نخستین 196 خط.
: . : . : P O A C H E R : . : . : ~~~ S01 E06 ~~~ THE JUNGLE
এই আরুকু।
তোকে ভালো দেখাচ্ছে না।
- একদম যাচ্ছে তাই লাগছে। তুই ঠিক আছিস? - ভালো আছি, স্যার।
হ্যাঁ, তাই তো। তোকে ভালোর চেয়েও বেশি কিছু লাগছে। নেশা চড়ে গেছে, উঠে পড়।
এগুলো আসল রাজহাঁসের পালক।
হতেই পারে না। ব্রিসলগুলো দেখ...
এগুলো খুব শক্ত নয়তো খুব নরম।
আর আমি বুঝলাম, এগুলো আমার কাছে থাকা তুলিগুলোর মতো না।
- নকলগুলো বিক্রি করছিস কেন? - ওকে মিথ্যাবাদী বলছেন আপনি?
আগামী সপ্তাহে আমার ক্যানভাসগুলো ডেলিভারী দিতে হবে।
নকল ব্রিসলের কারণে এগুলোর মানও খারাপ হয়েছে।
আমি নিজে রাজহাঁস ধরব?
পোয়্যা, না।
পাগল হয়ে গেছিস তুই।
ছাড় ওকে!
পাগলের দল!
শোন, বাসায় যাবি না?
একটা চুমুক, স্যার।
চলো।
- ওকে সত্যিই মেরে ফেলতি না কি? - নকল তুলি বেচেছিস ওর কাছে?
- আরুকু, তাই না? আমরাও যোগ দিই? - আমি সাধারণত একাই বসি।
কোত্থেকে আসলে? যা-তা অবস্থা একদম।
আগুন জ্বালানোর কাজ করি। (এই আগুন বন রক্ষার্থে লাগানো হয়তো, ভুল হলে ঠিক করে দিবেন।)
আগুন জ্বালানোর সময় সাবধান হওয়া উচিত।
আর একবার সাফ হয়ে গেলে সেটা নেভাতে হয়।
- রোজ করো? - শুকনো মৌসুমে, হ্যাঁ।
বাহ! সারাদিন আগুনের পাশে থাকো তৃষ্ণাও পায় নিশ্চয়ই।
আমার বন্ধুকে একটা বোতল দাও।
খাও...এক চুমুকে শেষ করো।
এই, আরেক রাউন্ড!
আরও আগে তোমার সাথে বসা উচিত ছিল। কখনো বুঝতেই পারিনি তুমি এতো রসিক মানুষ।
পারতে, এখানে কয়েক বছর ধরে আসছি আমি।
আচ্ছা, বাই, গুড নাইট।
আরুকু, বন কতটা চেনো তুমি?
কয়েক দশক ধরে কাজ করছি আমি।
ঘুমের মধ্যেও পথ চিনতে পারব। কিন্তু রাজও পারবে।
বনের প্রান্তে থাকে ও।
কিন্তু বনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন আর আমাদের কেউই এটা ভালো করে চেনে না।
তোমার প্রতিভার অপচয় হচ্ছে।
আগুন লাগিয়ে বন বাঁচানোর কাজ করেও তুমি সামান্য বেতন পাও।
সেই সামান্য টাকা দিয়ে বাড়ি ভাড়া মিটিয়ে পরিবারকে খাওয়াতেও হিমশিম খেতে হয়।
হাতি কোথায় আছে জানো?
ওদের চলার পথ, ওরা কোথায় সময় কাটায়,
সব চিনি আমি, কিন্তু ওসব জায়গায় পৌঁছানো ততটা সহজ না।
মাঝেমধ্যে আমি ওখানে থেকে ওদের দেখি অমায়িক একটা দৃশ্য।
ভাই, ওসব জায়গায় যাও কীভাবে?
নদী ধরে উপরে চলে যাও লম্বা পথ, একদিনের পথ।
ঐ এলাকাগুলো হাতি দিয়ে ভরা।
জঙ্গলও ওখানে ঘন, ঝোপঝাড়গুলো দেয়ালের মতো।
ছোটতে আমিও ওসব পথ চিনতাম।
কিন্তু এখন সব বেড়ে গেছে, রাস্তাগুলো মিশে গেছে।
ছাতার মাথা বন বাড়তেই থাকে।
- বনটার মাঝে প্রাণ আছে। - সত্যি?
- হ্যাঁ। - ভাই...
বাড়তি পয়সা কামাতে চাও?
আরামসে...আরেকটা নাও।
নাও।
- কে? - জানি না।
কী করছ এখানে?
আগামী সপ্তাহে যাব ভেবেছিলাম।
আজকে...
এগিয়ে নেয়া হয়েছে।
পোয়্যা কোথায়?
দেখা পেলাম না।
মালপত্র নিয়ে আসো।
চলো।
- এই... - কী?
বনে যেতে হবে আমাকে। এক সপ্তাহের মধ্যে ফিরে আসব।
এক সপ্তাহ? কোথায় যাচ্ছ? আমাকে বলোনি কেন?
ভুলে গিয়েছিকাম।
পোয়্যা, ওঠ!
পোয়্যা!
দেখ, মরছে হালা!
ওঠ!
কী হয়েছে?
- চল। - ওর মুখে পানি মার।
বস, বস, বস... এখানে।
- কী হয়েছে? - এসব ওর জন্য স্বাভাবিক।
রক্তমাখা হয়ে আছে।
আমার না, ঐ শিল্পীটার।
আর বিরক্ত করবে না তোকে।
ধেত...পোয়্যা। ওঠ, চল।
- মা যাবে আমাদের সাথে। - আচ্ছা।
দাঁড়া, বন্দুক নিয়েছিস?
- কী রে বাড়া? - বন্দুক লাগবে।
এখন?
জোকারের ওগুলো গতকাল নেয়ার কথা ছিল না? কোথায় সেগুলো, হ্যাঁ?
- ভেবেছিলাম আগামী সপ্তাহে হবে। - প্ল্যান বদলানো হয়েছে।
এখনই দে নয়তো দেয়ারই দরকার নেই।
নে।
গানপাউডার লোড করার জন্য একটা র্যামরড লাগিয়ে দিয়েছি।
নারিকেলের ছোবড়া...
পটাশ আর গানপাউডার।
সব আছে, নিয়ে নে।
তবুও অনেক ভারী এটা। ১০ কেজির মতো হবে।
.৩০৩ রাইফেলের মতো মনে হচ্ছে। যখন পরীক্ষা করার জন্য চালিয়েছিলাম, তখন বলেছিলি--
ব্যারেল ঠিক করার সময়ই দিসনি আমাকে।
তাড়া থাকলে এখনই নিয়ে যা নয়তো আমাকে আরও সময় দে।
ধুর, এটা দাঁত তোলার মতো হয়ে গেলো।
সবাই আমার বিরুদ্ধে কাজ করছিস।
দাঁত তোলার মতো...হাস্যকর।
একটা হাতির জন্য চওড়ায় ১০ আঙ্গুল সমান বারুদ ব্যবহার করতে হবে।
একটু কম হলেও ক্ষতি হতে পারে, মৃত্যু হবে না।
জানি আমি।
মনে আছে আমার।
কত পেতে তুমি?
প্রথমবার ৩০ হাজার পেয়েছিলাম। তারপর থেকে ৮৭ হাজার করে।
একটুও বিবেকে বাধেনি?
- আমার টাকার দরকার ছিল। - হুম, আর মদেরও।
কিন্তু তুই তো অতিরিক্ত কামাই ছাড়াই এতোদিন সংসার চালিয়ে আসছিস।
আমার বয়স হয়ে যাচ্ছে স্যার। বেশিদিন আর এই কাজ করতে পারব না।
ছোটরা এই কাজ করতে শুরু করবে।
পরিবারের জন্য কিছু জমিয়ে রাখব না?
আমি কেবল একজন কন্ট্র্যাক্টর ছিলাম, পেনশন নেই কোনো।
এও আন্দাজ করেছিলাম যে, বনের মধ্যে প্রায় ৬০০ হাতি আছে।
- তাই একটাকে মারলে তেমন কিছু হতো না। - ৬০০টা ছিল, এখন আর নেই।
ওদিকে।
হাঁটার সময় দেখে চলবে।
কেন?
এটা বন। চিতা আছে, সাপ আছে হাতি আছে সব ধরণের প্রাণী আছে।
এই জায়গাটা তোমার ভালো লাগে কেন?
বুঝলাম না।
বছরখানেক আগে, এই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে চোরা শিকার হতো।
বেশিরভাগ পুরুষ হাতিই মারা গিয়েছিল।
এই ৪ হাজার বর্গ কি.মি. এলাকায়, চিন্তা করো...
১০০ স্ত্রী হাতির জন্য একটা পুরুষ হাতি।
এই জায়গা তুই এতো ভালো চিনিস বিশ্বাসই হয় না আমার।
কনজার্ভেশনিস্টদের থেকে চোরা শিকারী আর সাধারণ শিকারীরা এই জায়গা ভালো করে চেনে।
- এই, জোঁক দেখে চলো কেমন? - স্যার, এগুলো কোলেস্টেরলের জন্য ভালো।
কোলেস্টেরল!
হয়তো ওর খাওয়াও শেষ।
- দৌড়াবো? - যদি মরার ইচ্ছা থাকে, তাহলে।
কাবাডিতে মাথা ফাটিয়ে মরার চেয়ে এভাবে মরা ভালো।
এখানে ক্যাম্প করুন।
এই, ধরবি না এটা।
দড়িটা ধর। আয়, আয়।
রাতের খাবার খুঁজছি আমি... পোয়্যা।
ভাল্লুক...ভাল্লুক।
- অজগরটা গাছ জড়িয়ে ধরে আছে দেখছিস? - হ্যাঁ।
- কিছু একটা হজম করছে। - ওহ।
রান্না করো এটা।
- কতদিন ক্যাম্প করেছিলি? - যতক্ষণ না শিকার হয়ে যাচ্ছিল।
৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগত।
হাতির পালকে খোঁজার জন্য আমাদের আস্তানা এখানে ছিল।
বন্দুক এখান থেকে কতদূরে আছে?
বন্দুক কোথায় পেয়েছিলি?
- বন্দুকের কারিগর বানিয়েছিল। - কয়েকদিন আগে ওকে গ্রেফতার করেছি আমরা।
খন্ড আকারে চালান দিতো ও আর তারপর সব একত্র করত।
আমার কাজ ছিল বারুদ মেশানো।
চেহারায় ক্ষতটা কীভাবে এসেছিল সেটা বলছিস না কেন?
বল, তোর নিজেরই কর্ম এটা।
চুপ কর বানচোত! তুই বলে দেয়াতে আমরা ফেঁসে গেছি।
থাম!
- আমি বলছি। - ভাগ!
ও বারুদ মিশিয়ে সেটা গরম করছিল।
বনে হাঁটার পর সেগুলো ড্যাম হয়ে যায়।
সাবধানে সেগুলোকে শুকাতে হয়।
ওখানে কতগুলো আছে?
মা গো! হায় ঈশ্বর!
ম্যাচ কেন ব্যবহার করবি হে?
তাড়া নেই, মেনে তো নিতেই হবে।
বারুদ কতগুলো ছিল জিজ্ঞেস করেছিলি কেন?
তাতে কার কী? আমাদের কাছে কয়েকবার গুলি করার জন্য যথেষ্ট আছে।
ভোরবেলা ফিরে ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাব।
- আমরা কোথাও যাচ্ছি না। - কী?
কাজের সময় দূর্ঘটনা হবেই ঝুঁকির ব্যাপারে আমরা সবাই অবগত।
পুরষ্কার ছাড়া এখান থেকে যাচ্ছি না আমরা।
আর কোনোকিছুর পরোয়া করি না।
- বাড়ি কোথায় তোর? - থুমপোংকাররা।
- চিনি না। - আমি চিনি।
ওখানকার প্রতিটা বাড়িতে অন্তত একজন চোরা শিকারী আছে।
জীবিকার জন্য শিকার করত তারা। এখন টহলের মাঝে ফাঁকা সময়ের অপেক্ষা করে।
অথবা আইন পরিবর্তনের যাতে তারা আবার শিকার করতে পারে।
পোয়্যা আর রাজও একই জায়গা থেকে এসেছে।
এসব জানেন কীভাবে?
আমার বাবা চোরা শিকারী ছিল।
আর আমি ছেলে হলে হয়তো আমিও তাই হতাম।
তার পরিবর্তে তোদের মতো লোকেদের ধরে বেড়াচ্ছি।
আর যদি আমার হাতে ক্ষমতা থাকত তাহলে তোদের সবাইকে পৃথিবী থেকে মুছে ফেলতাম।
- একটা সৎ চাকরি খুজতে পারিস না? - স্যার, কী এমন চাকরি পাব?
এই অফিসাররা কী করত বলে মনে হয় তোর?
শিকারিরাই সবচেয়ে ভালো কনজার্ভেশনিস্ট হয়।
কিন্তু এতে তো তোদের রক্তের নেশা কাটবে না।
- পৃথিবীকে শাসন করার উগ্র ইচ্ছা রয়েছে তোদের। - মালা!
এই।
- কোথায় যাচ্ছ? - কোথাও না।
- হ্যাঁ? - কোথাও না।
ভালো।
কারণ তুমি আমাদের ছেড়ে চলে গেলে আমাদের বের হওয়া কঠিন হয়ে যাবে।
কিন্তু আমরা হতে কোনোরকমে পেরেও যাব। আর তারপর তোমার বাড়ি যাব ঘুরতে।
তোমার বউ বাচ্চার সাথে দেখা করতে চাইব।
শিকারের সময় হয়েছে।
স্যার...
যাও যাও যাও! আওয়াজ দাও, চিৎকার করো।
যাও, ভাগো ভাগো।
No comments yet. Be the first to leave one.