De første 200 linjer.
• • • বাংলা অনুবাদ ও সম্পাদনায় • • • 🌻সোহাগ শুভ 🌻
কাজটি ভালো লেগে থাকলে চাইলে ডোনেট করতে পারেন Bkash/Nagad: 01717933540
৩ বছর আগে
মানে, এটাই আমাদের হানিমুন।
এই কবরস্থানে আসতে চাচ্ছিলে কেন?
তুমি আসলেই অন্যরকম।
পার্কের মাঝে কবরস্থানটা আমার পছন্দ হয়েছে।
পাহাড়ে দাফন করা হয়নি বা ছাই সমুদ্রে ছড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
বাড়ির কাছেই বিশ্রাম নিচ্ছ।
এই মৃত্যুটাকে সাধারণ বলে মনে করো।
হয়ত।
তার স্ত্রীর কবর?
কী? মানে?
বৃদ্ধ লোকটা।
কাউকে দেখছি না।
ঠিক ওখানেই ছিল।
আমাকে ভয় দেখিয়ো না।
জানো তো
সিনেমায়
স্বামীরা প্রতিদিন প্রয়াত স্ত্রীর জন্য ফুল নিয়ে আসে।
তাকে এমনই লাগছিল।
ব্যাপারটা মনে রেখো।
তোমার জন্য এমনকিছু করব না।
করবে না?
আমার আগে মারা গেলে,
একদিন বেশি বাঁচবো,
তারপর তোমাকে অনুসরণ করব।
যাই হোক।
সত্যি।
তোমাকে ছাড়া বাঁচবো কিভাবে?
যাই হোক।
সিরিয়াসলি বলছি।
যথেষ্ট বলেছ।
আনন্দের মুহূর্তগুলো উপভোগ করি।
তবে, ভবিষ্যতে কি হবে
সেটা তো আর জানি না।
আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলো রাখতে পারিনি
এবং আনন্দের মুহূর্তগুলো চিরকাল থাকবে বলে হাসতে পারি না।
তবে, সুখের পরেই দুঃখ আসে।
যখন সুখের মুহূর্তগুলো কেটে গেলো,
এবং কষ্টগুলো আমাকে দেখে হাল ছেড়ে দিতে চাইল,
তখনই একটা চিন্তা মাথায় এলো।
"ভাবলাম, সত্যি যে জীবনে অনেক দুর্ভাগ্য সহ্য করেছি, কিন্তু এখন আমার তুমি আছো।"
এবং সেটাই আমাকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করেছে।
তবে,
একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।
তো...
সিদ্ধান্ত নিতে বলছ?
সিদ্ধান্ত নেবে?
সার্জারি করালে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলবো
আর না করালে মারা যাব।
কম খারাপটা বেছে নিতে বলছ?
- না। - তাহলে?
ভুলে যাও।
ভান করব...
যে স্বপ্নটা সুন্দর ছিল।
ছেড়ে দাও। ছাড়ো বলছি।
সিদ্ধান্ত নিয়ো না।
এত ভেবো না।
আমার কথা শোন।
যেভাবেই হোক... বেঁচে থাকো।
আর সেটাই করো।
দয়া করে...
বেঁচে থাকো।
বুঝেছ?
হ্যে-ইন।
দয়া করে বেঁচে থাকো।
এই মুহূর্তে, জানতাম না
আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে।
পর্ব ১৪
- কোথায় যাচ্ছিস? - হ্যে-ইনকে দেখতে যাচ্ছি।
- সার্জারির জন্য জার্মানিতে আছে। - সেজন্যই।
হিউন-উ ওর সাথে আছে, তাহলে তুই যাচ্ছিস কেন?
নিজের দায়িত্ব পালন করতে।
তোর কর্তব্য এবং দায়িত্ব নেওয়া হচ্ছে ভ্রম।
যে মেয়ে মারা যাচ্ছে তার প্রতি এত আচ্ছন্ন কেন?
সে মরছে না।
সার্জারি করলে ভালো হয়ে যাবে এবং খারাপ সব স্মৃতি ভুলে যাবে।
নতুন করে জীবন শুরু করবে।
তোকে সুযোগ দেবে?
তুমি আমার সাথে একমত না?
বেওম-সেওক তোর যায়গা নিতে প্রস্তুত।
ফিরে আসার পর বেওম-জুন যেসব পরিচালকদের সাথে দেখা করেছে সবাই তার পক্ষে।
শীঘ্রই এজিএম অনুষ্ঠিত হবে।
হ্যে-ইনের জন্য সব নষ্ট করে দিতে চাস?
তোর সমস্যা কী?
আমাকে ছেড়ে যাওয়া তোমার উচিত হয় নি।
আমাকে ত্যাগ করেছ বলেই এতকিছু।
এই পরিবার কতটা মহৎ তা নিয়ে কৌতূহলী হতাম না
যদি না তুমি নিজের ছেলেকে পরিত্যাগ করতে
বা হ্যে-ইনকে ঈর্ষা না করতে এবং শেষ পর্যন্ত...
তার প্রেমে না পরতাম।
তোকে থামাতে হলে কী করতে হবে?
থামব না।
মরার আগ পর্যন্ত।
ভালো।
তাহলে আমি তোকে সাহায্য করবো।
ফ্রাঙ্কফুর্ট যাচ্ছেন?
হ্যাঁ।
সাম্বাং রিজার্ভেয়ারে মৃতদেহ পাওয়া গেছে, সেটা প্যেওং এর বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে
কিভাবে খুঁজে পেলে?
প্রতিদিন সকালে বের হও, তাই তোমাকে অনুসরণ করতাম।
অন্তত চেষ্টা করেছ।
কী জন্য?
স্বর্গে যেতে চাইলে অনেক প্রার্থনা করতে হবে।
তাহলেই, স্বর্গে
আমাদের দেখা হবে।
নিশ্চিত তুমি স্বর্গে যাবে?
নিশ্চিত না কেন?
স্বর্গে যাওয়ার প্রার্থনা আমি করি নি।
তাহলে?
প্রার্থনা করেছিলাম যাতে সার্জারি করাতে রাজি হও।
ঈশ্বরের কাছে চাই নি যে তুমি সবকিছু মনে রাখো।
প্রার্থনা করেছিলাম যেন তুমি বেঁচে থাকো।
বৃথা প্রার্থনা।
চলো।
আরেকটা লেখা উচিত?
বেহুদা কথা লিখবে।
চলো।
ভাববার যথেষ্ট সময় দিয়েছি।
আর পিছিয়ে যেতে পারব না।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছি, চলো নাস্তা সেরে যাই।
চলো অন্য কোথাও যাই।
কোথায়?
জায়গাটা চিনতে পারছ?
হানিমুনে এসেছিলাম।
এসেছিলাম।
বলেছিলে খুব সুন্দর আর প্রচুর ছবি তুলেছিলে।
কাছাকাছি একটা পাবও ছিল।
বিয়ার পান করতে করতে তর্ক করেছিলাম।
ঠিক। বলেছিলে মাতাল হলে আমাকে কিউট লাগে,
আর কিউট হওয়ার অভিনয় করতে নিষেধ করেছিলে।
না।
আমার স্পষ্ট মনে আছে।
তোমাকে শুধু আমার সামনে কিউট হয়ে থাকার জন্য বলেছিলাম,
কিন্তু সব মেয়েরা তোমার দিকে তাকিয়ে ছিল।
সেটা জানতাম না। কেন? কারণ শুধু তোমাকেই দেখছিলাম।
তাই নাকি?
তখন বলেছিলে তাই আমি আর রাগ করি নি।
তখনই নয়।
দু ঘণ্টা চুপ করে ছিলে।
যাইহোক...
হোটেলে ফেরার সময় এই জায়গায় দাঁড়িয়ে
পূর্ণিমা দেখেছিলাম।
ঠিকই বলেছ। চাঁদটা বড় আর সুন্দর ছিল।
ছবিটা এখনো আছে।
সেদিনের গন্ধ,
চাঁদ, বাতাসের কথা
আজও মনে পরে।
স্মৃতি বলতে এটাই বোঝায়।
বেঁচে থাকা মানে
সেই স্মৃতিগুলোকে লালন করা এবং তা থেকে শক্তি অর্জন করা।
সেই স্মৃতি আমাকে
এবং আমার জীবনকে অর্থবহ করেছে।
আর সেসব আমি হারাতে যাচ্ছি।
এই জায়গাটা আমার জন্য সাধারণ একটা মাঠে পরিণীত হবে।
আর তুমি...
অচেনা হয়ে যাবে।
আমি হারিয়ে যাব।
সে কারণেই সার্জারি করতে চাই না।
আমি নিজের মতোই বেঁচে আছি,
আর এভাবেই মরব।
ওহ, বেওম-জা। পাগল হয়ে গেছ?
কী করছো?
কোথায় যাচ্ছ? ইয়ংদু-রিতে ফিরছ?
পাগলামি বন্ধ করো। বাড়ি ফিরে যাও।
ঠিক হচ্ছে না।
শপিং এ যাওয়া যাক।
চল বাজারে যাই। হেই, বিক্সবি।
- শুনছি। - ইয়ংদু-রি।
আমার মাথার ঠিক নেই।
সত্যিই ফিরে এসেছি।
তোমার বাড়ী?
টায়ার কেটে ফেলা উচিত ছিল।
কী! ধুর!
- ভয় পাইয়ে দিয়েছ! -এখানে কী করছ?
জানতাম
তুই আখরোটের কেক পছন্দ করিস।
- সত্যি? - হ্যাঁ।
- তোর জন্য এনেছি। - তাই।
কিন্তু তুমি এখানে কেন?
এটা ইয়ং-সং এর বাড়ি।
তাই?
ভুল ঠিকানা চলে এসেছি।
বেওম-জা।
কী...
- কেন... - আমাকে দেখতে এসেছিল।
আমাকে খুব ভালোবাসে।
চা খাবে?
সুস্বাদু বরই চা আছে।
- আমি... - ঠিক আছে।
আমাকে দেখতে এসেছিল। ভুল ঠিকানা চলে এসেছে।
পরে দেখা হবে। চলো। বাইরে অনেক ঠাণ্ডা।
- ঠিক আছে। - তবুও।
যদিও আমাকে দেখতে আসো নি তারপরেও চল চা খাই।
ম্যাডেলিনস ও আছে। মাত্রই বানিয়েছি।
ঈশ্বর।
ইয়ং-সং।
জীবন নিয়ে তোমার দৃষ্টিভঙ্গি খুবই আধুনিক।
যতটুকু কাজ না করলেই নয় ঠিক ততটুকুই করো?
No comments yet. Be the first to leave one.