نخستین 200 خط.
আপনাদের সকলের প্রতি বিশেষ আহবান, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে আপনারা যে যেভাবে পারেন বন্যার্তদের সহায়তা করুন।
- ভালো লাগছে, না? - খারাপ না।
ওটা দেখান তো, প্লিজ।
দিদি।
শাড়ি লাগবে।
ওদিকে গিয়ে দেখুন।
দয়া করে আপনি আসলে ভালো হতো।
- এটা? - ভালো মানাবে।
ওটাও দাও।
এটা গায়ে জড়িয়ে দেখান।
নিজে তো বেকার আমার চাকরিও খাবে?
চাকরির জন্য তো চেষ্টা করছি।
আমি তো বলিনি চেষ্টা করছ না।
অন্য কেউ আমাকে বিয়ে করে নিয়ে গেলে তারপর অভিযোগ করতে এসো না।
তাহলে তার খবর আছে।
আচ্ছা!
এখানে শান্তির খোঁজে এসেছি...
এখন তুমিও শুরু করেছ!
এটা পছন্দ হয়েছে, স্যার?
সুপার।
সুপার?
দাম জানতে চায়বেন না স্যার?
না।
আমার জন্য নেওয়ার পরিকল্পনা নেই, তাই না?
রাখো।
শেষ!
ভাগো।
হাসুন, প্লিজ।
আরেকটু...
ঠিক আছে...
আপনি প্লিজ তার পাশে বসুন।
- ঠিক আছে? - ঠিক আছে।
আরো কাছাকাছি, প্লিজ।
সুন্দর। এবার কাঁধে হাত রাখুন।
রাখবো?
এবার অন্য হাত দিয়ে হাতটা ধরুন।
এখন, একে অপরের দিকে তাকান।
এভাবেই থাকুন। আপনারা হাসুন প্লিজ।
কাঁদছ কেন? সেও তো আমার মেয়ে।
ওর কোন সমস্যা হবে না।
চার দিন পর আমাদের সাথে দেখা করে যাবি, ঠিক আছে?
- বাই, লীলাম্মা। - ঠিক আছে।
বিদায়, মা।
:::ULLOZHUKKU::: © আরুশ আরিয়ান।
মা...
যাও আমার ওষুধগুলো নিয়ে আসো।
ডাক্তার দেখিয়ে তারপর চলে যাবো।
যাওয়ার সময় দুজনের ওষুধ একসাথে নিলে ভালো হয় না, মা।
এখানো ওর টেস্ট শেষ হয়নি।
আপাতত এগুলো কিনে আনো।
- থমাস্কুটি... - হ্যাঁ, আসো...
আসো...
ম্যাথু... ৯০ টাকা।
লীলাম্মা... ৬০০ টাকা।
নিন।
খুচরো নেই?
খুচরো নেই।
খুচরো করে আনুন প্লিজ?
দেখছি।
৬০০ টাকা।
ভালো আছো?
তোমার মা কেমন আছে?
ভালো।
আঞ্জু...
একবার ফোন করতে পারব?
এই না, না। দাড়াও...
ধীরে, ধীরে...
বাবার ঘড়ি নিয়ে সে পালিয়ে যাবে না।
খুলো।
মা, সেই মেয়েটা।
হ্যালো...
পরে ফোন করব...
না, দেখে পরে ফোন করব।
বেশি গরম হলে বলো।
ঠিক আছে?
মা!
মা...
আসছি।
মা...
কী? কী হয়েছে, বাবা?
- ধরো মা। - হ্যাঁ, হ্যাঁ।
ওষুধ দাও।
কিচ্ছু হবে না, বাবা।
আমাকে দাও।
বাবা, আস্তে আস্তে উঠো।
ধীরে, ধীরে।
হা করো।
হা করো।
শুইয়ে দাও, মা। ধীরে, ধীরে।
না, না...
ব্যথা কমে গেছে, মা।
থমাস্কুট্টি ঘুমিয়ে পড়েছে।
ওহ!
তুমিও ঘুমাও গিয়ে মা।
তুমি গিয়ে ঘুমাও, মা।
আমি এখানে একটু বসবো।
তার তো প্রায় এমন সমস্যা হয়, না?
এতো চিন্তা করছো কেন?
চিন্তা কেন করছি?
ডাক্তার হতে চেয়েছিলাম।
স্কুলেও ভালো নম্বর ছিল।
কিন্তু পরিবারের অনুমতি ছিল না।
১৯ বছর বয়সে, আমার বিয়ে দিয়ে দেয়।
আমার বয়স ২১ যখন শিবার জন্ম হয়েছিল...
...আর ২৩ বছর বয়সে থমাস্কুট্টি।
তারপর থেকে স্বামী আর সন্তানরা আমার পৃথিবী।
বাড়িটা খুব প্রাণবন্ত ছিল।
সর্বদা কোলাহলপূর্ণ!
আর তারপর, যখন বাচ্চারা দুজনই কলেজে...
...এমনই এক বর্ষায়...
...হঠাৎ করে আমার স্বামী চলে যায়।
এরপর থেকে শুধু আমি আর আমার সন্তানরা।
আমি একা ওদের বড় করেছি।
শিবাকে বিয়ে করানোর পর...
...নিজের পরিবার নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে যায়।
আমি আর আমার ছেলে তখন একা হয়ে গিয়েছিলাম।
আমার মনে হয়...
...ওপরওয়ালা আমার সুখ সহ্য করতে পারেন না।
এখন, আমার ছেলেও...
ওর খুব কষ্ট হচ্ছে।
যদি ওর কিছু হয়ে যায়...
...সহ্য করতে পারব না।
মা...
এমন চিন্তা করো না।
অসুস্থ হয়ে যাবে, মা।
প্রভু!
আরেক বার।
শেষ...
সমস্যা নেই।
মা যখন ওষুধ দিবে, চুপচাপ খেয়ে নিও।
আমি সন্ধ্যা নাগাদ ফিরব।
আজ কী যেতেই হবে, মা? বৃষ্টি হচ্ছে।
কী করব? যে কোন সময় পানি বাড়তে পারে, মা।
- খেয়েছো? - না। ফেরির সময় হয়ে গেছে।
ঠিক আছে, বসে খাও।
একটা।
সত্যানকে ওষুধ আনতে বলে এনে দিবে না?
দরকার নেই।
আর কিছু লাগবে না, মা?
দরকার নেই।
আমি সত্যানকে বলে দেখব।
নাহয় তোমার কষ্ট করতে হবে।
নাও।
- আর একটা নাও। - না, মা। সময় নেই।
আস্তে-আস্তে খাও।
প্রেপসিকশন কোথায়, মা?
আমার রুমের শেলফের ভিতরে।
ওখানে রেখে যাও।
আসছি, বাই।
মা... ওটা নয়।
খুঁজে পাবে না, আমি দিচ্ছি।
এখানে একটা কাগজ ছিল। হ্যাঁ, নাও।
- এটা? - হ্যাঁ।
ঠিক আছে, মা।
ফেরি ছেড়ে দিচ্ছে, তাড়াতাড়ি।
দাড়াও, দাড়াও...
তারাতাড়ি।
আসো।
রাজীব...
নাম: রাজীব।
বয়স: ৩৪।
সেক্স...
এটা কী?
- জানো না? - যাও চা বানাও।
ড্রাইভিং লাইসেন্স...
ঠিকানা...?
ঠিকানা কী দিবো?
রাজীব...
ঠিকানা কী দিবো?
হাঁসের মাংস খাবে?
এই, রসিকতা করছি না।
নতুন আইটেম, হাঁসের মাপ্পাস।
তাহলে তুমিই পূরণ করো।
ফুড-ট্রাক সেট আপ করার চেষ্টা করছি, এখন এসব কাজের জন্য সময় নেই।
সবসময় এমনই বলো।
ঠিক আছে, তাহলে। ঠিকানা এটাই দাও।
কি আর করার...
ভালো একটা বাড়ি খুঁজে মা'কে এখানে নিয়ে আসতে হবে।
আমাকে নিয়ে আসবে না?
তোমাকে ছাড়া তা কখনো পূর্ণতা পাবে না?
আমি প্রতিদিন এমনটা চাই।
মানে তোমার রান্না করার পরিকল্পনা নেই?
প্রবল বৃষ্টি পাতের কারণে কুত্তানাদ প্লাবিত হয়েগেছে।
বৃষ্টি এখনো কমেনি বরং আরো ভারী হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
নিচু এলাকার স্কুল এবং বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।
জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।
বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এখানকার অবস্থা আরো খারাপ হবে।
অতিশিগ্রই সাবাইকে ত্রাণ শিবিরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বাবা...
এই বন্যায় কি এখানে থাকা উচিত হবে?
কয়েকদিনের জন্য শিবাদের ওখানে গেলে ভালো হতো না?
- না মা। - কী বাবা?
- এখানেই থাকবো। - থাক তাহলে দরকার নেই।
তবে একটু ভেবে দেখ।
মা, দেখো তো ওর চেক-আপের সময় হয়েছে কিনা।
কী?
না, আরো দুই সপ্তাহ পর, মা।
বাবা আঞ্জু কোথায়?
এটা রেখে আসছি, ঠিক আছে?
কোথায় ছিলে, মা?
No comments yet. Be the first to leave one.