Prvních 200 řádků.
Moshiur Shuvo Presents
৩৫ বছর আগে, চুডি পর্বতে একদল ডাকাত, পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।
এই ৩৫ বছরে,
রোগ-ব্যাধি এবং জেলখানার সহিংসতায় ডাকাত দলের সবাই মারা যায়।
কিন্তু একজন....
অনুবাদক: মশিউর শুভ, আলাউদ্দীন রাসেল।
মাদার সেরেন, এটা কি আপনি?
হ্যাঁ, তুমি কে?
আমি বারান।
বারান! সর্দার, তুমি ফিরে এসেছো?
আমি ফিরে এসেছি, মাদার সেরেন। গ্রামের কি হয়েছে?
পানি আসলো, সবকিছু ডুবিয়ে দিলো আর সবাইকে এখান থেকে চলে যেতে বললো।
সবাই গ্রাম ছেড়ে চলে গেলো, আমি একা এখানে থেকে গেলাম।
আমি তাদেরকে বারণ করেছিলাম, কিন্তু তারা আমার কথা শুনে নি।
তুমি জেলে যাওয়ার পর, পরিস্থিতি খুব খারাপ হয়ে যায়। অশুভ শক্তি জয়লাভ করে।
দুর্বলেরা নির্যাতিত হয়।
মুস্তাফা কোথায়? ওর কোন খবর জানো?
অনেক দিন আগে, শহরে চলে গিয়েছে....
এই জায়গাটা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, সবকিছু ডুবে গিয়েছে।
এরপর শুধু আমাদের কবর বাকি আছে।
আমার সাথে চলো, এখানে থাকলে তুমি জানোয়ারের খাবারে পরিণত হবে।
এই জানোয়ার আমাদের মধ্যেই রয়েছে, সব জায়গায় অশুভ শক্তি বিদ্যমান।
আমি হলাম এই জায়গায় পাগলী, আমি কোথাও যেতে পারব না।
তুমি বিপদের পথে পা বাড়াচ্ছো।
আমি তোমার বাবাকে এই কথাটাই বলেছিলাম। আমি তাকে বলেছিলাম, ''তারা আপনাকে ফাঁদে ফেলবে"।
কিন্তু উনি আমার কথা শুনেন নি। তিনি চলে গেলেন এবং আর ফিরে আসেন নি।
এখন আমি যদি তোমাকে বলি, "যেও না"! তারপরেও তুমি যাবে, আমি জানি তুমি যাবে।
এটা নাও, ডাকাত সর্দার। এটা তোমাকে গুলি থেকে রক্ষা করবে।
সম্পাদনায় : মশিউর শুভ
তুমি কি আমাকে মেরে ফেলবে, সর্দার?
হ্যাঁ, মুস্তাফা।
তোমার কাছে বন্দুক আছে?
হ্যাঁ!
ওটা আমাকে দাও।
তুমি কেনো আমাকে ধরিয়ে দিয়েছিলে, মুস্তাফা?
অজ্ঞতা, দারিদ্রতা, তুমি এটা যা ইচ্ছা তাই বলো। এসব কিছু আমাকে মেরে ফেলছিলো।
আমি ঘুমোতে পারছিলাম না, প্রতিরাতে তুমি আমাকে দেখতে আসতে।
আমি পিছন থেকে তোমার পদধ্বনি শুনতে পেতাম, আর পিছন তাকাতে তাকাতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম।
লোকজন আমাকে গুপ্তচর বলতো, আমি নিজেকে লুকিয়ে রাখতাম, এমনকি আমার বাচ্চারা ও আমাকে এড়িয়ে চলতো।
তুমি এটা কেনো করেছিলে?
সামান্য কিছু স্বর্ণমুদ্রার কাছে আমি হার মেনেছিলাম, তার উপর গজব পড়ুক, যে আমাকে জোর করেছিল।
কে তোমাকে জোর করেছিল?
আমি শপথ নিয়েছিলাম যে, কাউকে বলবো না কিন্তু এখন আর তাতে কিছু আসে যায় না।
বার্ফো আমাকে জোর করেছিল।
বার্ফো?
বার্ফো! ওই আমাকে বলেছিল তোমাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য।
ভাই বার্ফো এই কাজ করেছিল...!
ও এটা কেনো করেছিল?
কেজে কে তোমার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়ার জন্য।
কেজে কি তার সাথে গিয়েছে?
হ্যাঁ, সে বার্ফোর সাথে গিয়েছে। তুমি জেলে যাওয়ার পর....
বার্ফো তোমার স্বর্ণমুদ্রাগুলো নিয়ে নেয়, আর তারপর কেজের বাবার কাছে যায়।
আমি তার নিকট অনেক কাকুতি-মিনতি করে বলি যে, "কেজে হলো সর্দার এর বান্ধবী, ওকে অন্তত ছেড়ে দাও"।
সে বলে, আরে বোকা! আমি এসব কিছু কেজের জন্যই করেছি।
সে স্বর্ণমুদ্রাগুলো আর কেজে'কে নিয়ে গায়েব হয়ে যায়।
আর তারপর আমরা খবর পাই যে, সে ইস্তাম্বুল চলে গিয়েছে।
আর এই হলো গত ৩৫ বছরের কাহিনী।
তাহলে কেজে ওর সাথে চলে গিয়েছে?
তার বাবাই তাকে যেতে বাধ্য করেছিল, আর এভাবেই সে বার্ফোর হয়ে গেল।
তোমাকে জেলে পাঠিয়ে অনেক বড় ভুল করেছিলাম। এর পর থেকে আমি অনাহারে মরেছি।
এখনো আমি অনাহারে মরছি। দুর্ভাগ্য, ওই স্বর্ণমুদ্রাগুলো সব....
নারী আর জুয়ার পিছনে শেষ হয়ে গিয়েছে, সবগুলো।
আমাদের গ্রাম বাঁধ এর পানিতে তলিয়ে যায়, আর তারপর সবাই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
কে কোথায় আছে, কেউই জানে না।
আর আমি এখানে অন্যের তোষামোদী করছি, যেটা তুমি দেখলে।
যাইহোক, খোদার কাছে শুকরিয়া যে এখন এসব এর শেষ হবে। তাড়াতাড়ি মেরে ফেলো আমায়।
সর্দার...! সর্দার!
আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না, মেরে ফেলো আমাকে।
সর্দার!
আসসালামুয়ালাইকুম!
ওয়ালাইকুমসালাম!
এই নাও, সিগারেট খাও?
আমার কাছে আছে, চাচা।
আরে.... আমার এখান থেকে একটা নাও।
আপনি কোথায় যাচ্ছেন, চাচা?
ইস্তাম্বুল!
হে আল্লাহ! পুলিশ! আমি এখন কি করব..?!
এই ব্যাগটা তারলাবাস এর কিসমৎ গ্যারেজে নিয়ে আসবেন।
এই ব্যাগটা কিসমৎ গ্যারেজে নিয়ে আসবেন।
আল্লাহ'র ওয়াস্তে!
দয়া করুন...! এটা আমার জীবন-মরণ এর প্রশ্ন, আমি আপনার কাছে ভিক্ষা চাইতেছি, দয়া করুন।
আমি আপনাকে অনেক টাকা দিব। দয়া করে, কাজটা করুন।
-দাঁড়াও! আমরা পুলিশ...! -এসব কি ভাই..?!
চুপ থাকো আর আমাদের সাথে চলো।
এক মিনিট দাঁড়ান, আপনাদের ভুল হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ কি?
আরে ভাইয়েরা, আপনারা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?
আমি ট্রেনে করে কত সুন্দরে বাড়িতে যাচ্ছিলাম।
এক্সকিউজ মি, আমি কি কিছু জিজ্ঞাসা করতে পারি? আমি কি দোষ করেছি?
সব ঠিকঠাক!
সব ঠিকঠাক!
ওর কাছে কিছুই পাওয়া যায় নি, স্যার!
কথা বল, শালারপুত!
কি বলবো ভাই?
তুই কি আমার জিনিসগুলা বিক্রি করে দিয়েছিস?
না! কসম করে বলছি। এমন কিছুই ঘটে নি, ভাই।
কিভাবে তুই আমার কোটি টাকার জিনিস রাস্তার অচেনা একজনকে দিতে পারলি?
পুলিশ আমাকে ঘিরে ফেলেছিল, আমি কসম করে বলছি....
আমি ধরার পরার ভয়ে ছিলাম না, আমি জিনিসগুলো নিয়ে ভয়ে ছিলাম।
নাকি তুই পুলিশের গুপ্তচর?
কি বলছেন ভাই এসব? অন্য সুটকেসটা তো ওখানেই আছে!
আমরা এখন কি করব? আমরা না দুইটা কুরিয়ার দিয়ে এক লোককে পাঠিয়ে...
পুলিশের মনযোগ অন্যদিকে সরানোর ব্যাবস্থা করেছিলাম?
তাহলে কি করে তারা ওই লোকের পিছনে না গিয়ে তোর পিছনে গেল, আর তোকে ধরে ফেলল?
এটা তোর প্রথম কাজ ছিলো, কথা বল! তুই কি কোন গুপ্তচর? কথা বল!
ওকে ভিতরে নিয়ে এসো।
আমাকে ক্ষমা করবে ভাই, এই জায়গাটা খুঁজে পেতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে আমাকে।
এই তো সেই লোক।
আমি এই প্রথম ইস্তাম্বুলে এসেছি।
ঠিক আছে, জিনিসগুলা ঠিকঠাক আছে।
অও! আরেকটু হলে মারা পড়েছিলাম।
কি হয়েছিল ওখানে?
কিছু না, সামান্য একটা দুর্ঘটনা। আমি দুঃখিত।
এই নিন, আমি ওয়াদা করেছিলাম। নতুন একটা সুটকেস কিনে নিবেন।
আরে লাগবে না।
আরে নিন তো, আপনার কোন ধারণাই নেই যে কিসের থেকে আপনি আমাকে বাঁচিয়েছেন।
কোন ঝামেলাই হয় নি।
আমার জীবনটা প্রায় গিয়েছিল চাচা, একটুর জন্য বাঁচলাম।
হুহ?
কিছু মনে করবেন না, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
-আপনার কোন সমস্যা না থাকলে আমি এখন যাচ্ছি। -ঠিক আছে।
আপনি কি করছেন?
কিছুনা, শুধু দেখছিলাম।
কি দেখছিলেন?
আমি এখন কোথায়?
তারলাবাস-এ!
আচ্ছা.... ঠিক আছে!
আপনি এখন কোথায় যাবেন?
সত্যি বলতে আমি জানিনা। আমি থাকার জন্য একটা জায়গা খুঁজছি।
হোটেল?
হ্যাঁ! আসলে কম পয়সায় থাকার মতো কোন জায়গা।
ওহ! ঠিক আছে, আমার সাথে আসুন।
আল্লাহ তোমার মঙ্গল করুন। আসলে, আমার কিছুটা ভয় করছিলো।
আমার সাথে আসুন, ভয় পাবেন না।
আমি ৪ বার এই কাজটা করেছি।
বড় ধরণের লেনদেন।
তোরা চুপ থাক।
মেয়েদেরকে কখনো বিশ্বাস করবি না, যেকোন সময় বাঁশ খেয়ে যাবি।
-কি অবস্থা এখন? -সব মিটমাট হয়েছে।
-কাজ কি শেষ হয়েছে? -কোন কাজ?
-তুই কি এখনো ওখানে কাজ করবি? -চাচা, এক মিনিট দাঁড়ান, আমি আসছি।
কি অবস্থা তোমার?
স্বাগতম! কাজ-কর্ম ঠিকঠাক চলছে?
হ্যাঁ, মুখ গোমরা কেনো?
আমি আমার ভাইয়ের খবর পেয়েছি, ও খুব চাপের মধ্যে আছে।
হুম্মম! জেলখানা অনেক কষ্টের জায়গা।
এমেল, তুই কার সাথে কথা বলছিস?
আরে আমার একটা বন্ধুর সাথে, আম্মু।
ঠিক আছে, পরে দেখা হবে।
ভিতরে এসে আমাকে সাহায্য কর, এই সময়ে আবার কিসের বন্ধু-বান্ধব?
- তুমি আসলেই একটা বেশ্যা! - আর তুই হইলি বড় খা*কি!
এই লোক তোর জন্য অপেক্ষা করছে।
- কে উনি? - আরে অসহায় এক বৃদ্ধ।
উনাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস?
হোটেলে! উনার থাকার কোন জায়গা নেই। তোরা এখানে দাঁড়া।
-লোকটা ওর কি হয়? -ওর দাদা মনে হয়।
-আরে না, উনি কি এতদিন বেঁচে আছেন নাকি? -চুপ থাক শালা বলদ।
এটা তারলাবাস এর সবচেয়ে সস্তা হোটেল। বন্ধু নাচি আমাদেরকে কিছু ছাড় দিবে।
নাচি, রুম খালি আছে?
তোমার কিসের জন্য রুম লাগবে?
আমি একটা গোপন জায়গায় গোপন জিনিস লুকাবো।
তোমার মুখে কষে একটা দিলে ঠিকই দেখতে পাবে।
-এখন বলো, রুম খালি আছে কিনা? -হ্যাঁ, চুমালি স্যার।
উনাকে একটা রুম দাও।
কিন্তু এই লোক কে? আমি কিভাবে নিশ্চিত হবো যে উনি টাকা দিতে পারবেন?
অভিনেতা কেমাল এর এখনো এক মাসের ভাড়া বাকি আছে।
তোমার কি মাসিক হয়েছে নাকি?
উনাকে একটা রুম দিয়ে দাও, আমাকে উত্তেজিত করিও না।
-আইডি? -কি?
হাকান... কি হয়েছে বাবু?
এদিকে আয়, আজকে তোকে মেরেই ফেলব। আমি ওকে বলেছি যে আমি নতুন জিনিসপত্র কিনতে পারব না।
আর বেজন্মাটা আমার গায়ে থুথু দিলো, এদিকে আয় শুয়র।
আরে কেমাল চাচা পানি খাও।
আরে আমি ঠিক আছি।
ঠিক আছো? দিন দিন তোমার অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
তোমার ডাক্তার দেখানো উচিত।
ইদানিং তোমার দেখা পাওয়া যায় না।
আমার কিছু কাজ ছিলো।
এইতো ভাল ছেলে।
শুটিংয়ের সময় এটা খুব খারাপ অবস্থার সৃষ্টি করে।
প্রায় ৬ মাস আগে, আমি একটা ছোট্ট পার্ট করছিলাম।
আর তখন কাশি শুরু হয়, আর তখন এটা থামছিলোই না...
যার ফলে তারা আমাকে শুটিং থেকে বের করে দেয়, এমনকি টাকাও দেয়নি।
আমি কমিউনিস্টদেরকে ঘৃণা করি, কিন্তু তখনকার দিনে রাশিয়াতে সবকিছু বেশ ভালোই ছিল।
তখন যদি তুমি অসুস্থ হতে, তারা তোমাকে সোজা হাসপাতালে নিয়ে যেত।
কিন্তু এটা আর কখনো হবে না, বিশেষ করে তোমার মতো অভিনেতার সাথে একদমই না।
কিন্তু ওই শুয়োরগুলা, আমাদের দেশটাকে ছারখার করে দিয়েছে।
আবার শুরু করিও নাতো মিসকিন চাচা, ওইসব শেষ হয়ে গেছে।
আপনি আমাকে অনেক বড় বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন।
আরে না!
আপনার বাইনোকুলার পুলিশদের ঘোল খাইয়ে দিয়েছিল।
যাইহোক, এটা সাথে নিয়ে এসেছেন কেন?
এটা একটা স্মৃতিচিহ্ন। তুমি এই হোটেলে থাকো?
হ্যাঁ!
কেন? তোমার কি পরিবার নেই?
না! এটাই ভালো। তো আপনি ইস্তাম্বুল এসেছেন কেন?
আমি একজনকে খুঁজতে এসেছি।
উনি কোথায় থাকেন?
জানি না...
জানেন না মানে?
সে কোথায় থাকে আমি জানি না।
No comments yet. Be the first to leave one.