Esimesed 168 rida.
কে?
আমি, মুই।
আহ, মুই...
দাঁড়াও, দরজা খুলে দিচ্ছি।
ভেতরে আসো।
আসো।
THE SCENT OF GREEN PAPAYA
সাইগন, ভিয়েতনাম ১৯৫১
আমাদের নতুন কাজের মেয়ে মুই এসেছে।
বেচারি, সারাদিন হেঁটে তারপর এখানে এসেছে।
থো এখনও বেঁচে থাকলে, ওর বয়সী হতো।
ওকে নিয়ে কথা বলো না।
ও হয়তো যেখানে আছে ভালো আছে।
একটু পরই কার্ফিউ, ট্রুং এখনও ফেরেনি।
মা ঘুমিয়ে পড়ছে।
গিয়ে দেখি কিছু লাগবে কিনা।
আহ, ট্রুং...
এখনও ঘুমাওনি, বাবা?
গিন্নিমা বলেছে তুমি আরও ঘুমাতে পারো।
আগুন জ্বালানোর জন্য তোমাকে জাগিয়ে দেবো।
মনে রাখবে– এই তরকারির জন্য, তেল অনেক গরম হতে হবে।
সবজি ভাজা করার সময়,
স্বাদ আনার জন্য বাদামি করতে হবে।
বেশি ভাজা করা যাবে না, নরম হয়ে যাবে।
তারপর এটা নামিয়ে রাখতে হবে।
মাংসের বেলায়ও তা-ই করতে হবে।
এটা পানিতে দাও।
সবজিকে উজ্জ্বল করতে চর্বি লাগবে। তরকারি সুন্দর হতে হবে।
সুন্দর হোক বা না হোক, আমরা খেয়ে ফেলি।
কিন্তু মালিকরা তেমন না।
মাংস হয়ে গেলে সবজি দিয়ে দেবে।
দুইটা প্লেটে নিবে। একটা নিচতলার জন্য, আরেকটা ঠাকুরমার জন্য।
আমাদের জন্য রাখতে ভুলবে না।
ওইযে, ঠাকুমার প্রার্থনা শেষ। খাবার দিতে হবে।
সবজিগুলো সিদ্ধ পানিতে দাও।
উনি কার মা?
কর্তাবাবুর। হাত ধুয়ে নাও।
কর্তাবাবুর জন্মের পরই ওনার স্বামীকে হারান।
এখন তিনি উপরতলায় থাকেন, সারাদিন প্রার্থনা করে কাটান।
জলদি করো, একটা বড়ো বাটিতে ভাত নাও।
সব হয়ে গেছে?
হ্যাঁ, হয়ে গেছে।
মুই, ঠাকুমার ট্রে নিয়ে যাও।
ঠিক আছে, আমি নিয়ে যাচ্ছি।
তাহলে এটা নিয়ে যাও।
বাবা, আমি খুয়িয়েনের সাথে বাইরে খাবো।
খাওয়ার পর প্রতিদিনের মতো ঘুমিয়ে নিয়ো।
- আমরা চা খেতে আসবো। - আচ্ছা।
আমিও চা খেতে পারি?
না, তুমি ছোটো।
মুই, আরেকটু স্যুপ নিয়ে আসো।
মা একা খেতে চান না, চাচ্ছেন তুমি যেন ওনার সাথে খাও।
- আচ্ছা। - আমিও যাবো!
এটা উপরে নিয়ে যাও।
জলদি খাও। স্কুলের দেরি হয়ে যাবে।
স্কুল নেই, ঠাকুমা। এখন গ্রীষ্মের ছুটি।
ওহ, আচ্ছা।
আমরা যাচ্ছি, মা।
খুয়িয়েন আর আমি চা খেতে আসবো। বাবাকে বলেছি।
ঠিক আছে। মুই'কে কেক কিনতে পাঠাবো।
যাই, মাসিমা।
যাও, বাবা।
মুই, তুমি এবার খেতে যেতে পারো।
লাম, খেয়ে নাও, বাবা।
খাওয়া উপভোগ করো, মা।
এইযে তোমার বাটি। খেয়ে নাও।
স্যুপ শেষ হয়ে গেছে। বিরক্তিকর।
উপরতলা আর নিচতলার জন্য আলাদা দিতে গিয়ে নিজেদের জন্যই আর থাকে না।
খাওয়ার পর, থালাবাসন ধুয়ে ফেলো।
ট্রুং বাবুর সাথে লোকটা কে?
উনি খুয়িয়েন বাবু। ট্রুং বাবুর বন্ধু। খাও।
টিন!
ধন্যবাদ। আসি।
আসুন। ধন্যবাদ।
মুই, হাত ধুয়ে ১০টা কেক কিনে আনো।
আচ্ছা।
তুমি চাইলে তিন মাস পর তোমার মাকে দেখতে যেতে পারবে।
ধন্যবাদ, গিন্নিমা।
মুই, জলদি করো। আগুন জ্বালার সময় হয়েছে।
খুকি...
তোমার নাম?
আমার নাম মুই।
আচ্ছা... মুই।
আমার নাম থুয়ান।
ঠাকুমার প্রার্থনার সময় হয়ে গেছে।
ঠাকুমা ভালো আছে?
হ্যাঁ, ভালো আছে।
খুব ভালো তাহলে!
খুব ভালো!
ধন্যবাদ, ছোট্ট মুই। বিদায়।
বিদায়।
কোথায় যাচ্ছো?
একটু হাঁটতে।
ভালো। এই গরমের মধ্যে ঘুমানো মুশকিল।
কার্ফিউ'র কথা খেয়াল রেখো।
কী গরম।
খোদা, কী গরম।
আজকে থাক।
তোমার জিনিসপত্র কালকে সরিয়ে রাখতে পারবে।
আজকের জন্য যথেষ্ট কাজ করেছো।
বিশ্রাম নাও।
তোমার পরিবারের ব্যাপারে বলো।
তোমার ভাই-বোন আছে?
আমার বাবা তিন বছর আগে মারা গেছে।
আমার মা আর বোন গ্রামে আছে।
তাদের কবে দেখতে যাবে?
গিন্নিমা বলেছে তিন মাস পর দেখতে যেতে পারবো।
ভালো কথা। গিন্নিমা খুব ভালো।
আগে এই বিছানায় কে ঘুমাতো?
তোমার আর আমার মতো এক কাজের মেয়ে।
ও বিয়ের জন্য বাড়ি গেছে।
পূজাবেদির ছবিটার লোকটা কি ঠাকুমার স্বামী?
হ্যাঁ।
উনি খুব অল্প বয়সে মারা গেছেন।
আর ছোট্ট মেয়েটা কে?
সে এক দুঃখের কথা।
ও কর্তাবাবুর মেয়ে ছিল।
ওর নাম ছিল থো।
ও সাত বছর আগে মারা গেছে।
ও এখনও বেঁচে থাকলে, তোমার বয়সী হতো।
কীভাবে মারা গেছে?
অসুখে।
কিন্তু কর্তাবাবু নিজেকে দোষ দেন।
কেন?
সাত বছর আগে,
কর্তবাবু পরিবারের সব টাকা নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান।
সেটা ছিল তৃতীয়বারের মতো ওনার বাড়ি আর পরিবারকে ছেড়ে যাওয়া।
আগে, সব টাকা মেয়েলোকের পেছনে উড়ানো হলে চলে আসতেন।
কিন্তু সেইবার, উনি বেশিদিন বাইরে ছিলেন।
আগে যখন উনি বাড়ি ফিরে এসেছিলেন,
গিন্নিমা তখন কিছু বলেননি?
কিছু বলেননি, একটা শব্দও না।
উনি খুশিতে কান্না করেছিলেন।
আর থো'র কী হয়েছিল?
কার্ফিউ শুরু হয়ে গেছে।
ঠান্ডা হাওয়া বইছে। কর্তাবাবু নিশ্চয় চলে এসেছেন।
কর্তাবাবু যাওয়ার তিন হপ্তা পর,
থো অসুস্থ হয়ে পড়ে।
আর উনি ফেরার আগেরদিন, ও মারা যায়।
কর্তাবাবু নিশ্চয় ভেবেছিলেন
ওনার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতেই ও মারা গেছে।
সেকারণেই উনি এখন আর বাড়ির বাইরে যান না।
বেশ, এবার ঘুমানো যাক।
কালকে আবার তাড়াতাড়ি উঠতে হবে।
মা...
মা...
মা...
ওঠো। সময় হয়ে গেছে।
তুমি ভাগ্যবতী।
তোমার বয়সে, এখনও সুন্দর স্বপ্ন দেখো।
কী নিয়ে স্বপ্ন দেখেছো?
জানি না।
খোদা... আমিও স্বপ্ন দেখতে চাই।
কিন্তু অনেক বছর দেখিনি। চলো হাতমুখ ধুয়ে নিই।
কোনো কোনো সকালে,
এক বুড়ো মহিলার চেহারা মাথায় নিয়ে ঘুম থেকে জাগি।
স্বপ্ন দেখার কারণে হয়তো।
তবে জানি না বুড়ো মহিলাটা আমার মা
না-কি আমি।
খোদা, এত সকালে রান্নাঘরে কে?
গিন্নিমা, উঠে গেছেন?
চাল আছে?
৪/৫ দিনের অনুমান আছে।
এই নাও বাজার খরচ।
যতটুকু পারো ব্যবস্থা করো।
কানের দুলগুলো দেখছো?
এর মানে কর্তবাবু আবার সব টাকা নিয়ে চলে গেছে!
চলো মাজি দাঁত, দাঁত, দাঁত।
No comments yet. Be the first to leave one.