نخستین 200 خط.
বাংলা সাবটাইটেলঃ শোভন
সেৎসু খনি, হিয়োগো ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দ (একাদশ মেইজি সাল)
তুমি কি নিশ্চিত যে, ও এখানে আছে?
আমরা দুই মাস ধরে তাঁর উপর নজর রাখছি,
ভুল হবার সম্ভাবনাই নেই।
সব হিসেব আজ এখানেই চুকিয়ে ফেলতে হবে।
সাবধানে থেকো।
এখানে!
কে তুমি?
থামো!
তুমি কি নরকে বিশ্বাস করো?
রক্তমাখা এ দুনিয়াকে
নরক বললেও ভুল হবেনা।
তুমি কি শিশিও মাকোতো?
যদি হই তো?
- সেটা তুমি ভালো করেই জানো! - কেটে ফেলো।
আআআআহ...
ওখান থেকে নড়বে না।
এই আর্তনাদ আমার কাছে বড় মধুর মনে হয়!
শুয়োরের বাচ্চা!
বলতো, আমি তোমাদের আসার খবর কীভাবে পেলাম?
শোগানের নতুন পুলিশবাহিনীর সদস্য সাইতো হাজিমে'র কাছ থেকে।
বিশ্বাসঘাতক...
শোগানের শাসনামলের কথা তো আমাদের দু'জনেরই মনে আছে।
তাহলে তুমি কি এই নতুন শাসন ব্যবস্থায় খুশি?
নতুন সরকারের এই উর্দি খুলে ফেলো।
আমার সাথে যোগ দাও।
আমরা এদেশে আবার সেই হারানো অতীত ফিরিয়ে আনবো।
আমি কারো হুকুমের গোলাম নই।
তাই নাকি?
তবে তাই হোক।
শিশিও!
মানুষের জন্মই হয়েছে খুনোখুনি করার জন্য।
- আর এই পৃথিবী তো একটা নরকই! - শিশিও!
KYOTO INFERNO রুরৌনি কেন্শিনঃ কিয়োতোর নরকাগ্নি
কিয়োতোতে অরাজকতা চলছেই!
শোগানের পুলিশরা কি করছে?
তাইতো!
তাঁরা ঝামেলা না কমাতে পারলেও অন্তত ঝামেলা না বাঁধিয়ে তো থাকতে পারে!
এসো আমার সাথে।
কে ওখানে?
এসে গেছে!
কে তুমি?
গাল কাঁটা!
আমার নাম...
তোমরা মুখেও নিতে পারবে না।
আমি কিয়োতো'র পথে ঘুরে বেড়াই
আর নতুন যুগের স্বপ্ন দেখি।
আমি ভয়ংকর খুনি বাক্কিউসাই।
হ্যাঁ, আমিই সেই!
কত্তবড় সাহস!
আমি তোকে দু' টুকরো করে ফেলবো!
মারো ওকে!
ওই বাত্তোসাই নামের লোকটা ভিলেন কেন?
"বাত্তোসাই" না, বাক্কিউসাই হবে।
বাক্কিউসাই?
মারো!
তুমি তো এখন একজন কিংবদন্তী হয়ে গেছ, "বাত্তোসাই।"
"মনকে প্রাণবন্ত করে তোল"
এগিয়ে যাও!
নিজে আগে আঘাত করার চেষ্টা করবে!
দেখেশুনে মারো! আরো জোরে!
চিৎকার করে আঘাত করো!
- আমরা চলে এসেছি। - হ্যাঁ, আমরা এসে গেছি!
স্বাগতম।
গুরুজি!
আপনি আমাদের প্রশিক্ষণ দেন না কেন?
আপনার জন্যই তো আমরা এখানে এসেছি!
শান্ত হও!
আমি এখানে বেড়াতে এসেছি।
তোমাদের তলোয়ার প্রশিক্ষণ দিতে নই।
কিন্তু...
তাছাড়া তলোয়ারের মর্মবাণী কেবল যুদ্ধই নয়।
দেখো, এই 'কামিয়া' প্রশিক্ষণশালার মূলমন্ত্র হচ্ছে "মনকে প্রাণবন্ত করে তোল"।
আর এখন থেকে তোমাদের এই মূলমন্ত্রেই দীক্ষিত হওয়া উচিৎ।
মারামারি শিখতে চাইলে আমি তোমাদের শেখাতে পারি!
আমি বেশি বেতন নেবো না।
- আচ্ছা, আচ্ছা! - কি, শিখবে?
কোথায় যাচ্ছ?
কি হল, মারামারি শিখবে না?
ওদেরকে তোমার কিছু তলোয়ারের কৌশল দেখিয়ে দিলেই পারতে।
ওসব করে এই শান্তিপূর্ণ সময়টাকে অশান্ত করে দিতে চাই না।
- কেন্শিন! - আরে, মিস মেগুমি দেখছি!
হেই মেগুমি, হাসপাতাল কেমন চলছে? ভালো আয়-রোজগার হচ্ছে তো?
ডাক্তাররা কখনো রোগীদেরকে আয়-রোজগারের মাধ্যম ভাবে না, বুদ্ধু কোথাকার!
- আমি খাবারের বন্দোবস্ত করি গিয়ে। - দাঁড়াও, কেউ একজন এসেছে।
আপনি কি, মিঃ হিমুরা?
আপনার জন্য কি করতে পারি?
আমি পুলিশ সুপার কাওয়াজি।
আপনার সাথে একজন কথা বলতে চায়।
আপনি কি আমাদের সাথে আসবেন?
হেই, আমরা এখন খেতে বসবো।
আপনাদেরকে এই অসময়ে কে পাঠিয়েছে?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওকুবো তোশিমিচি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবার কি জিনিস?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হচ্ছেন সরকারের অনেক বড় একজন কর্মকর্তা।
যেওনা ওদের সাথে, ঝামেলায় পড়বে।
হেই...
ও গেলে, আমিও যাবো ওর সঙ্গে।
আমি সরকারী লোকদের বিশ্বাস করিনা।
ঠিক আছে, চলো তাহলে।
বেশি দেরি করবো না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ভেতরে ঢোকার অনুমতি চাইছি।
বহুদিন পরে দেখা হলো, মিঃ ওকুবো।
অবশেষে আবার দেখা হলো।
তুমি চেনো একে?
এবার আসল কথায় আসি।
কি সেটা?
শিশিও কিয়োতোতে বসে হামলার পরিকল্পনা করছে।
শিশিও! শিশিও আবার কে?
তাঁকে বাত্তোসাই এর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছিলো।
মানে?
বাত্তোসাই চাকরি ছেড়ে দেবার পর, ওকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো।
তুমি যখন তোবা ফুশিমি'র যুদ্ধ চলাকালীন আর যুদ্ধ না করার সিদ্ধান্ত নিলে,
শিশিও ও তখন ওই যুদ্ধে লড়ছিল।
ও আমাদেরই একজন গুপ্তঘাতক ছিল।
গতি, রণকৌশল আর উপস্থিত বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে কেবল তুমিই ওর সমকক্ষ।
কিন্তু তোমার একটি গুন ওর মধ্যে ছিলোনা,
দুর্বল আর নিজের লোকদের জন্য ওর মনে কোন সহানুভূতি ছিল না।
আমরা জিতেছি!
সম্রাটের পতাকা নিয়ে এসেছি!
- জয়। - আমরা জয়ী।
আমরা জিতে গেছি!
বেপরোয়া মনোভাব।
ক্ষমতা পাবার জন্য যেকোনো কিছু করতে পারা।
এগুলোই শিশিও'র পরিচয়।
আমি জিতেছি!
- দারুণ দেখিয়েছ! - আমরা জিতে গেছি!
ধন্যবাদ তোমাকে!
দারুণ কাজ করেছো।
বিশ্বাসঘাতকের দল!
শুয়োরের বাচ্চারা!
আপনারা এটা কি করলেন?
ওর কিছু হত্যাকাণ্ড এতই নির্মম ছিল যে,
ব্যাপারটা জানাজানি হলে আমাদের সরকারের বদনাম হতো।
তাই, আমাদের কাছে আর কোন উপায় ছিল না।
তুমি যুদ্ধ থেকে যখন অবসর নিলে, তখন আমরা ওর শরীর পুড়িয়ে দিলাম।
ওর মরে যাবার কথা ছিল,
কিন্তু ফল হলো অন্য রকম!
ও বেঁচে গিয়েছিলো।
এরপর ও কিয়োতো'র দুর্গম এলাকায় পালিয়ে যায়।
ও কিছু রক্তপিপাসু ভাড়াটে খুনির দলে যোগ দেয়,
এরপর নিজে একটি সেনাদল গঠন করে ফেলে।
ওর মনে এখন একটাই চিন্তা,
বর্তমান সরকারের পতন।
এক মিনিট!
আপনাদের কৃতকর্মের জন্যই ও সরকারের পতন চায়, এর মধ্যে কেন্শিনকে টানছেন কেন?
ওর বিরুদ্ধে পাঠানো সব আক্রমণই ও প্রতিহত করেছে!
তাই, তুমিই হচ্ছো...
আমাদের একমাত্র ভরসা।
মিঃ ওকুবো...
আপনাকে খুবই ক্লান্ত মনে হচ্ছে।
নতুন শাসনব্যাবস্থা গড়ে তোলা...
পুরনো ব্যাবস্থা গুঁড়িয়ে দেবার থেকে অনেক কঠিন কাজ।
দেশের সমৃদ্ধি সাধন, সেনাবাহিনী গড়ে তোলা আরো অনেক কাজ।
আমি চাই তুমি আমার কথাগুলো কয়েকদিন ভেবে তোমার জবাব আমাকে জানাবে।
এক সপ্তাহে চলবে তো? এক সপ্তাহ সময় নাও।
তাহলে আজ থেকে এক সপ্তাহ পরে ১৪ই মে আমাকে তোমার জবাব জানাও।
আশা করি, তোমার জবাবটা ইতিবাচকই হবে।
কি বলছ এসব? ওরা কেন্শিনকে দিয়ে ওকে খুন করাতে চায়?
আমিও এ বিষয়ে রাজি নই!
ওরা ওদের ঝামেলার মধ্যে কেন্শিনকে জড়াতে চায়!
শুধু তাই নয়...
এ কাজ করে দিলে তোমাকে পুরস্কৃত করা হবে।
তার সাথে সাথে আমরা তোমাদের কিছু বেআইনি কাজও মার্জনা করে দিতে রাজি।
যেমন তাকানি মেগুমিকে আফিম সংক্রান্ত একটি মামলা থেকে বেকসুর খালাস দেয়া হবে।
বাজে কথা এসব,
ওরা যদি এসব বলে কেন্শিনকে রাজি করাতে চায়, তবে আমি জেলে যেতে প্রস্তুত!
তো যাওনা! আমার সাথে চিৎকার করছ কেন?
কেন্শিন, আমি তোমাকে কিয়োতোতে যেতে দেবো না।
কিওইচো, টোকিও ১৪ই মে
হিমুরাকে ছাড়া আমাদের আর কোন আশা নেই।
- কেমন আছেন? - তুমি এখানে...
মিঃ শিশিও আপনার জন্য একটি খবর পাঠিয়েছেন।
"আপনি হিমুরা বাত্তোসাইকে আমার বিরুদ্ধে পাঠানোর কথা ভেবে...
নিজের সময় নষ্ট করবেন না।"
" কারণ, যেভাবেই হোক, আমিই হবো এখানকার শাসনকর্তা।"
এইতো, পরিষ্কার হয়ে গেছে।
ওদের কথার জবাব কি দেবে তা কি ভেবে দেখেছ?
ওদের কাজ ওদেরকেই করতে বোলো।
তুমি দেখছি নতুন সরকারের লোকদের একদমই দেখতে পারো না।
অমন লোকদের আমি ঘৃণা করি।
কেন্শিন?
আমি এখন মিঃ ওকুবো'র অফিসে যাচ্ছি।
ইয়াহিকো,
- এগুলো শুকোতে দাও? - আচ্ছা।
- আমিও যাবো তোমার সাথে। - না...
ওখানে ঝামেলা হতে পারে।
আমার একা যাওয়াটাই ভালো হবে।
ও কখনো খুন না করার শপথ নিয়েছে।
ও তোমাকে ছেড়ে কখনোই কিয়োতোতে যাবে না।
এসে গেছে।
চলো।
সামুরাই ইশিদো শিমাদা, সামুরাই সুরাহিদে চো, আক্রমণ!
থামাও, মারো ওকে!
কেউ আমাদের আগেই একে মেরে ফেলেছে!
ওকুবোওওওও!
মিঃ ওকুবো...
কিছু লোক তাঁকে খুন করার পরিকল্পনা করছিলো।
No comments yet. Be the first to leave one.