্বা চুল, দাড়ি রাখতে পারি, নিয়ম-নীতি নেই কেন?
কেবল জনগণের সাথে মিশে যাওয়ার জন্যে না...
যাতে সময় নষ্ট না হয় তার জন্য।
আমাদের সময়, চিন্তা-ভাবনা হবে কেবল সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করার ব্যাপারে।
স্ত্রী, সন্তান, খাবার, ঘুম সব পরের ব্যাপার।
নিজের জীবন ঝুঁকিতে থাকলেও, ভাইদের জীবনের জন্য তুমিই দায়বদ্ধ থাকবে।
একটা ভুলও করবে না।
- ওয়াহিদ? - জি, স্যার।
- স্ট্রেচারের কাজটা ভালো করেছ। - ধন্যবাদ, স্যার।
- শংকর? - স্যার?
- সেরা। - ধন্যবাদ, স্যার।
আর সন্ত্রাসীরা বিক্রমের মতো এতো ভেবে গুলি চালাবে না!
বিক্রম, এসো!
এখন বলো, কে আমরা?
রাষ্ট্রীয় রাইফেলস!
- আমরা কারা? - রাষ্ট্রীয় রাইফেলস!
আমরা কারা?
রাষ্ট্রীয় রাইফেলস!
মজা পেয়েছ?
বিক্রম, ভাই।
এতো নিখুঁত!
মুকুন্দ স্যার, ভাই আমার।
আপনার পেয়ারের রাইফেলম্যান।
কোনো ভুল ছাড়াই প্ল্যান সফল করতে পেরেছ।
আচ্ছা, এখন হবে আসল প্র্যাঙ্ক।
শুভ জন্মদিন, মিঠুন স্যার!
হ্যাপি বার্থডে টু ইউ!
হ্যাপি বার্থডে টু ইউ!
মুকুন্দ স্যার, কমান্ডিং অফিসার ফোন করেছেন, স্যার।
হ্যাপি বার্থডে…
- স্যার, মুকুন্দ বলছি। - ম্যাডি।
পার্লামেন্ট অ্যাটাকে অভিযুক্ত আফজাল গুরু আর নেই।
আজ সকালে ফাঁসি হয়েছে।
পার্লামেন্ট অ্যাটাকে অভিযুক্ত আফজাল গুরুর ফাঁসি আজ তিহার জেলে সম্পন্ন হয়েছে।
- স্যার। - হাজারও--
জইশে মোহাম্মদ কমান্ডার আর বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ওর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে আসবে।
তোমার লক্ষ্য আলতাফ বাবাও আসতে পারে।
ধন্যবাদ, স্যার।
- ওয়াহিদ? - স্যার।
ওয়াচম্যানকে বলো স্পটে আসতে।
- আজই সেই দিন। - কপি, স্যার।
বার্থডে বয়।
আজ হয়তো শ্রেষ্ঠ উপহারটা পেতে চলেছেন।
আলতাফ বাবা?
শহীদ আফজাল গুরু।
ম্যাডি টু স্কাউট ১, ২।
- স্যার। - টার্গেটকে দেখা গেছে?
- না, স্যার। - নজর রাখো।
রজার, স্যার।
টার্গেট স্পটেড। আলতাফ বাবা বাড়ি থেকে বেরোচ্ছে।
আবার বলছি, আলতাফ বাবা বাড়ি থেকে বেরোচ্ছে।
আলতাফ বাবা আর আব্বাস নাঙ্গারু দ্বিতীয় গাড়িতে আছে।
সেনাবাহিনী!
টার্গেট দ্বিতীয় গাড়িতে আছে।
পেছনে যাও, পেছনে যাও, জলদি!
সেনাবাহিনী!
সেনাবাহিনী!
সেনাবাহিনী!
জলদি পেছোও!
ফোর্স, কাম অন!
পাথর নিক্ষেপকারীরা এগোচ্ছে, স্যার।
- আলতাফ বাবা পালাচ্ছে, স্যার! - পেছোও, পেছোও!
পেছান, স্যার!
গুলি করবে না, এরা আম জনতা।
গুলি করবে না!
- মাইকেল, সিআরপিএফ আর জেকে পুলিশকে খবর দাও! - পেছোও!
- চলো! - সবাই পেছোও!
গাড়িটাকে ঘিরে রাখ।
বেরিয়ে আমার সাথে আসুন।
বাবা, জলদি আসুন!
আসুন, দ্রুত!
আলতাফ বাবা পালাচ্ছে!
কিছুই করার নেই, ওয়াহিদ! ঘাঁটিতে ফিরে চলো।
অপারেশন স্থগিত হয়েছে, ঘাঁটিতে ফিরে চলো।
আবার বলছি, ঘাঁটিতে ফিরে চলো।
আমরা কী চাই?
স্বাধীনতা!
আমরা কী চাই?
- স্বাধীনতা! - আমরা কী চাই?
পেছন দিকে যান, ওখানে গাড়ি অপেক্ষা করছে।
আলতাফ ভাই!
আমি মোহাম্মদ লতিফ।
আপনি আমার নায়ক, আমার গুরু।
লতিফ, আব্বাস নাঙ্গারুকে ডাকো, কেমন?
- ঠিক আছে, ভাই। - সাবাশ।
যাও, দ্রুত।
লতিফ, তুমি বর্ডার পার করে চলে যাও, চলো আব্বাস।
- চলো! - ৯ ফেব্রুয়ারির এই দাঙ্গায়,
ভারতীয় সেনা কর্মকর্তাদেরকে চারিদিক দিয়ে...
কাশ্মিরের সোপোর জেলার পাথর নিক্ষেপকারীরা ঘেরাও করে রেখেছিল।
পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ায় জেকে পুলিশ আসে এবং...
টিয়ার গ্যাস মেরে ভীড় কমিয়ে দেয়।
আবার মিস করলাম ওকে।
- আলতাফ বাবা! - স্যার, হতাশ হবেন না।
আজ এখানে আমার শেষ দিন।
কিন্তু আমার বদলে আপনি থাকায় আমি খুশী।
আমার আশা ভরসা সব আপনার ওপর।
অবশ্যই, স্যার।
স্মাইল, স্যার।
মেজর মুকুন্দ।
ওখানকার অনেক বড় একজন কমান্ডার হলেও
আমার কাছে…
সবসময় একজন বাচ্চা হয়েই থাকবে।
No comments yet. Be the first to leave one.