Οι πρώτες 159 γραμμές.
নিঃশ্বাস নিন, জোরে নিঃশ্বাস নিন।
-আরেকটু চাপ দিন। -আরেকটু...
-এই তো, মাথা দেখা যাচ্ছে। -মাথা দেখা যাচ্ছে, বুবু।
বুবু...
কাটো।
"উনিশশো বাহাত্তর"
-সিস্টার, ব্লিডিং হচ্ছে। -তুলো আর জল আনুন, দ্রুত।
চোখ খোলো, বুবু।
বুকে পিঠে মালিশ করুন।
-কাঁদছেনা তো। -বুবু...
বাচ্চা পরে। আগে আমার মেয়েটাকে বাঁচান।
-চোখ খুলে রাখুন। -বুবু!
আম্মা, বুবু কথা বলছেনা।
-হায় আল্লা! মরিয়াম... -বুবু।
চোখ খোলো, বুবু।
বুবু!
"উনিশশো একাত্তর"
উনি কে?
আমার বন্ধু ডেভিড।
নাম বলেনি এখনও?
এটা...
ও লেখক। ইতিহাসবিদ।
ক্যানাডায় থাকতেন?
তার মানে, ২৫০ বছর, অমরত্ব...
এগুলো সব মিথ্যে?
না, গল্পকথা।
আর আপনারা সেটাই বিশ্বাস করেছেন।
-আমি করিনি। -তাহলে এখানে এসছেন কেন?
আমি আসিনি। উনি পাঠিয়েছেন।
ডেভিড কিন্তু আপনাকে বিশ্বাস করেছে।
ওনার কোনও আধ্যাত্মিকতা নেই?
সবটাই গল্প?
তাহলে জানলেন কী ভাবে যে আমি...
অন্তঃসত্ত্বা?
শুভেচ্ছা।
আপনি দাঁড়িয়ে কেন? বসুন না।
আমি সব বলছি।
বসুন।
সব বলছি।
এটা বলার জন্য আধ্যাত্মিকতার দরকার হয়না।
কিন্তু আমার পরিবারের কেউ তো জানেনা।
এ দেশের কারুরই জানার কথা নয়।
দেশ...
উনি কে?
আপনিই বা কে?
আপনার কী মনে হয়?
ও কে?
আচ্ছা, ২৫০ বছরের কথা বাদ দিন।
যুক্তি দিয়ে ভাবুন।
ওর বয়স কত?
হুম?
জন্ম কত সালে?
এ যুদ্ধ কী জন্ম দিয়েছে?
দেশ...
বাংলাদেশ।
"এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি।
সকল দেশের রানী সে যে, আমার জন্মভূমি।"
রানী, না?
তাহলে বাংলাদেশ...
আমার বড় বোন।
চারমাস...
ঠিক চারমাসের বড়।
কাকা, বুবুর শরীর কি খুব খারাপ?
কেন?
অ্যালফ্রেড কিছু বলেনি?
কই?
আমি পাগলাগারদে যাওয়ার পর একবারও যোগাযোগ করেনি।
একদিন ভিজিটেও আসেননি।
উনি কি আপনাদের সঙ্গে আছেন?
শেষ পর্যন্ত রাজি হয়েছিল?
-অ্যাকসিডেন্ট তো হয়েছে। -কার?
যে লোকটা আমাকে মেরেছিল তার।
এখন সবাই আমায় ভয় পায়।
কেউ আর গায়ে হাত দেয়না।
এটা বোধহয় দিয়া ফুফুর কাজ।
আমি ভাবি, কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনা, খবর নেয়না।
কাজ বোধহয় শেষ।
আপনারা এতদিন মুরুব্বিকে নিয়ে কী...
তার আগেই তো ধরা পড়ে গেলাম।
ঢুকেছিলেন কখন?
সন্ধ্যায় মাথা গোনা হয়ে গেলে ঢুকতে বলেছিলাম না?
সেদিন সন্ধ্যের পর মাথা গোনা হয়েছিল।
শুরুতেই প্ল্যান বি?
আর বি দিয়ে "বাবা"?
আপনাকে বলেছিলাম প্ল্যানট্যান না করে সোজা অ্যাকশনে যাই।
আপনার এই অবস্থা, আপনার বন্ধুরা জানে?
জানিনা আপনি কতটুকু জানেন।
-কী? -ইতিহাস।
গত এক সপ্তাহ ধরে ভারতবর্ষের ইতিহাস শুনছি।
এবার একটু ছোট করি? এ দেশে ঢুকি?
মাদার টেরেজাকে তো চেনেন?
উনি মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশে এসেছিলেন
যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে কাজ করতে।
কিন্তু...
বাস্তবটা আলাদা ছিল।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অনেকেই অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
কেউ কেউ আত্মহত্যা করছে।
যে পারছে গর্ভপাত করাচ্ছে।
এমনকী...
নদীতে শিশুদের লাশও পাওয়া যেত।
কারণ...
তারা ছিল অনাহূত।
এদের বাঁচাতে মাদার টেরেজা বেবিহোম তৈরি করলেন।
দেশের নানা বেবিহোমে মা-বোনেরা নিজেদের পরিচয় গোপন করে
সন্তান জন্ম দেয়।
এভাবেই মুক্তিযুদ্ধের পর অসংখ্য যুদ্ধশিশুর জন্ম হয়।
কিন্তু ওদের তো বাড়িঘর নেই।
ওরা যাবে কোথায়?
কোথায় বড় হবে?
কেই বা বড় করবে?
এদের তো বাবা-মাও নেই।
এদের নিরাপত্তা দিতে সরকার আর মিশনারিজ অফ চ্যারিটিজ
আন্তর্দেশীয় দত্তকের ব্যবস্থা করে।
মূলত ক্যানাডা এবং ইয়ুরোপের বিভিন্ন দেশে।
অবশ্য, সবাইকে দত্তক নেওয়া হয়েছে কিনা জানিনা।
এই যুদ্ধশিশুরাই এখন পৃথিবীর নানা দেশে ছড়িয়ে আছে।
একে কেমন ডায়াস্পোরা বলবেন আপনি?
যাই হোক।
যাদের দত্তক নেওয়া হয়, তাদের কেউ কেউ দেশে ফিরতে শুরু করে।
নব্বইয়ের দশকে।
ওর মতো।
নারীর টানে।
মায়ের খোঁজে।
ওনার মাও কি জেলে?
কিন্তু এখনও বন্দী।
একাত্তরে।
তাহলে উনি জেলে কেন?
বলবে, সময় হোক।
ডেভিড নিজেই সব বলবে।
মুরুব্বির সঙ্গে কথা হয়েছে আপনার?
"সেল নং: ১৪৫"
কেন?
দুজন তো কাছাকাছিই আছেন।
কথা বলেননি কেন?
কী ভাবে বলব?
আমায় তো এখান থেকে বেরোতে দেয়না।
সারাক্ষণ সেলেই আটকে রাখে।
আপনি না জেলের বাবা?
সব কয়েদীরা আপনার থেকে দোয়া নিতে আসে।
মুরুব্বি আসেনি?
না।
এখন আমায় কী করতে হবে সেটা বলুন।
যা করার তোকেই করতে হবে।
ওনার সঙ্গে দেখা করবি।
প্ল্যানটা বোঝাবি।
বের করবেন?
কাকা।
জেল কিন্তু বদল হবে।
জানি।
এখানকার পরিস্থিতিও ভাল না।
-কাল আমায় মারতে এসেছিল। -কে?
জেলার।
কাকা...
আপনি আর কদিন এভাবে অভিনয় করতে পারবেন?
জানিনা।
অ্যালফ্রেড আর দিয়া এতদিনে নিশ্চয়ই কোনও একটা বুদ্ধি বের করেছে।
আমি একজনকে পাঠিয়েছি।
সে এলে সব জানতে পারব।
মানে?
No comments yet. Be the first to leave one.