Μια αιωνιότητα και μια μέρα
Prvních 200 řádků.
আলেক্সান্দ্রে, তুমি কি আসছো? আমরা দ্বীপে যাচ্ছি.
- কোথায়? - দ্বীপে.
আমরা ডুব দিয়ে প্রাচীন শহর দেখবো.
তারপর , আমরা পাহাড়ের চূড়ায় উঠবো...
আর পাশ দিয়ে বয়ে চলা নৌকাগুলোকে আমরা অভিবাদন জানাবো.
প্রাচীন শহর সম্পর্কে তুমি কী জানো?
দাদা বলেন যে ঐ সুখী নগরীটা এক সময় ভূমিকম্পে...
পানিতে তলায়ে যায়,
আর তারপর শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তা ওভাবেই আছে.
প্রতি মাসে একবার ওটা সাগরের নিচ থেকে উকি মারে,
আর তারপর খুব সামান্য সময়ের জন্য,
শুকতারাটা যখন পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যাবার জন্য অনুতপ্ত হয়,
আর সত্যিই সে যখন চলে যায়,
তখন সবকিছু স্তব্ধ হয়ে যায়... সময়ও যেন থমকে দাড়ায়.
সময়... সময় আসলে কী?
দাদা বলেন যে সময় হচ্ছে একটি শিশু...
যে সাগরের কিনারে পাশা খেলায় ব্যস্ত.
তুমি কি আসবে?
ETERNITY AND A DAY অনুবাদেঃ আসাদুজ্জামান শিপু
আলেক্সান্দ্রে!
তুমি ঘুমিয়ে পড়েছ...
আর তুমি এখনো অভুক্ত আছো!
আমি লবণাক্ত স্বাদ পেয়েছি... আমার মুখে এখনো ঐ সাগরের স্বাদ লেগে আছে.
তো, আজই আমাদের শেষ দিন...
কাল তোমার সাথে , আমাকেও হাসপাতালে যাবার অনুমতি দাও.
অউরেনিয়া, এসব আর জটিল করে তুলোনা...
আজ হোক বা কাল হোক সবকিছুর শেষ তো আছেই, তাই না?
অফিসে কফি দেওয়া আছে...
তোমার স্যুটকেসও আমি গোছায়ে রেখেছি.
আশা করি, একদম টইটুম্বুর করে রাখনি. এটা একদমই অপ্রয়োজনীয়...
তুমিও জানো এটা.
অউরেনিয়া...
গতো তিনটা বছর পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ.
ভাবতেও পারিনা,তুমি ছাড়া ঠিক কী অবস্থা হতো আমার.
কুকুরটা খেয়ে নিয়েছে.
গতো কয়েকটা মাস ধরে
আমার এই অচেনা প্রতিবেশিটার সাথেই
শুধু আমার যোগাযোগ ছিলো,
যে কিনা এই একই মিউজিকের মাধ্যমে তার উপস্থিতি জানান দেয়.
তার পরিচয় কী?
সে কেমন?
একদিন সকালে, তার সাথে দেখা করতে চেয়েছিলাম,
কিন্তু তারপর মত পরিবর্তন করলাম.
হয়তোবা সম্মুখে প্রত্যক্ষ করার চেয়ে, আমার কল্পনাতেই সে বেশি সুন্দর.
সেও কি আমার মতো একাকী?
এমনও তো হতে পারে , একটা বাচ্চা মেয়ে
যে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার আগে...
তার এই অচেনা প্রতিবেশিকে একটা গান শুনিয়ে যায়.
সবকিছু কেমন যেন দ্রুত চলে যায়!
ঠিক এই চিন্তাটাই আমাকে বেশি ভোগায়...
আমার এক রোখা মন আরো বেশি কিছু শিখতে চায়, আরো বেশি জানতে চায়...
আর তখনই এক নিকষ কালো অন্ধকার...
আর নীরবতা আমাকে জাপটে ধরে...
নীরবতা.
এই শীতের মৌসুম শেষ হওয়ার আগেও আমার সব কিছুতে বিশ্বাস ছিলো
বিশ্বাস ছিলো পানিতে ভাসমান নৌকার কালো প্রতিচ্ছবিতে,
আর তাদের আকাশ ছোয়া পালের বিক্ষিপ্ত হাওয়ায়,
বিশ্বাস ছিলো প্রেমিকদের প্রথম আনন্দ ভ্রমণে, আর ঐ ক্ষয়িষ্ণু সূর্যের প্রতি,
এমনকি এই শীতের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতেও,
এই শীতের আগেও আমার সবকিছুতে বিশ্বাস ছিলো...
আমার একমাত্র অনুশোচনা, আনা(একটা নাম)...
কিন্তু এটাই কি একমাত্র?
...কোন কিছু শেষ করতে না পারা.
আমি ছিলাম এখানে ওখানে ঘুরে বেড়ানো
কিছু বিচ্ছিন্ন শব্দগুচ্ছ.
ভেতরে আসো!
কোথা থেকে এসেছো?
গ্রিক বলতে জানো?
কোথায় যেতে চাও, বলো?
বাবা.
এই রবিবারে কী মনে করে আসলে?
গতো ১৫ দিন ধরে তোমাকে কল করে যাচ্ছি. কিন্তু কেউ কোন উত্তর দেয়না.
আমি চিন্তিত ছিলাম. কী হয়েছিলো?
আমাকে কিছু দিনের জন্য বাইরে বেরোতে হবে.
কুকুরটা কোথায় রেখে যাবো ভেবে পাচ্ছিলামনা , ক্যাটরিনা.
কিছু কী পান করতে চাও?
- কিছু কফি আছে... - আমি তোমার জন্য...
তোমার মায়ের কিছু পুরনো চিঠি এনেছি. - আমার মায়ের চিঠি?
কোথায় নাকি যাবে, তুমি বললে?
কোথায় যাচ্ছো?
তুমি তো জানো , নিকোস পশুপাখি বাসা বাড়িতে পছন্দ করেনা.
আর তোমার লেখালেখি, সেগুলো কেমন চলছে?
আমার লেখালেখি?
Free Besieged of Solomos এর উপর.
এটা তোমার তৃতীয় প্রোজেক্ট ছিলো, মা মারা যাবার পর...
তুমি এটা অসম্পূর্ণ রেখে দিয়েছিলে. এটার নিয়েই তো কাজ করছো নাকি?
তাছাড়া, আমিও বুঝতে পারলাম না...
তোমার মতো একজন লেখক ১৯ শতকের একটা অসম্পূর্ণ কবিতাকে...
সম্পূর্ণ করার জন্য কী করে বাকি কাজ ত্যাগ করলে.
প্লিজ আমাকে বলোনা যে, তুমি এবার এই কাজটাও ছেড়ে দিয়েছো!
কী জানি,
হয়তো আমার শব্দের পৃথিবী এখন রিক্ত...
এটার কোন খাম নেই. কেনো?
এটা কি পড়বো?
"২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৬".
আমার জন্মদিন!
মা এই দিনটাতে প্রায়ই আমার সাথে কথা বলতো.
"আমি যখন জেগে উঠলাম তুমি তখনো ঘুমাচ্ছিলে.
দাড়িয়ে তোমার শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া দেখছিলাম আমি.
আলেকজান্দ্রে, তুমি কী স্বপ্নের মাঝে ডুবে ছিলে?
তোমার হাতটা আলতো করে নড়ালে, যেন আমাকেই খুজে ফিরছিলে.
একবার তোমার চোখের পাতাটা নড়ে উঠলো, তারপরে আবার ঘুমের দেশে হারিয়ে গেলে.
তোমার চোখ বেয়ে এক ফোটা অশ্রু বের হলো.
এটা গড়িয়ে পড়লো, ঠিক যেন এক দীর্ঘ ভ্রমণের উদ্দ্যেশ্যে.
পাশ থেকে , বাচ্চাটা একটু গোঙানির মতো আওয়াজ করে উঠলো.
দরজাটা একটু সরে গেলো.
আমি বারান্দায় গিয়ে দাড়ালাম...
আর অশ্রুসিক্ত হয়ে গেলাম."
হ্যালো, আনা.
ইদানীং, কীসব অদ্ভুত স্বপ্ন দেখছি আমি.
-তুমি কি কেদেছো, আনা? - না কিছু না.
তুমি কাদছিলে.
কিছু না.
কী হয়েছে?
- আনা, তুমি কান্না করছিলে. -না তেমন কিছু হয়নি.
তো?
- আমাকে কেমন দেখাচ্ছে? - ঠিক যেন গ্রীষ্মের একটি দিন!
মিথ্যুক! আর প্রেগনেন্সির জন্য, যে অতিরিক্ত ওজন যুক্ত হয়েছে?
ওটা কী নতুন ড্রেস?
- তোমার মনে নেই? - না.
তুমিই তো তোমার কোন এক ভ্রমণ থেকে এনে দিয়েছিলে.
সারাদিন তোমার বই নিয়েই তুমি পড়ে থাকো!
সম্পাদকের কাছে কবে এগুলো ফিরিয়ে দিবে, যেন দুজনে একসাথে থাকতে পারি?
"...মাঝে মাঝে মনে হয় ঐ মুহূর্তগুলোকে যদি এমনভাবে ধরে রাখতে পারতাম,
ঠিক যেন একটা প্রজাপতিকে পিন দিয়ে আটকে রাখা যেন তা উড়ে যেতে না পারে."
তারা আসছে!
পোশাক পরে নাও!জলদি!
পোশাক পরে নাও!
"আমি তোমাকে লিখছি একটা গতিহীন আর থমকে যাওয়া সমুদ্রের সামনে বসে.
বাড়ি বসে হয়তো বা তুমি গরম দুধ আর আর্দ্র জেসমিনের সুগন্ধ নিচ্ছ.
আমি তোমাকে লিখছি, আর তোমার সাথে কথা বলছি...
আমি তোমাকে আমার অনেক কাছে অনুভব করছি,
যে কিনা নিজেকে অনেক বেপরোয়া ভাবে .
আলেক্সান্দ্রে, তোমার কি সত্যিই মনে হয় আমি তোমার পৃথিবীকে বিপদের মুখে ফেলে দিয়েছি?
যদিও,আমি একজন নিছকই মেয়ে যে কিনা ভালোভাসার ঘোরে হারিয়ে গেছে."
বাচ্চাটা কি এখনো ঘুমোচ্ছে?
সে সমুদ্র সৈকতে তোমার মতই তার আরেক নানির সাথে আছে.
নানি... আমার মতো! মাই গড, আমি কতো বুড়ি হয়ে গেছি?
দেখ, আমার মেয়ে,সব সময়...
অনেক সাদাসিধে ধরণের মানুষ, তোমার মা সাদাসিধে ছিল.
সে সাদাসিধের ভান করে থাকে...
Hecuba, Clytemnestra...
আমার স্ত্রী সব কিছুতে একটু বাড়াবাড়ি করতে ভালোবাসে.
বাবা, সব সময় তার পেছনে লেগোনা তো!
- তাকে কী নামে ডাকবে? - এখনও কিছু স্থির করেছো?
এলেনি অথবা ক্যাটেরিনা...
কিন্তু তার নানিই এক্ষেত্রে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নিবে!
তুমি দিপ্তীমান. আমার ছোট্ট আনা,সে এখন একজন মা!
আমি ফুলদানিতে ফুলগুলো রাখতে যাচ্ছি.
আমি যতোটুকু মনে করতে পারি, বাড়িটা এখনো আগের মতোই আছে.
এলেকোস,এটাই হবে আমাদের সর্বশেষ উদাসীন গ্রীষ্ম!
তুমি ঠিক কী বলতে চাইছো?
আজকাল নির্বাচনের আগে সকলেই আগ বাড়িয়ে কিছু না কিছু বলতে থাকে,
কিন্তু তোমরা যারা রাজনীতিবিদ, সব সময় গাধাই থেকে গেলে!
"রাতে, তোমার দিকে একবার তাকালাম.
কিন্তু ঠিক বুঝতে পারলাম না তুমি ঘুমিয়ে ছিলে, নাকি চুপচাপ শুয়ে ছিলে.
আমি এই ভয়ে ছিলাম যে তুমি কী ভেবে বসবে,
অথবা তোমার নীরবতার মাঝে অনধিকারে আমি ঢুকে যাবো.
তাই আমি আমার শরীরি ভাষাকে বেছে নিলাম,
একমাত্র ভাষা যা আমার চিরচেনা -
কারণ এটাই একমাত্র পদ্ধতি যা তোমাকে কোন প্রকার বিপদের মুখে ঠেলে দিবে না.
আলেকজান্দ্রে, আমি নিছকই একজন মেয়ে যে ভালোবাসার ঘোরে আচ্ছন্ন."
ভাগ্যবান সেই বাবাটা কোথায় লুকিয়ে আছে?
সে তার চিন্তার সাগরে হারিয়ে গেছে,ঠিক যেমনটা সব সময় থাকে. ঐ তো ওখানে, সে না থেকেও আছে.
ছোট থাকতে তার কাজের সময় আমরা অনেক নিচু স্বরে কথা বলতাম.
তার প্রাণপ্রিয় পুত্রকে কেউ জ্বালাতন করলে সে রেগে যেতো!
আর এখন, তোমরা যদি সেই ছোট্ট বিস্ময়টাকে দেখতে চাও,
তাহলে আমাকে অনুসরণ করো!
সে সত্যিই অসাধারণ, তাইনা?
আমি বেলাভূমিতে উলঙ্গ হয়ে হাটছিলাম.
"বাতাস প্রবাহিত হচ্ছিল,
পাশ দিয়ে একটা নৌকা চলে গেলো.
তুমি তখনো ঘুমাচ্ছিলে.
কিন্তু তোমার উষ্ণ শরীরটা আমি তখনো অনুভব করছিলাম.
আমি কখনোই তোমার স্বপ্নে হানা দিতে চাইনি!
ওহ! আলেকজান্দ্রে...
আমি যদি সামান্য একটা মুহূর্তের জন্যও , এটা বিশ্বাস করতে পারতাম,
তাহলে নিজেকে লাগামহীন করে দিতাম আর চিতকার করতাম."
তুমি কি কিছু বলছিলে, বাবা?
তুমি কি চলে যাচ্ছ?
আমি বুঝতেই পারিনি...
হ্যালো.
আপনি আসাতে আমি খুশি হয়েছি, আপনার সাথে কিছু কথা ছিল.
আপনি বোধ হয় জানেন, আমরা সাগর তীরেরে ঐ বাড়িটা বিক্রি করে দিয়েছি.
বাড়ি...? ওটা বিক্রি করে দিয়েছো?
কাল সকালে, আমি উনাদের হাতে চাবি তুলে দেবো আর বুলডজারের কাজ শুরু হবে.
কুকুরটা কি আপনার?
আমি গায়ে পোশাক জড়াতে যাচ্ছি.
এটা নিয়ে বেশি দুঃখ পেয়োনা, বাবা!
কী হলো? তোমাকে খুব বিবর্ণ লাগছে.
তোমার কি মনে আছে আমাদের প্রথম ভ্রমণের কথা?
তোমার বয়স সে সময় ১৫ বছরের মতো ছিলো...
আমরা দু'জন ইয়ানিয়াতে গিয়েছিলাম, ঐ মরার টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ দেখতে!
তুমি হারিয়ে গিয়ে কাদতে শুরু করেছিলে.
আসলে বাবা আমাদের আর কিছু করার ছিলোনা ...
শুধু নিকোস আর আমি, ঐ বিশাল বাড়িতে...
আর তাছাড়া ভূমিকম্পের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও পাশের ভবন দ্বারা আটকা পড়েছিলাম.
লেকের ধার দিয়ে আমরা দু'জনে হাতে হাত রেখে হেটে গিয়েছিলাম.
আমি সব রকমের চেষ্টা করেছিলাম...
তুমি ছিলে অনেকটাই বিবশ!
No comments yet. Be the first to leave one.