De første 200 linjer.
স্থান আর কালের সীমা পেরিয়ে, আমাদের মনের গভীরে, নির্জনতায় লুকিয়ে আছে এক জগৎ, এক স্বপ্নিল ভূখণ্ড... সেই কল্পনার জগতে, স্বাগতম!
অনুবাদ ও সম্পাদনায় Zahid Hasan (Zadu)
সাবটাইটেল ভালো লাগলে রেটিং ও ফিডব্যাক কাম্য
"লেভেল ক্রস"
আসলে,
ঐ কড়া রোদে আপনাকে ফেলে আসতে মন চাইলো না।
একটু পানি দিবেন?
অ্যাঁ?
একটু পানি খাবো!
ধন্যবাদ!
আপনি ট্রেন থেকে লাফ দিলেন কেন?
আমিতো লাফ দেইনি!
দরজার পাশে হাত ধুচ্ছিলাম,
হঠাৎ, পাশে দু'জন লোক ঝগড়া শুরু করলো।
এরপর আর কিছু মনে নেই!
আপনাকে একটু চা বানিয়ে দিচ্ছি!
উঠবেন না!
আমাকে যেতে হবে।
আমার স্বামীও ঐ ট্রেনে ছিলো।
ও হয়তো এখন খুঁজছে আমাকে।
কিন্তু...
এখন তো এখানে কোন যানবাহন পাবেন না।
আমি হেঁটেই যেতে পারবো।
এই অবস্থায়?
আমি ঠিক আছি।
ধন্যবাদ।
আপনি যেমন ভাবছেন, তেমনটা না।
অনেকদূর হাঁটতে হবে।
যা ইচ্ছে করুক গে!
তুই পানি খা!
আমি গিয়ে পানি নিয়ে আসছি।
আমাদের আরো কাজ আছে।
হয়ে গেছে।
আপনি শুয়ে থাকুন।
আমি রঘু।
এখানকার...
রেলওয়ে গেটম্যান।
আর ও হলো "সিগন্যাল"।
আপনার স্বামী আসবে।
চিন্তার কিছু নেই।
সকাল নাগাদ চলে আসবে।
ও তো আসবেই।
কিন্তু আমি ভেবেছিলাম, আজই আসবে।
আসুন, খেয়ে নিন।
ক্ষিধে নেই!
পান্তা খাওয়ার জন্য ক্ষিধে লাগে না
৮০ মাইল দূরের একটা গ্রাম থেকে চাল-ডাল আনতে হয়
এজন্য, নষ্ট করবেন না।
খেয়ে নিন।
যদি আমার স্বামী এই জায়গা খুঁজে না পায়?
দেখা যাক।
যদি না পায়,
অন্য ব্যবস্থা করবো।
এখন খেয়ে নিন।
শুয়ে পড়ুন।
আপনাকে তো বলেছি,
আমি ঘুমোতে পারবো না!
ঘুমোতে হবে না।
শুয়ে থাকলেই হবে।
এখনো ব্যথা আছে?
না।
আ... আমি বাইরে শুই।
না, না।
তাহলে, আমিই বাইরে শুচ্ছি।
আসলে বাইরে অনেক ঠান্ডা।
আচ্ছা, ঠিক আছে।
আপনি এখানেই ঘুমুতে পারেন।
তাহলে,
দরজা টা খোলাই রাখছি।
লাইটও জ্বলুক।
ঠিক আছে?
ভয় পাবেন না। শুয়ে থাকুন।
আমি...
আমি বাইরেই আছি।
তোরও কি ঘুম আসছে না?
উনিও ঘুমাচ্ছেন না।
আসলে, আ...
আমার...
আমার অনেক...
অনেক ভালো লাগছে রে!
মনে হয় ও খুব সরল মেয়ে!
আপনার কথার আওয়াজে মনে হলো, কেউ এসেছে!
সিগন্যালের সাথে কথা বলছিলাম।
যান, শুয়ে পড়ুন।
এমনিতেও আমি কম ঘুমাই।
ঘুম ভালো হয়েছে?
চিনি ছাড়া রঙ চা আমার প্রিয়।
ওটা পুদিনা পাতা।
যেকোনো রোগের মহৌষধ!
আপনার সব ব্যথা নিমিষেই ভ্যানিশ করে দিবে।
খেয়েই দেখুন!
এখানে একদম একা মানুষ আমি!
এজন্য,
যখন কথা বলার মতো কাউকে পেলাম...
রাগ না করলে একটা কথা বলি?
গতকাল একটা বিষয় লুকিয়েছিলাম।
এখানে...
একটা রেলওয়ে টেলিফোন আছে!
কিন্তু...
কোথাও ফোন করা যায় না।
আগের স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়লে...
এখানে ফোন দিয়ে জানিয়ে দেয়।
পরেরবার ফোন আসলে,
আপনার কথা জানিয়ে দিবো।
আপনার কপাল ভালো!
এটা মালবাহী ট্রেন।
মনে হচ্ছে যাওয়ার সময় হয়েছে।
তাই তো এই মুহূর্তে ফোনটা এল।
আমি ওদের বলে দিচ্ছি।
হ্যালো!
জি, স্যার!
আর, স্যার...
আপনি কেমন লোক তা জানতাম না, এজন্য মিথ্যা বলেছি!
আমি ট্রেন থেকে পড়ে যাইনি,
নিজেই লাফ দিয়েছি!
কেন?
স্বামীর হাত থেকে বাঁচতে!
আ...আপনার...
নাম কি?
চৈতালি!
আমি একজন ডাক্তার।
সাইকিয়াট্রিস্ট।
আর আপনার স্বামী?
এক্সকিউজ মি!
হাই,
আমি ডাঃ চৈতালি।
জি, হাই!
আমি জিঞ্চো!
নাইস টু মিট ইউ, জিঞ্চো!
প্লিজ, আসুন!
ওর প্রাণপ্রিয় স্ত্রী যখন সামান্য একটা বিষয় নিয়ে সুইসাইড করে,
ও মানসিকভাবে বির্পযস্ত হয়ে যায়।
যখন আমার কাছে এসেছিলো, তখন ও গভীর ডিপ্রেশনে ছিলো।
আমাদের মস্তিষ্কের মধ্যে যা আছে, তার মাত্র ১০% ই আমরা কাউকে শেয়ার করি।
বাকি ৯০% আমাদের ভেতর রয়ে যায়।
সেটাই আপনার মনে খারাপ প্রভাব ফেলছে, জিঞ্চো!
আপনার না বলা সেই কথাগুলো...
বের করে আনা যাক!
আপনাকে বলার মতো কিছুই নেই আমার!
আমি কিছুই বলতে পারব না।
আমি একদম অন্ধকারে রয়েছি।
কিছুই অনুভব হয় না!
আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছি।
পুরোপুরি তলানিতে।
তাহলে তো একটাই পথ বাকি।
উপরের দিকে উঠা!
নতুন করে শুরু করার জন্য শূন্যতা সবচেয়ে ভালো সময়।
তাহলে, এবার নতুন করে শুরু করা যাক।
ও ছিলো আমার প্রথম পেশেন্ট,
তাই, এই কেস আমার জন্য অনেক স্পেশাল ছিলো।
ধীরে ধীরে ও নিজেও আমার কাছে স্পেশাল হয়ে উঠে।
আসবো?
অবশ্যই!
ডাক্তাররা কী এভাবেই রোগীর চিকিৎসা করে?
হয়তো,
আমার এই আন্তরিকতার ফলেই,
ও মন খুলে কথা বলতে লাগলো।
তাছাড়া ওর অবস্থারও অনেক উন্নতি হচ্ছিলো।
আমরা খুব ভালো বন্ধুতে পরিণত হলাম।
আপনি বলেছিলেন আমার সবকিছু আপনার সাথে শেয়ার করতে, তাই না?
এজন্য আপনাকে কিছু বলতে চাই!
হুম
আমি সত্যিই এখন অনেক খুশী!
তার একমাত্র কারণ আপনি!
আর...
এই সুখ আমি আর কখনো হাতছাড়া করতে চাই না।
তো...
বিয়ে করবেন আমাকে?
ও না পাগল?
তখন তো জিঞ্চো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছিলো।
জিঞ্চো!
শুনতে তো ওষুধের নাম মনে হয়!
লোকে বলে না, ভালোবাসাই সবচেয়ে শক্তিশালী ওষুধ?
আপনি কি সত্যিই ওকে ভালোবাসতেন?
ভালোবাসা ছিল কি না, জানি না।
কিন্তু ওকে ভীষণ পছন্দ করতাম।
ওর কথা বলার ধরন, ওর আচরণ, ওর উপস্থিতি...
ওর সঙ্গ খুবই ভাল লাগতো আমার।
তাই যখন ও হঠাৎ প্রস্তাব দিলো, আমি আর কিছু ভাবিনি।
আপনার বাবা-মা রাজি ছিলেন?
তাঁরাও আপনার মতোই প্রশ্ন করেছিলেন।
"ও কি পাগল না?"
"ওর আগের স্ত্রী কি আত্মহত্যা করেনি?"
"আমরা তো ওর ব্যাপারে কিছুই জানি না," ইত্যাদি।
কিন্তু আসলে,
ওর প্রতি একটা মোহ কাজ করছিলো তখন!
বাবা-মাকে আমি রাজি করাতে পারিনি।
তাই জেদ ধরলাম।
বাবা-মা'কে না জানিয়ে, আমরা বিয়ে করে ফেললাম।
আমার পরিবার আমাকে ত্যাগ করলো।
সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল।
কিন্তু এই সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।
জিঞ্চোর এক নতুন রূপ প্রকাশ পেতে লাগলো,
সামান্য বিষয়ে রেগে যেতো!
আর খুব দ্রুতই,
রেগে গেলে, ওর চোখে পাগলামির ঝলক দেখতে শুরু করলাম।
তুমি আমার সঙ্গে এমন করছো কেন?
হ্যাঁ?
আমার বিষয়ে নাক গলাবে না!
আচ্ছা, আচ্ছা, শোনো!
No comments yet. Be the first to leave one.