نخستین 200 خط.
মুভিঃ ★ ZODIAC ★ অনুবাদকঃ নাজমুল হোসাইন শুভ ফেসবুকে যোগাযোগঃ goo.gl/JlDXUO
কোথায় ছিলে তুমি? আমি ৭টা থেকে অপেক্ষা করছি।
ভেতরে ঢোকো। আমার আতশবাজি খুঁজতে যেতে হবে।
আমাকে চালাতে দাও।
উঠে পড়ো। আমি ২৪ ঘন্টা ধরে কিছু খাইনি।
যাবে, নাকি যাবে না?
ভীড় বেশী এটাতে।
আমি ভাবলাম ক্ষুধায় মারা যাচ্ছ তুমি।
চলো চুপপাপ কোথাও যাই।
আচ্ছা।
আমরা কি করছি?
বসে আছি। গান শুনছি। কথা বলছি।
-তোমাকে অদ্ভুত শোনাচ্ছে। সব ঠিক আছে তো? -হ্যাঁ, সব ঠিকই আছে।
এখন জুলাই মাস। কয়টা শার্ট পড়েছো শুনি?
-ঠান্ডা লাগছে। -জুলাইয়ের ৪ তারিখে তোমার ঠান্ডা লাগছে?
দূরে গিয়ে মর!
-কি? -দূরে গিয়ে মর?
থামো!
ওটা কি সেই গাড়িটা নাকি?
আমি ওই গাড়ি মিস্টার এড-এর ওখানে দেখেছিলাম।
-তুমি কি চাও, তাকে চলে যেতে বলি? -গাড়িতেই থাকো।
-ওটা কি তোমার স্বামী নাকি? -না।
কে ওটা, ডারলিন?
ওসব নিয়ে ভেবো না।
-ভাবতে নিষেধ করো না। কে ওটা? -বললাম তো কেউ না।
ওহ, শিট!
চলো।
এক্ষুণি, ডি।
মানিব্যাগ বের কর।
আরে ভাই, ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন একেবারে!
ভ্যালেহো পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। আমি একটা ডাবল খুনের রিপোর্ট করতে চাই।
আপনার নামটা জানতে পারি? আর কোথা থেকে বলছেন...
যদি আপনি কলম্বাস পার্কওয়ে ধরে ১ মাইল পূর্বে যান,
একটা পাবলিক পার্ক পাবেন, সেখানে একটা বাদামী গাড়িতে দুটো ছেলেমেয়ের লাশ পাবেন।
তাদের একটা ৯মিলিমিটার লুগার পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছে।
আমি ওই বাচ্চাদের গত বছরও মেরেছিলাম।
বিদায়।
থুথু ফেল।
ফেলো বলছি।
-গিলে নিয়েছি। -কেন?
মিন্ট ফ্লেভার ছিল।
এমন করা ঠিক না। স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।
লাঞ্চ বক্স নাও।
-আমি বাসে যাচ্ছি না কেন? -কারণ আমাদের দেরী হয়ে গেছে।
আচ্ছা, তুমি আজ রাতে তোমার মা ও অ্যারনের সাথে থাকবে।
তো তোমার নতুন ভাইকে পছন্দ হয়নি?
-না, একদমই না। -আচ্ছা, খুব সত্যবাদী ছেলে!
অনেক কিছু শিখবে।
আজ রাতে পরীক্ষা নেব কিন্তু আমি।
শুভ সকাল।
-হাই। -শুভ সকাল।
-শুভ সকাল। -শুভ সকাল।
আজকের কফিটা কেমন, বাঁটুল?
সম্পাদকের রুমে ডেকেছেন ২টায়।
শুভ সকাল, ভদ্রমহোদয়।
-শুভ সকাল। -শুভ সকাল।
আচ্ছা, স্ট্যান্টন, জনাব হাওয়ে- বল...
ড্রাফট বোর্ডের অংশটা একদম পারফেক্টের কাছাকাছি ছিল।
জনাব গ্রেস্মিথ।
বাজে অবস্থা।
বাজে অবস্থা।
অতটা বাজে না।
খুব বাজে। আমি অতটা বাজে না -এর পক্ষে।
পল, ক্রাইম বিটের কি অবস্থা?
সবাই কাপড় খোলার আগে ডেইটবুকের জেনিস ফন-ডু (খাবারের নাম) পার্টি আয়োজন করেছে।
বেআইনি।
ওদের দেখেছেন কখনো? মজা করছি না।
এটা হয়তো সবে অপরাধের শুরু।
আপনার এটা দেখা উচিত।
প্রকাশককে ডাকো।
প্রিয় সম্পাদক,
আমি সেই খুনী বলছি
যে গত ক্রিসমাসে দুজন টিনেজ বাচ্চাকে হারম্যান লেকের পাশে মেরেছিল।
আর ৪র্থ জুলাই ভ্যালেহো গলফ কোর্সের কাছের এক মেয়ের খুনটাও আমার করা।
আমিই মেরেছি এটা প্রমাণ করতে,
আমি কিছু সত্যি বলতে চাই, যেটা শুধু আমি আর পুলিশ জানে।
ক্রিসমাস, পিস্তলের ব্র্যান্ড নাম, সুপার-এক্স।
দশটা গুলি চলেছিল।
ছেলেটা পেছনে গাড়িতে পা তুলে পরে ছিল।
আর মেয়েটা...
এটা একটু পড়বেন, প্লিজ?
মেয়েটা তার ডান দিকে ছিল, কোমরের কাছে পা ছিলো ওর।
জুলাইয়ের ৪ তারিখ।
প্রথমতঃ মেয়েটার জামা ময়লা নকশা হয়ে গিয়েছিল।
ছেলেটারও পায়ে গুলি লাগে।
পিস্তলের ব্র্যান্ড নাম ছিল ওয়েস্টার্ন।
এই হল গুপ্ত সংকেতের একটা অংশ।
সংকেতের বাকি দুই অংশ ভ্যালেহো টাইমস ও সানফান্সিসকোর পরীক্ষকদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।
আমি চাই আপনারা আপনাদের পত্রিকার প্রথম পেইজে সংকেতটা প্রিন্ট করুন।
এই সংকেতের মধ্যেই আমার পরিচয় লুকিয়ে আছে।
যদি শুক্রবারের মধ্যে প্রিন্ট না করেন,
শু-ক্র-বার, মানে আগস্ট ১, ১৯৬৯, আমি সেই রাত থেকেই খুনের উৎসব শুরু করব।
আমি সপ্তাহ শেষের পুরো সময় ঘুরে বেড়াব, রাতে কাউকে একাকী পেলী খুন করে ফেলব।
তারপর আরো অনেক খুন চলতে থাকবে
সপ্তাহ শেষে অন্তত এক ডজন খুন করেই আমি ক্ষান্ত হব।
এটা সাইন করা হয়নি, শুধু একটা চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।
শুধু আমারই এমন মনে হচ্ছে, নাকি এটা আসলেই একটা গুলি ছোড়ার নিশানার মত লাগছে।
আজ আগস্টের এক তারিখ।
সে এই কোড বিকালের সংস্করণে ছাপানো দেখতে চায়।
যদি পরীক্ষক এটা করতে রাজি না হন, তাহলে আমরাও ছাপাবো না।
অ্যাল, এই লোক ১২ জন খুন করবে বলছে।
আর আমরা এটা না করলে হয়তো সে খুনগুলো করেই ফেলবে।
ওর কথামত কাজটা করলে দেখা যাবে অনেকেই এটাকে উদাহরণ হিসেবে নিয়ে এমন কাজ করতে শুরু করেছে।
ওহ, একটু বোঝো, এ নিয়ে একটা খবর তো এমনিতেও খবরের কাগজে দিতে হবে।
মানে, ওই বাস্টার্ডটাকে একটা সুযোগ দিতে হবে,
মানুষ এ নিয়ে কি ভাববে?
একটু দাঁড়াও, এই ভ্যালেহোর ঘটনা কি সত্যি?
-পল? -কি? আমি ভ্যালেহোর অপরাধের খোঁজ রাখি?
হ্যাঁ, আমিই ভ্যালেহোর অপরাধের খোঁজ রাখি। দশ মিনিট অপেক্ষা করুন।
চলুন, এসব কোড বাদ দিয়ে SFPD -কে ফোন করি।
যদি এসব সত্যি হয়, অন্তত আমাদের নাগালে থাকবে সবকিছু।
আচ্ছা।
গ্রেস্মিথ, তোমার একটা কার্টুন আঁকা শেষ করার কথা না?
ওহ, হ্যাঁ।
হাই, আমি পল অ্যাভরি, সানফ্রানসিস্কো ক্রনিকলে কাজ করি।
আমি এমন কাউকে খুঁজছিলাম, যে আমাদের হাতে আসা ওই চিঠিটার ওপরে আলোকপাত করতে পারে।
ধন্যবাদ।
সার্জেন্ট মুলানাক্স।
সার্জেন্ট , পল অ্যাভরি, সানফ্রানসিস্কো ক্রনিকল থেকে।
আমি শুধু চেক করতে চাইছিলাম
আপনাদের হাতে কোন অসমাধানকৃত আগ্নেয়াস্ত্র সম্পর্কিত খুনের কেস রয়েছে কিনা
যেটা এই ক্রিসমাস ও জুলাইয়ের ৪ তারিখ সংঘটিত হয়েছিল।
ধুর!
আপনারাও একটা পেয়েছেন?
কনফার্ম করা হয়েছে। VPD, তারা ওই গুলি ছোড়ার কথা কনফার্ম করেছে।
আল পরীক্ষকের সাথে ফোনে কথা বলছে।
তারাও একই চিঠি একটা আলাদা কোডের সাথে পেয়েছে।
টাইমস হেরাল্ডও তাই।
ক্রিসমাস, দুজন টিনেজার লাভারস লেনে। দুজনেই DOA.
ডেভিড ফারাডে এবং বেটি জেনসেন।
৪র্থ জুলাই, ডার্লিন ফেরিন ও মাইকেল...
আমার মনে হয় এটা "মেহিউ" হবে। যাই হোক, সে বেঁচে গিয়েছিল, মেয়েটা নয়।
খুনের অস্ত্র?
ব্যালিস্টিক (অস্ত্রবিজ্ঞান) অনুযায়ী, সে যা বলেছে, তাই চিঠির সাথে মিলে গেছে।
মানে, আমার মনে হয় টাইমের হেরাল্ড কোডটা ছাপাবে।
পরীক্ষক থেকে ছাপাবে, তবে প্রথম পৃষ্ঠায় নয়।
আমি বলছি প্রথম পেজে না ছাপাতে। যদি ১২ জন মানুষকে মেরেও ফেলে, তবুও আমাদের দোষ হবে না।
রবার্ট! আমাদের কার্টুনটা প্রয়োজন।
-তোমার শেষ হয়নি? -না, আমার শেষ, ক্যারোল। আমার শেষ।
থিরিওট এখনও এখানে।
আসলেই?
ফার্স্ট এডিশন ১০টার মধ্যে ফ্লোরে নিতে হবে, চার্লস।
আমাদের ১ সেকেন্ড সময় দাও।
আচ্ছা, রি-প্লেট।
আমরা ৪র্থ পৃষ্ঠায় দেব ওটা।
কি বললে, বাজি ধরেছো ওই পাগলের নাম বললে ২০ ডলার দেবে?
সে তার নাম কখনো বলবে না।
মর্টিস যাবে কেউ?
-ঠিক সেইদিকেই যাচ্ছি। -আচ্ছা।
ওগুলো আমার ডেস্কে রাখো। আলোটা জ্বালাও।
তোমার বইটা নাও।
এখন গিয়ে জামা বদলে নাও।
আচ্ছা, সবাই শুনুন।
সাইফারটা ৩ ভাগে বিভক্ত, প্রতিটিতে ৮ লাইন ও ১৭টি চিহ্ন আছে।
আলাদা শব্দের জন্য দুটি চিহ্নের মধ্যে কোন ভাগ নেই।
অপ্রধান কী-গুলোতে কোন নাম্বার বা সূত্র নেই।
আর চিহ্নগুলো পাওয়া গেছে অন্তত ৭টি আলাদা উৎস থেকে।
গ্রিক, মোর্স কোড, নৌবাহিনীর সংকেত, আবহাওয়া সংকেতচিহ্ন, জোতিষীবিদ্যার চিহ্ন।
-এই, সংকেতগুলো বোঝো কিনা দেখো তো। -আচ্ছা।
অর্থ বের করতে পারবে?
যিনি এখানে আগে বসতেন, তিনি ছিলেন একজন মহান কার্টুনিস্ট, বব বাস্টিয়ান।
এখন তিনি কোন কারণে পাবলিক টেলিভিশনে কাজ করেন।
পল অ্যাভরি।
রবার্ট গ্রেস্মিথ। আমি এখানে নয় মাস হল এসেছি।
যাহোক, তুমি ঠিকই বলেছিলে। সে তার নাম দেয়নি।
কে ভাঙল কোডটা?
একজন ইতিহাসের শিক্ষক এবং তার স্ত্রী স্যালিনাস।
আমি মানুষ মারতে পছন্দ করি কারণ এটা বেশ মজাদার।
এটাতে বনে শিকারের চেয়েও বেশী মজা পাওয়া যায়।
কারণ মানুষই হল খুন হবার যোগ্য সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পশু।
যেটা আমাকে সবচেয়ে উত্তেজনার অভিজ্ঞতা দেয়।
এটা এমনকি একটা মেয়ের সাথে এক বিছানায় শোয়ার থেকেও বেশী উত্তেজনাকর।
আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল, যখন আমি মারা যাবো,
আমি স্বর্গে পুনর্জন্ম নেব।
আর আমি যাদের মেরেছি, তারা আমার গোলামে পরিণত হবে।
আমি আমার নাম তোমাদের বলব না কারণ তোমরা আমার পরবর্তী জীবনের জন্য গোলাম সংগ্রহ করার গতি কমিয়ে দেবে।
আমার মনে হয় আমাদের এই বন্ধু আস্ত একটা বলদ।
আমি শুনেছি, সে ভ্যালেহোতে নিজেকে ধরতে সাহায্য করার জন্য একটা কোড কী পাঠিয়েছে।
-নিচের দিকে এগুলো কি? -বাকি পড়ে থাকা কোড।
মনে হয় শব্দের খেলা।
কিভাবে করলে এটা?
আমি ধাঁধা পছন্দ করি। অনেক ধাঁধা সমাধান করেছি।
তুমি কিভাবে জানলে সে তার নাম দেবে না?
ভয়ঙ্কর পশু।
ভয়ঙ্কর পশু।
কোন ভয়ঙ্কর পশু? কিভাবে জানব এটা?
-পল। -হ্যাঁ, টেম্পল্টন?
-সম্পাদকের রুমে যাও, এক্ষুণি। -আচ্ছা।
আরেকটা চিঠি।
প্রায় একই রকম, খুনের বর্ণনাযুক্ত।
সে বন্দুকের সাথে ফ্লাশ লাইট লাগিয়ে নিয়েছিল। এভাবেই সে অন্ধকারে খুন করেছিল।
আর সে একটা নামও দিয়েছে।
জানো এটা মন্টেসেলো শহর ছিল?
কিন্তু সেই সময়, কাউন্টির প্রধান মনে করল জমিটা হ্রদ হিসেবে বেশী ভালো লাগবে।
তাই তারা জায়গাটা পানিতে ভাসিয়ে দিল।
-কিন্তু সেখানে পুরো একটা... -একটা পুরো শহর পানির নিচে নিমজ্জিত ছিল।
আমরা এখানে গত বসন্তেও এসেছিলাম, মনে আছে?
ওহ, হ্যাঁ।
এখানে অন্য কেউ আছে।
পার্কটা সবার জন্য উন্মুক্ত।
No comments yet. Be the first to leave one.