Die ersten 147 Zeilen.
সেদিন, মানবজাতি বুঝেছিল...
ওদের দ্বারা শাসিত হবার পরিণতি কতটা ভয়ংকর!
নিজেদেরকে খাঁচায় আটকে রাখাটা কতটা অপমানজনক!
আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হও!
আমাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু একটা,
ওকে মারো, তাহলে এটাই হবে দেয়ালের বাইরে মানবজাতির প্রথম আস্তানা!
লক্ষ্যবস্তু আসছে!
৫ দলে ভাগ হয়ে যাও!
আমরা ওকে বিভ্রান্ত করে ফেলবো!
আর আক্রমণকারী দল, তোমরা তোমাদের ত্রিমাত্রিক যুদ্ধাস্ত্র সচল করো!
আমরা চারিদিক থেকে ওকে আক্রমণ করবো!
মানবজাতি কতটা শক্তিশালী তা ওকে বুঝিয়ে দেবো!
আজ থেকে ২০০০ বছর ভবিষ্যতে ঝিগানশিনার পতন (১)
আরে? মিকাসা...
চলো, ফিরতে হবে।
আমি এখানে কি করছি?
কি বলছ এসব, ঘুমিয়ে পড়েছিলে নাকি?
না...
মনে হল, অনেক বড় একটা স্বপ্ন দেখছি!
কি স্বপ্ন?
আমার মনে পড়ছে না...
এরেন, তুমি কাঁদছ কেন?
৮৪৫ সাল — ঝিগানশিনা জেলা
শোন!
ঈশ্বরপ্রদত্ত জ্ঞান দিয়ে এ দেয়াল তৈরি করা হয়েছে!
ঈশ্বর নিজে আমাদেরকে এ উপহার দিয়েছেন!
কেউ এর গায়ে আঁচড়ও ফেলতে পারবে না!
কাউকে বলোনা যে আমি কাঁদছিলাম।
আচ্ছা...
কিন্তু কোন কারণ ছাড়াই যদি তোমার চোখ দিয়ে পানি ঝরে থাকে,
তাহলে তোমার বাবাকে বলা উচিৎ বিষয়টা।
কক্ষনো না!
আমি বাবাকে একথা বলবো না।
কেন কাঁদছিলে, এরেন?
হান্নেস্!
মিকাসা তোমাকে বকেছে নাকি?
ও বকলেই আমি কাঁদবো কেন?
ইশ্, তোমার গা থেকে মদের দুর্গন্ধ!
এই হচ্ছে ঘটনা...
তোমরা আবার মাতলামো করছো?
তুমিও আমাদের সাথে যোগ দিতে পারো?
তোমাদের কি কোন কাজ নেই?
হ্যাঁ, আমরা আজ গেট পাহারার দায়িত্বে আছি।
আমরা সারাদিন এখানে কাটাই, আর এজন্য আমাদের খিধে আর পিপাসাও লাগে।
এজন্য মাঝে মাঝে হয়তো মদও খাওয়া হয়...
এটা তেমন কিছু না।
এভাবে চললে যখন দরকার পড়বে, তুমি ওদের সাথে লড়তে পারবে?
দরকার পড়বে মানে? কবে...
কবে মানে?!
যখন ওরা দেয়াল ভেঙ্গে শহরে প্রবেশ করবে!
ও...
আরে, এরেন, এভাবে চিল্লাপাল্লা করোনা...
আজ ডাক্তারের ছেলেকে বেশ প্রাণবন্ত দেখছি যে!
ওরা কখনো দেয়াল ভেঙ্গে ফেললে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করবো।
কিন্তু গত একশো বছরে এমন কিছু হয়নি।
বাবা বলেছেন, কেউ যখন অসচেতন হয়ে পড়ে...
তখনই সে বড় বিপদে পড়ে!
ডাক্তার ইয়েগার, তাইনা?
কথাটা তিনি ঠিকই বলেছেন...
তিনি পুরো শহরকে একবার এক মহামারীর হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন।
আমরা সবাই তাঁর কাছে চরম ঋণী।
কিন্তু এর সাথে ওদের কোন সম্পর্ক নেই।
আমরা সৈনিকরা যখন দেয়াল মেরামত করতে যাই,
মাঝেমধ্যে ওদেরকে বাইরে ঘুরতে দেখা যায়।
কিন্তু আমাদের দেয়াল ৫০ মিটার উঁচু। তাই ওরা কিছুই করতে পারে না।
তা...তাহলে,
তোমরা আসলেই ওদের সাথে লড়তে প্রস্তুত নও?
না।
কি?!
তাহলে নিজেদের পরিচয় দেয়াল রক্ষাকারী সৈন্য না দিয়ে, দেয়াল মেরামতকারী সৈন্য দিও!
আমার অবশ্য এতে আপত্তি নেই...
কিন্তু শোন, এরেন...
আমাদের লড়াই করা মানে, আমাদের সামনে দুঃসময় এসেছে।
যতদিন সবাই আমাদেরকে গালমন্দ করবে আর বলবে বিনে পরিশ্রমে ওদের করের টাকা ওড়াচ্ছি,
ধরে নেবে আমরা নিরাপদ আছি!
এমনকি আমরা যদি কখনো দেয়ালের বাইরে যেতে না ও পারি,
যতদিন আমরা খেতে ও ঘুমোতে পারবো, আমরা বেঁচে থাকবো...
কিন্তু এতে আমাদের সাথে...
একটা গবাদিপশুর জীবনের পার্থক্য কোথায়?!
ছেলেটা দেখছি দারুণ সাহসী।
শুধু মুখে মুখে সাহসিকতা দেখালে চলবে? ওকে জিজ্ঞেস করো তো হান্নেস্।
আচ্ছা আচ্ছা।
এই, এরেন!
অদ্ভুত ছেলে।
ও কি অনুসন্ধান বাহিনীতে যোগ দিতে চায়?
এরেন, তুমি অনুসন্ধান বাহিনীতে যাবার চিন্তা বাদ দাও।
কি? তুমি কি বলতে চাও ওরাও অকর্মা?
আমি তা বলিনি...
অনুসন্ধান বাহিনী ফিরে এসেছে!
প্রধান ফটক খুলছে!
চলো, মিকাসা!
বীরের দল ফিরে এসেছে!
ধুর, কিছু দেখতে পাচ্ছি না!
কেবল এরাই ফেরত এসেছে?
অন্যরা নিশ্চয়ই ওদের পেটে গিয়েছে।
দেয়ালের বাইরে গেলে এমনই হয়।
মোসেস! মোসেস!
আমার ছেলে, মোসেস... ওকে দেখছি না।
কোথায় ও?
ইনি মোসেস এর মা।
ওটা নিয়ে এসো।
আমরা কেবল এতটুকুই আনতে পেরেছি।
কিন্তু আমার ছেলে...
ও তোমাদের উপকারে এসেছে তো?
যদিও ও সরাসরি কিছু করতে পারেনি...
কিন্তু ওর মৃত্যু মানবজাতিকে...
লড়াইয়ে উদ্যম যুগিয়েছে, তাইনা?!
অবশ্যই!
না।
আমার লোকেরা এবার...
না,
আমরা কখনোই...
কখনোই কিছু শিখিনি!
সব দোষ আমার...
আমার অজ্ঞতার কারণেই আমার লোকেরা মরেছে!
আর আমরা এখনো জানিনা ওরা কি জিনিস!
যত্তসব...
ঠিকই বলেছ।
আমাদের করের টাকায় শুধু পেটপূজা করে।
কি করছিস হারামজাদা?
এই!
কি করছো, মিকাসা?!
ফিরে আয় বলছি!
মিকাসা, এবার তো ছেড়ে দাও!
কি করলে?
কাঠগুলো তো সব পড়ে গেল!
এরেন,
তুমি কি এখনো অনুসন্ধান বাহিনীতে যোগ দিতে চাও?
আমাকে এগুলো তুলতে সাহায্য করো...
এত অল্প কাঠ তুলতেও সাহায্য!
প্রয়োজনীয় তথ্যাদিঃ দেয়াল (১) মানবজাতি তিন স্তরের দেয়ালের মধ্যে বাস করছে। বাইরের স্তরের নাম মারিয়া। দ্বিতীয় স্তরের নাম রোজ। সবচেয়ে ভেতরের স্তরের নাম শিনা।
প্রয়োজনীয় তথ্যাদিঃ দেয়াল (২) এক স্তর থেকে পরবর্তী স্তরের দূরত্ব প্রায় সমান। মারিয়া ও রোজের দূরত্ব ১০০ কিঃমিঃ। রোজ ও শিনা'র মধ্যবর্তী দূরত্ব ১৩০ কিঃমিঃ। আর শিনা থেকে কেন্দ্রের দূরত্ব ২৫০ কিঃমিঃ।
এসে গেছি।
স্বাগতম।
আরে, এরেন!
তুমি দেখছি অনেক কাজ করে ফেলেছ।
হ্যাঁ...
কি?
তোমার কান লাল হয়ে গিয়েছে।
তার মানে তুমি মিথ্যে বলছ।
মিকাসা তোমাকে সাহায্য করেছে, তাইনা?
আরে? কোথাও যাচ্ছ নাকি বাবা?
কাজে?
হ্যাঁ, কিছু রোগী দেখতে ভেতরের স্তরে যাচ্ছি।
হয়তো দুই-তিনদিন থাকা লাগবে।
এরেন বলেছে, ও অনুসন্ধান বাহিনীতে যুক্ত হতে চায়।
মি-মিকাসা, আমি কাউকে বলতে না করেছিলাম!
No comments yet. Be the first to leave one.