نخستین 200 خط.
মিডনাইট এক্সপ্রেস
সত্য কাহিনী অবলম্বনে।
কাহিনী শুরু ৬ অক্টোবর ১৯৭০, ইস্তাম্বুল, তুরস্ক।
বাংলা সাবটাইটেল বাই মাহমুদ হাসান
এক্সকিউজ মি।
- নার্ভাস নাকি? - না
জিজ, আমি বিমানে চড়তে ঘৃণা করি।
আমি একটা জিনিস খেয়েছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে বিষ খেয়েছি।
- তুমি বাড়ি যাচ্ছ তাই খুশিতে এমন হচ্ছে। - না, আমার মনে হয় বাকলাভা খাওয়াতে এমন হচ্ছে।
তোমায় বলেছি 'যা তা খেও না।
দেখো, আমার জনে যেতে হবে। তুমি চলে যাও, আমি তোমার সাথে পরে দেখা করবো, ঠিক আছে?
- তাহলে আমি অপেক্ষা করি? - না, যাও। আমি পরে তোমাকে খুজে নিব।
আমি এক মিনিটের মধ্যে আসছি। ঠিক আছে? ঠিক আছে?
পাসপোর্ট।
ব্যাগ।
এটি একটি ফ্রিসবি।
এটাকে ছুড়ে দিয়ে আবার ধরতে হয়। এটি একটি খেলা।
বেসবল।
এক্সকিউজ মি।
- হ্যালো। - তুমি ঠিক আছ?
- বিন্দাস। একটা চুইংগাম নিবে? - অবশ্যই।
ধন্যবাদ।
- এটা দেখেছো? - কি?
- জ্যানিস জপলিন গতকাল মারা গেছেন। - না।
হলিউডের একটা মোটেলে ওভারডোজের কারনে।
- জ্যানিসের মতো আর কেউ ছিল না। - তোমার মতো আর কেউ কখনও ছিল না।
থামো। এগুলো বাদ দাও।
তুমি কোন কিছুই সিরিয়াসলি নাও না। তাই না?
কিছুই নেই না।
- সে কী বলছে? - জানি না।
খোদা। তারা সবসময় তুরস্কের জন্য সব কিছু করে ?
- বিলি, কি ব্যাপার? - আমার পাসপোর্ট.
সুসান, এটা বাদ দাও। তুমি এখনই বিমানে যেয়ে একটা সিট নাও।
কি ব্যাপার, বিলি? কোনো সমস্যা? তুমি কি অসুস্থ?
খোদার দোহায়, এখনই বিমানে উঠে পড়।
- যাও! - যাচ্ছি।
আমার পাসপোর্ট খুঁজছি।
- হ্যারি, গ্রেনেড পেলে বেঁচে যেতে। - এরা কি খুজছে?
এটি কি, তুর্কি নিরাপত্তা?
ওহ খোদা।
সবাই নিচু হও।
- নাম? - উইলিয়াম হেইজ।
- মার্কিন? - হ্যাঁ।
হ্যাঁ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
নাম কি?
ওহ খোদা! উইলিয়াম হেইজ।
হেইজ। H-A-Y-E-S।
একটি মিনিট দাড়ান।
কি অবস্থা বিলি? কেমন আছো? ঠিক আছো?
আমি মনে করি এই ভদ্রলোকেরা ...
আপাতত কাজ শেষ করেছেন ...
যদি তুমি জামাকাপড় পরতে চাও তাহলে নাও।
অফিসার জানতে চাচ্ছে তুমি ভয় পেয়েছো কিনা।
না, আমি ভয় পাই নি।
অফিসার বললেন ভয়ের কিছু নেই।
- যদি সহযোগিতা করো, তাহলে বিমানে বাড়িতে যেতে পারবে। - হ্যাঁ?
হাসিস কোথা থেকে পেলে?
বাজারের পুডিং শপের একটি ক্যাব ড্রাইভারের থেকে ।
তুমি কি তাকে দেখলে আবার চিনতে পারবে?
মনে হয় পারবো।
ঠিক আছে, তুমি খারাপ সময়ে বিমানে ওঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছো, বিলি।
পুরো জায়গা জুড়ে গেরিলারা, প্লেন-ট্লেন সব বোমা মেরে উড়িয়ে দিচ্ছে।
- এরা গাধা। - চার দিনের মধ্যে চারটি প্লেন ধ্বংস করেছে।
তবে আমার ধারণা তুমি বাচ্চা মানুষ, সংবাদপত্র পড় না ...
এবং জানোনা জনগণের কিভাবে লাথি মেরে তুরস্ক থেকে হেরোইঞ্চিদের বের করে দেয় ...
- আমার কাছে হেরোইন ছিল না। - ড্রাগতো ড্রাগই, আমার কাছে তাইই মনে হয়,
এটা আমার প্রথমবার ছিল। আমি আসলে কোনও চোরাকারবারি নই।
মাত্র দুই কেজি।
দেখো, এখন দুই কেজি বা দুইশ ছিল কিনা তাতে কিছু আসে যায় না।
তুর্কিরা যে কোনও বিদেশীকে ধরতে পছন্দ করে।
বিশ্বকে দেখানোর জন্য যে, তারা মাদকের ব্যবসার বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
- তুমি কি কনস্যুলেট নিয়ে আসছো? - এটার মত কিছু?
- সিগারেট লাগবে? - ধন্যবাদ।
তুমি এই জোকার ক্যাব ড্রাইভারকে কত টাকা দিয়েছো?
দুইশ ডলার। এটা আমার শেষ ২০০ ছিল।
- আর কত টাকায় বিক্রি করতে? - আমি এটা আমার বন্ধুদের কাছে বিক্রি করতাম।
আমি জোর করে বিক্রি করি না। সত্যি বলছি।
তাই নাকি। সেখানে কি তোমার ফ্যামিলি আছে?
হ্যাঁ। মা, বাবা, ভাই, বোন।
- ব্যাবিলন, লং আইল্যান্ড - অনেক কঠিন, তাইনা?
- গার্লফ্রেন্ড আছে? - হ্যাঁ সে বিমানে ছিলো।
সে এ সম্পর্কে কিছুই জানে না। আমি চাইনি সে জানুক।
- ভাগ্যবতি মেয়ে। - সে বলত আমি ভাগ্যবান।
ঠিক আছে, তাহলে আশা করি বিলি। খুব কঠিন আশা।
আমার কাছে তোমাকে একটি বাচ্চা লাগছে, বিলি ...
তবে তুমি যদি পালাতে চাও, তাহলে তোমার ঘিলু উড়িয়ে দিব।
প্রিয় মা এবং বাবা ...
এটি আমার লেখা সবচেয়ে কঠিন চিঠি।
আমি আশা করছি, যে কোন ভাবে এ থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসব ...
যেন তোমার, এটি সম্পর্কে কখনও জানতে হবে না ...
কিন্তু এখন এটি সম্ভব নয়।
আমি জানি না কি ঘটবে, তবে তোমাকে কী আমি বলতে পারি?
"আমি দুঃখিত" কিন্তু এতে কি কোন পার্থক্য হবে ?
তুমি যে কষ্ট, লজ্জা পেয়েছো, তা কি ভুলে যাবে?
আমাকে ক্ষমা করে দিও।
প্লিজ।
আমি কি কম্বল পেতে পারি? আমাকে কি একটা কম্বল দেওয়া যাবে?
খুব ঠান্ডা। আমি কি একটা কম্বল পেতে পারি?
না স্যার। দেরি হয়ে গেছে, কাল পাবেন কাল।
আমার মনে হয় আপনি আগামীকালও এখানে থাকবেন।
শুভ রাত্রি।
খোদা।
- তুমি কি ইংরাজি বলতে পারো? - আপনার সেলে তালা নেই। খুলুন।
তিনটা সেল পরেই কম্বল পাবেন। আমাকে একটা দিয়েন।
আমার একটা কম্বল দরকার ছিলো। খুব ঠান্ডা লাগছিল।
আমার একটা কম্বল দরকার ছিলো। খুব ঠান্ডা লাগছিল।
- খোদা! - আরে, আরে। সে উঠে গেছে।
চলে আসো. তোমাকে অবশ্যই দাড়াতে হবে। জিমি।
ধরে হাটলে ভালো হবে। তোমার পা খুব খারাপভাবে ফুলে গেছে।
- তোমাকে পাগলা হতে হবে। - হ্যাঁ, আমরা সবাই এখানে পাগলা হয়েছি।।
এই স্টিকে একটা টান দাও।। ব্যথা কমবে।
তুমি কয়েক দিনের আগেও বাইরে ছিলে, বাইরের কিছু খবর বলো।
- আমরা তোমাকে উঠোনে হাঁটাবো। - কেমন লাগছে? ভালো?
'দেখতে যেমন লাগছে, ভালও তেমন লাগছে।
মানে কি এর?
এটি তুর্কি কথা। এর অর্থ হলো, "দ্রুত ভালো হয়ে যাবে।"
- এটা দেখতে সস্তা হোটেলের মতো। - কেবলমাত্র রুম সার্ভিসের লোকটি ইতর।
আমি জিমি বুথ। এটি এরিক ... সুইডিশ হবে হয়তো, আমি জানি না।
- শুধু এরিক বললেই হবে। - সে তোমাকে পরিষ্কার করে দিয়েছে
ধন্যবাদ। আমি বিলি হেইজ অন্তত তাই ছিলাম।
ময়ূর। জ্যান্ত ময়ূর।
তুর্কিরা কুকুরের পরিবর্তে এদের ব্যবহার করে।
যদি তারা বিরক্ত হয় তাহলে পাগলের মতো চিৎকার করে এবং এদের জলাতংক হয় না।
পুরানো সুলতানরা তাদের হারেমকে পাহারা দেওয়ার জন্য এদের ব্যবহার করত ।
- বাচ্চারা কে? - বাচ্চারা হলো...
মাদারচোদ। চোর। ধর্ষক। পকেটমার। হত্যাকারী।
তুমি তাদের নাম দিবে, তারা করে দিবে। তাদের কাউকে কখনো বিশ্বাস করবে না।
তারা রিফকিকে সব বলে। তার অল্পবয়স্ক পারাবত এখানে রাউন্ড দেয়।
- হ্যাঁ, আমরা দেখা করেছি। - সে চা হ্যাশ, কম্বল, বিক্রি করে।
ইয়াবা সহ টাকার বিনিময়ে সব কিছুই বিক্রি করে।
- তুমি ধরা খাইছো কি জন্য? হ্যাশ (হাশিশ)? - হ্যাঁ
- কোথায়? - বিমানবন্দরে। বাড়ি যাওয়ার সময়।
- এটা কঠিন কেস। - তোমার তাই মনে হয়?
হাঁ আমি তাই মনে করি। ভাল যে এটা ইউএসএ নয়।
এটা তুরস্ক মিয়া। যদি তুমি নির্দোষ হও তবে এখানে যে কোন এক্সিডেন্টই ঘটতে পারে।
- এখানে কেউ নির্দোষ নয়। - খুব বেশি মনোযোগ দিও না।
তুরস্কে যে কোনও কিছুই সম্ভব। তার অর্থ যদি তারা তোমাকে পাচারের জন্য ধরে
তাহলে তা খারাপ হতে পারে। কিন্তু তারা যদি এটা দখল করে নেয় তবে এটি সহজ হয়ে যাবে।
- এমনকি তুমি জামিনও পেতে পারো। - জামিন।
তোমার যদি জামিন হয়ে যায় তবে তুমি মুক্ত হয়ে গেলে।
একটি নকল পাসপোর্ট নিতে পারো অথবা গ্রীসের সীমানা পেরিয়ে ছিনতাই করতে পারো।
হ্যা, অবশ্যই্ স্বপ্ন দেখতে থাকো। এগুলি কোথায় পাবে দেখো।
ম্যাক্সের মত, মাথার উপরে, সেটা জানো?
তুমি একটি হ্যামবার্গারের স্বাদ নেওয়ার আগে আরও অনেক বেশি ফুলুলি মটরশুটি খেতে পারবে।
কারন তুমি আইন ভঙ্গ করে ধরা পড়েছ মিয়া।
- আইন কখনও কখনও ভুল হয়। - আইন কখনই ভুল হয় না, গাধা!
এটাই আইন!
- মানুষ কখনও কখনও ক্ষেপে যায়। - সে কী জন্য ক্ষেপেছে?
সে একটি মসজিদ থেকে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে। এখানে তা জঘন্য অপরাধ।
- সে কী চুরি করেছে? - দুটি মোমবাতি।
- এটুকুই? - এটুকুই।
বুদ্ধির থেকে জিমির গায়ের জোর বেশি।
বাবা-মা'কে বলার আগে থেকেই সে দেড় বছর ছিলো এখানে।
- তোমার খবর কি? - হাশিশ।
বিদেশিদের নব্বই শতাংশই হ্যাশিশের জন্য জেলে এসেছে।
- তোমাকে কি সাজা দিয়েছে? - বারো বছর।
- তোমার কাছে কতটুকু মাল ছিল? - একশ গ্রাম।
তোমাকে কিছু টাকা আর একজন ভাল আইনজীবী জোগার করতে হবে।
ইংলিশম্যানদের সাথে কথা বলবে, ম্যাক্স। সেই সবচেয়ে বেশিদিন এখানে আছে।
- কতদিন? - সাত বছর।
Gastro।
পেটের ওষুধ।
এতে কিছুটা ব্যাথানাশক আছে। এখানে থেকে এটাই ভালো করতে পারি।
ম্যাক্স?
আইনজীবি।
হ্যাঁ।
হ্যাঁ, তুরস্কে কোনও ভালো মনের আইনজীবী নেই ।
ওরা সবাই বেঁকে গেছে।
চুলের কাটার মত বাঁকা।
ব্যবসায়িক প্রয়োজনে
রাতের স্কুলে তাদের দুর্নীতির বিশেষ ক্লাস হয়।
যদি তোমার সততা নিয়ে সন্দেহ হয় তবে তুমি বার থেকে বাদ হয়ে যাবে।
আমি একবার একজন আইনজীবীর সহযোগীকে জানতাম, কিন্তু ...
সে ছিলো ফরাসী। নাম লারোচ।
হ্যাঁ।
সে একজন বড় চোরাকারবারি।
দু'শ কেজি।
সে অনেক টাকা ঘুস-টুস দিয়ে জামিন পেয়েছিলো।
তারপর অদৃশ্য হয়ে যায়।
তার নাম কি?
- কার? - সেই উকিলের।
কি?
- কোন আইনজীবী? - যে ফরাসী ব্যক্তিকে ছাড়ালেন।
ও, ইয়েসিল
তার নাম ইয়েসিল ।
আমি তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানি না ।
সবচেয়ে ভালো ব্যপার হলো তোমার নিতম্বটি ভালোভাবে এখান থেকে বের করতে পারা।
তাই নাকি, তা কীভাবে?
- মিডনাইট এক্সপ্রেস ধরো। - সেটা কী?
এটি কোনও ট্রেন নয়।
এটি জেলখানার কথা ...
এর মানে পালানো।
এটি বন্ধ হয়নি।
বাবা, আমি দুঃখিত।
আহ, এটা ভুলে যাও।
তোমাকে পরে নাকে ঘুষি মারবো।
এখনি তোমাকে এখান থেকে বের হতে হবে।
এই জামাটি এটি তোমার জন্য ইস্তাম্বুল থেকে কিনেছি।
কোর্ট রুমে তোমাকে স্মার্ট দেখাতে হবে।
- তুমি কি ঠিক আছ? - হ্যাঁ
No comments yet. Be the first to leave one.