نخستین 156 خط.
এই, কোন দিকে মন?
ছাড়।
বস্ কি লোকটা কে চিনতে পেরেছে?
কিছু বলেছে আপনাকে?
কান না।
হৃদয় খোলা থাকলে সব শুনতে পাবে।
আমি না, বস্।
ইকবাল আপনাকে কিছু জিগ্যেস করতে চায়।
না...মানে, আমি না। জালাল বলছিল...
আপনি কি লোকটা কে চিনতে পেরেছেন?
চেহারা দেখে কি মানুষ চেনা যায়?
আপনিই তো সবচেয়ে পুরনো কয়েদী।
আপনি যদি চিনতে না পারেন, তাহলে...
মানুষের নিয়ত দিয়ে তাকে চিনতে হয়।
ওর চোখে নেক নিয়ত দেখেছি।
সবার এটা থাকে না।
কিন্তু যার থাকে...
সে নিজের ভাগ্য নিজেই গড়ে।
দুনিয়ার কোনও শক্তি তাকে আটকাতে পারে না।
এই লোকটার নিয়ত কী?
গলায় ফাঁস দিয়ে মরা?
তাহলে ওই সেলে ঢুকল কেন?
ওখানে কেউ বাঁচে নাকি?
ওকে ওখানে রেখেও দিয়েছে।
মৃত্যু।
একশো পঁয়তাল্লিশ নম্বর।
একশো পঁয়তাল্লিশ।
জালাল।
কোরান শরিফে মৃত্যুর কথা কতবার লেখা আছে?
একশো পঁয়তাল্লিশ বার।
আর জীবনের কথা?
সমান সমান।
সময় লাগবে।
-আশফাক। -হুম?
স্যার আপনাকে খুঁজছে।
ফ্লাশ করলেন না?
কিছু হলে তো ফ্লাশ করব।
তোমার তো পেঁপে আনার কথা। এনেছ?
স্যার পেঁপে খেতেই তো ডাকছেন। যান।
গুড আফটারনুন।
সালাম ওয়ালেকুম।
পেঁপে খাবেন নাকি?
ধন্যবাদ, স্যার।
পাখি পাকা পেঁপে খায়।
জিভ না জরিয়ে এই বাক্যটা কতবার বলতে পারবেন?
আমি পেঁপে খাই।
আপনি বলতে শুরু করুন। মজা হবে।
বলুন।
স্যার, মানে...
এবার কি হাতজোড় করতে হবে? হুম?
পাখি পাকা পেঁপে খায়। পাখি পাকা পেঁপে খায়।
পাখি পাকা পেঁপে খায়। পাখি পাপা পেঁকে--
পাখি পাকা পেঁপে খায়।
পাখি পাপা পেঁকে--
পাখি...
আপনার কেসগুলোর অবস্থাও আপনার মতো। জগাখিচুরি।
একটা কেসেরও সমাধান করতে পারছেন না।
আসামী ধরবেন কীভাবে?
এখনও তো কোনও সাস্পেক্টকে সনাক্ত করতে পারেননি।
আপনি কি আমার সঙ্গে মাজাকি মারাচ্ছেন?
না, স্যার।
সরি, স্যার।
আমি দুজন সাস্পেক্ট কে ধরেছি--
দু বছর ধরে তো একই বা* ছিঁড়ছেন।
একজনকেও তো ধরতে পারলেন না।
কেসটায় কি কিছু এগোতে পেরেছেন?
তা পারবেন কেন?
অফিসে এসে তো সারাক্ষণ মোবাইলে গেম খেলেন।
তারপর সময় হলেই জিমে চলে যান।
আপনার আসামীটা ধরবে কে? আমি?
এই অফিসের সবচেয়ে সিনিয়র অপদার্থ বা* হলেন আপনি।
আশফাক।
মাথায় কি কিছু ঢুকল?
হ্যাঁ, স্যার।
ঢুকেছে।
এবার আসুন।
-বেরোন! -স্যার।
হ্যাঁ, বল।
কী ভাগ্য!
দোয়া না চাইতেই কবুল হয়ে গেল।
দেশলাই আছে?
দেশলাই দিয়ে কী হবে?
বিড়ি-সিগারেটের চালান নেই। ব্যবসা তো বন্ধ করে দিয়েছেন।
এ ছাড়া তো উপায় নেই।
জেলের ভেতর তো অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটছে।
শুনলাম সেটা। আসলামের নাকি অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে?
অভিশাপ লেগেছে।
কার অভিশাপ? আপনার?
গাজী বাবার?
কীভাবে সম্ভব?
আসলাম তো সবে কিছুদিন হল এসছে।
আর গাজী বাবা তো বহু আগে মারা গেছে।
তিনি আসলামের নাগাল পেলেন কীভাবে?
সেল ১৪৫।
কে এই লোকটা?
আধ্যাত্মিক কারবার সব।
নইলে আর এতদিন বাদে...
মাজারে ধুপ দিচ্ছি কেন?
কেউ দেখেনি?
সিসিটিভি ফুটেজগুলো ঠিক করে দেখেছিস?
এটা কী পরে আছে?
বস্তা নাকি?
এটা কোন আমলের?
আচ্ছা...
লোকটা সজীবের দলের কেউ না তো?
তুই চুলটা কাটাতে গেলি কেন?
চুল কাটালে সবাই কে একই রকম লাগে।
কী রে?
মোস্তাক।
সজীবরা যদি সত্যি কিছু করতে চায়, তাহলে এই জেলে অনেক সঙ্গী পেয়ে যাবে।
এত কাণ্ড করে বাইরের কাউকে আনতে যাবে কেন?
সজীব কে দেখিয়েছিস ছবিটা? চিনতে পেরেছে?
তুই বললি যে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ব্যাপারগুলো দুবাই থেকে করা হয়।
হ্যাঁ।
কিন্তু সেখানকার কেউ হলে আঙুলের ছাপ মিলবে। মেলেনি তো।
মোস্তাক, সজীব যে এখানে আছে...
সেটা তুই আমি ছাড়া কেউ জানে?
তাহলে?
তুই বা আমি কেউ কি এই খবর ফাঁস করবে?
খায়ের?
খায়ের কোনও শয়তানি করছে না তো?
ও তো চাইলে সরাসরি লোক ঢোকাতে পারে।
যে সেল বন্ধ ৫০ বছর ধরে বন্ধ, সেখানে কীভাবে--
তাহলে লোকটা এখানে ঢুকল কীভাবে?
-ঠিক করে দেখেছিস? -দেখেছি। কোনও রাস্তা নেই।
তাহলে ঢুকলটা কীভাবে? লোকটা কী জিন না ভূত?
বলেছে কিছু?
-বোবা। -বোবা?
-ও কথা বলতে পারে না। -নাকি তোরা কথা বলাতে পারিসনি?
কানের গোড়ায় দুটো দিলেই হুড়মুড়িয়ে কথা বেরোবে।
বোবার ঢং করছে ও। চল, যাই।
কই? নিয়ে চল।
আমি একবার কথা বলি, মোস্তাক?
বেশ। বসে থাকি।
চল।
মীর জাফর... আর?
আড়াইশো।
তাহলে বাকিগুলো কী লিখেছে?
জানি না। বের কর।
এই।
তোর কী মনে হয়, আমি এটা করে দেখিনি?
এই বুদ্ধি নিয়ে ডিবি'তে কীভাবে কাজ করিস?
এটা কী?
এটা কী?
কোন জেলখানার পোশাক এটা?
হাতটা খুলুন তো।
না। হাত খোলা যাবে না।
আরে, আমি আছি তো। কিছু হবে না।
খুলুন।
খোলো।
আপনি এখানে কীভাবে এসছেন?
চোখের পলক ফেলল না?
দেখলে তোমরা? পলক ফেলল না?
দেখলে?
ফিটাসের হৃদস্পন্দন স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে।
চিন্তার কোনও কারণ নেই।
No comments yet. Be the first to leave one.