De første 200 linjer.
অনুবাদ ও সম্পাদনা আরমান আল মাহমুদ
জন্মদিনের উপহার হিসেবে তোমাকে সুন্দর কিছু দেখাবো।
মহারাজ আমাদের বিবাহোৎসব করা নিষিদ্ধ করেছেন।
তবুও গোপনে কিছু আয়োজন করেছি।
তোমার মন খারাপ?
এটা যথেষ্টর চেয়ে বেশি।
চিন্তা করো না।
আমি শুধু তোমাকে প্রাসাদ থেকে বের করে আনতে চেয়েছি।
আমরা বিবাহিত হলেও, নিজেদের শুধু বন্ধু ভাববো।
সেটা নিয়ে আমি চিন্তিত না।
এটা হৈচৈপূর্ণ প্রধান বাড়ি থেকে দূরে, তাই থাকার জন্য নীরব জায়গা হবে।
এটা আমার প্রধান নিবাসের কাছাকাছি, তাই যখন চাইবে আসবো।
ওহ, আর এটা...
চাও বলার জন্য ধন্যবাদ।
পানি শুকিয়ে গেলে, মেঘেদের পানে চেয়ে থেকো।
ধুর!
বাহ্। আবার তোমার তলোয়ার কলাকৌশল অনুশীলন করছিলে?
যথেষ্ট অনুশীলন করেছো বোধহয়।
নাও। স্বামীর প্রতি তুমি কতটা ভালো দেখা যাক একটু।
হয়েছে। এবার ভেতরে চলো।
রাজবৈদ্য অবসর নিচ্ছেন, বাড়ি ফেরার পথে এখানে আসতে বললাম।
রাজবৈদ্য?
আমি ঠিক আছি।
অনেক ধকল সয়েছো, চিকিৎসক দেখানো উচিত তোমার।
চলো।
আপনি যখন প্রাসাদ থেকে চলে আসেন, তখনও আমি বাচ্চার নাড়ি টের পাইনি।
- কিন্তু এখন... - তখনও শুরুর দিকে ছিল।
আপনার জানার কথা না।
বাচ্চা? তাহলে কি বলছেন...
যেমনটা আপনাকে সাবধান করেছিলাম
আপনার বুক ধড়ফড় আছে আর আপনার স্বাস্থ্য ভালো না।
আপনার অনাগত বাচ্চার কারণে, আরও দুর্বল হয়ে পড়েছেন।
বাচ্চাটা আপনি রাখতে চাইলে—
আমি ঠিক থাকবো।
বাচ্চাটা যতক্ষণ নিরাপদ, ততক্ষণ আর কিছু ভাবছি না।
এ কথা কীভাবে বলো?
আপনাকে এটা গোপন রাখতে হবে।
বাড়ি ফিরতে একটু বিলম্ব করুন আর ততক্ষণ এখানে থাকুন।
জি।
দেবী, বাইরের ঠাণ্ডা বাতাসে যাবেন না কখনোই।
পারলে বিছানায় থাকবেন।
বেক আহ বলেছিল ওদের বিয়ে কেবল আনুষ্ঠানিকতা।
কিন্তু...
দেখো।
“১৪তম রাজকুমারের স্ত্রী অনেকক্ষণ যাবত
ওনার মার্শাল আর্ট অনুশীলন দেখেছেন।”
“তারা হাত ধরে একে-অপরের চিন্তা করেছেন।”
মহারাজ, সু দেবী কেমন আপনি জানেন।
উনি ছোটো থেকে রাজকুমার জুং এর সাথে বন্ধুসুলভ।
ওনার অনেক উজ্জ্বল দিক আছে।
উনি এমন মানুষ যে নারী-পুরুষের ধার ধারে না।
সু!
সু!
বাইরে বেরিয়েছো কেন? ঠান্ডা বাতাসে বাচ্চার ক্ষতি হতে পারে...
ওঠো।
আমার চিন্তা না করে আরাম করে ঘুমাতে বলেছি।
এই প্রথম আমার স্ত্রীর সাথে একই কক্ষে ঘুমাচ্ছি।
চলে যেতে বলছো কেন শুধু?
এখন তোমার দিকে তাকানোয়, দেখতে পাচ্ছি আমরা দু'জনই বড়ো হয়ে গেছি।
অনেক সময় কেটে গেছে।
ভালো সময় থাকলে, খারাপ সময়ও থাকে।
সেসব দিনও কেটে গেছে।
সেটা জানতে যথেষ্ট বেঁচেছি।
আমাদের প্রথম দেখার কথা মনে আছে?
৮ম রাজকুমারের গ্রন্থাগারে?
না-কি যখন তোমাকে বাঁচিয়েছিলাম?
যেদিন লাঠি নিয়ে তেড়ে এসেছিলে?
সেদিন খুব অবাক হয়েছিলাম।
এত সাহসী মেয়ে কখনো দেখিনি।
আর উন ভাইয়ের সাথে তোমার মারামারি?
যখনই সেটা নিয়ে ভাবি হাসি।
তোমার চুল এলোমেলো ছিল আর উন ভাইয়ের মাথায় বড়ো কালশিটে দাগ!
- তবুও তুমি দমে যাওনি। - হ্যাঁ।
আমার জন্মদিনে গান গাওয়ার কথাটা রাখছো না কেন?
- প্রতি বছর অপেক্ষা করেছি। - খোদা।
বেশ। এ বছর গেয়ে শোনাবো।
তোমার মনে আছে?
তুমি লুকিয়ে দামিউনে ঢুকে আমাদের গোসলে নজরদারি করেছিলে।
ওরকম কাজ কেন করেছিলে?
ভেবে দেখলে, তুমি ছোটো থেকেই চতুর ছিলে।
এটা খুবই অন্যায়।
সেদিন এত ঘাবড়ে গিয়েছিলাম যে একটা কিছুও দেখিনি।
মিথ্যা বলো না! সব দেখেছিলে, তাই না?
সত্যিই দেখতে পারিনি।
আমার শরীরে কী সমস্যা?
এই মুহূর্ত থেকে, জুং আর হে সু'র কোনো খবর শোনার দরকার নেই আমার।
ওদের দু'জনের কোনোকিছু যেন আমার কানে না আসে।
অবশেষে, এখন শুধু আমরা দু'জন,
প্রাসাদ থেকে দূরে।
শুধু আপনি আর আমি...
আমি আর আপনি।
এবার সত্য আর মিথ্যা,
ভুল বোঝাবুঝি আর সন্দেহ,
সিংহাসনের জন্য বিপজ্জনক লড়াই আর মৃত্যু ভুলে
আপনাকে ভালোবাসায় আমার সবটুকু সময়
উজাড় করে দিতে পারবো।
আমার স্ত্রীর কী অবস্থা? বাচ্চা এত তাড়াতাড়ি জন্ম নিয়েছে কেন?
তবুও আপনার মেয়ে সুস্থ।
খুব সুন্দর হয়েছে দেখতে।
এই বাচ্চাটা মৃত জন্মেছে।
বুঝতে পেরেছেন?
ওকে দুধমার কাছে নিয়ে যান।
কথাবার্তা সাবধানে বলবেন।
বাচ্চাকে নিয়ে ভেবো না।
ও খুব সুন্দর আর সুস্থ। নিঃসন্দেহে আশীর্বাদপুষ্ট।
ওর জন্য এই এলাকার সবচেয়ে ভালো দুধমা ঠিক করেছি।
ভালো করেছো।
তাই বাচ্চার চিন্তা না করে তোমার চিন্তা করো।
যত শীঘ্র সম্ভব তোমাকে সুস্থ হতে হবে।
একটা উপকার করো।
মহারাজকে তোমার বাচ্চা দেখাতে চাও?
আমি...
ওনাকে দেখতে চাই।
আচ্ছা।
এটা মহারাজের কাছে পাঠাও। ওনাকে যত দ্রুত সম্ভব পড়তে বলবে।
জি।
দাঁড়াও!
আমার স্ত্রীর আর মহারাজের হাতের লেখা একরকম।
অদ্ভুত দেখাবে।
[ মহারাজের প্রতি ওয়াং জুং এর পক্ষ থেকে ]
গোত্রসমূহে ধানের বিতরণ পৃথক করতে হবে
তারা কম পেলে,
কম স্থায়ী হবে।
গোত্রসমূহের অংশ জমি আর ক্রীতদাসে কমানো যায়।
মহারাজ, ১৪তম রাজকুমার আপনাকে একটা পত্র পাঠিয়েছেন।
পত্র পাঠাতে পাঠাতে ও ক্লান্ত হচ্ছে না।
পড়েও দেখবেন না?
আমি নিশ্চিত এটা আমার প্রতি অসন্তোষে পরিপূর্ণ।
পড়ে মন-মেজাজ খারাপ করতে চাই না।
আপনার জন্য নাকি একটা বার্তা ছিল, মহারাজ।
উনি একজনকে পাঠিয়েছেনও।
আমাকে দেখে কি মনে হয় ওরকম কারো সাথে দেখা করার সময় আছে?
ক্ষমা করবেন।
উনি এখনো আসেননি?
কতগুলো পত্র পাঠালাম।
উনি আমাকে এতই ঘৃণা করেন?
কাউকে একটু পাঠান।
ওনাকে আমার বার্তা পাঠালে, উনি আসবেন।
পাঠিয়েছি, কিন্তু...
হ্যাঁ, ভুলে গিয়েছিলাম। কাউকে পাঠাচ্ছি।
বাইরে চলো। সুস্থ হওয়ার জন্য তোমাকে খুশি থাকতে হবে।
সনগাকে সবচেয়ে নাম-করা সঙ্গীতশিল্পীদের নিয়ে এসেছি।
পিওনি ফুলও এনেছি।
দেখতে চাও না?
- পিওনি? - হ্যাঁ।
বিশেষ কোনো গান শুনতে চাও?
যে গান ভালো পারেন বাজান।
এক পরিচারিকাকে রাজা ভালোবাসতো।
এই গানটাই নাকি ওনাকে তার প্রেমে পড়তে বাধ্য করেছিল।
রাজা?
এটা শুনবো।
ভালোবাসি।
অনেকদিন আগে...
কথা দিয়েছিলে আমার জীবনকে তোমার জীবন মনে করবে।
মনে আছে?
আমার মেয়েকে...
আমার জায়গায়...
ওকে দেখে রেখো।
ওকে প্রাসাদে যেতে দিবে না।
এসব কেন বলছো?
উনি আসবেন না।
সু।
তোমার পরের জন্মে...
আমাকে মনে রাখবে তো?
আপনাকে ভুলে যাবো।
সব ভুলে যাবো।
এমনকি আমার স্বপ্নেও...
সবাইকে ভুলে যাবো।
সু...
আমাকে এতটা ঘৃণা করবে না।
আসলে, উনি আপনাকে এতদিন পত্র পাঠাচ্ছিলেন, মহারাজ।
আপনি পড়েননি?
জীবন স্বপ্নের মতো।
ঠিক আর ভুল। ভালোবাসা আর ঘৃণা।
সব বহমান সময়ে তলিয়ে যায়, নীরবে চলে যায় কোনো চিহ্ন না রেখে।
এখনো কি আমার পুরোটা হৃদয় পাননি ভেবে আমাকে ঘৃণা করেন?
সবসময় আমি চিন্তা করেছি,
আপনাকে হয়তো ভালোবাসার পরিবর্তে ঘৃণার মাঝে রেখে এসেছি,
রেখে এসেছি এক অশান্তির মাঝে।
এখনো আপনাকে ভালোবাসি।
সবকিছু ছেড়ে যখন বৃষ্টির মধ্যে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন...
আমাকে বাঁচাতে যখন ধেয়ে আসা তীরের সামনে নিজের শরীর এগিয়ে দিয়েছিলেন...
তখনই আপনি আমার এই জীবনে ভুলতে না পারা কেউ হয়ে গিয়েছিলেন।
একটা সময় বুঝতে পেরেছি ভালোবাসার বিপরীত ঘৃণা নয়,
বরং ছেড়ে যাওয়া।
আমি আপনাকে
আর আপনি আমাকে
ছেড়ে গেছেন ভাবতে পারেন ভেবে ভয় হয় আমার।
আপনার জন্য অনেক ছটফট করি,
কিন্তু আপনার কাছে যেতে পারবো না।
আশা আর আপেক্ষা করি আবার আপনাকে এই বেষ্টনীর ভেতর দেখার,
প্রতিদিন আপনার জন্য... অপেক্ষা করবো।
সু!
সু কোথায়? ও কোথায়?
সু...
মজা বাদ দিয়ে বেরিয়ে আসো। সু...
সু! কোথায় তুমি?
কোথায় তুমি!
সু, সু!
এতদিন কী করছিলেন?
No comments yet. Be the first to leave one.