Die ersten 173 Zeilen.
অনুবাদে: সাফাত ,
অনুবাদে: আকতার হোসেন ,
অনুবাদে: আকাশ বসাক
সম্পাদনায়: আকতার হোসেন
নরমান... এটা তুমি।
এমা...
আমি তোমাকে মিস করেছি। আমি খুশি তুমি ঠিক আছ।
আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। তুমি বেঁচে আছ, নরমান... তুমি বেঁচে আছ!
তুমি সত্যিই নরমান তো?
তুমি আবার কোনো ভূত-প্রেত না তো?
কেন? কীভাবে? তোমাকে তো ঐ রাতে নিয়ে গিয়েছিল।
আমাকে অন্য একটা ফার্মে পাঠানো হয়েছিল। আর তুমি...
ওহ, এটা? আমি বাড়িতে ফেলে এসেছি।
কিন্তু আমি পালাতে সক্ষম হয়েছিলাম!
আমি রেইকেও সাথে এনেছি।
রেই!
কত্তো খারাপ!
এমন করে কেউ হ্যালো বলে।
কিন্তু তুমি দারুণ কিছু দেখেছিলে, তাই না?
হ্যাঁ।
তোমার কারণে।
আমি খুশি যে আমি বেঁচে আছি!
আর কখনও মরার চেষ্টা করবে না, গর্দভ নরমান।
হ্যাঁ, বুঝেছি, গর্দভ রেই।
অসম্ভব!
নর... মান?
তুমি বেঁচে আছ?
তু-তুমি কি সত্যি?
সত্যি?
নরমান!
--আমি অনেক খুশি! --তুমি বেঁচে আছ!
কিন্তু কেন?
তোমরা অনেক বড়ো হয়ে গেছো।
এখানে ব্যস ১৫ জনই?
আমরা ফিল আর বাকিদের বাড়িতে রেখে এসেছি।
কিন্তু আমরা শীঘ্রই তাদের বাঁচাতে ফিরে যাবো।
ঐ কলমে যে কো-অর্ডিনেট ছিল, সেটার কী হলো? সেখানে একটা আশ্রয়কেন্দ্র ছিল, তাই না?
ফার্মের লোকেরা আমাদের সেখানে খুঁজে পেয়েছিল।
সবাই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলাম।
আচ্ছা।
নরমান, তুমি এত দিন কোথায় ছিলে?
আমি ল্যাম্বডা ৭২১৪ তে ছিলাম। যেখানে শিশুদের উপর টেস্ট করা হতো।
ল্যাম্বডা?
টেস্ট?
ওই রাতে, মা আমাকে গেটে রেখে গিয়েছিল।
সেখানে, আমাকে ল্যাম্বডার গবেষকদের হাতে তুলে দেয়া হয়।
সেখানে ফার্মের দৈত্য এবং বড়োরা শিশুদের উপর ড্রাগ টেস্ট এবং এক্সপেরিমেন্ট চালাত।
যাতে তারা অধিক পরিমানে উচ্চমানের মাংস উৎপাদন করতে পারে।
প্রক্রিয়া চলাকালীন, কেউ কেউ বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হতো,
এরপর একে একে তাদের মাংসপেশী, স্নায়ুতন্ত্র এবং অনুভূতি ক্রিয়া বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।
সেজন্য তারা ঐরকম একটা দৈত্যকে হত্যা করতে সক্ষম হয়।
হ্যাঁ... ল্যাম্বডাতে তাদের উপরও এক্সপেরিমেন্ট হয়েছিল।
তো, তোমারও এক্সপেরিমেন্ট হয়েছিল?
আমার উপর কিছু টেস্ট করা হয়েছিল, তাই আমি ঠিক আছি।
তুমি সেখান থেকে বের হলে কীভাবে?
মিনের্ভার এক সহযোগীর সাহায্যে, আমি ল্যাম্বডা ধ্বংস করি আর বাকি শিশুদের নিয়ে পালিয়ে যাই।
সহযোগী?
তার নাম স্মি।
সেই-ই সিস্টার ক্রোনকে ঐ কলমটা দিয়েছিল।
যদিও, সেও মারা পড়ে।
তো, এটা স্রেফ মি. মিনের্ভাকে নিয়ে নয়।
ঐ সহযোগীও...
কিন্তু এখন চিন্তা করার কোনো দরকার নেই।
ল্যাম্বডার এক্সপেরিমেন্টের তথ্য ব্যবহার করে, আমি এমন একটা ড্রাগ বানিয়েছি যেটা দিয়ে দৈত্যদের নিস্তেজ করা যায়।
নিস্তেজ?
তোমরা কখনও ভাবতে পারো...
দৈত্যরা কেন মানুষ খায়?
কেন?
কারণ তারা মানুষ না খেলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
হাহ্? নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না মানে?
দৈত্যরা যা খায় সেটার উপর ভিত্তি করে তাদের রুপ আর সক্ষমতা নির্ধারিত হয়।
মানুষ খেলে, দৈত্যদের তাদের বর্তমান রুপ সহজেই ধরে রাখতে পারে।
সেজন্যই তারা আমাদের মস্তিষ্ক...
সেটাই।
সেজন্য তারা আমাদের টেস্ট করিয়েছে, যাতে আমাদের মস্তিষ্ককে বিকশিত করতে পারে।
তো, যদি তারা মানুষ না খায়...
সব দৈত্য কি বন্যদের মতো হয়ে যাবে?
তারা তবুও বিপজ্জনক, তাই না?
না, অন্তত বুদ্ধিমান দৈত্যর বিরুদ্ধে লড়ার চেয়ে তো ভালোই।
আর যদি দৈত্যরা তাদের বুদ্ধিমত্তা হারিয়ে ফেলে, তারা একে অপরকে আক্রমণ করা শুরু করবে।
আমি ড্রাগ উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়েছি, এখন আমার হাতে যা আছে তা দিয়ে,
আমি এই শহরের সব দৈত্যকে নিস্তেজ করে দিতে পারব।
যদি সবকিছু আমার পরিকল্পনা মাফিক হয়।
একবার তাদের এই ড্রাগ নেয়াতে পারলে, তারা তাদের বুদ্ধিমত্তা হারিয়ে ফেলবে।
যখন এটা হবে, তারা স্রেফ একে অপরকে আক্রমণই করবে না...
তারা ফার্মগুলো চালাতেও অক্ষম হয়ে পড়বে।
আমি ল্যাম্বডার জেলে থাকাকালীন অনেক ভেবেছি।
যখন আমরা বাড়িটার সত্যতা জানতে পারলাম, তুমিই বলেছিলে, এমা।
"যদি মানুষের জন্য কোনো জায়গা না থাকে, তাহলে আমরা নিজেরাই সেই জায়গা বানাবো।
চলো পৃথিবীকে বদলে দিই।
আমরা এমন পৃথিবীই চাচ্ছিলাম।"
আমি তেমনই একটা জায়গা তৈরি করতে চাই।
এমন একটা ভবিষ্যত যেখানে আমার পরিবার, বন্ধুরা, এবং সমস্ত শিশুরা সুখে শান্তিতে থাকতে পারবে।
এবার সত্যিকারের জন্য, আমি এমা, রেই এবং বাকি সবার সাথে থাকতে চাই।
সেজন্য আমি এটা করার সেরা উপায় খুঁজছিলাম।
এটাই আমার উত্তর।
আমরা দৈত্যদের নিশ্চিহ্ন করে দিবো।
নেভারল্যান্ড বলে সেখানে কিচ্ছু থাকবে না।
চলো এই দৈত্যের দুনিয়ায় আমরা নিজেদের একটা স্বর্গ বানাই।
আমরা গিয়ে ফিল এবং বাকিদের ফিরিয়ে নিয়ে আসব!
আমাদের আর কখনও দৈত্যদের ভয় নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে না।
আমি খুশি।
এতে করে, তোমাকে কাঁধে এত বিশাল বোঝা বয়ে নিয়ে বেড়াতে হবে না, এমা।
চলো একসাথে আমরা এমন একটা পৃথিবী বানাই যেখানে আমাদের আর কাউকে হারাতে হবে না।
এটা জোশ না, এমা?
হ্যাঁ, সত্যিই!
হ্যাঁ।
আমি খুশি।
আমি অত্যন্ত খুশি!
আমাদের কাছে শুধু সময়টা খুবই অল্প।
গ্রেস ফিল্ড এবং ল্যাম্বডা আমাদের উন্মত্তবৎ হয়ে খুঁজছে।
এমনকি তারা তদন্ত করতে এতটা দূর অব্ধিও চলে এসেছে।
সিরিয়াসলি?
তাহলে তো এই জায়গাটাও...
একারণেই আমি যতটা দ্রুত সম্ভব এই পরিকল্পনাটা বাস্তবায়ন করতে চাই।
তুমি পারবে?
হ্যাঁ। সবকিছু ঠিক থাকলে, আগামীকাল থেকেই শুরু করতে পারবো।
আগামীকাল?
সত্যি?
শুরুতে, আমি এই শহরের সকল দৈত্যকে নিস্তেজ করে ফেলতে চাই।
একবার এখানে ড্রাগের কার্যকারিতা পরীক্ষা হয়ে গেলেই, আমরা পর্যায়ক্রমে...
অন্যান্য শহরগুলোতেও হামলা করে সকল দৈত্যের বিনাশ করে ফেলবো।
এতে আমরা শুধু ফিল এবং অন্যান্যদেরই বাঁচাবো না, আমরা সকল ফার্মের বাচ্চাদের মুক্ত করে ফেলবো।
আমরা আর অন্যের খাদ্য হয়ে বাঁচবো না।
আমরা আমাদের স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তা ছিনিয়ে আনবো!
ওয়াও। এতদিন আমরা নিরুপায় হয়ে বসে ছিলাম,
এখন অবশেষে আমরা এগোতে পারবো, নরমানকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
সবাই শোনো, সম্ভবত এখানে তোমাদের অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে।
এই পরিকল্পনাটা সফল হওয়ার পর, আমি তোমাদের স্মির ঘাঁটিতে নিয়ে যাবো।
সেখানে খাদ্য, বিছানা, এবং গোসলখানা রয়েছে।
সত্যি?
ওয়াও! একেবারে আমাদের সেই আশ্রয়কেন্দ্রের মতো!
নরমান, তোমাকে ধন্যবাদ!
অবশেষে আমরা বিশ্রাম নিতে পারবো।
আমি তোমাদের সকলের জন্যই খুশি।
আমি ফিরে যাচ্ছি, কিন্তু এখানে আমার ঠিকানা লিখে দিয়েছি।
আচ্ছা।
আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না যে নরমান জীবিত।
আমি ভেবেছিলাম ওকে আর কোনোদিনও দেখতে পাবো না।
অনেক ভালো লাগছে।
এটা কি সত্যি?
নরমানের পরিকল্পনাটা...
তুমিও কি এমনটাই চাও?
কী বলছো তুমি? অবশ্যই আমি এমনটাই চাই।
যদি বাহিরে কোনো দৈত্যই না থাকে, তাহলে তো আমাদের আর লুকিয়ে থাকতে হবে না।
কিন্তু তুমি কি সত্যিই এমন ভবিষ্যত চাও?
আমার কিছু একটা হয়েছে।
আমি কোনো দৈত্যকে হত্যা করতে চাই না।
জানি, এটা কিছুটা অদ্ভুত।
এবং সবাই সুখে শান্তিতে থাকবে।
তারা শুধু নিজেদের কথাই ভাবছে না।
তারা আমাকে ভালোবাসে এবং স্নেহও করে।
কিন্তু তারপরও...
আমি নিজেকে ঘৃণা করি।
আমি নিজে খাদ্যে পরিণত হতে চাই না, আবার অন্যদেরকেও খাদ্যে পরিণত হতে দিবো না।
আমি আর কাউকে শিকার বা খাদ্যে পরিণত হতে দেখতে চাই না।
তারা আমাদের শত্রু ঠিকই, কিন্তু আমি...
আমরা এখানে আসার পর থেকেই বুঝতে শুরু করেছি।
দৈত্যদেরও নাম রয়েছে, চিন্তাশক্তি রয়েছে।
মূল্যবান পরিবার রয়েছে।
শুধু আমাদের শত্রু বলেই কি তাদের সাথে এমনটা করা ঠিক হবে?
তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া ছাড়া কি আর কোনো পথ নেই?
আবার, মুজিকা'ও তো আমাদের বন্ধু!
তাহলে, যদি এমনটাই মনে করো। এসব তখন বললে না কেন?
আমি এসব বলতে পারবো না।
আমাকে লড়াই ছাড়া জেতার পথ বেছে নিতে হবে।
কিন্তু সবাই দৈত্যদের নিশ্চিহ্ন করার মাধ্যমে একটি সুন্দর ভবিষ্যত চায়।
এবং এর ফলাফলটাও একই হবে।
যেহেতু মানুষ না খেলে তাদের শারীরিক গঠনে সমস্যা দেখা দেয়,
মানে, যদি আমরা সবাই মানুষের পৃথিবীতে পালিয়েও যাই, তারা পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
অন্য কোনো উপায় বের করলে ভালো হতো, কিন্তু তা তো আর নেই।
আমি কি করবো, রেই?
সেটা আমিও জানি না।
No comments yet. Be the first to leave one.