Die ersten 193 Zeilen.
অনুবাদ ও সম্পাদনায় ❝ শান্ত কুমার দাস ❞
🧸 ⭐ ⭐ এটি আমার ❝১১৭তম❞ পূর্ণাঙ্গ বাংলা সাবটাইটেল ⭐ ⭐ 🧸
মাস্টার জেপেট্টো যখন পিনোকিওকে তৈরি করেছিলেন,
তিনি তার এক ছেলেকে হারিয়ে বসে ছিলেন।
এটা আমার যুগের অনেক বছর আগে ঘটেছে,
কিন্তু আমি গল্পটা জানি।
তারপর গল্পটা আমার গল্প হয়ে গেল।
জেপেট্টো কার্লোকে হারিয়েছিলেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ।
তারা একসাথে ছিল মাত্র দশ বছর।
কিন্তু কার্লো যেন তার মৃত্যুর সাথে সাথে বৃদ্ধ মানুষটার জীবনও সাথে করে নিয়ে গেছে।
- বাবা! বাবা! - হ্যাঁ?
- বলো তো আমি কী দেখেছি? - কী?
- অনুমান করো! - কোনো ধারণা নেই।
- আমি কয়েকটা প্লেন দেখেছি! - ওহ, তাই নাকি? ভালো।
- এবার তুমি কী বানাচ্ছো, বাবা? - তুমি বলো!
- সৈন্য? জাদুকর? ডাইনি? - না।
না! না, না, না, না, না, দেখতে হলে তোমায় অপেক্ষা করতে হবে, কার্লো!
সকল ভাল জিনিসের জন্য ধৈর্য থাকা প্রয়োজন।
কোনো কিছুর অভাব ছিলো না তাদের।
পিতা ও পুত্র এবং পবিত্র আত্মার নামে।
তাদের শুধু প্রয়োজন ছিল একে অপরের সঙ্গ।
এবং বুড়ি ডাইনী ছোট্ট সজারুকে সতর্ক করে দিলো,
"মিথ্যে বলবে না, তাহলে তোমার নাক বেড়ে বেড়ে এত্তবড় হয়ে যাবে।"
তার নাক লম্বা হবে?
বাছা আমার, মিথ্যা দ্রুত প্রকাশ পায়,
কারণ ওগুলো লম্বা নাকের মতো,
সেই মিথ্যাবাদী ছাড়া সবাই সেটা দেখে।
এবং তুমি যত বেশি মিথ্যা বলবে, তোমার নাক তত লম্বা হবে!
আমাকে মায়ের গানটা শোনাও যাতে আমি ঘুমাতে পারি। প্লিজ, বাবা?
বেশ।
চেষ্টা করে দেখো।
তোমার জন্য।
টানো, কার্লো! টানো!
সাবধান, কার্লো!
যখন একটা জীবন বিলীন হয়ে যায়, অন্য একটা জীবন বিকশিত হয়।
এটাতে হবে?
না, না, না, না, কার্লো।
এটাকে নিখুঁত হতে হবে। সম্পুর্ণ!
দেখলে?
এই ফলটার কিছু শল্ক নেই।
শুভ রাত্রি, বাবা।
শুভ রাত্রি, আমার সোনা।
নতুন জুতাজোড়া আমার খুব পছন্দ হয়েছে, বাবা!
শুনে খুশি হলাম, কার্লো।
- আমরা প্রথমে চার্চে যাবো তো, তাই না? - ওহ, অবশ্যই।
কী খবর, ছোট্ট কুকুর!
শুভ সকাল, জেপেট্টো।
- শুভ সকাল! - শুভ সকাল!
মাস্টার জেপেট্টো, ক্রুশের কাজটা কি আজ শেষ হয়ে যাবে?
আমরা আমাদের সর্বোত্তম চেষ্টা করবো।
- ম্যাডাম। - কী পরিপূর্ণতাবাদী!
একজন আদর্শ ইতালীয় নাগরিক।
এবং একজন ভালো বাবা।
কার্লো, জুতোগুলো ভারী সুন্দর। ধরো!
ধন্যবাদ, স্যার!
- শুভ সকাল। - হাই!
- শুভ সকাল। - শুভ সকাল, ডাক্তার!
আরে, কার্লো।
জেপেট্টো।
হ্যাঁ...
- দেখতে বেশ লাগছে, বাবা। - ওহ।
বাড়ি ফেরার সময় কি প্রায় হয়ে এসেছে?
হয়ে এসেছে প্রায়!
আমাকে আরও কিছু লাল রঙ পাঠিয়ে দাও, কার্লো।
ওহ! তোমাকে তো আমার পাওয়া একটা জিনিস দেখাতে ভুলে গেছি।
কী পেয়েছো, সোনা?
তুমিই দেখে নাও।
একটা নিখুঁত পাইন কোন।
এতে এখনো সবগুলো শল্ক আছে!
আমি ভেবেছি আমি নিজেই এটা লাগাব এবং গাছটা বড় হতে দেখবো।
তারপর নিজেই নিজের খেলনা তৈরি করবো। তোমার মতো করে।
আমি মনে করি যে এর চেয়ে ভালো বুদ্ধি আর কোনো ছেলের মাথায় খেলে না, কার্লো।
তাই না বলো?
ওটা কীসের শব্দ, বাবা? প্লেন না কি
যন্ত্রপাতি গোছাও।
জলদি।
আমরা বাড়িতে গিয়ে আগুনের পাশে বসে গরম স্যুপ খাবো।
- আমরা কি হট চকলেট ও খেতে পারি? - অবশ্যই, অবশ্যই।
আজকের দিনটা হট চকোলেট খাওয়ার জন্য উপযুক্ত বলে মনে হচ্ছে, তাই না?
ওহ হ্যাঁ, হ্যাঁ। বেশ।
বাবা! কী ওটা?
কিছু না। আমি নিশ্চিত ওটা কিছু না তবে...
ওহ, দাঁড়াও। আমার পাইন কোন!
পরে বলা হয়েছিল যে জেপেট্টোর ছোট্ট শহরটি তাদের লক্ষ্য ছিল না।
সেই প্লেনগুলো তাদের ঘাঁটিতে ফিরে আসছিল এবং ...
তাদের বোঝা হালকা করার জন্য তাদের বোমাগুলো ফেলেছিল।
কার্লো!
না...
কার্লো।
জেপেট্টো কখনো তাকে ছেড়ে যায়নি। আর এই হলো গল্প।
সে খুব কম কাজ করতো। এমনকি সে খেতো ও খুব কম।
এবং গির্জার ক্রুশটা অসমাপ্তই রয়ে যায়।
অনেক বছর কেটে গেল।
পৃথিবী আপন গতি ফিরে পেল...
কিন্তু জেপেট্টো নয়।
আর এখান থেকেই আমার গল্প শুরু হয়।
আমি একজন লেখক ছিলাম।
এবং বছরের পর বছর ধরে, আমি আমার অসামান্য এবং
বিস্ময়কর জীবনের গল্প লেখার জন্য সঠিক অবস্থার সন্ধান করছিলাম।
যতক্ষণ না অবশেষে,
সেটার সন্ধান পেলাম।
আমার আশ্রয়।
ঘর।
এখানে বসে আমি আমার গল্প লিখতে পারবো। এবং চমৎকার একটা গল্প হবে এটা।
আমি সার্ডিনিয়ায় একজন বারিস্তারের ফায়ারপ্লেসে থেকেছি,
অ্যাড্রিয়াটিক সাগরে মাছ ধরার নৌকায় চড়েছি,
পেরুগিয়ার একজন বিখ্যাত ভাস্করের সাথে শীতকালে থেকেছি।
"যৌবনের আর্তনাদ"
বাই সেবাস্টিয়ান জে. ক্রিকেট।
তোমার স্বপ্ন দেখেছি, কার্লো।
স্বপ্নে দেখেছি যে তুমি এখানে আমার পাশে বসে আছো।
আমার সোনা।
আহারে।
যদি তোমাকে ফিরিয়ে আনতে পারতাম।
আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো।
আমি বৃদ্ধ লোকটাকে কাঁদতে দেখলাম আর তা আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিলো।
এবং দেখতে পেলাম যে শুধু আমিই তাকে দেখছিলাম না।
এই পৃথিবীতে আমার অগণিত অ্যাডভেঞ্চারে,
আমি জেনেছি যে প্রাচীন আত্মারা পাহাড় এবং বনে বাস করে
এবং মানব জগতে খুব কমই হস্তক্ষেপ করে।
তবে কখনও কখনও তারা করে।
আমার কাছে ফিরে এসো, কার্লো।
ফিরে আসো এখানে!
আমার কাছে!
কেন তুমি আমার প্রার্থনা শুনছো না?
কেন?
কোথায় যেন ছিলাম?
হ্যাঁ, পেরু...
আমার অ্যান্টেনা কাঁপছে কেন?
আমি ওকে ফিরিয়ে আনবো।
আমি কার্লোকে আবার তৈরি করবো..
আরে... হেই!
...এই অভিশপ্ত পাইন গাছ দিয়ে!
কী হচ্ছে?!
না!
এ যেন একটা বিভীষিকার ঘর!
আমি তোকে আগামীকাল শেষ করবো।
হ্যাঁ, কাল।
আরে! ওখান থেকে সরে যাও। চলে যাও!
কেটে পড়ো।
না, না,না, না। এটা আমার ঘর!
অন্যের জায়গায় পা দেবে না! যাও, যাও, যাও।
চলে যাও এখান থেকে। যাও। চলে যাও!
হ্যাঁ, এইতো সুবুদ্ধি হয়েছে।
ক্ষুদে কাষ্ঠবালক,
জেগে ওঠো নবারুণের সাথে, হেঁটে বেড়াও এই জগৎ জুড়ে।
মাফ করবেন। আমি কি আপনাকে সাহায্য করতে পারি? এটা আমার ঘর।
আমি কি জিজ্ঞেস করতে পারি, আপনি কে?
আমি কে?
রক্ষক।
আমি রক্ষা করি ছোট ছোট জিনিসগুলো...
...ভুলে যাওয়া জিনিসগুলো,
হারিয়ে যাওয়া জিনিসগুলো।
আচ্ছা, আমি সেবাস্টিয়ান জে. ক্রিকেট, এই বাড়ির মালিক।
এবং আমার সম্পত্তি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা এবং ষড়যন্ত্র সম্পর্কে...
জানার অধিকার আমার আছে।
বেশ, তুমি যেহেতু এই কাষ্ঠবালকের হুদয়ে বাস করছোই,
সম্ভবত তুমি আমাকে সাহায্য করতে পারবে।
কীভাবে সাহায্য করবো?
ছেলেটার দিকে খেয়াল রেখো।
তাকে ভালো মানুষ হতে পথ দেখিয়ো।
আমি শিক্ষক নই, ম্যাডাম।
আমি একজন ঔপন্যাসিক, একজন গল্পকার,
বর্তমানে আমার স্মৃতিকথা লিখতে নিমগ্ন।
এই পৃথিবীতে, তুমি যা দেবে তাই পাবে।
এই দায়িত্বটা নাও, আমি তোমার একটি ইচ্ছা পূরণ করবো।
আর সেটা যে কোনো ইচ্ছা হতে পারে?
যেকোনো ইচ্ছা?
আমার বই প্রকাশ?
খ্যাতি? যশ?
যেকোনো কিছু।
ওহ।
হয়তো আমি সাহায্য করতে পারবো।
আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করব, এবং এ ছাড়া আর করারই বা কী আছে।
চতুর কথা শোনাচ্ছে, তাই না?
পাইন কাঠের তৈরি ছোট্ট বালক,
তোমার নাম দিলাম পিনোকিও।
জেগে ওঠো নবারুণের সাথে,
হেঁটে বেড়াও এই জগৎ জুড়ে...
...এবং কারণ হও এই বেচারা হৃদয়ভাঙা বৃদ্ধের সুখ ও সাহচর্যের।
তার ছেলে হও।
তার দিনগুলিকে আলোয় ভরে দাও, যাতে সে আর একা না থাকে।
কে ওখানে?
তোমাকে সতর্ক করছি!
আমার কাছে অস্ত্র আছে কিন্তু!
শুভ সকাল, বাবা!
এটা কী? এটা কী ধরনের জাদু?
তুমি চেয়েছিলে যেন আমি বেঁচে উঠি। তুমিই তো আমার বেঁচে ওঠার জন্য প্রার্থনা করেছিলে।
কে... কে তুমি?
আমার নাম পিনোকিও!
আমি তোমার ছেলে!
তুমি আমার ছেলে নও! আমার কাছে আসবে না!
ছেলেটা সত্য বলছে, মাস্টার জেপেট্টো!
No comments yet. Be the first to leave one.