نخستین 200 خط.
অনুবাদ ও সম্পাদনা আরমান আল মাহমুদ
দক-সুন! তোদের বাবার আসার সময় হয়েছে না?
কয়টা বেজেছে?
এখনো হয়নি।
মা, সবগুলো ছাঁটবো?
হ্যাঁ রে!
আপু।
বাবার বোধহয় দেরি হবে।
জংনোর অবস্থা খারাপ।
পুলিশ টিয়ারগ্যাস ছোঁড়ার পর...
সরকারকে উৎখাত করো!
উৎখাত করো! উৎখাত করো!
কী একটা অবস্থা...
কখনো এরকম কিছু করবি না। বুঝেছিস?
মনে দিয়ে পড়াশোনা কর। হ্যাঁ।
ধন্যবাদ।
দাঁড়াও।
এদিকে আসো।
এটা দিয়ে ভালো কিছু খেয়ো।
জলদি নাও।
বাসায় যাবার আগে হাতমুখ ধুয়ে নিও।
যাও।
দক-সুন, টেবিল বসা! খাবার আনছি!
আচ্ছা!
আহ্, লেগেছে।
ওহো! মা, ঠিক আছো?
পা দেখি।
ওহো!
রক্ত বের হচ্ছে রে!
- খুব ব্যথা করছে। - ব্যান্ডেজ!
ঠিক আছে।
তেমন কিছু হয়নি, খাও। খিদা লেগেছে, তাই না?
তো, জংগাকে কেন ট্রান্সফার হলে? ছাত্ররা সবসময় সেখানে আন্দোলন করে।
তাহলে কী করবো? অন্য এলাকা আরও খারাপ!
জংনো, উলজিরো, দেহাকরো আন্দোলনরত ছাত্র দিয়ে ভর্তি—
কী করবো? স্যুট থেকে টিয়ারগ্যাস দূর করা সহজ হবে না।
আমার চোখেও যন্ত্রণা করছে।
ও, হ্যাঁ।
বো-রা কোথায়? এখনো ফেরেনি?
ও ইদানীং ব্যস্ত।
হ্যাঁ, হ্যাঁ।
নিশ্চয়ই অনেক পড়াশোনা করছে।
হ্যাঁ, কলেজ পড়ুয়াদের পড়াই উচিত।
আর তোরা দুজন, মনোযোগ দিয়ে পড়
তোদের বোনের মত, বুঝেছিস?
এসে গেছি।
বো-রা, এসেছিস?
খেতে বস। এখনো তো খাসনি?
খেয়ে নে! আয়—
গন্ধ কীসের?
কী?
এই! তুই আন্দোলনে যাস?
দাঁড়া বলছি!
এদিকে আয়।
ওমা। পুঁচকে মেয়ে আন্দোলনে যাচ্ছে!
মাথা খারাপ হয়ে গেছে?
আমাকে মুখ দিয়ে ফেনা বের করে মরতে দেখতে চাস?
তোমার কী? এটা তোমার মাথাব্যথা না!
কী বললি?
অবশ্যই আমার মাথাব্যথা!
একজন শিক্ষা মেজর কীভাবে আন্দোলনে যায়?
মাথা পুরোটাই গেছে?
আমি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করি তুই আন্দোলনে যাওয়ার জন্য?
বো-রা, জলদি স্যরি বল!
পাগল হলে? কেন বলবো? কী করেছি আমি?
ওমা?
দেখো মেয়েটাকে, মুখে মুখে তর্ক করছে!
- বাবা! - হতচ্ছাড়ি!
বো-রা, এক্ষুণি বল আর করবি না!
ধুর! বাবা, তুমি কী জানো?
হারাম—
বো-রা!
বো-রা!
খাবি না? ঘুমানোর আগে অন্তত মুখে কিছু দে!
তোর প্রিয় ডিম ভাজা করছি।
ডিম ভাজা না ছাই!
পাগল হয়েছো?
বজ্জাত মেয়ে!
এই বেয়াদব মেয়েকে খাইয়ে আর এক মুঠো ভাতও নষ্ট করবো না!
একজন শিক্ষা মেজর কীভাবে আন্দোলনে যায়?
খোদা, খোদা! মা, বাবা! তোমাদের নাতনি পাগল হয়ে গেছে,
গোটা পরিবারকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে!
ওকে খুব ভালোভাবে মানুষ করেছো!
চমৎকার! ওকে আমি মেরে ফেলবো!
রাত ২টা, গারাক-দং গনতান্ত্রিক দলের হেডকোয়ার্টার
কী? বো-রা?
মেয়েটা তো...
ওকে ধরে নিয়ে গেলে?
খোদা... জানি না কার মতো হয়েছে।
সমস্যা নেই!
আজকাল কলেজের সবাই আন্দোলনে যায়।
- ও সামনে না দাঁড়ালে সমস্যা নেই। - হ্যাঁ।
এভাবে যারা সামনে নেতৃত্ব দেয় তাদের কেউ না হলে, ঠিক আছে।
বেশি ভাববেন না।
ও কেমন জেদি জানো না?
ওর বাবা চিল্লাচিল্লি করেছে, কিন্তু ও মাফ চায়নি।
বরং, বাবার দিকে চোখ রাঙিয়ে তর্ক করেছে। খোদা।
মনে হচ্ছে, বাপের সাথে ওর ঘনিষ্ঠতা নেই।
বড় মেয়ে না বেশি বাপের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়?
কী বলছেন?
ওরা খুব ঘনিষ্ঠ!
ওরকম মনে হয়, কিন্তু আসলে ওরকম না।
বো-রা সমস্যা, ওর বাবা না।
এমন না যে বো-রা নম্র স্বভাবের কিংবা ওর মাঝে মিষ্টি বৈশিষ্ট্য আছে।
সবসময় লাস্ট হলেও আমি ওর চেয়ে দক-সুনকে বেশি পছন্দ করি।
বো-রা ভয়ঙ্কর মেয়ে!
তবুও, বো-রা একদিন খুব সফল হবে।
ও সাধারণ মেয়ে না।
হ্যাঁ, সাধারণ না।
একদমই সাধারণ মেয়ে না।
আমি বেশিকিছু চাই না।
শুধু কলেজ থেকে বহিষ্কার না হলেই হলো।
লোকটা বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়।
খুব হ্যান্ডসাম। লম্বা, চমৎকার বডি।
- কে ও? - লোকটা।
এবার ছেলেরা সবাই ওর মতো করবে।
চেয়ার সব হয়তো ভেঙে ফেলবে।
আন্ডারওয়্যার।
সুন-ঊ, আরেকবার দেখা।
আরে, ব্যাটা।
যাচ্ছিস কোথায়?
হ্যাঁ, এসে গেছেন।
সর!
এই!
জিন-জু।
ভাইয়া ঠিক আছি। একটুও ব্যথা করছে না।
একটা উম্মাহ দাও, যাতে তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যাই।
জিন-জু, টিভিতে "দৌড়াও, সোনা" দিচ্ছে।
হ্যাঁ!
তুমিও যাও, মা। একটু পা মচকেছে। ঠিক আছি।
- গিয়ে নিজের কাজ করো। - কিছু খেতে চাস?
আমি কি বাচ্চা? না।
বিফ বোন স্যুপ বানাবো।
- কী? - বিফ বোন স্যুপ।
আহ্, মা!
কিছু খেতে চাস না? যা চাস কিনে আনবো।
ঠিক আছি, ম্যাডাম। কিছু লাগবে না।
৩০০ উয়নের শিমের বিচি আর টফু দেয়া যাবে?
সব মিলিয়ে ৭০০।
কলা নিয়ে যাও। সুন-ঊ নাকি ব্যথা পেয়েছে।
- কত? - ২,০০০।
বাচ্চা অসুস্থ থাকলে একটু খরচাপাতি করতে হয়!
নয়তো আর কবে কিনবে?
জিন-জু! মা কলা এনেছি!
সত্যি?
মাকে এক চুমুক দিবে?
এতই মজা?
ভাইয়াকে? ভাইয়াকে দিয়েছো?
- হ্যাঁ। - লক্ষ্মী মেয়ে।
দক-সুন...
এবার বাসায় যা। রাত হয়েছে।
এই অবস্থায়ও আমার চিন্তা করছিস?
নিজের চিন্তা করছে, তোর না।
তুই গেলেই ও ঘুমাতে পারবে।
তুই যাচ্ছিস না?
- আমি গেলে তোরা কী করবি? - তোর কেন জানতে হবে?
এই।
ঝগড়া না করে জলদি যা, দুজনই।
টাকাও তো নেই।
আবারও ভাবির কাছ থেকে ধার করা লাগবে?
এহে।
কথায় আছে বিপদ কখনো একা আসে না।
ছাদ সমান ১,০০০ কয়লা নিয়ে কবে নিশ্চিন্তে থাকতে পারবো?
কয়লা অর্ডার করেছে কে?
- আমি! - হ্যাঁ!
হ্যাঁ! এখানে! আমরা করেছি!
- হ্যাঁ! - হ্যাঁ, আসুন!
আসছি!
হ্যাঁ! এখানে!
আসুক!
আসুক! কাছে!
- হ্যাঁ! - আসুক!
আসুক! ওকে!
বেশ!
আপনাদের জন্য ঠান্ডা কিছু নিয়ে আসি।
কে জানতো এমন দিন যে দেখবো?
ভাবি, আজকে তাহলে কয়লা এসেছে!
হ্যাঁ।
বাপরে!
কতগুলো কিনেছেন?
এক হাজার।
মাগো মা, আপনি আসলেই বড়লোক।
১,০০০ কিনেছেন, কত লেগেছে?
আমার জীবনে কবে এত কয়লা কিনতে পারবো?
কী বলো? তিন বছর আগে আমি কাঠ জ্বালাতাম।
হ্যাঁ। আপনিও তো এমন ছিলেন?
বেশিদিন হয়নি, এরইমধ্যে ভুলে গেছি।
রাতে রান্নাবান্না করো না।
কেন?
ঝিনুকের জাউ বানিয়েছি। সুন-ঊ নাকি পায়ে ব্যথা পেয়েছে।
কষ্ট করে আবার ওটা বানাতে গেলেন কেন?
তাহলে, একটু বাড়িয়ে দিবেন?
রাতে একজন অতিথি আসবে।
কে?
ওদের দাদি।
কী? উনি কেন আসবেন?
এবার আবার কেমন বিরক্ত করবে তোমাকে?
আদরের নাতিকে দেখতে আসছে, আমাকে না।
আমি আর ওসব ভাবি না।
তোমার স্বামী মারা যাবার পর তোমার সাথে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করেছিল।
No comments yet. Be the first to leave one.