نخستین 200 خط.
অনুবাদঃ প্যারাডক্স পল
১৯৯১
তোকে এটা সব সময় পরে থাকতে হবে।
তুই কেবল মুখ ধুয়ার সময় এটা খুলতে পারবি।
আমি দ্রুত তোর হাত মুখ ধুয়ে দিয়ে আবা ওটা পরিয়ে দিবো।
ঘুমোনোর সময় আর খাওয়ার সময়ও.....
এটা পড়ে থাকিস,ঠিক আছে?
আমি তোমাকে সব কিছুতে সাহায্য করবো।
কেন?
এটা.... তোকে দ্রুত ভালো হতে সাহায্য করবে।
কিন্তু আমি তো অসুস্থ নই।
কিম হিয়-সক! কুত্তি!
এখানে কি হচ্ছে?
হাহ! তুই ভেবেছিলি যে পালিয়ে গিয়ে সবকিছু নতুন করে শুরু করবি?
কত দিন ধরে এটার পরিকল্পনা করছিলি?
নতুন জামাইও জুটিয়েছিস নাকি?
আমরা খাওয়ার পরে এটা নিয়ে আলাপ করবো।
ছাতার মাথা! আমি পুরো ভিজে গেছি!
ঠুলি পরালেই ও মানুষ হবে না!
ব্যাটা খুদে শয়তান!
তোর বাবা তোর সাথে কথা বলছে,ছোড়া!
আমার ঐ চোখদুটো উপড়ে ফেলা উচিত!
চরম হাস্যকর!
মায়ের ভালোবাসে,হাহ?
মাঝেমধ্যে স্বামীর দিকেও একটু নজর দিস!
এদিকে আয়!
কুত্তি!
আমি তোদের দুজনকে সহ্য করতে পারি না!
কুত্তি!
না ! থামো!
কিসের থামাথামি?
এটা কঠিন।
তাই নয় কি!
এটা আসলে সহ্যের বাইরে........
...এমনকি তা আমার পক্ষেও!
তাই,
চল এটা শেষ করে ফেলি!
ঠিক আছে?
কেন আমার নিজের বাবা মা আমাকে হত্যা করতে চায়?
২০১০
আমার এরকম হয়ে জন্মানোর জন্যে আমি দায়ী না!
সবার চাইতে আলাদা হওয়াটা.....
তোমরা কখনোই বুঝবে না সেটার অনুভূতি কেমন।
আর আমারও তোমাদের মত হওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই।
তোমরা আমাকে প্রকৃতির খেয়ালে বিচিত্র খেয়ালে সৃষ্টি হওয়া এক খোড়া ,কিম্ভুতকিমাকার ব্যক্তি হিসেবে দেখো।
কিন্তু একমাত্র এটার উপরই আমি নির্ভর করতে পারি।
য়ার এই ক্ষমতাই আমাকে পরিণত করেছে দানবে।
আপনি কতদিন থাকবেন?
আমি নিশ্চিত না।
কমপক্ষে এখনকার সময়টুকু থাকছি।
স্যার, রুম নাম্বার ১৪০৭।
HAUNTERS
- কিয়ু-নাম! - অই!
অই! এখানকার কেউ আমাকে....
তার দুপুরের টিকিট দেয় নাই!
কে রে?
- তুমি ওকে খাবারের টিকিট দিয়েছিলে? - হ্যা,দিয়েছিলাম।
আবার ও এটা করেছে।
সে এখন টিকিটটা দিচ্ছে!
গর্দভ!
খাওয়া যাক।
দেখো,ব্যাটা কি রকম নিবেদিতপ্রাণ!
আমি নিশ্চিত যে ও স্বর্গে যাবেই!
তোমারও কি তাই মনে হয় না?
তুমি কেবল উপাসনা করেই স্বর্গে যেতে পারো না!
আজকে কি বার?
বৃহষ্পতিবার না?
ব্যাটা গাধা! আজ শুক্রবার!
তাহলে তো এই সপ্তাহ শেষ।
তোরা কি...
উত্তেজিত?
- অবশ্যই! - অবশ্যই!
ওই!উঠ!
উঠ! আমি বাড়ি যাচ্ছি।
তুই নিশ্চয় ক্লান্ত!
- কালকে গ্যাস ভরিস। - ঠিক আছে।
- দেরী করিস না। - করবো না।
- দেখা হবে! - বিদায়,বন্ধুরা!
কিয়ু-নাম!
শুভ জন্মদিন!
সপ্তাহ শেষের জন্মদিনগুলো ক্লান্তিকর!
তুই জানিস যে ,আমি তোকে ভালোবাসি! শুভ জন্মদিন!
কোনো দরকার ছিল না... ধন্যবাদ!
এটা অলৌকিক যে তুই এখনো বেচে আছিস!
কিন্তু তারপরও.........
ভালো খবর হচ্ছে যে,তুই খুবই দ্রুত সেরে উঠছিস।
নার্সেরা এটা নিয়েই আলাপ করছে।
আসলেই?
আমি যেন বিয়ের বাদ্য শুনতে পাচ্ছি!
তুই জানিস ওরা কি বলে?
প্রতিটা মানুষের জীবনেই তিনটা ফাড়া আসে।
আর তোর সবে একটা গেলো।
আরো দুইটা বাকি আছে।
ওর এতো বিপদ আছে!
কথা শেষ করতে দে!
একটু ভাব তো!
তুই কখনো খুবই অসুস্থ হয়েছিলি?
অথবা তোর সব সঞ্চয় হারিয়েছিলি?
অনেকটা ওরকমই।
ওহো,আমি জানি!
তুই থমাসকে টাকা ধার দিয়েছিলি আর ও ভেগে গিয়েছে!
আমি.....
আমি ওটা ওকে দিয়ে দিয়েছিলাম।
না। ওটা একটা ফাড়া ছিল।
এক মাস ইন্সট্যান্ট নুডলস খেয়ে তোর ডায়রিয়া হয়ে গিয়েছিল।
এটা অবশ্যই একটা ফাড়া।
দুইটা গেলো।
আর বস বলেছে যে, তোর চাকরি শেষ!
তিনটা হলো।
সুতরাং তোর আর ফাড়া বাকি নাই।
অভিনন্দন!
আমার বয়স তেত্রিশ।
মানে,সবে তেত্রিশ হলো।
আপনি শ্রমিক ঠিক করে ফেলেছেন?
ঠিক আছে। ধন্যবাদ।
"চাকরির খবর"
'কোনো অভিজ্ঞতার দরকার নেই।' 'স্বাস্থ্যবান পুরুষ চাই।'
"ইউটোপিয়া"
"ইউটোপিয়া"
কেউ আছেন?
কিভাবে সাহায্য করতে পারি?
আমি লিম কিয়ু-নাম। আমি ফোন করেছিলাম।
কোন পরিবার নেই।
পুরনো ভাঙ্গা লোহা লক্কড়ের দোকানে সাত বছর ছিলে?
আমি আগে অন্য চাকরিও করেছি, কিন্তু ওখানে লিখিনি।
-সেগুলো সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ছিল। -বুঝলাম!
একটু অপেক্ষা করুন। আমাকে একটু সময় দিন।
হ্যালো?
সার্জেন্ট লি? 'ইউটোপিয়া' থেকে আমি চই বলছিলাম।
আমি ভাবছিলাম যে......
আচ্ছা.........
আপনি কি আমার জন্যে কাউকে একটু চেক করে দেখতে পারবেন?
আমি তার সামাজিক নিরাপত্তা* কার্ডের নাম্বার দিচ্ছি।
৭৮০৫২১..... না,এটা ২১......
শালার চোখগুলো!
আজকাল আমি ভালো দেখতে পাই না।
১৪........
এটা ১৪০৪৬৪০।
১৪০৪৬৪০
১৪০৪....
৬৪০!
তুমি ঠিক আছো।
তুমি মনে কিছু নিও না। এটা চাকরির সাক্ষাতকারেরই......
অংশ কেবল মাত্র।
কি দারুণ একজন যুবক!
এই জীবনটাকে নিয়ে তোমার কি ধারণা?
জীবন?
এটা কেবল বেচে থাকা,যতদিন না মরে যাচ্ছি।
হ্যা, তুমি জীবনটা কাটাও আর তারপর মরে যাও।
মাথাটা এদিকে ঘুরাও তো.....
আর এখন ওদিকে ঘুরাও।
তাহলে,ম্যানেজার লিম,আমরা কি শুরু করবো?
ম্যানেজার?
তোমাকে ম্যানেজার হিসেবে শুরু করে তারপর উপরের দিকে উঠতে হবে।
এটাই তো জীবন,তাই নয় কি?
এখানে আমরা কাস্টমারের সাথে দরাদরি করি।
তুমি ওটা দেখেছো?
ডান কোণায়। না,না,ওদিকে।
ওটা আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি।
একটা সিসিটিভি ক্যামেরা।
আমি এটার জন্য ভালো অঙ্কের টাকা খরচ করেছি।
এটা অন্য রুমের টিভির সাথে যুক্ত।
এটা সব কিছু ধারণ করে।
আর যখন তোমার সেটাকেও যথেষ্ট মনে হবে না....
তুমি এটায় চাপ দিয়ে.....
ব্যাটাকে একেবারে ভাজা পোড়া বানিয়ে ফেলতে পারো।
এটুকুই।
এখানে আপনারা কি করেন ,আসলে?
হাহ? আসলে,আমরা টাকা পয়সা.....
লেনদেন করি....
ঐ বাণিজ্য যেটাকে বলে।
কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হলো....
আমার চোখের সামনে দিয়ে টাকা উধাও হয়ে গিয়েছে।
কিন্তু আমার কিচ্ছু মনে নেই।
এটা দেখো।
দেখো কিভাবে আমি সব লিখে রাখি।
এটাতেই আমার পুরো জীবনটা আছে।
কিন্তু কিছু একটা নেই মনে হচ্ছে।
ম্যানেজার লিম...
কেউ এখানে এসেছিল...
কিছু একটা অবশ্যই এখানে ছিল।
একারণেই আমি নিরাপত্তা ক্যামেরা লাগিয়েছি।
কিন্ত সেটা যথেষ্ট নয়।
ভিডিও দেখে কোনো লাভ নেই।
তাতে আমার টাকা ফেরত আসবে না।
তাই আমি চাই যে তুমি...
এ আমার মেয়ে। হ্যালো বল।
ও আগামী কাল থেকে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে...
জ্বি,স্যার।
এই হলো আমাদের ম্যানেজার লিম।
পরিচিত হয়ে খুশী হলাম। আমি লিম কিয়ু-নাম।
আমি র্যাচেল ইয়াং সামান্থা।
সে চই ইয়াং-সুক।
শুভ সকাল।
আপনি আগে আগে এসে পড়েছেন। বাবা এখনই চলে আসবে।
হবে নাকি?
বাবলগাম! অনেক দিন হলো খাওয়া হয় না।
আমি এখনকার জন্যে কেবল সাহায্য করছি।
আচ্ছা।
আমি বিমানবালা হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছি।
No comments yet. Be the first to leave one.