De første 136 linjer.
মনিরুল!
মা।
ও, মা।
ঘুমোলে নাকি?
ওই দেখো।
এই বোবা ধরা রেডিওখানা নিয়ে তুমি কী করো বলো দেখি?
ভূতের বাঁশি শোনো?
সকালে কী রান্না হবে তা কিন্তু এখনও বলোনি।
এরপর সকালে যখন তাড়াহুড়ো শুরু হবে
তখন কোনও ভুল হলে সব দোষ ধনার।
আমার হয়েছে যত জ্বালা!
সোনা মুগের ডাল।
বেগুন ভাজা।
কুমড়োর ছক্কা।
আর দেখিস যদি ভাল পারশে পাস।
-আজকের মাছগুলো দয়ারাম ভাল দিয়েছে তো? -হ্যাঁ গো। দিয়েছে।
কই রে, একটু তাড়াতাড়ি কর। মা রান্না করতে আসবে তো।
করছি গো, করছি।
ভাত। সোনা মুগের ডাল।
বেগুন ভাজা।
-দিদি, এখনও বেগুন আসেনি তো। -আরে দিয়ে যাবেখন।
কুমড়োর ছক্কা, পারশে সর্ষের ঝাল
চালতার চাটনি।
চালতা!
সবার মুখে ভাত জুগিও, ঠাকুর।
কুড়ি মিটার হেঁটে বাঁ-দিক নিন।
সোজা যান, ৩০ মিটার।
তারপর ডান-দিক নিন।
আপনি পৌঁছে গেছেন।
ধন্যবাদ।
জবা, একটু পাম্পটা চালিয়ে দে না।
-সকালে ট্যাঙ্কি ভরে জল নাও না কেন? -দয়ারাম।
-আজকের মাছ খুব ভাল ছিল। -বসে থাকো এখন জলের জন্য।
হ্যাঁ।
কালকের মাছও যেন ওরকম হয়।
হুঁ।
-রোজ বলি লোকজনকে তাড়াতাড়ি খাইয়ে দেবে। -ঠিক আছে, রাখছি।
-তা না করে রোজ বেলা করবে। -আচ্ছা।
জবাকে বলবে আজ উনুন পরিষ্কার করতে।
আমি এতকিছু সামলাতে পারব না।
আরে তুই করে দে না।
পাম্পটা চালা রে, জবা।
উপরে গিয়ে আবার ফোনে কথা বলছে।
এই মেয়েটাকে নিয়ে আর পারি না।
ওই তো, চলে এসেছে।
স্বস্তি নেই।
আজ মেনুতে কচুবাটা নেই?
কচুবাটা আজ হয়নি, না?
দুপুরের খাওয়া হয়েছে?
কোথায় থাকো তুমি?
সামনেই একটা মেসে উঠেছি।
আজই এলাম।
এই অবেলায় কচুবাটা খেয়ে কী হবে?
ধনাকে বলছি ভাত গরম করে দেবে।
ডাল আছে, কুমড়োর ছক্কা আছে।
রুটিও হতে পারে, তবে একটু দেরি হবে।
বেগুনপোড়া একটু আমতেল দিয়ে মেখে দেব, খাবে নাকি?
এই রে!
সরি, দিদা।
কথাগুলো আরেকবার বলবে? আমি ভিডিও করব ভেবেছিলাম।
তাক থেকে ওই বয়ামটা নামিয়ে নিয়ে এসো, যাও।
ভাত আর বেগুনপোড়াই হোক তাহলে।
-কী নাম তোমার? -সঞ্চারী।
খাতায় লিখে নিও কিন্তু।
বাঃ। ভারি মিষ্টি নাম তো।
কে রেখেছিল?
-মা? -ধুর। মা রাখবে কী করে?
সে তো আমার জন্মের দিনই মারা গেছে।
বাবা রেখেছিল।
সেও আর নেই।
কাকা-কাকিই আমার অভিভাবক।
কৃষ্ণনগরে বাড়ি। ওখানেই স্কুল।
এবার কলেজে ভর্তি হয়েছি বলে মেসে থাকতে হবে।
আচ্ছা ওখানে আরও আচার দেখলাম তো।
ওগুলো কীসের বললে না তো।
শুধু আচারের গপ্পো শুনে পেট ভরে, দিদি?
আচার একটু চেখে দেখতে হবে।
হাতের মুঠোর মধ্যে নিয়ে... আহাহাহা...
আমার ঠাকমার খুব আচারের শখ ছিল।
বড় বড় বয়ামে আম জিরনো থাকত তেল দিয়ে।
কখনও চালতা।
কখনও কুল, তেঁতুল।
যখন যেরকম সময়, তেমন আচার।
শুধু কি আচার?
তার আবার তেল হত। সেই তেল দিয়ে হত রান্না।
ও বড্ড ঝক্কির কাজ।
আমার দ্বারা ওসব হয় না।
চলো, খাবে এসো।
আমার এসব প্যাচাল পাড়া আর ভাঙা রান্নাঘর দিয়ে কী হবে?
কী বলছ তুমি?
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইন্দুবালা ভাতের হোটেল গ্রুপের কজন সদস্য জানো?
আমিও তো আছি।
কিন্তু আজ ভার্চুয়াল থেকে খাতায়-কলমে সদস্য হয়ে গেলাম।
আমি ভাবছি তোমার রান্নাগুলো নিয়ে ভ্লগ করব।
আমার একটা চ্যানেল আছে, ১৫৭ জন সাবস্ক্রাইবার।
হুম।
কচুবাটা কবে করবে বললে না তো?
ওসব এখানে হয় না।
কী ভাল হয়েছে।
হয় না মানে?
অমলেন্দুবাবু লিখেছেন
নারকোল কোড়া আর কাঁচালঙ্কা দিয়ে এ হোটেলের কচুবাটা নাকি বিশাল লাগে।
অমলেন্দু আবার কে?
এখানেই তো খেতেন আশির দশকে।
কৃষ্ণনগর কলেজে ফিজিক্স পড়ান।
এই দেখো। চিনতে পারছ?
কতজন আসে... খায়...
এখন আর মনে রাখতে পারি না।
বয়সটাও তো হল।
কী দেখছ বলো তো?
তুই আমার ঠাকমার মতো করে খাস।
এই নিয়েই কিন্তু তোমায় ব্ল্যাকমেল করব।
আমায় চেন না!
যাই হোক, আমারই ভাল হল।
এবার বলো কচুবাটা কবে খাওয়াবে। কাল?
আমি লিখে দিচ্ছি কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায়।
সময় করে নিশ্চয়ই কচুবাটা খাওয়াব।
-ওসব এখন লিখো না-- -উঁহু। আমি কিছু জানি না।
কচুবাটা তোমায় খাওয়াতেই হবে। ব্যাস।
খুব ভাল খেলাম।
আমি কিন্তু কাল কচুবাটা খেতে আসছি।
টাটা।
ধনা...
-ধনা। -হুম?
স্নানের জলটা দে, বাবা।
এই মেয়ে তো কচুবাটা খাবে বলে মাথা খেয়ে নিল।
তুমি বলতে পারলে না ওসব এখানে হয় না?
কচুবাটা আর কচুবাটা!
জল ঠাণ্ডা হয়ে যাবে, যাও।
আমি রেখে আসছি।
মা!
ওই কাবুলিওয়ালাটা আবার এসেছে।
কেউ আছে?
কথা কানে যাচ্ছে না? পয়সা নিয়ে ফেরত দেওয়ার নাম নেই।
কোথায় বে? বেরো, জোচ্চোরের দল!
পয়সা দে।
No comments yet. Be the first to leave one.