نخستین 200 خط.
তোমাদেরকে এখানে নিতে হচ্ছে কেন?
এই ভুটকির কারণে, পরের ফ্লাইট ধরে ব্যাঙ্গালোরে, আর পরেরটা ধরে এখানে।
- সোজা কোচিতে আসার ফ্লাইট ছিল না? - নীল স্যার টিকেট পাঠিয়েছে।
একজন সাবেক গোয়েন্দা যদি এর চেয়ে ভালো পথ বের করতে না পারে, তাহলে আমরা কী করব?
- ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যেতে কতক্ষণ লাগবে? - সাড়ে ৪ ঘন্টা।
- আমাদের হাতে ৩ ঘন্টা আছে। - কেউ কি বলবে তাড়া কীসের?
- চুপ কর! - চুপ কর!
দ্রুত, মাত্র ১৪ মিনিট বাকি আছে। গতি দ্বিগুণ করে দাও।
- ম্যাডাম, দোহাই লাগে, আমি মরতে চাই না। - তাড়াতাড়ি না গেলে ও তোমাকে মেরে ফেলবে।
সাবধানে!
- আপনারা সবকটা পাগল! - মরেনি উনি, জোরে চালাতে পারো।
- কিন্তু পরেরজন মরবে। - চেঁচামেচি থামাও।
- দাঁড়াও, আমরা বর্ডার পার করেছি। - হ্যা...হ্যা, নিশ্চয়ই।
- কেরালায় স্বাগতম, আপনাকে গ্রেফতার করা হলো। - সব পাগলামো!
- থামো, থামো, থামো! - কী?!
- কী? - মাত্রই বাড়িটা পেরিয়ে গেলাম।
কী হয়েছে, এতো সকালে...?
ম্যাডাম, আমাদের হাতে ৬ মিনিট আছে।
সব দেখে সন্তোষজনক মনে হচ্ছে।
পুনাম বার্মাকে তোমাদের হেফাজতে নেয়ার অনুমতি দিলাম।
আমি তো এখনও বুঝতে পারছি না
আমাদের তদন্তে নজরদারির কী প্রয়োজন ব্যুরোর?
আমি শুধু আদেশ মান্য করছি।
আমাকে সেন্ট্রালে রিপোর্ট করতে হবে আর আপনার সহযোগিতার ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে আমার।
এটা কি আমাদের সেই হাই প্রোফাইল অতিথির কারণে?
- জানি না। - তোমাকে রিপোর্ট পাঠিয়ে দিবো।
আমি নিজ চোখে তাকে দেখতে চাই।
বারবার একই চাপা মেরে যাচ্ছিস। বল, আইভরি কোথায়?
কোন আইভরি? বললাম তো আমি কেবল আর্ট বিক্রি করি। আইভরির সাথে আমার সম্পর্ক নেই।
আর আমাকে যতক্ষণ এখানে আটকে রাখবে...
আমার উকিল যখন আসবে তখন তোমরা ততটাই বেশি পস্তাবে।
হ্যাঁ, জানি। উকিলের বহর আছে তোমার কাছে। কিন্তু তারা এখনও এখানে আসেনি।
আর এখন তুমি আইনসংগতভাবেই আমাদের কাছে আছ।
তাই হয় নিজে থেকেই বলে দাও নয়তো আমরা মুখ খুলিয়ে নিব।
- যেটা জানি না সেটা বলতে পারব না আমি। - কতক্ষণ থেকে উনি আছে এখানে?
- দুই ঘন্টা। - কীয়েক্টাবস্থা...চলো।
- এখান থেকে বের হতে চাও? - এই ব্যুরো, তুমিও।
কী করছিলে তোমরা? খোশগল্প?
- এতোক্ষণে কিছু একটা জানতে পারার কথা। - ওর মুখ খোলার চেষ্টা করছি।
আমার বয়স হয়েছে, ক্লান্ত আমি। আজীবন তোমাদের হাত ধরে হাঁটাতে পারব না।
এরা রাক্ষস, অনেক জায়গায় খাতির আছে। একটা উপায় বের করো...কিছু করো।
নয়তো আমি বাড়ি গিয়ে ভাতিজির সাথে খেলব আর খুশি খুশি তোমাদের ফাঁসি দেখব।
কিছুক্ষণের মধ্যে ওর উকিল চলে আসবে। এর আগে যদি কিছু না করি...
ওকে হারিয়ে ফেলব আমরা। মরিস ফিন আর ডন রবি ওর নাম বলার পরও।
কারণ আমাদের কাছে যদি শুধু প্লাস্টিকের মূর্তি থাকে, আইভরি না থাকে...
এর মানে আমাদের কাছে কোনো কেসই নেই।
১০ মিনিটের জন্য কফি খেতে যাচ্ছি। ততক্ষণে আমার যা দরকার তা যদি না পাই,
তাহলে ঈশ্বর তোমাদের সহায় হোন।
- কী হয়েছে? - আসছি আমি।
সব ঠিকঠাক?
কয়েকদিন ধরে ঘুম হচ্ছে না। মাথায় কেবল ওর নাক ফাটানোর কথা ঘুরছে।
আরেকটা উপায় আছে, কিন্তু ভাগ্য ভালো হতে হবে।
- খাবার লাগবে আমার। - আসছে।
- তোমার ফোনের পাসওয়ার্ড কী? - চুতিয়া না কি?
বলে দাও নয়তো এরা তোমাকে আরও মারধর করবে...
আর ততক্ষণে আমি ভাইরাস দিয়ে ফোন আনলক করে ফেলব।
৯-৮-৭-৬-৫...
৪
দেখো।
লেনদেনের কোনো ইমেইল নেই কিন্তু তার মেয়ে শশীর একটা মেইল আছে।
যেখানে একটা সেফ হাউসের কথা বলা হয়েছে। শশীর মেইলে ঢুকতে হবে।
মেয়ের ইমেইল পাস জানো?
খোদার কসম, জানি না।
কিন্তু ও নিরপরাধ। আপনারা যা খুঁজছেন তা ওখানে নেই।
- গণেশ ভগবানের দিব্যি। - সাবধানে, মরে যাবে কিন্তু।
সমস্যা নেই। আমি পারব।
- এই তো! আমি শশীর একাউন্টে ঢুকে গেছি। - কীভাবে?
মায়ের একাউন্ট থেকে শশীকে মেইলে ট্রোজান পাঠিয়েছি।
আর ও সেটা দেখেছে।
আরে, বাহ! এটা দেখো।
আচ্ছা, মিসেস বার্মা।
আপনার প্রিয় কন্যা তো বন্যপ্রাণী নিয়ে অনেক আগ্রহী।
বন্যপ্রাণী নিয়ে অবৈধ ব্যবসা করে দেখছি।
বাঘিনীর মুখে হাত দিয়ে ফেলেছ তোমরা।
কী ভেবেছ...
এই নোংরা আসনে কেবল আমি একাই আছি?
অস্ত্র, মাদক, মানবপাচার নিয়ে কারবার করা এক চক্রের কপালে ভাঁজ এনেছ তোমরা।
ওরা চুপ থাকবে ভেবেছ?
শালা বুনো মানুষের দল।
মেয়েকে তো ধরতে পারবই, সাথে তোমার স্বামীকেও ধরা হতে পারে...
চোরা শিকার, অস্ত্র পাচার, আইভরি পাচার, অর্থ পাচারের জন্য।
আর এমনকি কর ফাঁকির জন্যও।
আজীবন জেলে থাকতে হবে।
- ওয়ারেন্ট করব ওদের জন্য? - না, প্লিজ।
বলছি আমি।
আমি কখনো কোনো চোরা কারবার করিনি।
কিন্তু আমার স্বামীর কাছে সামান্য আছে।
কয়েক কিলো, সেফ হাউসে স্টোর করা।
কিন্তু এগুলো পুরাতন আইভরি, কয়েক দশক আগের।
সেগুলো দিয়ে দিব। কিন্তু আমার মেয়েকে ছেড়ে দাও।
- সেফ হাউসটা কোথায়? - দিল্লীতে।
পূর্ব দিল্লীতে।
জনবহুল এলাকা, চলাফেরা করা কঠিন।
লোকজনের ভীড় থাকে, যেকোনো সময় দাঙ্গা বেঁধে যেতে পারে।
- ভাড়ার একটা ফ্ল্যাট ওটা। - দেখেছি, ল্যান্ডমার্ক বলো।
- কী পেলে? - স্যার, একটা লোকেশন।
- ২য় বা ৩য় সিগনালটা হবে... - এক মিনিট দাঁড়াও
- বাইরে যাও একটু। - কী?
- বাইরে যাও একটু। আমি বলছি। - না, আমি শুনতে চাই।
আরেকবার বলব না।
বাবু, দরজাটা লাগিয়ে দাও।
বলো।
লক্ষ্মী নগর জংশন থেকে ২য় বা ৩য় সিগনালটা হবে।
এরপরে একটা গলি আছে বামে যতক্ষণ না মোড় নিচ্ছে ততক্ষণ হাঁটতে হবে।
এরপর এক মিনিট হাঁটলে ডানে একটা ছোট্ট গলি আছে।
ঐ মোড়ের পর প্রথম দরজাটা, ব্যস।
ফুল খোদাই করা একটা বাদামী রংয়ের দরজা।
হ্যাঁ ওখানে, ময়লা দানীর পাশে।
চাবি?
আমার ফ্ল্যাটে একটা আলমারি আছে।
ওর ভেতরে ৩ নম্বর লকারে একটা কালো ব্যাগ আছে।
ব্যাগের ভেতরে একটা চেইন আছে।
সেই পকেটের ভেতরে একগুচ্ছ চাবি আছে। সবগুলোই নতুন।
একটা চাবি আছে যেটা জং ধরা। ওটাই সেফ হাউসের চাবি।
তুমি তাহলে আইভরি বিক্রি করে দিয়েছ?
অল্পকিছু, একবারই।
- কার কাছে? - ডন রবিকে জিজ্ঞেস করো।
আমি জানি না সে কোথায় আছে।
বাইরে আসো।
আপনার জন্য...
কে বলছেন?
আইপিএস খেরা বলছি, ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো, দিল্লীর অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর।
জি, ম্যাডাম, জি...আপনার সাথে কিছুক্ষণ আগে কথা হয়েছিল। বলুন।
আমার মনে আছে, মি. ব্যানার্জি।
আমার অফিসারকে জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষের বাইরে কেন পাঠিয়েছেন সেটা বলুন?
দিল্লীর কোনো সেফ হাউসের ব্যাপারে তথ্য নেয়া হচ্ছিল।
আমরা তো ওখানে যাচ্ছিই। আইভরি জব্দ করার জন্য।
Great - send me the details, my team will seize the contraband.
তা হবে না ম্যাডাম। লোকেশন আমাদের কাছে আছে। আমরা আবার দিল্লী যাচ্ছি।
ব্যাক আপ হিসেবে আপনাকে লাগবে আর আপনার একজন অফিসার যিনি আগেও আমাদের সাহায্য করেছিল...
- লোকেশন কোথায়? - বলতে পারব না ম্যাম।
ফাজলামি চলছে?
ম্যাডাম, এই কেস কেরালা কোর্টের আদেশের অধীনে রয়েছে।
আইভরি এখান থেকে চোরা কারবারের মাধ্যমে দিল্লীতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সেটা ফিরিতে আনতে যাচ্ছি আমরা, দিল্লীর কোনো এভিডেন্স লকারে রাখার জন্য না।
দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, ম্যাডাম...
আমরা ইঁদুর আর ঘুণপোকাকে আমাদের প্রমাণ খেতে দেখেছি।
নিজেকে কী ভাবেন আপনি? আমি কোনো সাগরেদ নই।
সেন্সিটিভ কেস কীভাবে সামলাতে হয় তা জানা আছে আমার। আর দিল্লী আমার এলাকা।
ম্যাডাম, আমি বুঝেছি সব।
কিন্তু আমি এই কেসের শুরু থেকে আছি...
আর যেহেতু আপনি মূল দলে নেই...
তাই আপনি "কম জান্তা" ধাপে আছেন, বুঝেছেন?
আমরা সন্দেহভাজনকে দিল্লীতেও নিয়ে যাচ্ছি না।
আমরা একদম সঠিক ঠিকানা জানি না। আর সেখানকার পরিস্থিতি প্রতিকূল হতে পারে।
তাই আমাদেরকে চালু থাকতে হবে এই কাজে আর আপনাকে ব্যাক আপ হিসেবে লাগবে।
- আমরা এখনও একই দলে আছি। - দক্ষিণের লোকেরা সব এক।
বেশ, আপনি আমাদের ওপর ভরসা না করতে পারলে আমরাও পারব না।
- তো ব্যাক আপ দিবেন না? - Nope.
হ্যালো?
আরে বেহেঞ্চোদ, আমি তো দক্ষিণের লোকই না।
আমাদের আদেশ বহাল থাকবে।
পুনাম বার্মার জিজ্ঞাসাবাদ শেষ না হওয়া অবধি আমি এখানেই থাকব।
বেশ, এখানেই থাকবে।
চলো, কথা আছে।
আমি বলছিলাম কী...আইভরি পুনার বার্মার বাসাতে নেই।
মরিস ফিনের গ্রেফতারের কথা শুনে সে মাসখানেক আগে সব সরিয়েছে।
আর যতটুকু আমরা জানি, তার পরিবার এখন সেফ হাউস থেকে মাল সরিয়ে নিচ্ছে।
ওখানে গিয়ে যা পাব তাই জব্দ করে রাখতে হবে, দ্রুত।
স্যার, এটা ব্যুরো সামলালেই ভালো, যদি সময় নিয়ে এতোটাই চিন্তা থাকে।
ওরা চায় অপারেশনাল কন্ট্রোল, কিন্তু আমি দলের বাইরে কাউকে বিশ্বাস করি না।
হ্যালো, ম্যাডাম।
ওখানেই থাকুন, একা যেতে পারবেন না। আমরাও যাব।
আর আমার সহকর্মী নুপু? ও তো ঝামেলার না।
মার্কেটিংয়ে আছে না ও? ফিল্ডের লোকজন লাগবে আমাদের।
যে আইভরি খুঁজতে পারবে, স্থানীয় বাধা-বিপত্তি এড়িয়ে...
সবার অজান্তে ওগুলো এখানে নিয়ে আসতে পারবে।
তোমরা দুজন যাও। হ্যাঁ, গিয়ে আইভরিগুলো নিয়ে আসো।
- আবার সেগুলো সরিয়ে নেয়ার আগেই। - স্যার, স্থানীয় কারও সহায়তা ছাড়াই?
- ঐ কনস্টেবল দুটোকে নিয়ে যাও। - স্যার, আমি জানি না...
কে থামাবে তোমাদের? বলছি...সন্তোষ।
নাও, একে সাথে নিয়ে যাও।
কিন্তু জব্দের কাজ তো অভিযুক্তের উপস্থিতিতে করতে হবে।
নয়তো প্রমাণ ততটা শক্ত হবে না।
এই ডাইনিকে আবার বাসা ফিরতে দেয়া যাবে না, হারিয়ে ফেলব।
হোক প্রমাণ দূর্বল, দেখে নিব। যাও...যাও।
যাও...বেশ।
- আদিল, আসো। - আবার দিল্লীতে।
মি. ডন রবি।
সবাই আমাদের হেফাজতে আছে, পুনাম বার্মাও।
আর দিল্লীতে আইভরির লোকেশন আমরা জানি।
এখন, এটা বুঝে নেয়ার জন্য তোমার সাহায্যের প্রয়োজন।
সেটা কীভাবে করতে চাইবো আমরা?
শেখরজি, ভেবেছিলাম ব্যুরো আমাদের সাথে নেই।
নেই তো, কিন্তু বন্ধুদের সাথে দেখা করা থেকে আমাকে কেউ থামাতে পারবে না।
ঘুম কি হয়েছে একটুও?
তিনদিন থেকে ঘুমাই না।
এজেন্টরাই আসল ভিলেন। পোচাররাও এদের শিকার।
পুনাম বার্মা, রবি ডন আর তাদের উকিল...
গ্রামবাসীদের বলে তোমরা মারতে থাকো বাকিটা আমরা দেখে নেবো।
আর যদি কোনো শুটার ধরা পড়ে তারা কেবল ভুলে যায়,
আর অন্য একটা শুটার খুঁজে বের করে।
বার্মার বাচ্চা!
একে চরম শাস্তি দিতে হবে।
একে পঙ্গু করে দিতে হবে যাতে বাকিরাও মর্মটা বুঝতে পারে।
বেশ সেন্সিটিভ এলাকা, সাবধানে থেকো।
পুলিশের এখানে ঢোকা ঝুকিপূর্ণ আর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাও লেগে থাকে এখানে।
আপাতত আমরা শুধু এই জায়গাটা দেখতে চাই।
সকালে চাবিসহ আসব সবকিছু জব্দ করে নিতে।
দিনের আলোয় ওটা খুঁজে সময় নষ্ট করতে চাই না।
No comments yet. Be the first to leave one.