نخستین 200 خط.
কী ব্যাপার?
আজকে ক্লিনিক বন্ধ।
দিদি, আমার বন্ধুর বিরাট ইমার্জেন্সি হয়েছে।
একবার দেখতে পারবেন নাকি?
কিন্তু আমি তো শিশু বিশেষজ্ঞ।
যাও, হাসপাতালে নিয়ে যাও। কাছেই আছে।
বন্ধুর অনেক খারাপ অবস্থা। প্লিজ, একবার দেখুন না।
ওর বাসা পাশের গলিতেই।
দাদা... আজকে দিদির ক্লিনিক বন্ধ।
শোনো...
পিকু ওপরে আছে। আমি আসছি।
ধন্যবাদ, দিদি। অনেক উপকার করলেন।
তোমার বন্ধুর আসলে কী হয়েছে?
বেশি খেয়ে ফেলেছে মনে হয়। একদম সবুজ হয়ে গেছে।
২ ঘণ্টা ধরে বমি করেছে।
পায়খানাও করেছে।
চমৎকার।
এজন্য রবিবার সকালেই কাহিনী শুরু হয়ে গেছে।
তা ঠিক।
- এটা কার ঘর? - আমার বন্ধু রাজেশের।
কী খেয়েছিল?
কথা হলো সে নিরামিষভোজী।
তার বাবা-মা শহরের বাইরে গেছে।
এই সুযোগে সে প্রথমবারের মতো মাংস খেয়েছে।
খেতে গিয়ে অনেক বেশি খেয়ে ফেলেছে আরকি...
- তুমিও একই মাংস খেয়েছিলে? - হ্যাঁ, দিদি।
কোথায় খেয়েছিলে? কোনো নোংরা জায়গায় খেয়েছিলে?
একদম না। আমি নিজে রেঁধেছিলাম। সবাই একসাথে খেয়েছিলাম।
অন্য কারোই কিছু হয়নি।
মনে হয় ওর শরীর বিষয়টা নিতে পারেনি।
দিদি, আমাকে বাঁচাও! আমাকে বাঁচাও!
বয়স?
২৭
- স্যালাইন বানাতে পারো? - হ্যাঁ।
কিছু হয়নি। একটু বদহজম হয়েছে।
ওষুধ লিখে দিয়েছি, এগুলো খেলেই ভাল হয়ে যাবে।
আর এরপর সাবধানে মাংস খাবে।
আমি আর কখনো মাংসের নাম মুখেও আনবো না!
মাংসে সমস্যা নেই।
বেশি খেলে সমস্যা।
একজন নিরামিষভোজীকে মাংস খাইয়েছো কেন?
আসলে এটা ওর আইডিয়া ছিল।
সে নিজেই ছাগল কেনার টাকা দিয়েছে।
ছাগল? মানে ছাগলের মাংস?
না, দিদি। আস্ত ছাগল!
আমাদের “মাংস ক্লাব”-এ কেনা মাংস খাই না।
- “মাংস ক্লাব”? - মাংস খাদকদের ক্লাব!
একদম আসল ক্লাবের মত নয়।
অনেকটা ভার্সিটির ক্লাবের মতো।
আজকাল মানুষ যা-তা মুখে নেয়।
ভাবেও না মাংসটা কোত্থেকে এসেছে...
... কোথায় রেখেছিল, কতদিনের পুরানো...
ভাবতেই কেমন লাগে!
কিন্তু আমাদের মাংস ক্লাবে...
...আমরা জীবিত প্রাণী আনি, কাটি, রাঁধি আর খাই।
ওহ! আমার বাসা এসে গেছে...
দুঃখিত, দিদি, খেয়াল করিনি।
না, না, ব্যাপার না।
তোমাদের আইডিয়াটা ভাল লেগেছে। মাংস ক্লাব!
ধন্যবাদ, দিদি। ইয়ে... আপনার ফি...?
দিতে হবে না! তেমন কিছু করিনি তো।
কিছু একটা নিন?
ঠিক আছে, একটা কথা বলো...
... তোমাদের মাংস ক্লাবের রান্না...
... কেমন স্বাদ হয়?
মাংসের মতোই স্বাদ হয়!
দারুণ।
আমাকে তোমাদের মাংস ক্লাবের রান্না একদিন টেস্ট করাবে।
- তাহলেই শোধ হয়ে যাবে। - দারুণ।
তবে আপনার মুখে রুচবে কিনা কে জানে।
আমাদের ওখানে কিন্তু ব্রয়লার মুরগী চলে না!
গোবরের পোকা না খাওয়ালেই হলো।
ইলিয়াস দা!
কোথায় মরেছিলি?
আর বোলো না। হারলে নাকি?
এখনো হারিনি।
ইলিয়াস দা, এটা শেষ শট। এটা আমি মারি।
না, আমি মারব।
হবে, হবে, ইলিয়াস দা!
ইলিয়াস দা! পারবে!
হবে, হবে, ইলিয়াস দা!
তুমি পারবে!
- এক কৌতুক শুনবি নাকি? - হুম।
এক ডাক্তার গির্জায় গিয়ে ফাদারকে বলছে...
...“ফাদার আমি তো পাপ করেছি...
...আমি রোগীর সাথে সেক্স করেছি।”
ফাদার বলল, “ঠিক আছে, বৎস...
“...রোগী আর ডাক্তারের মাঝে কখনো এসব হয়ে যায়।”
তারপর লোকটি বলল...
“কিন্তু ফাদার, আমি তো পশু চিকিৎসক!”
মনে হচ্ছে আজকাল ক্লিনিকে তেমন কাজ পাচ্ছো না...
সবসময় WhatsApp, Facebook-এ থাকো, হুম?
ধনী লোকদের কুকুরের দেহ থেকে পোকা বের করে বেশি সময় লাগে না।
নিজের কাজ কতটা ঘৃণা করো বলো তো।
বাদ দে।
রাজেশের সাথে কী হয়েছে বল দেখি।
কী আর হবে, যা বলেছি, অতটুকুই।
মাংসের খাওয়ার লোভে প্রায় মরতে বসেছিল।
তবে...
ডাক্তারটাকে অনেক ভাল লেগেছে।
আজকালকার ছেলেদের বুঝলি...
...একদম ফিটনেস নেই।
অলস, কুঁড়ে, শৃঙ্খলা নেই।
কিন্তু এডি ওরকম না। এডি খুব ফিট।
এডির শরীর সঠিক সময়ে শক্ত হয়, সঠিক সময়ে নরম হয়।
ভাল। ধরা পড়ো না যেন।
কে ধরিয়ে দেবে, শুনি?
দাঁড়া কিছু মুরগি নিই।
রাত্রে গোহাটিতে গাড়ি চালাতে বেশ ভাল লাগে, তাই না?
তোর মনে আছে?
একবার আমরা মালিগাও থেকে নুনমাটি...
...মাত্র ১৫ মিনিটে গিয়েছিলাম?
কেউ দিলীপের চেয়ে দ্রুত চালাতে পারে না।
হ্যাঁ! রাকেশ যে কী বাচ্চাদের মতো চিৎকার করেছিল!
“দিলীপ! আস্তে যাও! দিলীপ! আস্তে! আস্তে!”
তারপর অনেক দিন পেরিয়ে গেছে।
হ্যাঁ।
আবার হবে, যখন দিলীপ আসবে।
আচ্ছা, দিলীপ দা কোথায়? কবে আসবে?
ভগবান জানে।
ফিল্ডে থাকলে ওর ফোন কাজ করে না।
একদিন হুট করে চলে আসবে।
বাই!
ঘরে পৌঁছে মেসেজ দিস।
অ্যাই, শোন তো।
কাল আমরা নাটক দেখতে যাব। চারটার সময়।
নাটক?
কেউ যদি জিজ্ঞেস করে আরকি।
ওহ... আচ্ছা। ভাল।
কিন্তু জুমি, এগুলো আমার পছন্দ না।
ভাবিস না। সব কন্ট্রোলে আছে। তুই নিজের কাজটা ভালভাবে করলেই হবে।
বাই!
ধুরো, মিটি-সিটিং বাদ দে। আমার সাথে চল।
না, ইলিয়াস দা। আমাকে যেতেই হবে।
জালুকবাড়ি নামিয়ে দিয়ো।
তোরা তো সেদিনই খাওয়া-দাওয়া করলি। এবার যেখানে যাব, সেখানে বেশি ভাল লাগবে।
- এটা চা বাগান। - আমি গিয়ে কী করব?
বাগানের ম্যানেজার বলল, ওখানে নাকি বুনো খরখোশের উৎপাত বেড়েছে।
বাগানের স্টাফ কয়েকটা খরখোশ ধরেছে।
আমাকে বলেছে ওদেরকে খোজা করে দিতে।
সম্মানীর পাশাপাশি আমাকে খরগোশের মাংসও খাওয়াবে।
আরে! এটা আগে বলোনি কেন?
তাহলে যাচ্ছিস?
যাচ্ছিই তো!
- দিদি আছে? - সিরিয়াল নেওয়া আছে?
না। ওনার জন্য কিছু এনেছি।
ওহ, তুমি!
- দিদি, ভাল আছেন? - হ্যাঁ... আছি।
তোমার বন্ধুর কী অবস্থা?
সেদিনই ভাল হয়ে গেছে।
আচ্ছা, আচ্ছা।
এটা কী?
আপনার ফি।
ও! মাংস ক্লাবের খাবার! আমি তো এমনিই বলেছিলাম!
- খরগোশের মাংস। - খরগোশ?
আমি কখনো খাইনি।
আমি খেয়েছি। খুব মজা।
আচ্ছা। দেখি কেমন।
- বরা দা? - দিদি?
মিনাকে বলো যেন কয়েকটা প্লেট নিয়ে আসে।
আচ্ছা।
কেমন লাগছে?
হুম... খুব নরম।
ভেবেছিলাম ছাগলের মাংসের মতো হবে।
এটা বুনো খরগোশ।
চা বাগান থেকে ধরা হয়েছে।
তুমি নিজে রেঁধেছো?
হ্যাঁ, মাংস ক্লাবে এটাই নিয়ম।
মাংস কিন্তু হাত দিয়ে খেলেই ভাল লাগে।
জানি, কিন্তু আমার মানসিক সমস্যা আছে।
আমি হাত দিয়ে খেতে পারি না।
ইনফেকশনের ভয় পান?
তুমি ঠিকই ধরেছো।
নইলে মানুষ ভাবে আমি ভাব নিচ্ছি।
ভাব আর আপনি!
আপনার মধ্যে ভাবের কিছুই নেই।
তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ে কী নিয়ে পড়ছো?
আমি নৃবিদ্যা বিভাগে শিক্ষনবীশ গবেষক হিসেবে আছি।
উত্তর পূর্ব অঞ্চলের মাংস খাওয়ার বিভিন্ন রীতি-নীতির ওপর...
...PhD শুরু করেছি।
আচ্ছা। আর মাংস ক্লাব? তারই একটা অংশ?
ওটা আসলে শখ থেকে করা।
এমন সময় কোথায় থাকে যে, আমি সবসময় ফ্রেশ মাংস কিনে খাব?
আর যে রেস্টুরেন্টে খেতে যাই...
... সেখানে গিয়ে তো দেখা সম্ভব না মাংসগুলো...
...কীভাবে রেখেছে, কীভাবে রেঁধেছে।
আসলে আমাদের জীবন অনেক যান্ত্রিক।
আমি কিছু জায়গা চিনি যেখানে “আসল” মাংস পাওয়া যায়।
কিন্তু আপনি তো ওসব জায়গা যান না।
কী? কেন?
সেগুলো হাই-ফাই জায়গা না।
আচ্ছা। তুমি আমাকে কী ভেবেছো?
জায়গা পরিষ্কার আর খাবার ভাল হলে...
...আমি সবজায়গায় যেতে পারব।
“দিদি, আমি সুমন। নাম্বারটা সেভ করে রাখুন।”
অ্যাই, কী হলো?
তুই অন্যমস্ক হয়ে আছিস যে!
তেমন কিছু না।
ডাক্তারের সাথে খরগোশের মাংস কেমন খেলি?
ভালই...
No comments yet. Be the first to leave one.