La unuaj 200 linioj.
সোনা?
ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।
সরি।
ভয় দিতে চাইনি।
বাইরে ছিলে নাকি?
- জাগালে না কেন আমাকে? - আমার একটু একা থাকার দরকার ছিল।
মানে, মাথায় নতুন নতুন চিন্তা আনতে একটু ফ্রেশ হওয়ার দরকার ছিল।
কাজ হয়েছে?
না।
হবে।
চিন্তা করো না।
তোমার সমস্যার সমাধান হবে।
- আমার গা থেকে নিশ্চিত গন্ধ আসছে। - আমার সেটা ভালো লাগে।
আমি বরং স্নান করে নিই।
হেই।
- আমি এগুলো নিই? - লাগবে না।
ওহ।
আর কী লাগে !
এতকিছু না করলেও পারতে তুমি।
আমি চাচ্ছিলাম করতে।
তোমার এমনিতেও অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
হ্যাঁ। ঠিক বলেছ।
এখানে একটু দাঁড়াও।
না, না, না। সমস্যা নেই।
- ভিতরে আসুন। প্লিজ। - ধন্যবাদ। ধন্যবাদ।
ওহ। হ্যালো।
হ্যালো।
তো এই ভদ্রলোক মাত্রই এখানে এক হাসপাতালে কাজ শুরু করেছেন আর উনি ভেবেছেন আমরা বুঝি
- আপনি এখানে কী করেন? - আমি একজন অস্থি-চিকিৎসক।
সত্যিই?
কিন্তু বর্তমানে আমি বেশিরভাগ সময় গবেষণা আর শিক্ষকতা করেই কাটাই।
গবেষণা।
হ্যাঁ, জানি। একটু একঘেয়ে জিনিস।
এটা মোটেও একঘেয়ে না।
একটু বসুন। কিছু ড্রিংক করবেন?
না। তার দরকার... তার দরকার নেই।
- একটু চা দিই? - হ্যাঁ?
- একটু চা দিই? - না, না, না, না, না।
আহ্, আমি......
আহ্...
আমি এখানে থেকে আপনাদের বিরক্ত করতে চাইনা।
থাকুন না।
একজন অতিথি যে কিনা আবার ডাক্তার? বলা যায় না।
কখনও সিঁড়ি থেকে পড়ে হাড্ডি-টাড্ডি ভেঙ্গে ফেললে আপনাকেই লাগবে।
সেটা না হলেই ভালো !
- আমি যেয়ে চা বানিয়ে আনি। - ধন্যবাদ।
এইদিকে, প্লিজ।
সব অগোছালো বলে দুঃখিত।
অনেকমাস ধরে নির্মাণকাজ চলার পর আমরা এখানে উঠলাম।
- এই জায়গাটা চমৎকার। - আমার স্ত্রী নতুন মানুষ দেখলে খুশি হয়।
- আপনার স্ত্রী? - জি।
আমি ভেবেছিলাম সে বুঝি আপনার মেয়ে।
- বসুন। - অসংখ্য ধন্যবাদ।
তুমি ঠিক আছ তো?
ঠিক আছি।
আরেকজন রোগীর কথা মনে পড়ল,, পেশায় অপেরার গায়িকা, বয়স ২০-২৯।
তার ফিমারের হাড় এতটাই ভিতরে ঢুকে গিয়েছিল যে
সে তার হাঁটু ১ ফুটের বেশি ছড়াতে পারত না।
তাই নাকি?
- ধন্যবাদ। - ড্রিংক শুরু করে দিয়েছেন দেখি।
- পেলেন কোথায় এগুলো? - আমি সবসময় সাথে টুকটাক ড্রিংক রাখি।
জীবনেও এরকম কিছু চেখে দেখিনি।
এগুলো বেশ দুষ্প্রাপ্য। শেয়ার না করলে অন্যায় হত।
তুমি নিবে না?
সে খুব একটা ড্রিংক-ট্রিংক করে না।
আমি ড্রিংক করি।
দাও, তোমার চায়ে একটু ঢেলে দিই।
আমি চা দিয়েই কাজ চালিয়ে নিবো, ধন্যবাদ।
ডাক্তার সাহেব শীঘ্রই বিস্তর এক গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে যাচ্ছেন।
''শীঘ্রই" কথাটা বলে লজ্জা দিয়েন না।
এখনও দিস্তা দিস্তা গবেষণার জিনিস লেখা বাকি।
আর তা শেষ করতেই তিনি এখানে এসেছেন।
আর...আর আমাদের এখানে আপনি কেন এলেন?
শুনলাম এখানে নাকি রুম পাওয়া যাবে।
উনি ভেবেছিলেন আমাদের এখানে লজিং-এর ব্যবস্থা আছে।
আমরা সবসময়ই বলি এই জায়গাটা আমাদের প্রয়োজনের তুলনায় কত বড়।
আমার এখনই বেড়িয়ে পড়া উচিৎ নাহলে রুম পেতে...
একদমই না। এমনিতেও দেরি হয়ে গেছে। আজরাতটা থেকে যান।
না, সেটা সম্ভব না।
প্লিজ, আপনি থাকলে আমাদের ভালো লাগবে, না?
হ্যাঁ, অবশ্যই।
- নিশ্চিত তো? - হ্যাঁ।
আমি তাহলে আমার বাকি জিনিসপত্র নিয়ে আসি।
অসম্ভব দয়া ও করুণা আপনাদের।
আমি ওগুলো বাহিরে রেখে এসেছিলাম...
- আপনি ঠিক আছেন তো? - হ্যাঁ।
নিশ্চিত তো?
হ্যাঁ। গিলতে গিয়ে একটু তালগোল পাকিয়েছিলাম আরকি।
ধন্যবাদ।
আমরা তো তাকে চিনি না।
তিনি একজন ডাক্তার।
তিনি একজন অপরিচিত মানুষ।
এরকম অচেনা মানুষকে আমরা আমাদের বাড়িতে শুতে দিবো?
আমি কি তাহলে তাকে যেতে বলবো?
- আর কিছু? - ব্যাস এগুলোই।
আমরা ধূমপান করি না।
খুব ভালো অভ্যাস।
মানে বাসার মধ্যে করি না।
সরি।
আমি আপনার জন্য চাদর নিয়ে আসছি।
- আপনাকে আপনার রুম দেখিয়ে দিই। - ধন্যবাদ।
সব অগোছালো বলে আবারও ক্ষমা চাচ্ছি।
অমন কথা বলবেন না। আপনাদের কাছে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।
ওহ, আমার কাছে এটা অসাধারণ লাগে !
আপনার কাছে এতগুলো কপি কোত্থেকে এলো?
আসলে এটা আমারই লেখা।
বলেন কী !!
- এটা আপনি লিখেছেন? - হুম।
- আমি আপনার অনেক বড় ভক্ত। - লেখাটা আপনি পড়েছেন?
অসংখ্যবার পড়েছি।
আপনার লেখা আমার জীবন পাল্টে দিয়েছে।
ওহ, আমি দুঃখিত। তুমি নিশ্চয়ই...
তুমি নিশ্চয়ই এধরণের কথা শুনে অভ্যস্ত।
তেমন একটা না।
এটা আবার কী জিনিস?
সামলে।
এই জিনিসটা খুবই নাজুক।
গিফট হিসেবে পেয়েছিলাম এটা।
খুবই স্পেশাল একটা গিফট।
তুমি দিয়েছিলে এটা?
না।
যুবকবয়সে আমার সবকিছু আগুনে পুড়ে গিয়েছিল।
খারাপ লাগলো শুনে।
সব খোয়ালে যে কষ্ট হয় তা অভাবনীয়।
স্মৃতি, চাকরি, এমনকি নোংরা টুথব্রাশটা পর্যন্ত ছিল না।
সবকিছু নতুন করে গড়ার আশা যখনই বাদ দিতে যাচ্ছিলাম
তখনই আমি ছাইয়ের মাঝে এটা খুঁজে পেলাম।
অসাধারণ জিনিস না?
আমি কি একটু...
এটাই আমাকে সব নতুন করে গড়ার শক্তি দিয়েছিল।
আর তারপর ওর সাথে আমার দেখা হল।
তোমার সাথে।
আর সে আমার প্রতিটা ঘরে প্রাণ ফিরিয়ে আনল।
সে নিজ থেকে সব সাজিয়েছে।
বাসার প্রতিটা কোনা।
- সব তুমি নিজে করেছ? - হুম।
দারুণ।
তো সৌন্দর্য ছাড়াও তোমার আরও গুণ আছে।
আমি শুধু এই বলতে এসেছিলাম যে আমি শুতে যাচ্ছি।
দুঃখিত। আমি চাইনি...
আপনি ঠিক আছেন তো? পানি দিবো?
আপনি ঠিক আছেন?
আমি একটু পরেই আসছি ওপরে।
পানি লাগবে না নিশ্চিত তো?
অল্প একটু।
এই নিন।
বসে পড়ুন।
বেশি ড্রিংক করে ফেলেছেন বলে এমন হচ্ছে।
আপনি ঠিক আছেন। ব্যাপার না।
সব ঠিক আছে তো?
উনি বেশি ড্রিংক করে ফেলেছিলেন। ঠিক হয়ে যাবেন।
- ওটা কী? - উনাকে লজ্জা দিয়ো না।
আচ্ছা, ঝেড়ে ফেলুন।
ভালো করে ঝাড়ুন।
- সুপ্রভাত। - সুপ্রভাত।
খুব সুন্দর ঘ্রাণ আসছে।
গতরাতে কী হয়েছিল?
ঘুমোতে পারিনি সারারাত। খুব উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলাম।
কেন?
তার কাহিনী শুনে। লোকটার চিন্তাধারা আমার খুব পছন্দ হয়েছে।
সত্যি সত্যি লেখার মূল্যায়ন করে এমন লোকের সাথে কথা বলাটা খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক।
তোমার লেখা তো আমারও ভালো লাগে।
তাতো অবশ্যই। আমি জানি সেটা।
উনি কি এখন একটু সুস্থ?
কী বললে?
উনি কি এখন একটু সুস্থবোধ করছেন?
- উনি কি এখন ভালো আছেন? - ভালো আছেন। ১ সেকেন্ড।
দুঃখিত। একটু জ্বাল দেয়ার দরকার ছিল।
চিন্তার কিছু নেই। আমি এটা বাহিরে নিয়ে যাচ্ছি।
- সুপ্রভাত। - সুপ্রভাত।
কেমন লাগছে আপনার?
চমৎকার।
এখন কি পুরোপুরি সুস্থ?
সুস্থ?
- সুপ্রভাত ! - সুপ্রভাত !
- ঘুম কেমন হল? - একদম বাচ্চাদের মতো।
ঝকঝকা স্বপ্ন দেখেছি একদম। বোধ হয় বাতাসের কারণে এমন হয়েছে।
একটু দ্বিধায় আছি আমি।
- কে আসল আবার? - আমি যেয়ে দেখছি।
না, থাক। আমি যেয়ে দেখছি।
মেহমান আসার কথা নাকি?
- আমাদের বাসায় সাধারণত মেহমান আসে না। - আমি থাকলে তো আমার অবস্থা কাহিল হয়ে যেত।
কী আর করার !
- হ্যালো। - হ্যালো।
- আপনাকে কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি? - তুমি দেখি এসে গেছ !
আমার স্ত্রী।
- এই জিনিসটা ফেলাও তো। - আমি এটা টানছি না।
তোমার সাথে দেখা হয়ে ভালো লাগলো।
- ওহ, ভালো তো লাগছে আমার। - ভিতরে আসো।
আমি বুঝতে পারিনি যে আপনি বিবাহিত।
সত্যিই?
ব্রেকফাস্ট !
- আমি উনার স্যুটকেসটা ধরছি। - ওহ।
ওহ, এটা তো পুড়ে যাচ্ছে।
- না, ধরেন না ! - ওহ !
- ওহ, সরি। - আমি সামলে নিবো !
- বসে পড়ো। - আমি জানালা খুলে দিচ্ছি।
আমাকে দেখতে দাও একটু।
- আপনি ঠিক আছেন তো? - মনে তো হয়।
তুমি ঠিক আছ। বরফ দাও তো।
No comments yet. Be the first to leave one.