Maynila sa mga Kuko ng Liwanag
Prvních 200 řádků.
অ নু বা দ ক : মে হে রা ব হো সে ন
MANILA - IN THE CLAWS OF LIGHT
নাম কী?
জুলিও মাদিয়াগা।
গত সপ্তাহে আপনার কাছে এসেছিলাম।
আপনি আজ আবার আসতে বলেছিলেন।
এর আগে কখনো শ্রমিকের কাজ করেছিস?
জ্বি, করেছি।
কোথায়?
সিউবাওতে কাজ করেছি, মালিক।
কিন্তু ঐ বিল্ডিংয়ের কাজ প্রায় শেষ।
ওদের আর শ্রমিকের প্রয়োজন নেই।
ঠিক আছে। তবে আমার কিন্তু আলসে লোক পছন্দ নয়।
দিনপ্রতি ২.৫ পেসো করে মজুরি পাবে।
কিন্তু আমার আগের মালিক ৩ পেসো করে মজুরি দিতো।
তাহলে সেখানে গিয়েই কাজ কর না!
মাফ করবেন, মালিক, ভেবেছিলাম...
ওমেং!
ওকে গোরিওর জায়গায় কাজ দে।
গোরিওকে সিমেন্ট মেশানোর কাজে দে।
ধন্যবাদ, মি. বালাজাদিয়া।
ধন্যবাদ।
কী হয়েছে তোমার?
সম্ভবত খিদের চোটে হয়রান হয়ে গেছি।
গতকাল থেকে কিছু খাইনি।
কী হয়েছে ওর?
সম্ভবত খিদের চোটে হুঁশ হারিয়ে ফেলেছিলো।
খালি পেটে কখনো কাজ করতে যেয়ো না।
কী হচ্ছে এখানে?
গতকাল থেকে কিছু খায়নি, বেঁহুশ হয়ে পড়েছিলো।
দাঁড়াও এখানে।
ওর খাবার কই?
- কী? - ওর খাবার?
গর্দভ! ওর কাছে কোনো খাবার নেই!
ঠিক।
তোরা তোদের কাজে ফিরে যা।
তোদের কাজ এখনো বাকি। যা!
চল। সবাই কাজে ফিরে যাই।
এই নাও। কিছু খেয়ে নাও।
- শুধু আমার জন্য কিছু বাঁচিয়ে রেখো। - ধন্যবাদ।
জমাদারের হাত থেকে বেঁচে থাকিস।
সে কিন্তু ছাড় দেবে না।
ধন্যবাদ, ভাই।
অনেকদিন ধরে সিগারেট খাইনি।
তুমি এখানে এসে পড়লে কী করে?
জানি না।
বাড়িতে জীবন কঠিন হয়ে পড়ছিলো।
তখন আমি ছিলাম একজন জেলে।
এখানকার জীবন আরো কঠিন।
টাকা থাকলে, শহুরে জীবন আনন্দময়। নইলে নারকীয়।
- এখানে কোনো আত্মীয় আছে? - জানি না।
থাকতে পারে, তবে আমি তাদেরকে চিনি না।
- শহরে কতদিন যাবত আছো? - এই সাত মাস হলো।
এতদিন টিকে রইলে কীভাবে?
সাথে কিছু টাকাপয়সা ছিল।
মাঝেমধ্যে এখানে-সেখানে ছোটখাটো কাজ করতাম।
ঘুমাও কোথায়?
যেখানে জায়গা পাই।
কঠিন অবস্থা।
শুকরিয়া করো যে তুমি এখনো কাজ করার উপযুক্ত আছো।
যখন প্রথম এসেছিলাম, তখন আমারও ওরকম তাগড়া শরীর ছিল।
কিন্তু এখন দেখো, শুকিয়ে একেবারে পাটকাঠি।
তুমি অন্য কাজ খুঁজতে পারো না?
যেমন?
অ্যাই! চুপ! আমরা ঘুমানোর চেষ্টা করছি!
- আমি একটু রেওয়াজ করছি। - পরে করিস!
বেনির কথাই ধরো, সে হতে চায় গায়ক।
কিন্তু কোনোভাবে সে এখানে এসে পড়েছে।
ওর কপাল ভালো, ওর কোনো পরিবার নেই দেখভাল করার মতো।
আমার পরিবারে তো এক বউ আর ৬টা বাচ্চা।
৮টা মানুষের খাওয়াপরার দায়িত্ব আমার কাঁধে।
- বালাজাদিয়া তোমাকে কত মজুরি দেয়? - ৭ পেসো।
পুরো সপ্তাহ কাজ করলে ৪২ পেসো মজুরি পাই।
ভোটকাটা তোমাকে কত মজুরি দিচ্ছে?
২.৫ পেসো।
শালারপুত একটা ধড়িবাজ !
যখন আমি শুরু করেছিলাম, তখন সে আমাকেও একই মজুরি দিতো।
৫ মাসে, আমার মজুরি শুধু ১ পেসো বেড়েছে,
- সাথে যুক্ত হয়েছে "তাইওয়ান"। - "তাইওয়ান"? সেটা আবার কী?
এর মানে হলো নিজের মজুরি "বেচে দেওয়া"।
বিষয়টা বোঝাচ্ছি: মজুরি দেওয়ার দিনে,
ধরে নাও এটা হলো তোমার মজুরি।
ঠিকাদার বলে: "তুমি টাকা পাবে না...
পাবে "তাইওয়ান"।
আমরা তোমাকে অগ্রিম কিছু টাকা দেবো।
তবে...
...সেখান থেকে আমরা ১০% কেটে রাখবো।"
তখন তোমার মতো একজন গরিব মানুষ,
যে দিনে আনে দিনে খায়, তার কী করার থাকে?
প্রাপ্য মজুরি "ধার নেয়া" ছাড়া আর কী করার থাকে?
পুরো মজুরি না পেলেও কিছু করার নেই।
দুঃখ একটাই, নিজের মজুরিটুকু টাকা দিয়ে "কেনা" লাগে...
...যেটা আসলে তোমার প্রাপ্য।
অনেকটা নিজের তেলে নিজেই ভাজি হওয়ার মতো।
অভিযোগ করলেই তোমার চাকরি নাই।
আর আজকাল কাজটাজ পাওয়াও খুব মুশকিল।
আমি কাল রওনা দেবো।
আমি মিসেস ক্রুজের সঙ্গে যাচ্ছি।
এটাই তোমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত?
দেখি ম্যানিলায় কপাল খোলে কিনা।
মা এটাই চাচ্ছে।
তুমিও তো ম্যানিলায় আসতে পারো।
সমস্যা নেই।
আমি এখানেই ঠিক আছি।
আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করবো।
আবোবো, ফ্রান্সিসকো।
বন্দালান, ম্যাক্সিমো।
মাদিয়াগা, জুলিও।
কাগজে ৪ পেসো লেখা কেন?
বেশি চালাকি করতে যাবি না!
বলেছি না সই করতে? চুপচাপ সই কর!
আমি কী করি না করি সেটা আমার ব্যাপার!
- কিন্তু... - কুত্তার বাচ্চা!
কিন্তু সে ৪ পেসো লিখলো কেন?
এটাই তো কেলেঙ্কারি। কাগজে মজুরিটা বেশি লেখা থাকে।
একেই বলে জাদু!
আর কখনো অভিযোগ করতে যেয়ো না,
নইলে তোমার চাকরি খতম।
তুমি এখানে ঘুমোতে পারো।
অনেক শ্রমিক এখানে ঘুমায়, তাই তুমি একা হয়ে পড়বে না।
এই টাকাটা কিসের জন্যে?
সিগারেট কেনার জন্য।
ধন্যবাদ, ভাই।
ফ্র্যাঙ্ক।
গিদো।
ইমো!
কী হয়েছে?
ওর খেয়াল রেখো।
ওরা তোমার খেয়াল রাখবে। ওরা এখানে রান্নাবান্না করে।
তুমি এখানে ঘুমাও না?
না, ওরা বাসায় ওদের পরিবারের সাথে ঘুমায়।
পরে দেখা হবে।
গান গাওয়া বন্ধ করে খেতে থাক।
ইমো কোথায়?
পেছনে, হাতমুখ ধুচ্ছে।
ইমো! খাওয়ার সময় হয়েছে!
ঠিক আছে!
ইমো খুব উচ্চাকাঙ্ক্ষী। প্রতিদিন নৈশ স্কুলে যায়।
তোদেরও যাওয়া উচিত।
নইলে আজীবন এখানে পড়ে থাকবি।
সময় বদলেছে।
আজকালই সবারই সার্টিফিকেট লাগে।
সম্মান পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো পড়াশোনা শেষ করা।
ভাই, তোর একটা জিনিস আমার ভালো লাগে না...
কোনটা?
তুই গান গাইতে পারিস না!
হারামজাদা!
তোমার কী খবর? পড়াশোনা করার ইচ্ছা আছে?
আমার আর সেই বয়স নেই।
তাতে কী? বুড়োরাও এখনো পড়াশোনা করছে।
যেমন ম্যাক্সিমো আর ওর টাক পড়া মাথা!
গর্দভ! আমার মাথা নিয়ে মজা করিস না!
তা, বয়স কত তোমার?
২১ বছর।
মাত্র ২১ বছর?
ইমোর বয়স ৩৩, ওর চুল পড়ে যাচ্ছে, তারপরও পড়াশোনা করছে।
অ্যাই হারামি। ৩৩ বলছিস কেন?
আমার বয়স ২৩ বছর!
২৩ বছর? শুনলি তোরা? চরম!
পড়াশোনাটা শেষ করো।
আমাকেই দেখো।
একসাথে ৪টা বিষয় পড়ার পরও, আমার পড়া প্রায় শেষ।
শুধু একটুখানি অধ্যবসায় আর মগজের শক্তিটা থাকলেই চলে।
তুমি পড়াশোনা বাদ দিয়েছো কবে?
আমি শুধুমাত্র প্রাথমিক স্কুল পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি।
প্রাথমিক স্কুল?
বেশ, এক্ষেত্রে একটু কঠিন হবে।
শোন, বেনি: সময় থাকতেই স্কুলে ফিরে যা।
এই নরকতুল্য গর্তে কোনো ভবিষ্যত নেই।
বন্ধুরা, পরে দেখা হবে!
বিদায়। ভালো করে পড়াশোনা করিস, বাছা।
রাতের ঠান্ডা বাতাস থেকে মাথাটাকে বাঁচিয়ে রাখিস!
শালা বাইনচোতের দল!
একদিক দিয়ে, ইমোর প্রতি আমি মুগ্ধ।
ওর উচ্চাকাঙ্ক্ষা আছে।
আমি অবশ্য এতেই সন্তুষ্ট। কোনো ঝামেলা নেই।
তোমার ব্যাপারটা কিরকম?
কী?
কিছু না।
কিছু না মানে?
কী জানতে চাও?
তুমি এই শহরে এলে কেন?
জানি না।
বাড়ি থেকে পালিয়েছিলে?
হ্যাঁ।
একদম আমার মতো, আমিও পালিয়েছিলাম।
প্রায় বছর দুয়েক আগে।
দক্ষিণাঞ্চলে ছিলাম।
কিন্তু এখন আমি ম্যানিলার মানুষ।
আমার সেই দক্ষিণী বাচনভঙ্গিটা রয়ে গেছে!
বাপরে! কী গরম!
একদিন, আমার জন্য মাংস আর কলিজা ছাড়াও অনেক কিছু থাকবে।
গ্রামে আমি এর চেয়েও ভালো খাবার খাই।
তাহলে বাড়ি যা না, গাধা।
মাঝে মাঝে, বিষয়টা নিয়ে ভাবি, কিন্তু...
গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তোর কোনো কাজ নেই।
ওখানে গিয়ে তুই কী করবি?
জমি চাষ করবো।
তারপর কিছুক্ষণ ভাবি, আর চিন্তাটা বাদ দেই।
এখানকার পরিস্থিতি তাও ভালো।
No comments yet. Be the first to leave one.