De første 200 linjer.
আমি মানুষটা একা.
আমার আশেপাশে শত শত মানুষ থাকলেও আমি একা.
আমাকে কেউ ভালোবাসেনা...
...কেউ বলতে আমি ৩০ ঊর্ধ্ব কাউকে বোঝাই নি...
...বা বৈধ বয়সের নিচের কাউকেও না.
আমি পুরুষদের কথা বলছি না পরিবার তো অবশ্যই না.
যারা আকর্ষণীয় না তাদের কথা বলছি না অন্তত যারা আমাকে আকৃষ্ট করে নি আর কি...
...যেটা অবশ্যই বিষয়ীকেন্দ্রিক.
আমি ৩০ এর নিচে আকর্ষণীয় নারীদের বেশীরভাগের কথাও বলছি না...
...যারা এমনিতেই আমার ধরা ছোঁয়ার বাইরে পরিধি আরো একটু কমলো.
আসলে সত্যি কথা বলতে কি...
...আমি শুধু একজনের কথাই বলছি তার নাম জেনি.
আমার জগতে সেই সবকিছু...
...সে যদি আমাকে ভালো না বাসে কেউই বাসে না.
আমি জানি পরিসংখ্যানের দিক থেকে এটা অবান্তর মনে হয়...
...তবে আমি অনুধাবন করেছি জগত সংসার ঠিক গণিতের নিয়মে চলে না.
নাকি চলে?
হেই, স্ট্যান?
হেই.
তোমাকে অনেকবছর দেখি নি.
হ্যাঁ, কতদিন হয়ে গেলো?
জানি না.
১০ বছর, পাঁচ মাস, ২ দিন।
দুঃখিত আমি আসলে এইসব হিসাব নিকাশের খুব ভক্ত.
আমি জানি.
তো তুমি আশেপাশেই থাকো?
হ্যাঁ, এইতো পাশেই. বেশি একটা বের হই না।
হয়তো কারণ আমি এখানে সবসময় আসি.
এইযে, আমার জগতটাকে বোঝার ব্যর্থতা টাও গাণিতিক.
এসবই পরিসংখ্যান.
আমার ঘরে অসহায়ের মতো বসে থাকা,
অভিযোগ করা, আক্রান্তের ভূমিকায় অভিনয় করা, ফেসবুকে মানুষজনের পিছু নেয়া,
কারো সাথে দেখা হওয়ায় খুব একটা সহযোগিতা করছিলো না.
বেশ জেনি, আমার জীবন বদলাতে যাচ্ছে.
আমি একজন গণিতবিদ. আমি ডাটা পারি।
আমি ডাতা-মাইনিং এ ভালো. নকশা খুঁজতে পারদর্শী।
সবকিছুর মাঝেই নকশা বিদ্যমান.
মানুষের আচার ব্যবহারেও.
এগুলো শেখা যায়, ঠিক না?
সেদিন ছিলো শনিবার বিকেল ৩টা.
আমাদের একটা কোণায় দেখা হয়.
সে পথ দিয়েই যাচ্ছিলো.
আমি ধীরে ধীরে সেই সম্ভাবনার দিকে যাচ্ছিলাম যেখানে সে এসব জায়গায় থাকতে পারে.
ক্যাফে, রেস্তোরাঁ, বইয়ের দোকান, উইন্ডো শপিং.
সব একি এলাকায়.
জেনি, ছিলো আমার আল্টিমেট প্রমাণ.
আগের অমীমাংসিত সমস্যা.
কিন্তু জেনি কেন?
বেশ, দেখো ওকে.
না, আসলে আমাকে দেখো.
আমি বেশিক্ষণ চোখে চোখ রাখতে পারছিনা.
আমার হার্ট বেশি জোরে ধকধক করে. আমার ঘাম হয়।
আমাকে অস্থির মনে হয় আমার পা অস্থির থাকে.
ঠিকমতো কথাও বলতে পারি না.
কোনমতে সেখান থেকে পালাতে পারলে বাচি অথচ আরো একটু থাকার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছি.
সে কিছুই বলে না.
এটা চমৎকার একটা পাড়া, আমার পছন্দ.
কিন্তু আমি শুনি...
আমাকে উপরে আসতে বলো.
একটু থাকার জন্য আমি যেকোনো কিছু করতে রাজি.
এসব জিনিসের জন্যই এদের বন্দী করে রাখা হয়, দৃষ্টিভ্রম।
নাকি এটা বিভ্রম?
ওর ভেতরে যাই থাকুক অনেক গভীরে চাপা পড়ে আছে.
বের হয়ে আসতো শুধু কলমের কালিতে.
হ্যাঁ, কাগজে লিখে...
...তোমার বাড়িতে স্নেইল মেইলে পাঠিয়ে দিতাম.
নরম বিকেলের কামের তরতাজা গন্ধ
কাগজের গন্ধ, কালি.
একজন লেখার জন্য সময় নিয়েছে ভাবনা খরচ করেছে
যাতে তোমার সাথে তার অন্তরের গভীরতম চিন্তা আদানপ্রদান করতে পারে
আমি হলে তো গলেই যেতাম.
প্রতিবার আমার হৃদয় গলে যেতো.
এরপরেও সাক্ষাতে একটা কথা নেই একটু ফিসফিস নেই.
যেন সে কখনোই পাঠায়নি.
তবু আমার ভালো লেগেছিলো.
গোপন সেই জগত.
চাচ্ছিলাম না শেষ হোক.
শুধু সে ছাড়া আর কারো জানার অনুভূতি.
সবার মাঝে আমি স্পেশাল এই সিক্রেট টা.
আমরা স্পেশাল.
আশেপাশে শত শত মানুষ যাদের অনেকেরই সম্পূর্ণ একা অনুভব করা.
শুধু সেই একটা মানুষ...
...জানে তুমি বেঁচে আছো, পরোয়া করে,
...এই পুরো ব্যাপারটাই আমার বাঁচাকে আরো সার্থক করে তোলে.
তো, আমি আসলে...
হু, আমার যেতে হবে.
একটা ডেইট, অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে.
ওই কথায় আমি যেন একটু মরে গেলাম.
আচ্ছা বেশ, দেখা হবে তাইলে.
এটা কেন বলতে হলো?
ও কি বোঝাতে চাইলো?
দেখা হবে?
সম্ভাবনার দুয়ার.
এটা কি প্রশ্ন ছিলো নাকি বাক্য?
অবশ্যই ৩০ শতাংশ প্রশ্ন আর ৭০ শতাংশ বাক্য.
আর তারপর আমরা হাঁটা শুরু করলাম যে যার দিকে.
সে পশ্চিমে, আমি পূর্বে.
ঠিক মুরাকামির ওই গল্পটার মতো যেখানে ১০০ শতাংশ পারফেক্ট নারীর সাথে...
...দেখা হয় এপ্রিল মাসের এক সুন্দর সকালে.
আমার আসলে যা বলা উচিত তা হচ্ছে...
হেই, জেন?
হু?
মনে আছে আমরা যখন মিডল স্কুলে ছিলাম?
হেই, জেন?
হু?
মনে আছে আমরা যখন মিডল স্কুলে ছিলাম?
তো আমি একটা সুযোগ তৈরি করলাম.
যখনি সে হেসে ফেললো...
...আমার সুযোগ তৈরি হয়ে গেলো.
হাসি মিলিয়ে যেতে যেতে সে যখন মাথা ঘুরিয়ে ফেললে, আমার মুহূর্ত চলে যাবে.
যেকোনো সময়ে.
কিছু একটা বলো, একটা কিছু বলো.
মনে আছে তোমাকে ক্যালকুলাসের জন্য কল করতাম?
এইতো.
এই হাসির মানে তার মনে আছে.
না হয়তো ব্যাপারটা উলটো.
তাই?
বেশ, আসলে অনেক কলই তো আসতো.
এটা কিন্তু খারাপ না.
আসলেই খারাপ না.
এই প্রথম সে প্রসঙ্গটা তুললো.
জগতটা দিনের আলো দেখে নি বললেই চলে.
ওই ফোন কলগুলোও শুধু রাতেই আসতো.
বেশ রাত করে.
আর তখন মোবাইল ফোনও আসে নি. শুধু ল্যান্ডলাইন আর ডায়াল ফোন।
ডায়াল করতে অন্য লেভেলের সাহস লাগতো...
...তোমার ভালো লাগার বস্তুর নাম্বার.
দেখো প্রতিটা নাম্বার ঘোরাতে হতো আর ক্লিকের অপেক্ষা করতে হতো.
প্রতিটা নাম্বারের মাঝে লম্বা সময় লাগতো.
অবাক হতাম যে আমি আসলেই করতাম অনেকবারই করতামও না.
রাতের বেলা হতে পারতো বেশি দেরি করে ফেলতাম কি?
এর কোন নিয়ম ছিলো কি?
কখনো কখনো আমার কিছু করার ছিলো না.
তবে ভাইরে, মনকে শান্ত করতে প্রস্রাব করা, হাত্মুখ ধুয়ে কিছু খেতে হতো।
বারবার সময় চেক করা,
দাঁত ব্রাশ করা, ঘুরেটুরে এসে আবার ঘোরানো কেউ চলে আসলে রেখে দেয়া.
একদম একাকীত্ব দরকার ছিলো...
...তারপর করেই ফেলতাম হৃদয় তখন রেসিং কারের মতো ছুটছে.
যতটা না ওর সাথে কথা হওয়ার উৎকণ্ঠা...
...তার চেয়েও বেশি ওর মা যদি ফোন ধরে ফেলে, সেই আতঙ্ক...
...আর বাবা ধরলে তো কথাই নেই.
হ্যালো.
হ্যালো, মিঃ লি?
কে?
জ্বি, আমি স্ট্যান, জেনের ক্লাসে পড়ি।
জেনির সাথে একটু কথা বলতে চাচ্ছিলাম।
এতো রাতে?
জ্বি, আমি জানি, আমি জানি আমি খুবই লজ্জিত।
আসলে গণিতের একটা জায়গা আটকে গেছি তো।
ঠিক আছে, ধরো.
মিথ্যা নয় কিন্তু.
সেভাবে নয়.
কথা শুরু করতে সবসময় একটা কিছু দিয়ে শুরু করা দরকার হয়...
...কিন্তু সেটা সবসময় শেষ হয়
মিউজিক ক্লাস, ব্যান্ড প্র্যাকটিস
গ্রীষ্মের ছুটিতে সে কি করবে সেসব কথাবার্তায়
সবসময় ভাবতাম সে কোথায় বসে আছে,
কি অবস্থায় আছে, কি পরে আছে, তার ঘরটা দেখতে কিরকম
আজ পর্যন্ত জানি নি ওর বাড়িতে পা পর্যন্ত রাখিনি...
...তবু অন্ধকারে ওর জীবনের কতোটা সময়ের সাথে জড়িয়ে ছিলাম.
মাথার ভেতরের একটা কণ্ঠে আচ্ছন্ন হয়ে ছিলাম.
তো যাই হোক, তোমাকে এখানে যখন পেয়েছি...
...আর আমিও যখন এখানেই থাকি,
ভাবছিলাম আমরা...
একটা সংকেত খুঁজছি.
যেকোনো ধরণের ইতিবাচক কিছু হলেই চলবে.
আমিই এগিয়ে আসছি একটা সংকেত তো দাও.
আমি নার্ভাস.
আমি আমার হার্ট বিট শুনতে পাচ্ছি.
ও আমাকে ওর সাথে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেবে নাকি?
আমার অস্থির লাগছে. পা কাঁপছে।
সেরেছে, ওকে উদ্বিগ্ন লাগছে যেন যেতে পারলে বাঁচে.
অবস্থা মোটেও সুবিধার লাগছে না.
বন্ধুত্ব টা নষ্ট করো না.
যেটা আছে থাকতে দাও.
ওকে চাপে ফেলো না.
ভাবছিলাম আমরা মাঝেমধ্যে...
তুমি ফ্রি থাকলে আমরা...
...স্মৃতি রোমন্থন করতে পারি?
ওঃ, বন্ধুর মতো.
স্মৃতি রোমন্থন.
জানতাম, হুদাই নার্ভাস হচ্ছিলাম
স্মৃতি রোমন্থন.
বেশ!
আচ্ছা, হয়তো, কেনো নয়?
হয়তো?
হয়তো মানে কি? হয়তো মানে প্রত্যাখ্যান.
হয়তো হচ্ছে... জানো সেসময়গুলোয় যখন তুমি কল করতে?
আমি শুধু তোমাকে গণিতে সাহায্য করছিলাম আর কিছুই না.
তোমার কল্পনা খাটাও.
শুধু যদি তুমি ফ্রি থাকো আর আমিও ফ্রি থাকি,
মানে আমরা দুজনেই একই সঙ্গে ফ্রি থাকি আর কি.
সেটা হওয়া জরুরী.
ভেন ডায়াগ্রাম আঁকবো নাকি?
আমাদের সময় কখন কখন মেলে বুঝতে?
ঠিক তাই.
আইডিয়া কিন্তু মন্দ নয়।
আমি ঠিক করেছি ওর সময়সূচী জানতে চাইবো না.
এটা বিব্রতকর লাগতে পারে.
তয় পরেরবার যখনি দেখা হবে আমরা স্মৃতি রোমন্থন করবো, ঠিক আছে?
No comments yet. Be the first to leave one.