De første 200 linjer.
অনুবাদে: নূরুল্লাহ মাশহুর আহমেদ ইমরান
- রিল্যাক্স কর, এভাবে ঝুলিয়ে রাখ, এক মিনিটের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে। - আইনুন, আইনুন, আইনুন!
বিশ্রাম নে, তোর পরিবর্তে মীরা আর আমি যাবো।
- আমরা অবশ্যই জিতব। - শুভ কামনা।
চল।
- আইনুন, আইনুন, আইনুন! - এগিয়ে যাও, আইনুন!
তুমি ছাড়া এখানে এখানে কেবল একজনই আছে যে এর উত্তর দিতে পারবে।
- আইনুন কোথায়? - ও কোথায়?
- ড্রেস পরিবর্তন করছে এখনও। - স্যার, আমাকে খুঁজছেন?
আকাশের রঙ নীল কেন?
এটা তো গতকালই আপনাকে বলেছিলাম, স্যার।
শুধু উত্তরটা বলো।
আলো বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তরঙ্গ দ্বারা গঠিত। লাল, হলুদ এবং কমলা আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বড়ো।
নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোটো।
বায়ুমন্ডলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য শর্টওয়েভ এর সমান।
বিশেষ করে নীল আলোর। এর ফলে, বায়ুমন্ডল
নীল রঙ শোষণ এবং বিক্ষেপণ করে।
তাই আকাশের রঙ নীল, স্যার।
এজন্যই তোমাদের জুটিটা একদম পারফেক্ট।
অনুবাদে: নূরুল্লাহ মাশহুর আহমেদ ইমরান
আখেন, জার্মানি, ১৯৫৯
রুডি, দুপুরে খেয়েছ?
- ইতোমধ্যে ২টা বেজে গেছে। - তার আগে আমার অ্যাসাইনমেন্টটা শেষ করতে হবে।
এটাই আমার দুপুরের খাবার।
আপনার কি আস্থা আছে...
এই ইন্দোনেশিয়ান এর ওপর?
সেটা তো দেখতেই পাবো।
এক্সকিউজ মি।
- হাবিবি। - শুভ সকাল।
গ্রেস্টনারের সাথে তোমাকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। ও হচ্ছে হবিবি।
ও মাস্টার্স অব সায়েন্স ডিগ্রির থিসিস নিয়ে কাজ করছে।
আখেন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে।
খুব ভালো নম্বর পেয়ে মাত্র চার বছরেই ওর পরীক্ষাগুলো শেষ করেছে।
যাতে সাধারণত ছয় বছর সময় লাগে।
ওর বয়স মাত্র ২৫ হলেও খুব মেধাবী।
ও এখনও ওর থিসিস নিয়ে কাজ করছে?
- এই যুবক আমাদের দলকে নেতৃত্ব দেবে? - আমি সাহায্য করতে ইচ্ছুক, গ্রেস্টনার।
যাও।
হ্যালো।
ও একটা জিনিয়াস।
ও আমাদের দলকে নেতৃত্ব দিতে পারবে।
রুডি!
ডাক্তার ডাকো, তাড়াতাড়ি!
রুডি।
কী হলো?
হাবিবি নামে যে নতুন রোগী এসেছে তাকে চেনো?
তার যক্ষ্মা হয়েছে।
তার সাথে আমার দেখা হয়নি।
সে ইন্দোনেশিয়ান।
এটা আবার কোথায়?
- ঘুম ভালো হয়েছে? - হ্যাঁ।
- কিছু লাগবে? - না।
দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন, রুডি! আপনাকে জার্মানির প্রয়োজন! - ইবনার
- রুডিকে ওষুধ খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দে। - দিচ্ছি, মা।
বানদুং, ঈদ-উল-ফিতরের আগে, ১৯৬২ সাল।
- রুডি। - মা?
এখনো তৈরি হসনি কেন?
ফ্যানির সাথে এই কেকটা নিয়ে রাংগামালেলাতে যা।
সেই সাথে বসরী পরিবারের সাথেও দেখা করে আয়।
- বসরী পরিবার? - হ্যাঁ।
ওদের মেয়ের সাথে তুই একই স্কুলে পড়েছিস।
কথা না বাড়িয়ে এখনই যা।
সবাইকে আমার শুভেচ্ছা জানাবি।
- আসি, মা। - আসি।
তো, যখন আমি স্কুলে ছিলাম...
তখন বলেছিলাম...
- হ্যালো, আইনুন। - হ্যালো।
ওই তো, ও ওখানেই আছে।
ওর সাথে কথা বলার সাহস আছে তোর?
- খুবই বিশ্রী দেখতে... - বিশ্রী!
তাহলে, ও যে বিশ্রী দেখতে, সাহস থাকলে কাছে গিয়ে সেটা বল না।
- ভয় পেয়ে গেলি, তাই না? - না, আমি ভয় পাই না।
এবার দেখ, তাহলে?
আইনুন, আমার মনে হয় তুমি খুব বিশ্রী দেখতে।
তুমি কালো, ব্রাউন সুগারের মতো।
ও রুডি হাবিবি, তাই না?
তোদের মধ্যে কোনো ঝামেলা আছে না-কি?
- "তুমি বিশ্রী!" তুই ওকে বলেছিলি? - হ্যাঁ, বলেছিলাম।
রাংগামালেলা, বানদুং
- চল যাই। - আমি গাড়িতেই অপেক্ষা করছি।
- তুইও আমাকে সাহায্য করতে পারিস। - বেশি দেরি করবি না, ঠিক আছে?
- ঠিক তো? - হ্যাঁ।
কেকটা দে তো, প্লিজ।
হ্যালো?
তুমি দেখতে কালো, মোটা আর বিশ্রী, ব্রাউন সুগারের মতো।
আইনুন?
কী সুন্দরী হয়েছ!
বাহ, দেখে মনে হচ্ছে ব্রাউন সুগার এখন হোয়াইট সুগারে পরিণত হয়েছে।
হোয়াইট সুগার?
- তাহলে, জার্মানি থেকে ফিরে এলে? - হ্যাঁ।
এখন বানদুংয়েই থাকছি। একটু বিশ্রাম নিচ্ছি।
রুডি।
স্যার।
- কেমন আছেন, স্যার? - ভালো আছি।
কোথায় ছিলে? এতক্ষণ ফ্যানির সাথে কথা বলছিলাম।
তাই না-কি? আমি তো গাড়িতেই বসে ছিলাম।
- ঠিক আছে, তাহলে বসো। - আচ্ছা।
তুই তো বলেছিলি বেশি দেরি করবি না।
এখানে ইফতার করে যাচ্ছো না কেন?
- হ্যাঁ, সবকিছু রেডি করাই আছে। - তাই নাকি?
কিন্তু আমি আমার ওষুধ বাড়িতে রেখে এসেছি। আমাকে অবশ্যই বাড়িতে যেতে হবে।
তোর ওষুধ তো নিয়েই এসেছি।
আমরা কথাবার্তা বলি। তোমার জার্মানির গল্প শুনতে চাই।
জার্মানি? ঠিক আছে, তাহলে।
অবশ্যই। আমাকে আরাম করে বসতে হবে। কোনো উপায় নেই।
আখেন খুবই নোংরা একটা শহর ছিল।
তবে আখেন জার্মানিতে মিত্র বাহিনীর প্রবেশদ্বারে পরিণত হয়েছে।
- শুনেছি তুমি না-কি সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলে? - হ্যাঁ, যক্ষ্মা ধরা পড়েছিল।
তাহলে একবারও তোমার কাশির শব্দ শুনলাম না কেন?
এই টাইপের যক্ষ্মায় হাড়ে সংক্রমণ হয়, মা।
তাই না-কি?
- হ্যাঁ, ঠিক বলেছ। - দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠো, রুডি।
- তোমার মেজর কী? - ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাম।
- ইঞ্জিনিয়ারিং? কোনো বিশেষ মেশিন নিয়ে পড়াশোনা করেছো? - সেলাই মেশিন।
- দুঃখিত, মানে... - সেলাই মেশিন।
মানে বিমানের ইঞ্জিন।
আমি তো ভেবেছিলাম, তুমি আইনুনের জন্য সেলাই মেশিন তৈরি করতে যাচ্ছ।
- শুনেছি তুমি এখন ডাক্তার হয়ে গেছ। - ঠিকই শুনেছ।
- তবে আমি কেবল একজন সাধারণ চিকিৎসক। - বিশেষজ্ঞ হওয়ার কোনো প্ল্যান আছে?
কয়েক মাসের মধ্যেই হয়ে যাবো।
এক্সকিউজ মি, আইনুন।
কিছুক্ষণের জন্য তোমাকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যেতে পারি?
আমার থেরাপির জন্য বানদুংয়ের নির্মল আর মুক্ত বাতাসে...
আমাকে সঙ্গ দেবে।
কোনো এক কিশোরীর উচ্ছল হাসি,
হলদে শাড়ি পরা একটি মিষ্টি মেয়ে,
আমি কি করে...
মনে হয়, সবকিছু ভালোভাবেই হয়েছে?
-কী? হ্যাঁ, ভালোই... -অবশ্যই.
খুবই ভালো। রুডির প্রেমের সন্ধানও শেষ হয়েছে।
সত্যি? তাহলে, তুই আইনুনের ব্যাপারে সিরিয়াস?
অবশ্যই, সে রুডিকে মুগ্ধ করেছে।
- ওকে সবকিছু বলে দে। - তবে তুই অনেক খুশি, তাই না?
- তবে রুডি, সাবধান! - কেন?
- ওকে অনেকেই পছন্দ করে। - তো?
ও খুবই অসাধারণ একটা মেয়ে। ওকে যারা পছন্দ করে তারাও সাধারণ কেউ নয়।
উচ্চ পদস্থ তরুণ কর্মকর্তা, সামরিক কর্মকর্তা, আইনজীবী।
- আর তুই তো এখন তেমন কিছুই করছিস না। - তাতে কী?
সুদর্শন হোক বা ধনী হোক, তাদের মধ্যে কেমিস্ট্রি না জমলে সেটা কোনো কাজে আসবে না।
- কাজেই এটা অনর্থক। - তোর কি মনে হয় ও তোকে পছন্দ করে?
সেটা সময়ই বলে দেবে।
এই তো মাত্র কিছুদিন আগে রুডি বাড়িতে এলো...
"আর্লিস, ফুলের শহর থেকে শুভেচ্ছা নিস।
আলহামদুলিল্লাহ্, আমি এখানে ভালো আছি।
তোর আর সুলিসের কী অবস্থা? আশা করি, তোরা ভালোই আছিস।
আর্লিস, আজ বিকেলে... আমাদের বাড়িতে একটা ছেলে এসেছিল।
তার নাম রুডি হাবিবি!"
- ভেতরে এসো। - হ্যাঁ, স্যার।
- মিনাল 'আইদিন ওয়াল-ফাইজিন। - মিনাল 'আইদিন ওয়াল-ফাইজিন।
এসো ভেতরে যাই।
এটা অভদ্রতা।
আইনুন!
- মেহমানদের জন্য শরবত নিয়ে এসো। - আসছি, বাবা।
- নুন, এটা আমার দেয়া সেই উপহারটা না? - হ্যাঁ, সেটাই। যাকগে, ধন্যবাদ।
- তোমার বোনেরা ভালো আছে? -আলহামদুলিল্লাহ্, ওরা ভালো আছে।
- আইনুন, তোমার মাকে সাহায্য করো। - হ্যাঁ, বাবা।
- প্লিজ, তোমরা শরবত নাও। - নিচ্ছি, স্যার।
এখানেই রাখো।
- আপনি এখানে রিকশা নিয়ে এলেন? - তো কী হয়েছে?
অন্যরা তো গাড়ি নিয়ে এসেছিল।
- ওদের নিয়ে ভাবছি না। - আপনি নিশ্চয়ই গরিব।
- তো, উমার? তোমার পড়াশোনা কেমন চলছে? - হ্যাঁ, স্যার?
আলহামদুলিল্লাহ্, স্যার। আমার থিসিসের কাজ প্রায় শেষ।
- থিসিসের কাজ শেষ? গুড! - হ্যাঁ।
- আমারও প্রায় শেষ, স্যার, হ্যাঁ। - তাই নাকি?
- হ্যালো? - রুডি!
- স্যার। - আইনুন।
- কেমন আছেন, স্যার? ভালো আছেন তো? - আলহামদুলিল্লাহ্! ভালো আছি।
- আইনুন তোমার জন্য বসে আছে। - তাই না-কি?
- হ্যাঁ, বাবা? - রুডি এসেছে। তোমরা দুজন বাইরে ঘুরে এসো।
বানদুংয়ের আবহাওয়াটা অনেক চমৎকার।
- আমরা, আসি তাহলে? - হ্যাঁ, অবশ্যই।
- আরে, তোমরা বসো, রিলাক্স! - হ্যাঁ, স্যার।
- তোমরা তো এখনও শরবত নাওনি। - নিচ্ছি, স্যার।
তখন আমার বয়স ছিল সাত বছর।
যুদ্ধের কারণে গ্রামে চলে গিয়েছিলাম, না?
তখন গ্রামের একজন লোক তাঁর স্ত্রীকে প্রসব করতে সহায়তা করার জন্য আমার মাকে ডেকেছিলেন।
মা যখন বাড়িতে ফিরে এলেন, তখন তার পোশাকে অনেক রক্ত লেগে ছিল।
আমি ভয়ে কেঁদে ফেললাম।
কিন্তু মা বলেছিলেন,
"সবেমাত্র আমার এই হাতে একটা ছেলে শিশুকে ধরেছি।"
তাই তাকে এত খুশি দেখাচ্ছিল।
এজন্যই আমি ডাক্তার হতে চেয়েছিলাম।
- তুমি তো ডাক্তার হয়েই গেছ, তাই না? - হ্যাঁ, তা ঠিক।
আইনুন।
তোমাদের বাড়িতে যে চারজন ছেলেকে দেখে এলাম, তাদের মধ্যে তোমার খুব কাছের কেউ আছে?
কেন?
মানে বলতে চাচ্ছি...
তোমার কি বিশেষ কেউ আছে?
যদি না থাকে তো?
এই জায়গাটার কথা মনে আছে?
এখানেই তোমাকে ' ব্রাউন সুগার ' বলেছিলাম।
- Cempluk! - আর্লিস?
- তোকে অনেক মিস করছিলাম। - মাত্রই এলি?
হ্যাঁ, তোর সাথে অনেক কথা আছে।
তোকে অনেক সুন্দর লাগছে।
- এইমাত্রই এলি? - হ্যাঁ।
আসার আগে সুলিসের কাজ ছিল।
আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবি না? ওনাকে এভাবে বসিয়ে রাখিস না।
ও হচ্ছে রুডি হাবিবি। ও হচ্ছে আর্লিস।
No comments yet. Be the first to leave one.