نخستین 200 خط.
পর্বঃ- ০৪ যে কারণে তুমি মৃত্যুকে ভয় পাও
বাচ্চাটার মা কোথায়?
আমার সোনা।
দুঃখিত।
দুঃখিত।
আমি দুঃখিত।
আমি দুঃখিত।
আমি দুঃখিত।
আমি দুঃখিত।
আমার টাকা।
আমার দশ বিলিয়ন ওন।
এই মহিলাটা নিশ্চই বাচ্চাটার মা হবে।
উত্তরটা ছিলো "১৯ নভেম্বর, শিশু নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য বিশ্ব দিবস।"
তুমি জানো যে প্রত্যেক পাঁচ মিনিটে...
পৃথিবীর কোনো না কোনো জায়গায় নির্যাতনের জন্য একটা বাচ্চা মারা যায়?
তুই শান্ত হয়ে ঘুমাস না কেনো?
তোর জন্য আমি এক কাপ কফি পর্যন্ত খেতে পারিনা বাল!
ওর কী হয়েছে?
- এসে গেছ? - খাওয়াও তাকে।
তুমি শুয়ে আছো কেনো?
এখন তোমার খাওয়ার পালা।
যাক, ঈশ্বরের কৃপায় বাবাকে ভালোই মনে হচ্ছে।
আরে, তোমার বউ একটা উন্মাদ মহিলা।
- জানো সেটা? - এ কি?...
এটাতো চার মাস আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে।
সমস্যা নেই। বাচ্চা মরবে না।
ঠিকই বলেছো।
এমন তো না যে খাওয়া যাবে না।
এদের হয়েছেটা কী?
এই নাও স্বাদের খাবার।
- অনেক মজা। - আমি খাবো না!
আমি খাবো না!
মজা করিস নাকি?
মুখ থেকে বের করা বন্ধ কর, বাল!
আমি বাসায় থাকলে একটু আরাম করতে পারিনা কেন, শালা?
মাথা খেয়ে ফেলছিস!
পুলিশ এখানে কী করছে?
কী? পুলিশ?
পুলিশ এসেছে?
আমি শিশু নির্যাতন অভিযোগের জন্য...
"শিশু সুরক্ষা সেবা"র হয়ে সাথে এসেছি।
কী? শিশু নির্যাতন?
কীসের অভিযোগ?
শিশু হাসপাতাল থেকে...
অভিযোগ করলো যে তারা বাচ্চার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখেছে।
কী?
আমাদের একবার দেখতে হবে।
দেখি, সরুন।
এখানে।
তারা এসব বললো কেনো?
আমি আপনার বাচ্চাকে দেখবো।
আমার বোধহয় পাঁজর ভেঙ্গে গেছে।
হৃত্পিন্ডেও খুব জোরে আঘাত লেগেছে।
সোনা।
তারা আমাদের উপর এরকম সন্দেহ কীভাবে করতে পারে?
আমারা আমাদের নিজেদের বাচ্চাকেই মারবো নাকি?
কিম সেওক-জ্যে ন্যাশনাল সেন্টার ফর চাইল্ড ওয়েলফেয়ার
আমি নিজেও শিশু কল্যাণ সংস্থায় কাজ করি।
নিশ্চই কোনো ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে।
আমরা এখানে শুধু দায়িত্ব পালন করতে এসেছিলাম।
হ্যাঁ, মন খারাপ করবেন না।
হ্যাঁ।
পরবর্তী বাসায় চলুন।
না, আপনারা যেতে পারেন না।
বাপরে, ওর কান্নার গলা অনেক বড়।
তুমি তোমার মাকে প্রচুর প্যারা দিবে।
দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন!
সাহায্য করুন!
অসুবিধা দেওয়ার জন্য দুঃখিত।
আমি পুলিশকে ডাকার মতো কী করেছি?
তুই নিজেকে কী ভাবিস?
জানিস তো কী?
তুই জন্মের পর থেকে আমার কিছুই ভালো হচ্ছে না।
সব তোর দোষ।
অনুবাদ ও সম্পাদনায় সুশান্ত চক্রবর্ত্তী সৌমিক
ঐ বাচ্চাটার সময় কোনো স্মৃতি গোলক ছিল না কেন?
কারণ তার...
স্মৃতি বা যোগ্যতা ছিলো না।
শিশুটাকে কেউ নাম ধরে ডাকার আগ পর্যন্ত...
আমি ওর নামটাও জানতাম না।
এরকম মা-বাবা কীভাবে হতে পারে?
- যদি তারা মা-বাবা হয়, তাহলে তাদের... - তাহলে তাদের কী?
জীবনে কেউ কিছুর নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
তুমি শুধু সবকিছু আগে থেকেই ভেবে নিচ্ছ।
তুমি জীবনের কোনো পরোয়া না করেই মৃত্যুকে বেছে নিয়েছিলে,
কিন্তু ওই বাচ্চাটা,
কোনো কিছুই বাছাই করতে পারলো না।
পৃথিবীতে এরকম আরও অনেকে আছে।
ধ্যাৎ!
বাল।
আচ্ছা।
আমাকে দ্রুত গুলি করো!
ভাবছি তোমার এত ব্যস্ততা কীসের?
গুলি করো!
মানুষ একমাত্র মৃত্যুর পরেই বাঁচার জন্য কষ্ট করে,
বেঁচে থাকতে না।
গুলি করো আমাকে।
আমাকে শুনতে পারো, তাই না?
দিনশেষে আমি কী করছি তাতে তোমার কিছুই যায় আসে না।
ঠিক বলেছো।
তুমি কী করছো তার আমি তোয়াক্কা করি না।
কী?
কেনো?
তোমার এতদূর কাজকর্ম দেখে বোঝা যাচ্ছে,
তুমি যতই কষ্ট করো না কেনো পরিশেষে মারাই যাবে।
কিন্তু তুমি কখনো যদি কাউকে হত্যার চেষ্টা করো,
আমি সেখানে হস্তক্ষেপ করবো।
আমার সাথে কীজন্য এসব করছো?
আমি কাউকে কেনো হত্যা করবো?
সেটা কখনোই হবে না,
তাই, আমার পরবর্তী জীবনে যাওয়া যাক।
অবশ্যই। যদি তুমি এভাবেই মরতে চাও।
প্রথমে আমাকে টাকা খুঁজে বের করতে হবে।
আজকের তারিখ কত?
আমার ফোন কোথায়?
এই তো।
৬ এপ্রিল, রাত ৮:৪৫?
তাহলে টাকা ১৫ মিনিটের ভিতর খোয়া যাবে।
আর আমি আছিটা কোথায়?
দুঃখিত।
দুঃখিত।
না, ঠিক আছে।
ধ্যাৎ!
থামুন!
একমিনিট দাঁড়ান।
প্লিজ অপেক্ষা করুন। আমার জিনিস বের করতে হবে।
১, ২, ০, ১।
আমার এটা।
ভালো করে কাজ করুন।
একটুর জন্য।
তুই তো সেই হ্যান্ডসাম।
এক মিনিট।
আমার কন্ঠস্বর এত কুল কেনো?
এই লোকটা...
নিশ্চই মডেল হবে।
আসো।
আমার নাম জাং গ্যেয়ন-উ। ২৪ বছর বয়স।
- শুভ জন্মদিন, গ্যেওন-উ! - ছোটবেলা থেকেই...
চেহারার জন্য সবাই আমাকে পছন্দ করতো।
আমি প্রায় মেয়েদের ক্রাশ থাকতাম...
যে মেয়েরা অনেক ছেলেরই ক্রাশ থাকতো।
আমার চেহারার সুবাদে টাকা খুব সহজেই আসতো,
এবং টাকা রুজির জন্য মডেলিং করার সময় লক্ষ্যহীনভাবে জীবনযাপন করেছি।
তার টাকার সাথে সাথে ভালো চেহারাও আছে।
ওয়াও!
সোনার!
ছেলেটার বেশ ভালোই টাকা আছে বটে!
বাপরে!
পাঁচ মাসের শিশুকে মৃত পাওয়া গেছে! মা-বাবা নির্যাতনের জন্য গ্রেফতার
তাহলে নির্যাতন এবং খুনের খবরটা জনসম্মূখে এসেছে।
ভাবছি কত বছরইবা ওরা জেলে থাকবে।
ইশ, যদি পুলিশের কাছে গিয়ে তাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিতে পারতাম।
রাস্তার কীট কতগুলা।
"সিরিয়াল কিলারের বৃদ্ধি।"
"অগ্নিকান্ড"
"সড়ক দূর্ঘটনা।"
আমি ভাবছি এই লোকটা মারা যাবে কীভাবে?
অগ্নিকান্ডে?
সড়ক দূর্ঘটনায়?
হয়তো সে বেশি অসুস্থ।
ধুর, কী প্যারা রে ভাই।
"সেওক-জিন।"
তুই কে ভাই?
- হ্যালো? - তুই আসছিস, তাই তো?
কোথায়?
আর কোথায়? আজ রাতে যে ভিআইপি পার্টিতে আমাদের যাওয়ার কথা ছিলো।
- ভিআইপি পার্টি? - হ্যাঁ।
জলদি আয়।
আজ মনে হয় কোরিয়ার সব কচি মেয়েগুলো একত্রিত হয়েছে।
কচি মেয়ে?
হ্যাঁ, এসব মরার চিন্তা বাদ দিয়ে...
আমার পার্টিতে যাওয়াই ভালো হবে।
ঠিক আছে। আমি এখনই আসছি।
কথায় আছে জীবন একটাই।
- চিয়ার্স! - চিয়ার্স!
সাধারণত আমি এর থেকে বেশি ড্রিঙ্ক করতে পারি।
হেই।
একটু খেলেই যখন মাতাল হয়ে যাস তাহলে এত খাচ্ছিস কেনো?
আমি?
চিন্তা নাই।
ধ্যাৎ।
আজ যে পার্টি দিচ্ছে সে এখানে এসেছে।
যদি ওকে ইমপ্রেস করতে পারিস,
তাহলে তুই ত্যেকাং এর হয়ে মডেলিং করতে পারবি।
- ত্যেকাং? - হ্যাঁ।
আজ রাতের পার্টির হোস্টকে উপস্থিত করা হচ্ছে,
সিইও পার্ক ত্যে-উ।
স্যার।
দেখা হয়ে ভালো লাগলো।
- অনেকদিন দেখা হয়নি। - সে আমার বন্ধু।
সে একজন মডেল।
- তাই নাকি? - হ্যাঁ, স্যার।
দেখতে অনেক হ্যান্ডসাম।
এক মিনিট।
আমাদের পূর্বে সাক্ষাৎ হয়েছে।
আসলে,
জানি না।
আমার মনে হচ্ছে...
দেখা হয়েছে।
মনে হচ্ছে মাতাল হয়ে গেছেন।
No comments yet. Be the first to leave one.