نخستین 200 خط.
...বাঁচতে চাইলে জলদি হাত চালাও
রিচমন্ড, ভার্জিনিয়া, ১৮৬৫ আমেরিকার গৃহযুদ্ধের শেষ মুহূর্ত
যুদ্ধে অংশ নেয়া বিদ্রোহী বাহিনীর সর্বশেষ ইস্পাতের যুদ্ধ জাহাজ
জলদি চলো
সাবধান!
-দুঃখিত ক্যাপ্টেন -ঠিক আছে বাছা, ওঠো
তোমাদের হাতের ওই বাক্সেই আমাদের ভবিষ্যৎ
হেইয়ো! হেইয়ো! হেইয়ো!
-স্টারবোর্ড কামান প্রস্তুত, ক্যাপ্টেন -ঠিক আছে লেফটেন্যান্ট
ফায়ার!
গভীর পানির দিকে যাও, আরো গতি বাড়াও
-গতি পাঁচ নটে নাও -ওকে স্যার
-দেড়শো গজ দুরে! -দেড়শো গজ!
ফায়ার!
ফায়ার!
ফায়ার!
-ফুল স্পিডে আগাও -জ্বি ক্যাপ্টেন
ইঞ্জিন বন্ধ করো
-ক্যাপ্টেন? -বন্ধ করে দাও ইঞ্জিন! নিঃশব্দে চলো!
গোলাগুলি বন্ধ রাখো!
গোলাগুলি থামাও! বন্ধ করে দাও কামানের জানালাগুলো, জায়গার ফেরত যাও
-বন্ধ করো গোলাগুলি! -জলদি আটকাও!
মিসেস নোকোলো?
আমি ইভা রোজাস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে, আর ইনি হলেন ডক্টর হুপার
-হ্যালো, কেমন আছেন? -প্লিজ আসুন ঘরে
দুঃখিত অন্ধকারের জন্য, আলোতে ওর চোখ ব্যাথা হয়
-ধন্যবাদ -নাম কি আপনার ছেলের?
আজিকিওয়ে, সবাই ওকে কিওয়ে বলে ডাকে
হাই কিওয়ে, আমার নাম হলো ইভা
আমরা তোমাকে একটু পরীক্ষা করে দেখবো, ঠিক আছে?
-ও অসুস্থ হয়েছে কতদিন ধরে? -আজকে দুই দিন হলো
-অসুখের আগে কোথাও গিয়েছিল? -ও ‘মালি’ গিয়েছিল গত সপ্তাহে
ওর বাবার সাথে
-এখন কোথায় ওর বাবা? -উনি বাতিঘরে আছেন
সেখানেই কাজ করেন উনি
রক্তচাপ ৮০/৫০
-রক্ত চলাচলে সমস্যা -স্যাম্পল নিচ্ছি রক্তের
-ভয় নেই, ঠিক আছে সব, থামো -কিওয়ে!
-ইভা, ইঞ্জেকশন -কতটুকু?
দুই ডোজ
শান্ত হ খোকা, শান্ত হ, কিচ্ছু হবে না তোর
ভয় পেয়ো না, ঠিক হয়ে যাবে তুমি, আমরা তোমায় সাহায্য করতে এসেছি
ভয় নেই কিওয়ে, ঠিক আছে সব
ভয় নেই
-আমি আছি এখানে খোকা...ভয় নেই তোর -শান্ত হও কিওয়ে, কিচ্ছু হবেনা তোমার
ঠিক আছো তো তুমি?
-এরও ‘মালি’ থেকেই রোগটা হয়েছে -হ্যাঁ সেটাই তো দেখছি
-এটা মহামারীতে রূপ নিচ্ছে, ফ্রাঙ্ক -কিন্তু মাত্র ছয় জনকে পেয়েছি আমরা এমন
-এই সংখ্যা যথেষ্ট না -ওহ, তাহলে কতজন লাগবে আর?
৬০ জন?
নাকি ৬০০০ জন?
আর কতজন আক্রান্ত হলে এ ব্যাপারে সবার টনক নড়বে?
আমাদের এ রোগের উৎসস্থলে যেতে হবে, ফ্রাঙ্ক
তুমি মালি’তে যেতে চাও?
সম্ভব নয় সেটা
এমনিতেই ওখানের গৃহযুদ্ধের কারণে আমরা ইতিমধ্যেই অনেক কর্মীকে হারিয়েছি
-নাও, রিপোর্ট শেষ করো -বেশ তো
-লিখে দেই, মারা গেলে ময়নাতদন্ত করতে -ইভা...
আমি দেখছি কি করা যায়
আমি আবারো উপরমহলে কথা বলবো
-এবার হয়তো তারা আমার কথা শুনবে -ধন্যবাদ
আমাদের কিন্তু এই ছেলেটার বাবার রক্তের নমুনাও লাগবে
যাচ্ছি আমি তার খোঁজে
হ্যালো?
মিস্টার নোকোলো?
মিস্টার নোকোলো?
এই যে শুনছেন!
সাহায্য করুন
এখানে তোদের কোনো প্রয়োজন নেই
জলদি ওর ব্যাগটা নে
ঠিক আছো তুমি?
ওই, ওই! উপরে উঠাও ওটা!
করছোটা কি তুমি, নাহ!
হেঁটে চলে যাচ্ছো পাশ দিয়ে... ঠিক আছে জোয়ানরা, হাত চালাও
সবাই এদিক ওদিক ছোটাছুটি বন্ধ করো
আরেকটু, আরেকটু, এইতো হয়ে গেছে, ঠিক আছে, থামো এবার
ওখানেই স্থির রাখো
দুই ফুটের বাইরে কোন পরিবর্তন দেখলেই রিপোর্ট করবে
ওই একটু ধরো তো এটা, কই জলদি ধরো!
হয়েছে কি তোর জঞ্জালের টুকরাটা...
আচ্ছা এবার রেঞ্চটা দাও, রেঞ্চ লাগবে আমার
রেঞ্চ! আছো কি কেউ পিছনে?
ঠিক আছে, এবার তেলের শিশিটা দাও, তেল লাগবে এখানে, জলদি দাও, ধন্যবাদ
ওকে সব ঠিক আছে এবার, হয়ে গেছে এটা, হয়ে গেছে
দুঃখিত
দিন এগুলো, হাই
-এ্যাল জিওর্ডিনো -ইভা
-ইভা রোজাস -সাহায্যের জন্য শুকরিয়া
-ধন্যবাদ -জাহাজে স্বাগতম
থ্যাঙ্ক ইউ
ওকে এবার চালু করো এটা, নিচে নামাও, নিচে, নিচে, নিচে, নিচে, নিচে
আরো, নামাতে থাকো
হাই
-এখন কি একটু ভালো বোধ করছেন? -হ্যাঁ ধন্যবাদ
-আমি রুডি -তো কোথায় আছি আমরা?
এটার নাম মার্থা-অ্যান, এটি “নুমা”র একটি নৌকা, মানে জাহাজ
আমরা জানতাম না আপনি কে, তাই আমরা নিজেরাই আপনার একটু চিকিৎসা করেছি
আপনার শ্বাসনালীর উপরের অংশে বড় ধরনের চাপ লেগেছিল...
রুডি, আমি গত দুই মাস ধরে এই মুহূর্তটার অপেক্ষা করছিলাম
শেষ মুহূর্তে কোন ভুল করে সবকিছু ডুবিয়ে দিও না!
-জ্বী অ্যাডমিরাল -ডুবুরিকে উপরে তোলো!
পাঁচ, চার, দিন, দুই, এক
সুপ্রিয় সুধীবৃন্দ! আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে যাচ্ছি
৭৭২ বছর ধরে সমুদ্রের তলদেশে শুয়ে থাকা মহামান্য রাজা,
কিং বাতিন-কে!
দারুন দেখিয়েছো সবাই
শুধু তুই ছাড়া এ্যাল! করেছিসটা কি?
এটা একটা দশটনি কপিকল দোস্ত, কোন মাছ ধরার বড়শি না!
শোন, এইটা হচ্ছে থম্বসন ১২/৯৩। কিন্তু তুই ডুব দিয়েছিলি ১২/৯১ ভেবে! কিন্তু কথা হচ্ছে,
-তুইতো এই দুইটার কোনটাই চালাতে পারিস না! -বাছাধনেরা!
-স্যার? -স্যার?
রাজা বাতেন মশাইকে, পাঁচ ঘন্টার ভিতর জাদুঘরের দরবারে পৌঁছে দেয়া লাগবে!
-চিন্তা করবেন না স্যার -রাজামশাই সেখানে থাকবেন!
মনে থাকে যেন
বেঁধে ফেলো তারগুলো
আরে দেখো, কে দাঁড়িয়ে আছে এখানে
আর সেটা পারছি, তোমার জন্যই
ভাগ্য ভালো যে ওখানে শুধু ব্যাগটাই খুইয়েছো, জীবনটা না! বিপদজনক এলাকা ওটা!
ধুরছাই, ওরা সত্যিই আমার ব্যাগ নিয়ে গেছে!
-আশা করবো, একটা ব্যাগ জীবনের চেয়ে দামি না -আসলে, একটু কঠিন এই প্রশ্নের জবাব দেয়াটা
তোমার বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে দামি
এই ডার্ক, একটু হাত লাগা এখানে এসে
তোর আনা এই জঞ্জালটাকে একটু পরিষ্কার করা যায় কিনা দেখি
-যাই, বিবিরা ডাকছে -হাত চালাও মহিলারা!
হুক খুলো বাতিন মশাইয়ের
তাকে সাফ-সুতরো করে রেডি করো, আমাদের একটা পার্টিতে যেতে হবে
-অ্যাডমিরাল -অবসরপ্রাপ্ত
-জিম স্যান্ডেকার -ইভা, ইভা রোজাস
আমি W.H.O তে কাজ করছি
চলুন আপনার সাথে কফি খেতে খেতে কথা বলি
-এই ডার্ক, একটু হেল্প কর আমাকে -কি হয়েছে?
-এরপর কি ডান দিকে প্যাচাবো, না বাম দিকে? -এবারো যেন গতবারের মতো না হয়
মনে করতে গিয়ে আমার পাগল হওয়ার দশা
একটা খরগোশ একটা গাছের চারপাশ দিয়ে ঘুরে, এমন কি যেন একটা গল্প শিখিয়েছিলি?
এক ঘন্টার ভিতর আসছি আমি
-কি ব্যাপার ডার্ক? -ওশোদি ফোন করেছিল
বলছে যে, ও হয়তো কিছু একটা খুঁজে পেয়েছে
ওয়াও, দারুণ! চমৎকার!
-ধন্যবাদ দোস্ত -আরে না, না, না, দারুন হলো আমার জন্য
বসকে বলার জন্য আমার তর সইছে না যে, তুই আজকে জাদুঘরে থাকছিস নাহ!
কারণ তোর পরিচিত নাইজেরিয়ান আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক সোর্স বলেছে,
গৃহযুদ্ধের সময় একটা ইস্পাতের জাহাজ, আফ্রিকান ঝড়ের কবলে পড়ে ধ্বংস
হয়ে ডুবে গিয়েছিল, এমন কিছুর আলামত পাওয়া গেছে
এটাই তুই বলতে চাচ্ছিস, তাই তো? বস শোনা মাত্রই পাগল হয়ে যাবে
আর আমি সেখানে দাড়িয়ে, তার রাগে লাল হয়ে যাওয়াটা দেখবো
শিয়ালটা গাছের চারপাশে ঘুরে খরগোশটাকে ধাওয়া করে, তারপর গর্তে লাফ দেয়
এভাবেই বাঁধতে হয় টাই! তুই মোটেও চিন্তা করিস না, আমি উপস্থিত থাকবো পার্টিতে
ধন্যবাদ ধন্যবাদ, সবাইকে অনেক ধন্যবাদ
শুরুতেই আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই লাগোস মিউজিয়ামকে, এই দারুণ অভ্যর্থনার জন্য
সাথে আরো ধন্যবাদ জানাই
এই প্রকল্পে আমাদের প্রধান অর্থদাতা, ইভস মাসার্ডকে
ধন্যবাদ
আমরা হলাম “নুমা”
জাতীয় জলজ এবং সামুদ্রিক সংস্থা
এবং ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, এই হল আমরা করি...
মহারাজা বাতিন
-ও কি আসছে? -দেখলাম না তো কোথাও
-ধ্যাত্তেরি -খাবি একটু এখান থেকে
জাদুকরগুলো সহায়তা করলে আর সরকারি সাপোর্ট পেলে,
আমাদের মত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সবার সাথে একতাবদ্ধ হয়ে
খুজে বের করে আনতে পারবে ইতিহাস
যে ইতিহাস হারিয়ে গেছে কালের স্রোতে,
তা আবার ফিরে পাবে সে দেশের জনগণ, ধন্যবাদ
অনেক ধন্যবাদ সবাইকে, সুন্দর সন্ধ্যা কাটুক আপনাদের
আপনাদের জাহাজে কি সিডি বার্নার আছে?
হ্যাঁ, গত মাসেই তোমার কাছ থেকে একটা কিনেছিলাম
আমার কাছে দুর্লভ একটা জিনিস আছে, ইরাকের জাতীয় জাদুঘর থেকে আনা
যার জন্য এসেছি সেটা দেখাও, খোশগল্প করতে আসিনি এখানে
ঠিক আছে, ঠিক আছে, এখনি দেখাচ্ছি, দাঁড়ান
এই সেই স্পেশাল জিনিসটা, যেটার কথা আপনাকে ফোনে বলেছিলাম
এটা শুধুই আপনার একলাকে দেখাতে আমার মন ভেঙ্গে যাচ্ছে
কোথায় পেয়েছো তুমি এটা?
টাকা আগে
খোশগল্প করতে বসিনি এখানে
ভালোই দিয়েছে পার্টিটা
-ধন্যবাদ আমন্ত্রণ করার জন্য, অ্যাডমিরাল -খুশি হয়েছি আপনার আশায়
ইভস, ইনিই সেই নারী যার কথা তোমাকে বলেছিলাম
-ডাঃ ইভা রোজাস -হাই
অবশেষে দেখা হয় ভীষণ আনন্দিত হলাম, আমি ইভস মাসার্ড
পরিচিত হয়ে ভালো লাগলো, ইনি হচ্ছেন, ডাঃ ফ্রাঙ্ক হপার
-কেমন আছেন আপনি? -আপনার কি অবস্থা?
ইভসের আফ্রিকায় অনেক ব্যবসা আছে
যার কিছু আছে মালিতেও
আমি একটু আসছি
আমি শুনলাম, আপনারা ভাবছেন মালি থেকে মহামারী কোন রোগ ছড়াচ্ছে?
আমরা ঠিক “মহামারী” বলতে চাচ্ছি না
-সেক্ষেত্রে কি তাহলে? -মহামারীই ছড়াচ্ছে!
তো আপনি মালিতে ব্যবসা করেন?
ওখানের এমন কাউকে চেনেন, যিনি আমাদের সাহায্য করতে পারবেন
WHO কে চাপ দিয়ে সেখানে একটা টিম পাঠাতে?
দেখুন, মালির বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণ করে একজন যুদ্ধবাজ নেতা
হ্যাঁ, জেনারেল কাজিম, আপনার পরিচয় আছে তার সঙ্গে?
হুম, একসময় সে কর্নেল ছিল মালিয়ান সেনাবাহিনীতে
তারপর একদিন রাষ্ট্রপতিকে খুন করে নিজেকে জেনারেল ঘোষণা দিয়ে বসে
তিনিই সেই ব্যক্তি, যার জন্য গৃহযুদ্ধ চলছে ওখানে
দেশ কি এখন সেই চালাচ্ছে?
দেশের অর্ধেকটা, আর বাকি অর্ধেক কারোরই নিয়ন্ত্রণে নেই
তবে আমার জানা নেই, কোন অর্ধেক আসলে বেশি খারাপ!
কিন্তু আপনাদের সাবধান করে দিচ্ছি, এসময় মালি বিদেশি নাগরিকদের জন্য অনেক বেশি বিপদজনক
আমি তো বলবো, ওখানের স্থানীয়রা বিপদে আছে আরও বেশি
No comments yet. Be the first to leave one.