De første 200 linjer.
পূর্বে যা দেখেছেন...
:.:. Penny Dreadful S01 E05 :.:.: Closer Than Sisters অনুবাদক: নূরুল্লাহ মাশহুর
প্রাণপ্রিয় মিনা,
আমার প্রিয় বান্ধবী।
আমার অসুস্থতা থেকে সুস্থ হওয়ার পর এই চিঠিগুলো লেখা শুরু করি।
প্রথমদিকে, সম্ভবত প্রতি মাসে একটা করে লিখতাম।
তারপর প্রতি সপ্তাহে, আর এখন প্রতিদিন।
সন্দেহ নেই, শীঘ্রই, আমি সব কাজ ছেড়ে
শুধু লিখে যাবো।
একটা চিঠির শেষেই হবে আরেকটা চিঠির শুরু।
যেন শব্দ দিয়ে গাঁথা এক অন্তহীন মালা।
চিঠিগুলো লিখছি এই আশা নিয়ে যে একদিন তুই উত্তর দিবি
আর সবকিছু ঠিক আগের মতো হয়ে যাবে...
যদিও আমি জানি সেটা কখনোই হওয়া সম্ভব না।
আমাদের ছোটোবেলার স্মৃতিতে আমার মেঘের কথা মনে পড়ে না।
আসলেই কোনো মেঘ ছিল, প্রিয়তমা মিনা?
সম্ভবত দিগন্ত ছাড়িয়ে?
নাকি ছিল শুধুই সমুদ্র সৈকত আর বালুঘর?
এরকম ভাবনা বাচ্চামো, আমি জানি।
কিন্তু স্মৃতিগুলো সবসময় এরকমই হয় না?
চল সাঁতার কেটে অনেক দূরে চলে যাই।
তা ঠিক হবে না। আমরা বিপদে পড়ব।
তুই ভয় পাচ্ছিস।
- না, পাচ্ছি না। - তাহলে চল আমার সাথে।
কতদূর আমরা সাঁতরে যেতে পারব মনে হয়?
যতদূর আমাদের ইচ্ছে। সব জায়গায়।
আর সেখানে পৌঁছে আমরা কী করব?
সবকিছু।
আমার মনে হয় আমাদের চোখ যতদূর যায় ততদূর চলে যাওয়া উচিত।
না, উচিত না।
তুই কি সবসময়ই এমন ভীতু থাকবি, মিনা?
আমাদের দুই পরিবারের চেয়ে ঘনিষ্ঠ কোনো পরিবার ছিল?
আমাদের দুই বাড়ির মাঝের দরজা কোনোদিন বন্ধ ছিল বলে মনে পড়ে না।
চিরতরে যেদিন বন্ধ হয়ে গেল তার আগ পর্যন্ত।
হ্যালো, মিসেস মারি। হোমকামিংয়ের জন্য দারুণ দিন।
আমরা সবাই হ-য-ব-র-ল অবস্থায় আছি।
বাচ্চারা সোলারিয়ামে আছে।
শুভ সকাল, মি. এন্ড্রুস।
শুভ সকাল।
শুভ সকাল।
শুভ সকাল, পিটার।
খোদা, এখনও ওই বানর নিয়ে পড়ে আছো?
যতই চেষ্টা করি না কেন, এটা দেখে মনে হচ্ছে...
- মৃত। - "এটা" না,
বলো "ও"।
ওকে একটা নাম দাও।
ভ্যান, ও একটা অথর্ব মৃত বানর।
ওদেরকে নাম দিতে হবে
নাহলে ওরা কখনও জীবন্ত হবে না।
এটা ডাইনীর জাদুমন্ত্রের মতো।
ও হচ্ছে শেকস্পিয়রের নাটকের এরিয়েল।
তুই সবসময় শিকারী প্রাণীদের নিয়ে কাজ করিস।
আমার মনে হয় তুই রক্তপিপাসু।
আমি রক্তপিপাসু। ও স্রেফ পিশাচ টাইপের।
আমার মনে হয় মি. এন্ড্রুসের সবচেয়ে রাজকীয় গোঁফ আছে।
- জানি, উনি বেশ গর্জিয়াস। - আর অনেক লম্বা।
আমি নিশ্চিত আমি একটা লম্বা ছেলেকে বিয়ে করব।
আমি খাটো কাউকে ভালোবাসতে পারব না,
বল নাচে এটা বেশ বিব্রতকর হবে।
- সে কেমন হবে? - হুম...
অন্তত ৬ ফিটের বেশি।
সাথে শান দেওয়া পাকানো গোঁফ
আর নাচার জন্য ছোট্ট পা।
আর তুই?
বাবার ওই ভয়ঙ্কর আইনজীবীগুলো বাদে যে কেউ হলেই হবে।
তাহলে, নিশ্চয়ই, তুই পিটারকে বিয়ে করবি।
সবাই তাই বলে।
তোমাকে বিয়ে করার জন্য আমি এখানে থাকব না, ভ্যান।
কোথায় থাকবে?
আফ্রিকায়, আমার বাবার সাথে।
তুমি নিশ্চিত তুমি অভিযাত্রী হতে চাও?
বেশ, সারাজীবন তো আর মরা বানর নিয়ে পড়ে থাকতে পারি না।
ব্যাগগুলো সাবধানে নিয়ো।
- বাবা! - হ্যালো, পিটার।
বাবা!
আর এইতো আমার লক্ষ্মী মামণিরা।
হ্যালো!
তুমি অনেক শুকিয়ে গেছ।
এবার তোমার পাঁজরের হাড় অনুভব করতে পারছি।
আর তুমি তোমার হ্যাট পড়োনি।
ওহ, ধরে ফেলেছ।
ওটাই আমি প্রথমে হারিয়েছি।
- দ্বিতীয়ত কী হারিয়েছ? - আমার পথ।
হ্যালো, গ্ল্যাডিস।
এমন কিছু না, সোনা।
আমার জন্য কী এনেছ?
আচ্ছা, দেখা যাক...
কী আছে এখানে?
এবার...
আহ।
- কী এটা? - এটা একটা বনবিড়াল।
টাঙ্গানিকা হ্রদের তীরে বসবাসকারী লেপ্টেইলোরাস গণের প্রাণী।
- কী দারুণ! - ধন্যবাদ, বাবা।
এখন, আমি কুমিরের মতো ক্ষুধার্ত।
ভালো খাবার-দাবারের আয়োজন করেছ তো?
এক্সকিউজ মি?
উৎসবমুখর ওই হোমকামিংয়ের কথাগুলো আমার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে।
ওগুলোই ছিল আমাদের সত্যিকারের ছুটির দিন।
আমার বাবা-মা সবসময় তোদের ভোজে আমন্ত্রিত ছিল।
তোর বাবা আমাদের কাছে ফিরতেন দুর্লভ সব উপহার আর সানবার্ন নিয়ে।
এবার, কেউ কি মানুষখেকোদের সাথে আমার সাক্ষাতের কথা শুনতে চাও?
হ্যাঁ? বেশ।
তবে সবচেয়ে দুর্লভ ছিল তার এডভেঞ্চারের গল্পসমূহ,
আমি নিশ্চিত তার বেশিরভাগই আমাদের জন্য বানানো।
...যখন আমরা হুট করে একটা চিৎকার শুনলাম...
নিয়ামে।
পিটারের চোখ জ্বলজ্বল করে উঠত।
বাবার সাথে কী অসাধারণ ভবিষ্যতের কথা সে কল্পনা করত।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদেরকে
দড়ি আর জালে আটকে ফেলল, আর ওইতো তারা।
চিৎকার করছে, নিজেদের বর্শা নাড়াচ্ছে, আর জপ করছে, "নিয়ামে! নিয়ামে! নিয়ামে!"
- নিয়ামে অর্থ "মাংস।" - ওহ!
মাংস। খাদ্য। আমরা।
এটা ভয়ঙ্কর।
আমরা শুরু করতে পারি?
কিন্তু প্রিয় মিনা, আমাদের এত ঘনিষ্ঠতা স্বত্ত্বেও,
আমরা পুরোপুরি একরকম ছিলাম না।
আমার ক্যাথলিক চার্চের রহস্যগুলো
তোর আর তোর পরিবারের কাছে ছিল অদ্ভুত।
আমি যদি আরও বড় হতাম, আরও বেশি হয়তো দেখতে পেতাম।
প্রাণখোলা সেই হাসি,
দারুণ, প্রাণবন্ত, আন্তরিক সেই আলাপচারিতার আড়ালে
এটা ঠিক চাপা উত্তেজনা ছিল না, তাই না?
এরকম বন্ধুভাবাপন্ন দুটো পরিবারের মধ্যে তো নয়ই।
না।
এটা ছিল অনেকটা কম্পনের মতো।
যেরকম অতল কোনো কুয়ার গহীনে হারিয়ে যাওয়া শব্দ
ফিরে আসে আরও চাপা আর জটিল প্রতিধ্বনি হয়ে।
যৌবন, সম্ভবত।
আর যে ভয়ানক রাতে সেই ঘটনা ঘটেছিল,
সেদিনের ডিনারে তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু কি ঘটেছিল?
না, আমার তেমন কিছু মনে পড়ে না।
সত্যি বলতে, আমি ভেবেছিলাম পরবর্তী কর্নারে আমি তোকে আর পিটারকে দেখব,
আমার সাথে কোনো মজা করছিস।
আমার মা।
তোর বাবা।
ওখানে চলমান
ওই পাপ, অবৈধ কর্মকান্ড দেখে
বিস্ময়ে ধাক্কা খাওয়ার চেয়ে,
আমি এটা উপভোগ করছিলাম।
কিছু একটা ফিসফিসিয়ে উঠেছিল।
আমি শুনেছিলাম।
হয়তো এটা সবসময়ই ছিল,
এই দানব, আমার ভেতরে।
অথবা, আমার পেছনে, অপেক্ষায় ছিল আমার ঘুরে তাকানোর।
আমি যা দেখেছিলাম তা তোকে বলিনি।
কীভাবে বলতাম?
হুট করে তোর এত বড় হয়ে যাওয়ার কোনো দরকার ছিল না।
- আগামীকাল, আমরা শহরে যাবো। - হ্যাঁ।
তুই এটা সহ্য করতে পারতি না। অথবা নিজেকে আমি এরকমটাই বলতাম।
হয়তো গোপন পাপ হিসেবে গোপনীয়তা বজায় রেখে আমি স্রেফ একে মিটিয়ে দিচ্ছিলাম।
কিন্তু আমার ভেতরে, একটা পরিবর্তন এসেছিল।
গোলকধাঁধার ওই রাত থেকেই আমি সেটা খেয়াল করেছি।
হয়তো এটা আমার মাঝে সবসময়ই ছিল।
ছোটো ছোটো দুষ্টুমির অভ্যাস।
অবশ্যই, নির্দোষ। যেরকম দুষ্টুমি যেকোনো মেয়েই করে।
নিজেকে আমি বলছিলাম এটা দুষ্টুমির চেয়ে বেশি কিছু না।
কিন্তু আমি জানতাম এটা তার চেয়ে বেশি কিছু।
অবশ্যই জানতাম।
আর আমরা যখন বড় হতে থাকি, আর তুই আরও সুন্দরী হতে থাকিস,
এটা বিস্ময়কর ছিল না যে তুই-ই প্রথমে তোর স্বপ্নপুরুষের সন্ধান পেলি।
অথবা জাঁদরেল গোঁফের সেই লোকটার।
কী সুদর্শন যুবক অফিসার!
তোরা কী দারুণ জুটি ছিলি!
পেয়েছি তোমাদের।
ধন্যবাদ।
পিটারের যখন সবে দাঁড়ি-গোঁফ গজাচ্ছিল,
আমি তখন ক্যাপ্টেন ব্র্যানসন এর সাথে তোর প্রণয় গভীর হতে দেখছিলাম।
সেই আগানো-পেছানোর কৌশলী খেলা।
আমি নিজেকে সবসময় শক্তিশালী ভাবতাম।
কিন্তু এখানে, তুই কী দারুণ নির্ভীক ছিলি।
ও কীভাবে বিজিত না হয়ে পারত?
আমার ধারণা ওই টেবিলেই তুই তোর ভবিষ্যৎ ঠিক করে নিয়েছিলি।
ও ভারতের কথা বলল আর হঠাৎ আমি তোর মাঝে আলোড়ন দেখলাম।
তোমাকে আবার কবে দেখব?
ভারত অনেক দূরের দেশ না?
আমি কী করতাম?
পিটারকে বিয়ে করতাম?
খোদা, আমি তোকে কতটা হিংসা করতাম!
হয়তো তোকে ঘৃণাও করতাম।
এটা কী করে সম্ভব, তোর মতো এত ভীতু আর নম্র-ভদ্র মেয়ে
আমার আগে কী করে এই এডভেঞ্চারের স্বাদ পাবে?
তুই ভালোবাসা পাবি, একটা পুরুষের স্পর্শ পাবি,
যেখানে আমি এত সাহসী হওয়া স্বত্ত্বেও, জীবনের কোনো স্বাদই পাবো না।
মিনা, সোনা।
অবশ্যই, ও একজন ভালো মানুষ। এতে আমার কোনো সন্দেহ নেই।
ও স্বামী হিসেবে দারুণ হবে।
কিন্তু ওকে নোংরা কৃষ্ণাঙ্গ আর গরমের দেশ
ভারতে নিয়ে যাবে এটা আমার পছন্দ না।
আফ্রিকা কেমন হবে বলে তোমার মনে হয়?
ওহ, গড, ভ্যান। ওটার কথা বোলো না।
প্রতিবার যখন বাবার সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে চাই, উনি এড়িয়ে যান।
হয়তো তোমার আর আবদার করা উচিত না।
সারাজীবন আমি শুধু এটার স্বপ্নই দেখে এসেছি। তুমি জানো সেটা।
আমার বাবা আর আমি কোনো এক এডভেঞ্চারে,
ভয়ানক কোনো নতুন গিরিপথ আবিষ্কার করছি।
হয়তো...
কী?
হয়তো তখন, তার কাছে আমি আর এরকম হতাশার পাত্র থাকব না।
আমি কখনোই উনার মনের মতো ছেলে হতে পারিনি।
No comments yet. Be the first to leave one.