نخستین 200 خط.
না! না! না!
না!
হ্যাঁ।
না।
না, না।
প্লীজ।
না, আমি আর মরতে পারব না।
পারব না, আর পারব না
প্লীজ, আর না, আর পারব না।
না, না, না।
না, না, না, প্লীজ!
না!
আকাশ মেঘলা।
আচ্ছা, তাহলে...
ঐখানে পৌঁছে কী করব আমরা?
আচার অনুষ্ঠানের মতো কিছু করব নাকি?
আমি কোনো আচার অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে আসিনি।
মানে হই হুল্লুর করে কিছু না।
মানে একটা শেষ বিদায়ী-এর মতো, বুঝেছ?
আমাদের ভ্রমণের এটাই শেষ স্টপ।
তারপরও নতুন কিছুই শিখতে পারলাম না।
অনুষ্ঠানটা কী নিয়ে করবে
সেটা আগে ভেবে রাখা উচিত।
আমাদের ব্যর্থতা নিয়ে উৎযাপন করবে, নাকি?
- হ্যাঁ, নিশ্চয়ই, যাই হোক। - হ্যাঁ।
আসলে এভাবে গেলে ঠিক কী হবে, আমি বুঝতে পারছি না।
আমাদের কাজ শেষ হয়ে যাবে।
এরকম পরিস্থিতিতে তো মানুষ
এসবই করে, তাই না?
কাজ শেষ হবে না।
সে হারিয়ে গেছে, মরে যায়নি।
না, তা তো অবশ্যই, এমনি জিজ্ঞাসা করছিলাম।
দাঁড়াও, দাঁড়াও, ক্লোভার, প্লীজ ডিলিট করো না, একটু...
পুরোটা দেখো।
দেখো, আমি জানি, আমি অন্যভাবেও
বিদায় জানিয়ে আসতে পারতাম।
মা মারা যাওয়ার পর, সবকিছু আমি অন্য ভাবে সামলাতে পারতাম।
কিন্তু আমি আর সেই বাড়িতে থাকতে পারছিলাম না।
কিন্তু এখনও সময় আছে, তুমি আমার সাথে আসতে পারো।
আর আমি, সিদ্ধান্তটা এতো সহজ নয়,
কিন্তু, প্লীজ, কল দিও আমাকে।
তোমাকে মিস করছি।
এক বছর পর জায়গাটা খুব ভয়ংকর লাগছে।
ম্যাক্স!
কী?
ঠিকই তো বলেছে।
জায়গাটা দেখে আসলেই থমথমে, আর...
মন ভার লাগছে।
দুঃখিত, ক্লোভার।
আমার মনে হয়, আমাদের হাত মিলানো উচিত।
- না। - হায়রে খোদা! মেগান।
এটা তো আমরা সব জায়গায় করতাম।
এখন না করলে মনে হবে কিছু একটা বাকি রয়ে গেছে।
ক্লোভার জানে, আমার মধ্যে আধ্যাত্মিক শক্তি আছে, তাই...
আধ্যাত্মিক শক্তি?
আধ্যাত্মিক হিসেবে তোমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো
যখন সবার আগে, তোমার বাবাকে ম্যাক্সের মায়ের সাথে
ফষ্টিনষ্টি করতে ধরে ফেলেছিলে।
ঠিকই ধরেছিলাম।
মনে আছে, ক্লোভার?
মানে, গ্যারাজে তাদের শব্দ পেয়ে তো আমরা সবাই বুঝে গিয়েছিলাম।
ভাবতেই পারছি না, ঐটা আমার মা ছিল।
কিন্তু, আসলেই, চলো একটু চেষ্টা করে দেখি, প্লীজ?
সে হয়তো, ভিডিওটা করার...
পরপরই হারিয়ে গেছে,
এখানেই সবচেয়ে বেশি খটকা লাগছে।
আর আমরা সবাই সেটা বুঝতে পারছি।
তাই, এখন এভাবে হয়তো আমরা তার উপস্থিতি টের পাবো।
আচ্ছা বেশ, চলো, হাত ধরো তাহলে।
আচ্ছা, দারুণ, চলো।
- আচ্ছা। - ঠিক আছে।
এইতো।
সবাই এখন,
চোখ বন্ধ করো।
আর কান বন্ধ রাখার চেষ্টা করো।
পুরোনো রেডিও বা টিভির মতো ভাবতে হবে।
অর্থাৎ এখন শুধু তুমি একটা জিনিসই ভাববে,
অন্য আর কোনকিছু তোমার ভাবনায় আসতে পারবে না।
চেষ্টা করতে থাকো।
আস্তে আস্তে শ্বাস ফেলো।
নিঃশ্বাস নেও।
ছাড়ো।
নেও।
আর ছাড়ো।
নেও।
আবার ছাড়ো।
- ওরে খোদা! - হেই!
- সাবধানে! - রাস্তা থেকে সরো!
আস্তে যাওয়া যায় না নাকি? খোদা!
কী হলো এটা?
আচ্ছা, উম্ম...
চলো আবার চেষ্টা করি, ঠিক আছে?
ক্লোভার?
-ক্লোভার! হেই! -ম্যাক্স-- হেই, ম্যাক্স।
দাঁড়াও, ওকে কিছুক্ষণ একা থাকতে দেও, ঠিক আছে?
ভুলে যেও না, প্রথমে কেন সে তোমাকে বোকা বানিয়েছে।
সে আমাকে বোকা বানায়নি, আমিই সরে এসেছি।
কারণ সে একা থাকতে চেয়েছিল, কিন্তু তুমি সেটা দেওনি।
তুমি আবার কবে থেকে এসবে বিশেষজ্ঞ হয়ে গেলে?
কী বললে? কী বলতে চাইছ তুমি?
কিন্ডারগার্টেন থেকে শুরু করে,
প্রেম করা ছাড়া তুমি থাকতেই পার না।
- তাই নাকি? আসলেই? -না, একদমই না।
৬ মাস আগেও, তোমার মতো একজন ছিল।
আর ৩ মাস আগেও, ঠিক তোমার মতোই একটা মেয়ে ছিল।
- জুলিয়া - জুলিয়া?
তোমরা যেন কতদিন ধরে প্রেম করছ?
- ৩ মাস। - হুম।
আশা করি, আমরা ফিরে যাওয়ার আগেই, সে তোমার সাথে ব্রেক-আপ করে ফেলবে।
- ম্যাক্স। - আচ্ছা, সে যদি ব্রেক-আপ করে ফেলে,
জুলিয়ার নাম্বারটা আমাকে দিতে পারবে?
চুপ করো।
হেই।
হেই।
শুধু এটাই নিবো।
২ ডলার।
ধন্যবাদ।
শুনছ, তোমার বন্ধুদের সাথে কী যেন করতে দেখলাম।
কী করছিলে তখন?
গোল হয়ে প্রার্থনা করছিলে নাকি?
হ্যাঁ, এরকমই কিছু।
হাহ।
- আচ্ছা, ধন্যবাদ। - হ্যাঁ, কোনো ব্যাপার না।
উম্ম...
দুঃখিত, গতবছর আপনি এখানে কাজ করতেন?
গতবছর করেছি, এর আগের বছরও করেছি,
এর আগের বছর, এরও আগের বছর,
অনেক বছর ধরেই কাজ করছি এখানে।
জানো, প্রতিবছর একই জিনিস দেখতে হয়।
কিন্তু ভিন্ন ভাবে।
আচ্ছা বুঝলাম।
আচ্ছা, একটা জিনিস জিজ্ঞাসা করতে পারি?
উম্ম...
ওকে আগে কখনো দেখেছেন?
সুন্দরী।
একদম তোমার মতো দেখতে।
হারিয়ে গেছে, তাই না?
আমি তো এটা বলিনি।
হ্যাঁ, কিন্তু তোমার আগেও অনেকে এসে জিজ্ঞাসা করেছে
আমি কাউকে দেখেছি কিনা।
মানে, এখানে এসে কি মানুষ হারিয়ে যায়?
এখানে? না।
কিন্তু একটু সামনেই... গ্লোর ভ্যালি নামে একটা জায়গা আছে।
ওখানে গেলেই মানুষ বিপদে পড়ে।
গ্লোর ভ্যালি?
হ্যাঁ।
দাঁড়াও।
- আজ কী হলো তোমার? - না, কিছু না।
ক্লোভার চলে আসার আগে
- একটা কথা বলি? - বলো।
তোমরা বলেছিলে, সবাই মিলে...
শহরের বাহিরে ঘুরতে আসার জন্য এখানে এসেছ।
বুঝলে? আমি বুঝতে পারিনি, শেষপর্যন্ত আমাদের...
তার বোনকে খুঁজে বেড়াতে হবে।
তাই আমাকে বলতেই হচ্ছে,
- এমনি মনে হলো আরকি... - এমনি মনে হলো আরকি...
হ্যাঁ, ধন্যবাদ।
এমনি মনে হলো, আমি ঠিক জানি না।
এটা কি আদৌ ক্লোভারের জন্য ঠিক হচ্ছে?
মানে উদ্দেশ্যটা অবশ্যই ভালো।
সেটাই, এইজন্যই তো সে এতদূর এসেছে।
বা, এটাই হয়তো...
আবার, বুঝতেই পারছ।
বুদ্ধিটা খারাপ মনে হলে, প্রথমেই আসতে গেলে কেন?
ক্লোভারের সাথে সময় কাটাতে চেয়েছ?
কারণ ভালো খারাপ যা-ই হোক না কেন,
আমরা সবাই একসাথে থাকব, বুঝেছ?
তাই এসেই যখন পড়েছি,
একে অপরকে দোষ না দেই, ঠিক আছে?
যদি কাউকে দোষ দিতেই হয়,
সেটা মেলিনিকে দেওয়া উচিত।
মানে, তাদের মা মাত্র ১ সপ্তাহ আগে মারা গেল,
এই অবস্থায় তার ক্লোভারকে একা ফেলে রেখে যাওয়া উচিত হয়নি তার।
সে শুধু নিজেরটাই ভেবেছে।
গাইজ।
আমার মনে হয়, মেল কোথায় হারিয়েছে সেটা জেনে গেছি।
- হেই, কিচ্ছু হবে না। - এটা ঠিক হচ্ছে না।
ঝড়ের সময় গাড়িই সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা, বুঝেছ?
এভাবে বলো না, ম্যাক্স।
সত্যিই তো বললাম, সবাই জানে যে...
ম্যাক্স! এসব কথা এভাবে বলতে নেই।
গাড়িটা ঘুরাতে পারবে?
বুঝলাম না, আমি ভুল কী করলাম!?
তুমি আমাদের ভয় দেখাচ্ছ, বুঝেছ?
এইসব নিয়ে কথাবার্তা বললে,
অ্যাবের মাথা বিগড়ে যাবে, আর কিছু একটার সাথে ধাক্কা খেয়ে,
আমরা সবাই মরে যাবো, বুঝলে?
তাই মুখটা বন্ধ রাখো।
অ্যাব, গাড়িটা ঘুরানো যায় না, প্লীজ?
আর না, এর মধ্যেই দুইবার ঘুরিয়েছি।
তাহলে আবার ঘুরাও।
এভাবে ঘুরতে থাকলে তো
পৌঁছাতেই পারব না।
গাড়িটা থামাও!
আমরা তো কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।
আমি কিছু ভাবতেও পারছি না।
এটা আবার কী?
বাপরে!
কী হলো?
- আমার বমি আসছে! - অ্যাব।
No comments yet. Be the first to leave one.