Prvních 147 řádků.
অ নু বা দ ক : মে হে রা ব হো সে ন
'মেট্রোপলিস' মুভিটি মুক্তি পাওয়ার পর, এর অনেক দৃশ্য ছাঁটাই করা হয় এবং এতে নানা পরিবর্তন আনা হয়।
ধারণা করা হয়, তখন থেকেই মুভিটির এক-চতুর্থাংশেরও বেশি অংশ কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে।
২০০৮ সালে, বুয়েন্স আয়ার্সে মুভিটার প্রায় সম্পূর্ণ একটি সংস্করণ সংরক্ষিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
যদিও এই কপিটির একটি বিরাট অংশই ক্ষতিগ্রস্ত ছিল, কারণ একে ১৬ মি.মি. রেজ্যুলেশনে প্রিন্ট করা হয়েছিল।
যার ফলে এই প্রিন্টে মুভিটির প্রকৃত অ্যাসপেক্ট রেশিও এর সম্পূর্ণ ফ্রেমের ঘাটতি ছিল।
উদ্ধারকৃত আর্জেন্টাইন প্রিন্ট ব্যবহার করে মুভির একটি বিরাট অংশের পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে,
এবং এর সম্পাদনার সঠিক ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
সেন্সর-কার্ড ব্যবহার করে স্প্যানিশ ইন্টারটাইটেলকে জার্মান ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে।
১৬ মি.মি. নেগেটিভ প্রিন্ট থেকে বেশ কিছু কর্তিত ফ্রেম পাওয়া গেছে।
তাই ছবিগুলোকে যাতে তাদের সঠিক অবস্থানে প্রদর্শন করা যায়,
সেজন্য ফ্রেমের হারানো অংশগুলোকে কালো বর্ডার দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।
জার্মান সেন্সরশিপ রেকর্ড থেকে ইন্টারটাইটেলের গ্রাফিকস নেওয়া হয়েছে।
মুভির এই প্রিন্টটিতে বেশ কিছু সংখ্যক দৃশ্য অনুপস্থিত রয়েছে,
যেহেতু মুভির কাহিনীসূত্র সম্পর্কে একটা পর্যাপ্ত ধারণা থাকা জরুরি,
তাই মুভির বেশ কিছু জায়গায় ভিন্ন চেহারার ইন্টারটাইটেল ব্যবহার করা হয়েছে (যেমনটা এক্ষেত্রে)।
যাতে সেসব অনুপস্থিত দৃশ্যগুলোতে দেখানো বিষয়বস্তু সম্বন্ধে দর্শকদের বুঝতে সুবিধা হয়।
চলচ্চিত্রটি Ufa কর্তৃক প্রযোজিত এবং Parufamet এর সৌজন্যে পরিবেশিত।
পরিচালক : ফ্রিৎজ ল্যাঙ। চিত্রনাট্য : থিয়া ভন হার্বো।
প্রযোজনা পরিকল্পনা : অটো হান্টে, এরিক কেটেলহাট, কার্ল ভলব্রেক্ট।
ক্যামেরা : কার্ল ফ্রিউন্ড, গান্থার রিটাউ।
সঙ্গীত : গটফ্রিড হাপের্টজ। ভাস্কর : ওয়াল্টার স্কাল্টজ-মিটেনডর্ফ।
মেট্রোপলিস - থিয়া ভন হার্বো রচিত একটি উপন্যাস,
এটি সর্বপ্রথম ফ্র্যাঙ্কফুর্টের Illustriertes Blatt ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়,
এটিকে বই আকারে প্রকাশ করে August Scherl Verlag G.m.b.H.
এই চলচ্চিত্রে যারা অভিনয় করেছেন:
জোহ ফ্রেডারসেন - অ্যালফ্রেড অ্যাবেল
ফ্রেডার (জোহ ফ্রেডারসেনের ছেলে) - গুস্তাভ ফ্রোহলিক
রটওয়াং (উদ্ভাবক) - রুডলফ ক্লেইন-রগ
থিন ম্যান - ফ্রিৎজ র্যাস্প জোসেফ্যাট - থিওডোর লুস
১১৮১১ নং শ্রমিক - আরউইন বিসওয়্যাঙ্গার
গ্রট (হার্ট-মেশিনের তত্ত্বাবধায়ক) - হাইনরিখ জর্জ
ক্রিয়েটিভ ম্যান মেশিন ম্যান
মৃত্যু সাতটি মহাপাপ
মারিয়া - ব্রিগিট হেল্ম
নীতিবাক্য: মাথা এবং হাতের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করার একমাত্র মাধ্যম হলো হৃদয়! (একজন হৃদয়বান ব্যক্তিই পরিকল্পক ধনিক শ্রেণি এবং শ্রমজীবী শ্রেণির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে পারে!)
শিফট পালাবদল।
মাটির অনেক নিচে, পাতালের গহীনে অবস্থিত,
শ্রমিকদের শহর।
মাটির নিচে, সুগভীরে যেমন শ্রমিকদের শহর অবস্থিত,
ঠিক তেমনই এর উপরে অবস্থিত এক সুউচ্চ অট্টালিকা যার নাম "Sons' Club",
এতে ছিল বক্তৃতা কক্ষ এবং লাইব্রেরি, থিয়েটার এবং স্টেডিয়াম।
শহরের জনক, যার কাছে প্রতিটা যান্ত্রিক কাঠামোর পরিবর্তন ছিল স্বর্ণের মতো মূল্যবান,
তিনি তার শহরের বাসিন্দাদেরকে দান করেছিলেন ছবির মতো সুন্দর "ইটার্নাল গার্ডেন"।
তোমাদের মধ্যে কে সেই ভাগ্যবতী,
যে আজ জোহ ফ্রেডারসেনের ছেলে মাস্টার ফ্রেডারকে মনোরঞ্জন করার সুযোগ লাভ করেছে?
দেখো! এরা হলো তোমাদের ভাই!
চেয়ে দেখো ― !
এরা তোমাদেরই ভাই!
ঐ মেয়েটা কী ছিল?
মেট্রোপলিস নগরীর নিয়ন্ত্রক, জোহ ফ্রেডারসেনের ছেলে ―
ফ্রেডার যখনই মেয়েটার সন্ধানে বেরিয়ে পড়লো―
তখন তার সাথে যা যা ঘটনা ঘটলো :
ব্যাবেলের নতুন টাওয়ারে নিয়ে চলো - আমার বাবার কাছে!
ব্যাপারটা কী, জোসেফ্যাট? এই বিস্ফোরণের ব্যাপারে আমি তোমার কাছ থেকে না জেনে আমার ছেলের কাছ থেকে জানলাম কেন ― !
এ সম্পর্কে আমি বিস্তারিত জানতে চাই!
মেশিন হলে গিয়ে তুমি কী খুঁজছিলে, ফ্রেডার?
আমি সেখানে তাদের চেহারাগুলো দেখতে গিয়েছিলাম যাদের ছোট ছোট বাচ্চাগুলো আমার ভাই, বোন...
বাবা, তোমার এই সুবিশাল জাঁকালো শহরে ―
তুমিই এই শহরের নিয়ন্ত্রক, এখানে তুমি আছো, আমি আছি, অন্যান্যরাও আছে...
...কিন্তু বাবা, তারা কি আছে, যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এই শহর নির্মাণ করেছে?
ওরা সেখানেই আছে, যেখানে ওরা বসবাসের উপযুক্ত...
...যেখানে ওরা বসবাসের উপযুক্ত...?
...ঐ অন্ধকার গভীরে...?
যদি ঐ গভীরে বসবাসকারী শ্রমিকরা একদিন তোমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ গড়ে তোলে?
হার্ট-মেশিনের প্রধান কর্মী ও তত্ত্বাবধায়ক, গ্রট একটি জরুরি খবর নিয়ে এসেছে...
প্রভু ফ্রেডারসেন, সেই একই চক্রান্তের আরো দুটো প্রতিলিপি পাওয়া গেছে...
...মে-মেশিনে আজ দুজন শ্রমিক এক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, ওদের পকেটে পাওয়া গেছে...
ব্যাপার কী, জোসেফ্যাট? এই চক্রান্তের খবর তোমার কাছ থেকে না জেনে আমি গ্রটের কাছ থেকে জানলাম কেন?
তোমাকে বরখাস্ত করা হলো, ব্যাংকে তোমার বাকি বেতনের জন্য আবেদন করো,...
বাবা, তোমার দ্বারা বহিষ্কৃত হওয়ার মানেটা জানো তুমি? ―
এর মানে : মাটির তলে প্রেরিত হওয়া! - বাবা — মাটির তলে! গভীর নিচে ― !
জোহ ফ্রেডারসনের কাছ থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার মানেটা বোঝো তুমি?
তুমি আমার সাথে আসবে, জোসেফ্যাট?
বাড়িতে যাও, জোসেফ্যাট, আমার জন্য অপেক্ষা করো... আমাকে আজ রাতে অনেক পথ পেরোতে হবে...
মাটির গহীনে, আমার ভাইদের কাছে...
আমি চাই আজ থেকে তুমি আমার ছেলের প্রতিটা কার্যকলাপের দিকে নজর রাখবে এবং নির্ভুল তথ্য দিয়ে আমাকে অবগত করবে...
ভাই আমার...
...ঐ মেশিন! ঐ মেশিনে সবসময় কারোর না কারোর থাকা অত্যাবশ্যক!
মেশিনে অবশ্যই কেউ না কেউ থাকবে...
আমিই থাকবো।
শোনো... আমি তোমার সাথে আমার জীবনের সওদা করতে চাই...
জোসেফ্যাট। ৯৯তম ব্লক, বাড়ি নং ৭, ৭ম তলা।
তোমরা দুজনই - আমার জন্য অপেক্ষা কোরো...
জোসেফ্যাট। ৯৯তম ব্লক, বাড়ি নং ৭, ৭ম তলা।
মেট্রোপলিসের ঠিক মাঝখানে,
দাঁড়িয়ে আছে একটি অদ্ভুতদর্শন বাড়ি, যাকে শহরবাসীরা তেমন একটা পাত্তা দেয় না।
সেই বাড়িতে বাস করতো রটওয়াং, একজন বিজ্ঞানী।
হেল
আমাকে সুখী করতে এবং সারা মানবজাতিকে আশীর্বাদ করতে তার জন্ম হয়েছিলো।
জোহ ফ্রেডারসেনের তাকে কেড়ে নেয়। জোহ ফ্রেডারসেনের ছেলে, ফ্রেডারকে জন্ম দিতে গিয়ে তাকে মৃত্যুবরণ করতে হয়।
রটওয়াং, ঐ ঘটনাটা তোমার ভুলে যাওয়া উচিত...
জীবনে শুধুমাত্র একটা কথাই আমি ভুলে গিয়েছিলাম, যে হেল একজন মহিলা ছিল, আর তুমি একটা পুরুষ...
যে মারা গেছে, তার কথা ভেবে লাভ নেই, রটওয়াং... সে আমাদের দুজনের জন্যই মৃত...
আমার জন্য সে মৃত নয়, জোহ ফ্রেডারসেন - আমার জন্য সে জীবিত!
তোমার কী মনে হয়, হেলকে পুনরায় জীবিত করে তোলার জন্য এক হাতের বিসর্জন খুব বড় কিছু?!
তুমি ওকে দেখতে চাও?!
বলো, জোহ ফ্রেডারসেন?!
ভবিষ্যতের মানব, মেশিন-ম্যানকে সৃষ্টি করতে গিয়ে এক হাতের বিসর্জন দেয়াটা কি সার্থক হয়নি?
আর মাত্র ২৪ ঘন্টার কাজ বাকি ―
এরপর কেউই মেশিন-ম্যান এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনোপ্রকার তফাত খুঁজে পাবে না!
এই মহিলা আমার, জোহ ফ্রেডারসেন! হেলের ছেলে তোমার!
বলো, আমার আস্তানায় আসার পেছনের কারণটা কী, জোহ ফ্রেডারসেন?
যথারীতি যখন আমার বিশেষজ্ঞরা আমাকে হতাশ করে... তখন তোমার পরামর্শ নিতে আসি-
গত কয়েক মাস ধরে আমার শ্রমিকদের পকেট থেকে এইসব চক্রান্তের প্রতিলিপি পাওয়া যাচ্ছে, দেখো তো এই সংকেতের পাঠোদ্ধার করতে পারো কিনা?
...ঠিক দুইটায়... আমার শিফট শেষ হলেই! সে আমাদেরকে আবার ডেকে পাঠিয়েছে...
বাবা! বাবা! এই দশ ঘন্টার শিফট কি কখনো শেষ হবে না ― ??!!
এটা হলো দুই হাজার বছর পুরোনো ভূগর্ভস্থ সমাধিক্ষেত্রের নকশা...
যা মেট্রোপলিসের খুব গভীরে, একেবারে নিচের স্তরে অবস্থিত...
আমার শ্রমিকরা ঐ ভূগর্ভস্থ সমাধিক্ষেত্রে কী কী করছে, আমি জানতে চাই...
আজ আমি তোমাদেরকে শোনাবো,
ব্যাবেলের টাওয়ারের নির্মাণের কিংবদন্তি গল্প...
ব্যাবেলের টাওয়ারের নির্মাণের কিংবদন্তি আখ্যান
চলো! আমরা এমন একটা টাওয়ার নির্মাণ করি যার শীর্ষচূড়া তারা পর্যন্ত পৌঁছাবে!
আর সেই টাওয়ারের চূড়ায় আমরা লিখে রাখবো:
মহান এই পৃথিবী এবং মহান এর সৃষ্টিকর্তা! মহান এই মানবজাতি!
...কিন্তু যারা ব্যাবেলের টাওয়ার নির্মাণ করার কথা চিন্তা করলো,
তারা নিজেরা ব্যাবেলের টাওয়ার নির্মাণ করতে পারলো না।
এই কাজটি ছিল প্রচুর কষ্টসাধ্যের। তাই তারা মজুরির বিনিময়ে শ্রমিক নিয়োগ করলো...
কিন্তু এই টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পকরা যে দিবাস্বপ্নে বিভোর হয়ে ছিল,
সেই স্বপ্নের ব্যাপারে ব্যাবেলের টাওয়ার নির্মাণকারী শ্রমিকরা কিছুই জানতো না।
একজনের প্রশংসার স্তুতিবাক্যকে অন্যজন অভিশাপ বলে মনে করলো।
একই ভাষায় কথা বলার পরও, তারা একে অপরকে বুঝতে পারেনি...
মহান এই পৃথিবী এবং মহান এর সৃষ্টিকর্তা। মহান এই মানবজাতি।
পরিকল্পক ধনিক শ্রেণি এবং শ্রমজীবী শ্রেণির মধ্যে সংযোগ স্থাপনের প্রয়োজন।
একজন হৃদয়বান ব্যক্তিই পরিকল্পক ধনিক শ্রেণি এবং শ্রমজীবী শ্রেণির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে পারে!
আমাদের সেই হৃদয়বান রক্ষাকর্তা কোথায়, মারিয়া?
তার জন্য অপেক্ষা করো! সে নিশ্চয়ই আসবে!
আমরা অপেক্ষা করবো, মারিয়া...! কিন্তু খুব বেশিদিনের জন্য নয় ― !
হে রক্ষাকর্তা, অবশেষে তুমি এসে গেলে...
তুমি আমাকে ডেকেছো - তোমার ডাকে সাড়া দিয়ে এসেছি!
রটওয়াং, মেশিন-ম্যানের চেহারাকে এই মহিলাটার মতো বানিয়ে দাও...
এই মহিলা এবং ঐ শ্রমিকদের মাঝে আমি বিরোধিতা সৃষ্টি করবো!
ওরা এই মহিলার ওপর যে বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তা আমি ধ্বংস করে দেবো ―
চলে যাও, জোহ ফ্রেডারসেন... বাকিটা পথ তুমি আমাকে ছাড়াই যেতে পারবে...
গর্দভ কোথাকার! হেলের রেখে যাওয়া শেষ স্মৃতিটাও তুই এখন খুইয়ে ফেলবি...
তোর ছেলেকে...
আগামীকাল দেখা হবে, এই গির্জায়!
প্রারম্ভিক ভূমিকার সমাপ্তি
সংক্ষিপ্ত সঙ্গীতানুষ্ঠান
ফ্রেডার যাজকদের মধ্যে একজন সন্ন্যাসীকে দেখতে পেলো যে বাণী পাঠ করছিলো:
"তোমাদেরকে বলে রাখি : নিশ্চয়ই কেয়ামতের দিন সন্নিকটে ঘনিয়ে আসছে!"
সেই সন্ন্যাসী হাত দিয়ে বাইবেলের দিকে ইঙ্গিত দেয়, যেখানে লেখা ছিল :
"আর আমি একটি নারীকে দেখলাম, সে লাল রঙের এক পশুর ওপর বসে ছিল, তার সারা গায়ে ঈশ্বর নিন্দা সূচক নাম লেখা ছিল,
সেই পশুটির সাতটা মাথা ও দশটা শিং ছিল।
সেই নারীর পরনে ছিল বেগুনী ও লাল রঙের পোশাক, তার হাতে সোনার একটি পানপাত্র ছিল,
এবং তার কপালে লেখা ছিল এক রহস্যপূর্ণ নাম :
No comments yet. Be the first to leave one.