De første 200 linjer.
বিভিন্ন ইণ্ডাষ্ট্রির সিনেমার আপডেট ও রিভিউ এর জন্য জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপ- মুভিফ্রিক অব বাংলাদেশ ।
"শুরুও তুমি শেষও তুমি"
দোস্ত।
আমাদের কমার্স গ্রুপে নতুন ভর্তি হওয়া মেয়েগুলোর নাম শোন!
সোনিয়া, হেমাপ্রিয়া, লিডিয়া, ক্যাথরিন...
হেই! হট-হট মনে হচ্ছে।
নাম দেখেই কিভাবে বুঝলি ওরা হট?
এটা বুঝলে তুই আমার মতো হতি। তোর মাথায় এসব ঢুকবে না।
২২, ২৩, ২৪... ২৫! বিনোথ, আমাদের ক্লাসে মোট ২৫ টা মেয়ে।
১৫ জন নতুন ভর্তিসহ।
ঠিক আছে, সবাই শোন। আমাদের অনেক অপশন আছে।
বলদদের মতো পরে একটা মেয়ে নিয়ে কারাকরি করিস না।
ভদ্রদের মতো শালীনভাবে এখনই একটা করে রিজার্ভ কর, হাহ?
ক্যাথরিন শুধু আমার! আমার ক্যাথরিনকেই চাই!
- তোর কোনটা? - আমার? ভাগ...
আমার রেখা আছে, চিরকালের জন্য। আমাদের তিন বছরের সম্পর্ক, দোস্ত।
এই, আমাদের ইংরেজি টিচার ঐদিন ক্লাসে কী বলেছিল মনে নেই?
সপ্তম এবং অষ্টম শ্রেণিতে যেসব প্রেম-ভালোবাসা হয়, সেসব কিছুই নয়।
শুধুমাত্র মনের মোহ।
কিন্তু, এখন আমাদের দেখ। আমরা সবাই পরিপক্ক।
আমরা দশম শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষা দিয়েছি।
এখন আমরা জানি জীবনটা আসলে কি!
এখন যে প্রেমটা হবে সেটাই হবে সত্যি।
উদাহরণ স্বরূপ,
ক্যাথরিনের প্রতি আমার যে ভালোবাসা সেটাকেই আসলে সত্যিকারের ভালোবাসা বলে।
আরে, ভাই। তুই জানিস সে দেখতে কেমন...
দেখলি? তাই তো এটা সত্যিকারের ভালোবাসা।
সে দেখতে খারাপ হলে, বুঝা যাবে ভালোবাসা না অন্যকিছু।
তোরটা হবে দেখতে খারাপ।
আমি প্রেম-পিরিতি করার মানুষ না।
এই, এখন অভিনয় চুদাবি না।
এই!
এই, আমার মাথায় মারবি না বললাম।
হেই দেখ, অনু আর রেখা বই নিয়ে আসছে।
সাথে কে, রেখার মা?
ওহ, হ্যাঁ। উনি বিবেকানন্দ স্কুলের শিক্ষিকা।
মনে হয়, খুব কঠোর।
ওহ! খুব ভয়ানক। আমি উনার কাছে দুই মাস টিউশনি করেছিলাম দশম শ্রেণিতে থাকতে।
- ওহ, কোন মেয়ের জন্য সেখানে গিয়েছিলি? - চুপ কর, আমি গণিত শিখতে গিয়েছিলাম।
- কে? তুই? - এই... তোরা দুইজন কিছুক্ষণের জন্য, চুপ কর।
কী সুরেন্দ্র? বই নিয়েছ?
তোমরা সবাই কোনও গ্রুপে?
সবাই কমার্স নওশাদ ছাড়া, মা।
ওহ... তাহলে তুমিও সায়েন্স নিয়েছে?
তোমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? ডাক্তারি পড়বে?
চেষ্টা করব, আন্টি। এটা এতটা সহজও নয়।
সবার কে এখন পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে, দ্বাদশ শ্রেণির রেজাল্টই তোমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
হাহ? আগে আপনারা বলতেন "দশম শ্রেণীর রেজাল্ট তোমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে?"
আপনি একদমই ঠিক, আন্টি। দ্বাদশ শ্রেণির রেজাল্টই আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।
আনু আর ওরা সবাই "বি" সেকশনে, নওশাদ আর আমি "এ" সেকশনে।
ওহ। হ্যাঁ, আন্টি।
ভেবেছিলাম দশম শ্রেণির পর অবশেষে এদের থেকে নিস্তার পাবো।
কিন্তু এখন, এরা আমাকে আরও দুই বছরের জ্বালাবে।
ওহ, সত্যি... যেন তুই রাজ পরিবারের কেউ আর আমরা সবাই তোর জন্য পাগল।
তুই আর তোর ক্লাউন চশমা।
দেখুন আন্টি, এই ছেলেটা সারাক্ষণ জ্বালায় আর আমাকে নিয়ে মশকরা করে।
না, না... এমন আচরন তো ঠিক না?
তুমি একজন মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে মশকরা করতে পারো না ৷
তাহলে আমরা কী নির্দেশ করে মশকরা করতে পারি?
হাই ভগবান! মা! প্লিজ তুমি এখন বক্তৃতা শুরু করো না, চলো।
- এই ছেলেটা কে? - তোর ক্লাসের?
- আরে, চলো। - তুই আর তোর বোকাচোদা মুখ।
ভাই আমাদের একটা উপকার কর তোর শাশুড়ি পরিবর্তন কর।
হেই! এভাবে বলিস না। অনেক কষ্টে অবশেষে রেখার সাথে সবকিছু ঠিকঠাক হয়েছে।
মায়ের সামনে সে কেমন লজ্জা পাচ্ছছিল দেখেছিস?
দেখ, এখন সেখান থেকে ইশারা দিচ্ছে।
আচ্ছা, ঠিক আছে... তোর এই সমস্ত চিট-চ্যাটের জন্য আনন্দের দোকানে ৬০ টাকা বাজেট কর।
যদি তুই তার ফোনটা আবার স্পর্শও করিস তবে আক্ষরিক অর্থে সে তোর হাত কেটে ফেলবে।
আরে না, আমি গতকাল প্রায় ২০ টাকার মতো দিয়েছি তাকে।
তাই অন্তত এক সপ্তাহ সে আমাকে কিছু বলবে না।
তাই! দোকানে গিয়ে দেখ, তোকে বের করে দিবে।
তুই প্রথমে নিজের বাকি পরিশোধ কর।
হেই! মেয়েটা কে? সে তো সুপার হট।
হেই, আমার কী হ্যালুসিনেশন হচ্ছে না-কি সে সত্যিই আমাদের দিকে হেঁটে আসছে?
তোর হ্যালুসিনেশন হচ্ছে না। মনে হয়, সে সত্যিই আমাদের দিকে হেঁটে আসছে।
তোরা চিন্তা করিস না। আমি আমারটা পেয়ে গেছি।
ভাই প্লিজ পরবর্তী পাঁচ মিনিট তুই নিজের মুখ খোলার কথা ভাবিস না, ঠিক আছে?
হাই, তোমরা এই স্কুলের?
হ্যাঁ, হ্যাঁ।
কোন ক্লাস?
দশম শেষ। প্লাস ওয়ান যাচ্ছি, প্রোমোটেড।
ওহ... আমি ভিক্টোরিয়া। নতুন এডমিশন, কমার্স গ্রুপ।
ওহ! আমরাও কমার্স গ্রুপ!
কিন্তু, নতুন ভর্তির তালিকায় তোমার নাম দেখেছি বলে মনে হচ্ছে না।
ওহ না। আমি গতকালই ভর্তি হয়েছি।
তাই মনে হয় এখনও তালিকায় আমার নামটা যুক্ত করেনি।
- ওহ... আমি করে দিবো। - ওহ, হ্যাঁ। দিবে।
দুঃখিত, আমি তোমাদের নাম জানি না।
- চাইনিজ... ওহ না, আমার আসল নাম... - বিনোথ...
- হাই। - নওশাদ...
হাই।
- সু... - হাই।
- দুরাই। - হ্যালো।
আচ্ছা, আমি বই কোথায় পাবো?
ওহ, হ্যাঁ। সোজা যাও, হেডমিস্ট্রেসের রুমে পৌঁছে যাবে।
ঠিক সে সময় তুমি একটা বাজে গন্ধ অনুভব করবে।
কারণ সেখানে প্রাথমিক ছাত্রদের টয়লেট।
গন্ধ উপেক্ষা করে বাম দিকে হাঁটলে, তুমি একটা স্পোর্টস রুম দেখতে পাবে।
তার উল্টোদিকেই অফিস কক্ষ।
সেখান থেকে তুমি বই নিতে পারবে।
দুঃখিত... একটু বিভ্রান্তিকর লাগছে।
কেউ কী আমার সাথে যাবে? বিনোথ?
ওহ, কেন নয়। চল, সবাই একসাথে যাই। তোরা কী বলিস, গাইজ?
হ্যাঁ, চল!
- চালিয়ে যা, বন্ধু। - হেই, চল।
তো ভিক্টোরিয়া, তুমি গত বছর কোন স্কুলে ছিলে?
ভিকি, তুমি আমাকে ভিকি ডাকতে পারো...
আসলে আমি উটি-তে সেন্ট অ্যালোসিয়াসে ছিলাম।
তোমার কেউ উটি গেছ?
ওহ, হ্যাঁ। আমরা টিভিতে দেখেছি।
হে-হে... ঠিক আছে... এটা কী ধরনের নাম? চাইনিজ?
ওহ এইটা, যখন আমরা ক্লাস নাইনে ছিলাম সে একটা চাইনিজ মেয়ের সাথে ডেট করত।
সেজন্য সে সবসময়ই অনেক ভাব নিত যে সে একটা বিদেশীর সাথে ডেটিং করছে।
স্বাভাবিকভাবেই, বিদেশী মেয়েটা কে দেখার জন্য আমরাও কৌতূহলী ছিলাম।
তাই একদিন আমরা সবাই মেয়েটা কে দেখতে গিয়েছিলাম, পরে জানতে পারি মেয়েটা চাইনিজ না নেপালী ছিল।
ওই এলাকার প্রহরীর মেয়ে।
প্রহরীর মেয়ের সাথে ডেটিং করে সে আমাদের চাইনিজ মেয়ে গল্প শোনাত।
তারপর?
তারপর কী?
সেই মেয়েটাকে সে সেইদিনই ছেড়ে দেয় আর আমরা ওকে "চাইনিজ" নাম দেই।
ওহ... সো কিউট।
ধন্যবাদ।
হেই, তুমি নও...
সেই চেইনটা... সত্যিই অনেক কিউট।
কোথায় থেকে কিনেছ?
ওহ, আমি কিনিনি। এক বন্ধুর উপহার ছিল।
হুম্, সুন্দর।
ঠিক আছে, সাহায্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
তো, আশা করি স্কুল খুললে দেখা হবে। বাই, বিনোথ... সি ইউ গাইজ...
এই, আমার মনে হয় বিনোথের জন্য ওর আলাদা ফিলিং আছে।
হেই? শুধু এটার জন্য কিছু বলবি না।
তা ঠিক, আমিও আভাস পেয়েছি।
খেয়াল করেছিস যাবার আগে কী বললো?
"বাই, বিনোথ... সি ইউ গাইজ..."
তোর বেলা "বিনোথ" আর আমাদের বেলা "গাইজ" হাহ?!
ও, আচ্ছা! এখন কী হলো তাহলে?
তুই নায়ক আর আমরা নয়কের বন্ধু, তাই না?
শোন, আমাদের গ্রুপে বৈষম্য চলবে না। আমরা সবাই সমান।
এই?
এই, মেয়েদের বিষয়ে আমি সবার থেকে বেশি অভিজ্ঞ।
মেয়েরা সবকিছু একটা সিস্টেমে করে।
আমি এই পুরো পরিস্থিতিটা তোদের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করছি।
আমরা সবাই তার দৃষ্টিকোণ কেমন জানিস? হাহ?
- চাইনিজ... ওহ না, আমার আসল নাম... - বিনোথ...
- হাই। - নওশাদ...
- হাই। - সু...
- হাই - দুরাই।
হ্যালো।
এটাই হলো আসল কাহিনী।
হেই, ওর সমস্যা কী?
আসলে, আমিও কনফিউজড।
"আমার গতকাল কেন আজ নয়? 🎧
"আমি কেন এখন আমার মতো নই? 🎧
"ভাবছি আমি কী আজ আমার মনটা হারিয়েছি? 🎧
"ভাবছি আমি কী আমার সব পড়া ভুলে গেছি?" 🎧
"আশ্চর্য আমি কী আমার সীমা ভুলেগেছি?" 🎧
"আমি...? সত্যিই কী এটা আমি...?" 🎧
"আমি যাই যেদিকে।" 🎧
"আমি শুনি যেগান।" 🎧
"আমি তোমার সাথেই হাঁটলে নতুন-নতুন যাই হয়ে!" 🎧
"স্বপ্নের মতো তুমি," 🎧
"যে স্বাদ এখনও পাইনি আমি" 🎧
"যখন তোমার সাথে আমি, তখন সবকিছুই আমার নতুন!" 🎧
"যে গান হয়নি পরিমার্জিত," 🎧
"যে ভালোবাসা গুঁড়ি-গুঁড়ি বৃষ্টির মতো।" 🎧
"ঝুলে আছে তোমার কাঁধে।" 🎧
"আর ঘুম অনেক দূর।" 🎧
"যেদিন পুরো দেশ শুনবে তোমার গান।" 🎧
"সেই দিন নয় বেশি দূরে।" 🎧
"এমনভাবে দাও শ্রম যেন আগামীকালই হয় আজ!" 🎧
"শুধুই আমার জন্য," 🎧
"সময়ই তোমার ছন্দ।" 🎧
"নিজের গাঁঠা সুরে বাজাতে থাকো।" 🎧
"আমিই প্রথম ভক্ত তোমার।" 🎧
"তোমার সুরে গাও আমারই জন্য।" 🎧
"এটা কী একটা অন্য জগত?" 🎧
"এখানেরসব কেন এত সুন্দর?" 🎧
"এই সৌন্দর্য দেখছি আমি শুধুই তোমার জন্য!" 🎧
"ঠিক যেন এক দীর্ঘ রাস্তার মতো।" 🎧
"তুমি হাঁটলে আমার সাথে।" 🎧
"আমার এই জীবন নতুন মনে হয়, শুধুই তোমার জন্য!" 🎧
হেই, গিটার ক্লাসে তোমার ভর্তির হওয়ার কথা ছিল না? পরে কী হলো?
হ্যাঁ, এখনও আমি ভর্তি হতে চাই, কিন্তু আমাদের এলাকায় সেরকম কোনও প্রতিষ্ঠান নেই।
এছাড়াও, এখন বাড়ির আর্থিক অবস্থাও ভালো না।
আমি এই মুহুর্তে বাড়তি ক্লাসের জন্য টাকা চাইতে পারব না।
জানো? যদি আমার কাছে একটা গিটার থাকত তবে আমি নিজে নিজেই শিখতে পারতাম।
হুম...
আমার সেসব ক্লাসেরও দরকার নেই।
একেবারে নতুন নয়, একটা পুরানো গিটারও চলত। কিন্তু এই মুহূর্তে,
আমার দ্বারা সম্ভব হচ্ছে না।
পড়াশোনা শেষ করে তারপর চাকরি করো! এমন আগ্রহ আমি হারিয়ে ফেলেছি।
একবার ভাবো তো এমন হলে কতটা ভালো হতো। যদি আমরা শখের কাজটা শুরু করতে পারতাম,
ঠিক আমাদের স্কুল জীবন থেকে।
আমার মনে হয়, বিদেশের স্কুলগুলোতে এমন হয়...
আমি না বুঝি না, কেন আমার এই কমার্স আর এই জঘন্য হিসাব বিজ্ঞানের অংক করতে হবে...
কেবল সময়ের অপচয়।
কিন্তু, আমরা যদি এসব না করি তবে কিভাবে দ্বাদশ শ্রেণি পাস করব।
আর তারপর কলেজ এবং অন্তত একটা ডিগ্রি।
আমি এসব ডিগ্রী চাই না।
আমি সবসময় মিউজিক চাই।
No comments yet. Be the first to leave one.