Esimesed 200 rida.
এক ছোটো গল্প।
অনুবাদে সহযোগিতায়: ইমতিয়াজ উদ্দিন জয়ানন্দ ঘোষ প্রান্ত ঘোষ
হায়দ্রাবাদ।
অনুবাদ ও সম্পাদনায়ঃ তানজীদ আহমেদ
হ্যালো...
জি, জি।
ঠিক আছে, স্যার। ঠিক আছ।
স্যার...
স্যার...
হ্যালো...
আপনাকে ডাকছে।
স্যার, ডাক্তারের সাথে দেখা করতে পারেন।
এক্সকিউজ মি, স্যার।
জি।
প্লিজ বসুন।
প্লিজ বসুন।
জি, বলুন।
আমার নাম রাম মোহান।
আমি সরকারী কলেজে অধ্যাপক হিসাবে কাজ করেছি।
আমি সম্প্রতি কাজ থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিলাম।
বলুন।
দারুণ পেইন্টিং, স্যার।
আপনার রুচি ভালো, স্যার।
ধন্যবাদ।
কন্টিনিউ।
ডাক্তার ডি. সাত্যিয়া কিশোর।
সাইকিয়াট্রিস্ট।
সাইকিয়াট্রিস্ট শব্দের 'পি' উচ্চারণ করা উচিত নয়। 'পি' সাইলেন্ট!
ইংরেজি মজার একটা ভাষা।
জি।
কিন্তু সাইকিয়াট্রিস্টের 'পি' এর চেয়ে আপনি বেশি সাইলেন্ট হচ্ছেন, স্যার।
সমস্যা যা-ই হোক, নির্দ্বিধায় বলে ফেলুন।
আমরা সমাধান করার চেষ্টা করবো।
আসলে সমস্যা আমার না।
আমি এখানে আমার ছেলের ব্যাপারে বলতে এসেছি।
ওহ!
একদিকে, পৃথিবী তার ২৯% ভূমি এবং ৭১% পানিতে পূর্ণ,
ঠিক তেমনি, আমার জীবনে ২৯% সুখ এবং
৭১% চোখের পানিতে পূর্ণ।
এবং আমার অশ্রু জলের দুঃখের একমাত্র কারণ আমার ছেলে।
প্লিজ আপনার ছেলের সমস্যা ব্যাখ্যা করুন।
- আপনার কাছে সময় আছে, স্যার? - জি, জি, নিশ্চিত।
সমস্যা নাই। প্লিজ বলুন।
সময়টা ছিল ১৯৭০ সাল।
মাট্টিপাল্লি গ্রাম।
আমার গ্রামে কোনও স্কুল ছিল না এবং নিকটতম স্কুল ১০ কিলোমি. দূরে ছিল।
আমার বাবা আমাকে কোনওমতে শিক্ষিত বানাতে চেয়েছেন।
উনি প্রতিদিন উনার ষাঁড়ের গাড়িতে করে আমাকে নামিয়ে দিয়ে আসতো।
বাবার কষ্ট দেখে আমি খুব ভালোভাবে পড়াশোনা করেছি।
আজও আমি বাবার ঘাম দেখতে পাই এবং
ষাঁড়ের গাড়ির চাকার আওয়াজ শুনতে পাই।
এক্সকিউজ মি...
আমি ভাবলাম আপনি ছেলের সমস্যার জন্য এসেছেন।
জি।
তাহলে আপনি নিজের ব্যাপারে বলছেন কেন?
কারণ আপনি বললেন আপনার হাতে সময় আছে, স্যার।
তাই ভাবলাম আপনাকে একটু আমার 'ফ্ল্যাশব্যাক' বলি।
সময় আছে মানে তো এই না যে আপনি ১৯৭০ সাল থেকে শুরু করবেন---
- এসবের জন্য আমার সময় বা ধৈর্য, কোনোটাই নেই, স্যার। - ওহ!
তাছাড়া, আপনার ফ্ল্যাশব্যাক খুবই বিস্তারিত।
তাই আসল কথায় আসুন এবং আপনার ছেলের সমস্যার কথা বলুন।
আমার ছেলে সান্তোষ যৌনতায় আসক্ত।
ছোটোবেলা থেকেই ওর চিন্তাভাবনা এটাতেই আটকে আছে।
নিজের বয়সের তুলনায় বড়ো বড়ো প্রশ্ন করে।
স্কুলের পড়া নিয়ে আমার কোনও প্রশ্ন নেই।
তাহলে?
কিন্তু...কিন্তু প্রশ্ন হলো আমার জাঙ্গিয়ার নিচে কি আছে তা নিয়ে।
ব্লু ফিল্ম দেখে।
বেশ্যালয়ে যায়।
ওর মন্দাবস্থা দেখতে না পেরে ওকে বিয়ে দিলাম।
কিন্তু বিয়ের কিছুদিনের মাথায় সে অন্য এক মহিলাকে বাড়িতে নিয়ে আসে।
ওর কামুকতার কোনও সীমাবদ্ধতা নেই, স্যার।
আপনাকে ওকে ভালো চিকিৎসা দিয়ে স্বাভাবিক করে তুলতে হবে।
আপনার সমস্যা বুঝতে পারছি।
এক কাজ করুন। প্লিজ আপনার ছেলেকে ডাকুন।
বাবা, এখানে আসতে বললেন কেন?
সাইকিয়াট্রিস্ট তোর জন্য ভিতরে অপেক্ষা করছে। গিয়ে দেখা কর।
সাইকিয়াট্রিস্ট? কিন্তু কেন?
গিয়ে দেখা কর।
যা তো।
আসতে পারি, স্যার?
হ্যাঁ।
তুমি নিশ্চয়ই সান্তোষ, তাই না?
- জি, স্যার। - বসো।
সান্তোষ...
তোমার বাবা তোমার ব্যাপারে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছে।
তো, বলো...
জীবনে কয়টা মেয়ে পটিয়েছ?
'কয়টা' মানে কী, স্যার?
আপনি বলছেনটা কী?
সান্তোষ, তুমি যত দ্রুত সমস্যার ব্যাপারে খোলাখুলি করে বলবে,
তত দ্রুত সমস্যা থেকে বের হতে পারবে।
তো, এখন অবধি মেয়েদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক কেমন? বুঝছ তো...
স্যার, আমি নিশ্চিত না যে আমার বাবা আপনাকে কি বলেছে আর আপনি কি বুঝেছেন।
কিন্তু তিন মাস আগ পর্যন্ত আমি ভার্জিন ছিলাম।
তাহলে তোমার বাবা কেন বললো তুমি যৌনতায় আসক্ত?
এবং তোমার কুতুবমিনারের মতো লম্বা কামলালসার ইতিহাস আছে।
এই পৃথিবীতে কোনও বাবা তার ছেলেকে সঠিকভাবে বুঝতে পেরেছে, স্যার?
আমার বাবাও তেমনই।
উনি কখনও প্রথমেই জিজ্ঞেস করেনি আমার সমস্যা কী।
আচ্ছা, এখন আমি জিজ্ঞেস করছি। বলো...
তোমার সমস্যা কী?
স্যার...
বলো সান্তোষ, আমি সাহায্য করতে পারি।
ঠিক আছে, স্যার।
স্যরি, শুনতে পাইনি। আবার বলো।
তুমি কী বলার চেষ্টা করছ? আমি একদমই শুনতে পাইনি।
প্লিজ জোরে বলো। বলো।
স্যার, জোরে বলে আমার সমস্যার সমাধান হবে না।
এটা বুঝতে হলে আপনাকে আমার ফ্ল্যাশব্যাক শুনতে হবে।
মনে হচ্ছে পুরো ফ্যামিলি তাদের ফ্ল্যাশব্যাকের পাগল।
ঠিক আছে, বলো
তোমার বাবার মতো লম্বাচওড়া পরিশ্রমের গল্প না ফেঁদে নিজের সমস্যার কথা গুছিয়ে বলবে।
ঠিক আছে, স্যার।
২০০৭ সালে, যখন আমি সপ্তম শ্রেণীতে পড়ি...
মাট্টিপাল্লিতে?
না, স্যার, এখানে, হায়দ্রাবাদে।
আমি খেলাধুলার পাশাপাশি পড়ালেখাতেও টপার ছিলাম।
একদিন, যখন পিয়ন সুব্বা রাও ঘন্টা বাজাচ্ছিল...
তাতে আমার জীবন পুরোপুরি পাল্টে যায়।
টিচার তাকে বকলো কেন?
জানি না।
সান্তোষ, প্রত্যেকবার কি তুই-ই ক্লাসে টপার হবি? আমাদের সুযোগ দিবি না?
সুযোগ দেওয়ার আমি কে?
যে ভালো পড়াশোনা করে, সে তার ন্যায্য মূল্য অর্জন করে।
- তার মানে, আমি ভালো করে পড়াশোনা করি না? - সেটা তুই ভালো জানিস!
তোর নুনু এত ছোটো কেন, সান্তোষ?
এহ?
তোর নুনু এত ছোটো কেন, সান্তোষ?
আমাদের সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহটি কী?
ম্যাম, সান্তোষকে জিজ্ঞেস করুন।
শুধু সান্তোষ কেন?
'ছোটো, ক্ষুদ্রতর, কনিষ্ঠ' সম্পর্কিত যেকোনো কিছুর উত্তর একমাত্র সে দিতে পারবে।
তার কথা শুনে আমি মানসিকভাবে রিরক্ত হই।
আমার প্রশ্নের উত্তর জানার আগ্রহ নিয়ে বাবার কাছে যাই।
ব্যাটা, আজকে স্কুল ছুটি?
- হ্যাঁ, বাবা। - হুম।
কিন্তু আমার একটা প্রশ্ন আছে।
বলো, কোন বিষয়? অংক, বিজ্ঞান না-কি সমাজ...
আমার বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত না, বাবা।
তাহলে?
কিন্তু...কিন্তু প্রশ্ন হলো আমার জাঙ্গিয়ার নিচে কি আছে তা নিয়ে।
গাধা, তোকে স্কুলে পড়তে পাঠিয়েছি আর তুই....
না আমি কষ্ট ভুলেছি, না আমার প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি।
আমার সব পড়াশোনা বৃথা গেল।
EAMCET-তে স্টেট র্যাঙ্ক পাওয়ার পরিবর্তে আমাদের জনসংখ্যা সমান র্যাঙ্ক পেয়েছি।
ভাগ্যক্রমে, আমি কলেজে ভর্তি হয়েছি।
নতুন জায়গা, নতুন বন্ধুবান্ধব...
এবং আমার প্রথম লাভ স্টোরি ওখানেই শুরু হয়েছিল।
এই, এখানে কী করছিস?
সান্তোষ, আশা করি ভেতরে কেউ নেই।
না, কিন্তু কেন?
এই সিডি কীসের? আমাদের প্রজেক্ট ওয়ার্ক?
সারাক্ষণ প্রজেক্ট ওয়ার্ক নিয়ে কথা বলিস।
এই সিডিতে দুটো ছেলে-মেয়ের লাগানোর ভিডিয়ো আছে।
শহরে এই সিডির বেশ চাহিদা আছে।
তোর কাছে সিডি প্লেয়ার আছে, তাই আমরা নিয়ে নিলাম।
তো, এটা দেখা যাক?
কিন্তু সিডি প্লেয়ার তো নষ্ট, সারানোর কাজ চলছে।
সারানো?
তোর বাবার তো ল্যাপটপ আছে। চল ল্যাপটপে দেখবো।
প্লিজ, না। বাবা জানতে পারলে পিটিয়ে পিঠের ছাল তুলবে।
তোর বাবা বাড়ি আসার আগেই দেখে ফেলবো।
প্লিজ আমার কথা শোন।
- আয় দেখবি। - সবসময় ভয়ে থাকিস।
এটা দেখতেই হবে।
উত্তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। জামাটা খুলতেই হবে।
এই। আবাল!
সান্তোষ, এটার উত্তর কোথায়?
ভেরি গুড! এরকম পড়তে থাকো!
তুমি কখন এলে, বাবা?
মাত্রই।
জামা পরছো না কেন?
ফ্যান চালু করো।
পড়াশোনায় এতোটা মশগুল ছিলাম যে ভুলেই গেছি, আঙ্কেল।
ওহ!
আমিও আমার ল্যাপটপ ভুলে গেছি।
আমার একটা জরুরী মিটিং আছে। আমি সন্ধ্যায় ফিরে আসবো।
বায়, বাবা।
বাঁচলাম!
তোর বাবাকে দেখে হতবাক হয়ে গেলাম। পরিস্থিতি সামলাতে পেরে খুশি লাগছে।
হ্যাঁ, আমরা ভালোভাবে সামলে নিয়েছি।
কী বলিস, সান্তোষ?
শুধু ভালোভাবে না, অসাধারণ...
কিন্তু, সিডি?
সিডি তো ল্যাপটপের ভিতরে।
- তার এতক্ষণে চলে আসার কথা, স্যার। - স্যরি, বস।
অত্যন্ত দুঃখিত।
ল্যাপটপ আনতে ভুলে যাওয়ায় দয়াকরে ক্ষমা করবেন।
এবং আমি জানি আপনি ক্ষমা করে দিবেন।
যে কন্টেট দেখতে যাচ্ছেন তার কারণে।
এটা আপনার মেরুদণ্ডে শীতলতা প্রেরণ করবে।
আমি দুই মাস ধরে এটার উপর কাজ করছি।
এটা আমার শ্বাস, হৃদয় এবং জীবন!
দেখা যাক?
ম্যাডাম, দেখা যাক?
এই দেখুন।
এটা কী, স্যার?
এই মিস্টার, এটা কী?
- আপনি কী চালাচ্ছেন? - এক মিনিট, স্যার।
No comments yet. Be the first to leave one.