نخستین 200 خط.
কে.এল।
কুয়ালালামপুর।
এমন একটা শহর যেটা সকলের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
এখানে সবাই কিছু পাওয়ার জন্য আসে।
কিন্তু এই বড় শহরে বেঁচে থাকার জন্য,
অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়।
অনেক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়।
সবকিছু দেখে শান্ত মনে হয়।
কিন্তু এর নিচে হাজার হাজার গল্প রয়েছে।
আমার গল্প এখান থেকেই শুরু।
জায়ি, আমার ছোট ভাই।
খুবই সাংঘাতিক একটা মানুষ।
কিছু করতে তার কারণ লাগে না।
সব কিছুই টাকার জন্য।
সে একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
আমার সবথেকে ভালো বন্ধু।
কিং, কে.এল এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্যাংস্টার।
কিং আর আমি দুজনে মিলে এই দলটাকে গড়ে তুলেছিলাম একসময়,
এমন এক জায়গায় নিয়েছিলাম,
যেখানে অন্যরা সবাই এটাকে ভয় পেতো।
কিন্তু সবকিছু বদলে গেছে।
শার্ক, কিং এর সৎ ছেলে।
এমন এক মানুষ, যে সব কিছুই করতে পারে,
তার নিজের ইচ্ছা পূরণে।
সে ক্ষমতা লোভী।
এবং তার কারণে, আমি এখানেই থেমে গেছি।
পাঁচ বছর।
পাঁচ বছর ধরে আমি কারাবন্দি হয়ে আছি।
আমাকে সশস্ত্র ডাকাতির জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিলো।
এবং আমি জানি,
এটা আমাকে শেষ করে দেয়ার জন্য শার্ক পরিকল্পনা করেছিলো।
কিংকে না জানিয়ে।
একজন মানুষ যেকোনো কিছু করতে ইচ্ছুক,
ক্ষমতা এবং অর্থের জন্য।
এমনকি সে তার নিজের ভাইয়ের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে।।
আজ আমি মুক্ত।
আজকে আমি মুক্ত হলাম।
স্বাধীন।
সবকিছু থেকে।
এই! তুমি।
আজেব।
এতদিনের ছুটি কেমন কাটলো?
মজায় ছিলে খুব?
ছুটির দিন আসছে, ভাই।
ড্রাগন কেমন আছে?
তুমি নিজেই তাকে জিজ্ঞাসা করো।
চলো যাওয়া যাক।
মালিক ফিরে এসেছে। মালিক ফিরে এসেছে।
আজেব।
কি খবর বন্ধুরা।
মালিক।
বাবার কাছে আসো।
হে খোদা, কি খবর, ভাই?
তোমাকে কি সেখানে কেউ বিরক্ত করেছে?
বলো আমাকে, তাকে পিটিয়ে আসি।
তোমাকে তো দেখে মনে হচ্ছে, সত্যিকার সুস্থ্য আছো, ভাই।
-এটা কারাগার, বুঝলে? -ফিটনেসের কি দেখলে তুমি।
-তবুও তোমাকে বড় দেখাচ্ছে। -বড়? আমি এখনও একই আছি।
-আমার সাথে দুষ্টুমি করছো। -তোমার শরীর কিংবা নাক নিয়ে না।
আজেব সে আমার নাক নিয়ে কথা বলছে।
সে ঝামেলা বাধাতে চাচ্ছে, ভাই।
ঠিক আছে, আমি চলে যাচ্ছি।
সিট বেল্ট বেঁধে বসো, আমি এটার জন্য জরিমানা দিতে পারবো না।
জায়ি, কেউ একজন তোমার সীমা অতিক্রম করতে চাইছে।
চলো তাকে মেরে আসি।
কে? তুমি তাদের সামলাতে পারনি?
আমাকে কি এটা নিয়েও এগিয়ে আসতে হবে?
বিষয়টা হচ্ছে, জায়ি, ড্রাগন আমাদের খুঁজে বের করতে বলছে।
তারা ইতিমধ্যে রবার্টের আস্তানায় হানা দিয়েছে।
-তা কিভাবে? -ড্রাগন আমাদের বলেছে?
দয়া করে আমার ব্যবসা ধ্বংস করবে না।
অন্য কোথাও খুঁজে চলে যাও।
আমাদের চারপাশের পরিবেশ নষ্ট করবে না।
ব্যবসা আমাদের কাছে থেকে বাঁচাতে চাইলে এর জন্য মূল্য পরিশোধ করো।
এই জায়গাটা আমি চাই, বুঝতে পেরেছো?
আমি ড্রাগনকে এই জায়গার দায়িত্ব দিয়েছি।
তোমরা যদি এই জায়গাটা নিতে চাও, গিয়ে ড্রাগনের সাথে কথা বলো।
আমরা চাই তুমি আমাদের সাথে কথা বলবে, বুঝতে পেরেছো?
এইযে, অর্থ কড়ি কোথায়?
আরে, ফালতু, খুব ভাব দেখাচ্ছো?
কোন সাহসে তুমি আমার আস্তানায় এসেছো?
এটা তোমার আস্তানা?
তোমার মতো একজন অপদার্থ কিভাবে এই জায়গা নিয়ন্ত্রণ করে?
তোমাকে পিটিয়ে হাড়গোড় ভাঙার আগে ভাগো এখান থেকে। যাও!
তোমাকে দুটো রাস্তা দেখাচ্ছি।
সহজটা নাকি কঠিন টা বেছে নেবে?
যদি আমি তোমাকে কোনও পছন্দ না দেই, তাহলে তুমি কি করতে পারবে?
কে এখন ক্ষতিগ্রস্ত? তুমি নাকি আমি?
ভালো লেগেছে তোমার? মজা পেয়েছো?
এর পর আবার এমন করতে এসো না, কেমন?
পুলিশ!
তোমার দাদারা আসছে!
মাত্র ৫ বছরে, কে.এলে অনেক পরিবর্তন এসেছে।
আরে, বাদ দাও তো।
মালয়েশিয়া একটি উন্নত দেশ, অবশ্যই সেখানে অনেক পরিবর্তন হয়েছে।
একদম আমার মতো, আগে যেমন ছিলাম। তারা আমাকে ফাদিল বলে ডাকতো।
এখন তারা আমাকে ডাকে, আবাং লং দিল। আবাং লগ ফাদিল।
হ্যাঁ ঠিক আছে!
আমাদের কি এখনো লোকজন আছে?
আমাদের বেশিরভাগ লোক চলে গেছে।
শুধু আজেব যায়নি।
কিন্তু আজেব এখন আর শার্কের হয়ে কাজ করে না।
সে ড্রাগনের পক্ষে কাজ করে।
তাকে দোষ দিতে পারি না, ঠিক আছে?
সেও চিন্তিত যে সে তোমার মত শিকার হবে। শার্কের শিকার!
আজকাল শার্ক কি করছে?
শার্ক? ওই জারজটি?
ওর সম্পর্কে বলতে ঘেন্না লাগে।
সে চারিদিক অর্থ ছিটাচ্ছে।
সব জায়গায় নিয়ন্ত্রণ করতে চায় সে। তাকে ধিক্কার!
তাকে বসের মতো থাকতে দাও, যতক্ষণ সে খুশি থাকতে পারে।
দেখ, কিং, তোমার আর আমার ভেতর সমস্যা নেই।
তিন বছর হয়ে গেছে তোমার সাথে ব্যবসা করছি।
সমস্যা নেই।
তোমার ছেলেরা আমার ব্যবসায় বাঁধা দেয় কেনো?
টনি। বস।
এখন থেকে তুমি আমার দলে।
কিং এর দলে।
তুমি যে এখানে ব্যবসা করতে পারছো, এইতো বেশি।
তুমি আর কি চাও? এখনও যথেষ্ট না?
আমি জানি। কিন্তু আমি ইতিমধ্যে তোমার বাবা কে অর্থ দিয়েছি।
তোমাকে আবার কেনো দিতে বলছো?
তুমি কি পরিশোধ করেছো?
কত দেইয়েছো তুমি? এক মিলিয়ন?
দুই মিলিয়ন?
কিছুই না।
আপনি লক্ষ লক্ষ বানাচ্ছো।
আর কতো টা পরিশোধ করেছো?
যথেষ্ট না!
এবার বলো, তুমি এখানে ব্যবসা করে কি না?
যদি না হয়, তুমি অন্য জায়গায় ব্যবসা করতে পারো।
এখানে তামাশা করো না।
তা না হলে এখান থেকে আর বের হয়ে যেতে পারবে না।
তুমি এখানে সমস্যা সৃষ্টি করেছো, আর এখন একথা জিজ্ঞেস করছো।
-এটা তোমার আস্তানা? -কি চাও তুমি?
-আসো লড়াই কড়ি! আসো। -আসো দেখি।
-চলে আসো! -ভাবছো তোমাকে ভয় পাই?
ঠিক আছে, টনি আমরা এর সমাধান করবো।
আমি কথা দিচ্ছি,
আমার লোকেরা তোমাকে ছেড়ে দেবে।
আমরা আগের মতোই ব্যবসা করবো।
দুঃখিত, কিং, আমি আর তোমার সাথে ব্যবসা করতে চাই না।
এরই মাঝে আমি অন্য একজনের সাথে ব্যবসা শুরু করেছি।
-কার সাথে? -ড্রাগন।
সে এখন আমার সব কিছু দেখছে।
এখন কি হবে?
তুমি কি আমাকে আরও যন্ত্রনা দিতে চাও?
শার্ক এখনো তোমার উপর ক্ষেপে আছে।
তুমি তার গ্রাহক নিয়ে নিয়েছো।
তাতে আমার কি? সেটা আমার সমস্যা নয়।
সে তার ক্রেতাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে।
তাকে মুখোমুখি হতে হবে।
কিন্তু তোমার মনে রাখতে হবে,
তুমি এই দল থেকে চলে গেছো।
যদি কিং একবার এদিকে আসে,
তোমাকে স্মরণ করতে হবে যে সে কতোটা শক্তিশালী।
কিং এর লোকদের কি হবে?
আজকাল তার সৎ ছেলে ঝামেলা করছে।
সে আমাকে কিছু করতে পারবে না।
পাশাপাশি, শার্ক ইতিমধ্যে অন্য লোকেদের জায়গা নিয়ে নিয়েছে।
এখন আমি তার জায়গা দখল করবো।
এবার আরও বেশি মজা হবে।
তুমি কি ভয় পাচ্ছো?
এতো ছোট জিনিস আমার না, ড্রাগন।
এমনকি তাদের দশজন আমাকে কিছুই করতে পারবে না।
কিন্তু যদি সে তোমাকে স্পর্শ করে, আমি তাকে মারবো।
মজা পাচ্ছো, বন্ধুরা?
-এখানে। -ধনী হয়ে যাচ্ছো নাকি?
তুমি নিশ্চয়ই ড্রাগনের অর্থ নিয়ে যাচ্ছো।
আমাকে বেঁচে থাকতে হবে। ভালো কাজ করতে হবে আমাকে।
-অন্যদের তোমাকে অতক্রম করতে দিও না। -তুমি কি পাগল?
ড্রাগন জানতে পারলে, তুমি মারা পড়বে, জায়ি।
এতো ভাবছো কেনো?
কিসের শব্দ?
তোমার কিছু করার থাকলে, করতে পারো,
তুমি চুপ করলে ভালো হয়।
ড্রাগনের কি পরিমাণ অর্থ আমরা নিয়েছিলাম?
ড্রাগন যদি জানে,
আমাদের মেরে ফেলবে, জায়ি।
আমি তোমাদের কাছে জানতে চাই। কতটা ধনী সে হয়েছে?
এতটুকু নিলে, সে গরিব হয়ে যাবে না।
সে কতটুকু দিলো সেটার উপর যদি আমরা ভরসা করে বসে থাকি,
তোমাদের সবাইকে বালু আর সামুদ্রিক শ্যাওলা খেয়ে থাকতে হবে।
আমি মাছ এবং চিপস খেতে চাই।
তুমি কি জানো, কি করেছো?
তুমি আমার টাকা নিয়েছো!
শার্ক আমাদের জন্য এটা করেছে, কিং এর জন্য!
নিশ্চিত হলাম যে সবাই তোমাকে ভয় পায়।
মজা করার জন্য নয়, কিন্তু তুমি অনেক নরম হয়ে গেছো।
তুমি অন্যদের অনেক সুযোগ দাও।
কিভাবে তারা তোমাকে ভয় করবে?
কে কতো অর্থ দেবে, সেটা বলার তুমি কে?
আমি এখানে শো চালানোর করি!
তোমাকে ধন্যবাদ, আমি আমার সব ক্ষেত্র হারিয়েছি।
কষ্ট পাবার দরকার নেই।
পরে অবস্থা আরও খারাপ হবে।
তোমাকে কথা দিচ্ছি বাবা, সব জায়গা আমি আবার ফিরিয়ে আনবো।
দরকার নাই, ড্রাগনকে সব নিতে দাও।
এসব আর আমাদের নেই।
শুধুমাত্র তুমি আমার সৎ ছেলে দেখে, যা খুশি তাই করতে পারো না!
No comments yet. Be the first to leave one.