نخستین 200 خط.
বাংলা সাবটাইটেলঃ শোভন
১৪০ বছর আগে, এদো শাসনামলের শেষদিকে, যখন দেশে বিশৃঙ্খল অবস্থা চলছিল…
তখন "খুনে বাত্তোসাই" নামের এক গুপ্তঘাতক ছিল।
সাম্রাজ্যবাদী সরকারের হয়ে ও জাপানের তৎকালীন রাজধানী কিয়োতোতে কাজ করতো।
সবাই ওর আসুরিক ক্ষমতা আর অনুভূতিহীন আচরণে ভয় পেত।
বোশিন যুদ্ধ চলছে। যা জাপানের নিয়তি নির্ধারণ করেছিল…
জানুয়ারি, ১৮৬৮
জানুয়ারি, ১৮৬৮ কিয়োতো - তোবা-ফুশিমি - পাহাড়ি অঞ্চলে।
শিন্সেগুমিরা এসে পড়েছে!
খুনে বাত্তোসাই…
তুমি কোথায়? তুমি কোথায় লুকিয়ে আছো?
শিন্সেগুমি'র তৃতীয় দলনেতা সাইতো হাজিমে এসেছে!
মারো ওকে!
সামনে এসো, বাত্তোসাই!
আমরা ওদের পতাকা নিয়ে এসেছি! আমরা জিতে গেছি!
আমরা বিদ্রোহীরা জয়ী হয়েছি!
সাৎচো মৈত্রীর জয় হয়েছে!
এসে গেছে…
নতুন যুগ এসে গেছে।
অবশেষে…
হিমুরা বাত্তোসাই!
ভেবোনা যে, সব শেষ!
সরকারে পরিবর্তন এলেও…
আমরা তলোয়ার নিয়েই বেঁচে থাকবো…
আর মরতে হলে তলোয়ার নিয়েই মরবো। এছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই।
কেন?
আমি কেন এখনো বেঁচে আছি?
এই তলোয়ার এখানে কেন?
এটা তো খুনে বাত্তোসাই এর…
১৮৭৮
১৮৭৮, টোকিও।
আমরা এখন যুদ্ধমন্ত্রী ইয়ামাগাতা আরিতোমো এর বক্তৃতা শুনবো!
সম্মান প্রদর্শন!
আরামে দাঁড়াও!
আজ থেকে ১০ বছর আগে মেইজি যুগের সূচনা হয়।
আমাদের দেশ এখন একতাবদ্ধ। আমরা পশ্চিমা আর ইউরোপিয়ানদের অনুসরণ করি…
আর আমরা এখন এক নতুন পথের যাত্রী।
আমাদের নতুন সরকার এদেশে...
শান্তি ও স্থিতিশীলতা এনে সম্মান অর্জন করেছে।
ভয় আর নির্মমতার যুগের অবসান ঘটেছে।
সম্মান প্রদর্শন!
মানুষ বড়ই দুর্বল প্রাণী।
যদিও মানুষ নিজেদের আদর্শ বলে দাবি করে…
কিন্তু তিনটি জিনিস মানুষকে পশুতে পরিণত করতে পারে।
স্বার্থ…
টাকা…
আর ভোগ…
প্রবেশের অনুমতি চাই।
দারুণ কাজ করেছ মেগুমি।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
এই নতুন স্বাদের আফিম…
মানুষকে জানোয়ার বানিয়ে ফেলে… বাড়ি যাও।
তুমি এখন বাড়ি যাও।
এই আফিম বানানোর পদ্ধতি জানা কেবল একজনকে আমার জীবিত লাগবে।
তোমাদের... মধ্যে... কে...
সবার... আগে... ঈশ্বরের... কাছে...
...পৌঁছুবে?
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
মর তুই!
হেই, চলো।
ছাড়ো ওর কথা!
ওর ব্যাবস্থা…
আমাদের বাত্তোসাই ই করবে!
আরও জোরে হেইও! আরও জোরে হেইও!
আসুন, আসুন। মজাদার ড্যাঙ্গো খেয়ে যান?
- আমাকে একটা দিন। - এক্ষুনি দিচ্ছি!
তুমি কি বুঝতে পারছো না?
তোমাকে আমি এসব থেকে দূরে থাকতে বলেছিলাম না?
কিভাবে দূরে থাকতে হয় তা কি তুমি জানো না?
ইনি একজন ছদ্মবেশী পুলিশ ছিলেন।
এটা কি আমাদের জন্য কোন সতর্কবাণী?
খুনে বাত্তোসাই ফিরে এসেছে… ও কেন জান্কান্জৌ চিরকুট ফেলে যাচ্ছে?
এটা আসল বাত্তোসাই নয়।
জান্কান্জৌ চিরকুটে কাউকে হত্যার কারণ লেখা থাকে।
তবে কে করেছে এটা…
বাত্তোসাই কখনো এমন করেনা।
কি?
খুনে বাত্তোসাই?
কামিয়া কাশিন পদ্ধতি?
নড়বে না!
বাপ্রে!
তলোয়ার বহন করা বেআইনি হওয়া সত্ত্বেও তুমি তলোয়ার নিয়ে ঘুরছ।
তুমি কি সেই কথিত "বাত্তোসাই" নাকি?
অ্যা?
তোমার সব অপকর্মের আজ এখানেই সমাপ্তি ঘটবে! প্রস্তুত হও!
ওঃ! ওঃ! এক মিনিট দাঁড়ান!
চুপ করো!
কিছু একটা ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে।
ওঃ!
ওরে বাপরে…
আমি একজন রোনিন মাত্র।
যাযাবর প্রভুহীন সামুরাই।
ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছেন দেখে খুশি হলাম।
তাহলে… আপনি এটা নিয়ে ঘুরছেন কেন?
এটা একটা উল্টোধারি তলোয়ার।
উল্টোধারি তলোয়ার?
এই দেখুন…
ধারালো অংশটা উপরের দিকে।
সাধারণ তলোয়ার থেকে বিপরীতধর্মী, তাইনা?
এটা দিয়ে তো কাউকে খুন করা অসম্ভব।
দেখলেন?
ধন্যবাদ!
যে লোকের বর্ণনা দেয়া হয়েছে…
গত ছয় মাস ধরে ও এই এলাকায় আছে।
ও হত্যার জন্য আমাদের প্রশিক্ষণশালা'র নাম ব্যাবহার করছে,
আর হত্যার পরে জান্কান্জৌ চিরকুট ফেলে যাচ্ছে।
যদিও এখন সময় বদলেছে।
ওহ্হো!
কান্রিউ স্যার।
একজন অতিথি এসেছেন।
আমার ধারণা ছিল, তোমার মর্যাদার কোন পুলিশ কর্মকর্তা কোথাও গেলে তাঁর সাথে একদল পুলিশও সাথে যায়।
খাবে নাকি?
কি এটা?
একজন ছদ্মবেশী পুলিশ খুন হয়েছেন,
আর খুনি নিজেকে বাত্তোসাই বলে দাবি করছে!
তুমি বলতে চাইছ, দশ বছর আগের এক ভুত...
খুন করার জন্য আবার ফিরে এসেছে?
আপনার শিন্বাশি গুদামে কি আছে?
কোন গুদাম?
ও, ওটা এখন কোন কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে না।
কিছু আমদানিকৃত জিনিস রাখার জন্য ওটা ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিলাম…
কিন্তু মনে হচ্ছে রাখাটা ঠিক হবেনা…
কিন্তু আপনি যদি ওখানে তল্লাশি চালাতে চান…
তবে একটু সাবধানে পদক্ষেপ নেবেন।
এই যুগে, আপনাদের মতো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা…
…যা খুশি তাই করতে পারেনা।
বেশি খুশি হবার কোন কারণ নেই!
আমার মনে হয় বাত্তোসাই এর ভুত এখনো বুঝতেই পারেনি যে, যুগ বদলে গেছে।
খাবার দেয়া হয়েছে!
লোকগুলোকে দেখো…
এসব সামুরাই বিদ্রোহের পর চাকরি হারিয়ে রোনিনে পরিণত হয়েছে।
আর দয়া করে…
আমি ওদের রক্ষী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছি, এবং খাবারের ব্যাবস্থা করেছি।
এসব প্রশিক্ষিত লোকদের এভাবে ছেড়ে দেয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হতো না।
তোমার কি মনে হয়না যে, ক্ষুধার্ত কুকুরেরা ক্ষুধা নিবারণের জন্য যেকোনো কিছু খেয়ে নেবে?
তুমিও তো একজন সামুরাই ছিলেন, তাইনা?
এখনো আছি।
ও, এজন্যই তো আমাদের মতের মিল হয়না।
সাবধান!
পুলিশের সাক্ষ্য-প্রমাণের প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু আমার নয়!
কান্রিউ স্যার, মেগুমি পালিয়েছে।
আচ্ছা…
মেগুমি পালিয়েছে মানে?
ঘুষ নেয়া এক পুলিশ অফিসার এ খবরটা দিল।
সে বলল, ও নাকি পুলিশ স্টেশনে গিয়েছিল।
শিট্!
এটা নিয়ে ভাববেন না!
ও এটাও ভালো করেই জানে যে, ও যদি আফিম নিয়ে মুখ খোলে, তাহলে ও নিজেও ঝামেলায় পড়বে।
তুমি আসলেই একটা বোকা।
মেয়েরা কোনকিছুর জন্য মরিয়া হলে তাঁরা যেকোনো কিছুই করতে পারে।
তুমি মেয়েদের সম্পর্কে কিছুই জানো না।
কি বললে তুমি?
কি চাও তুমি?
চুপ!
ওই মেয়েকে যেভাবেই হোক ফিরিয়ে আনো!
ধরবে না আমাকে!
ধরলে কি?
আমি ব্যাপারটা দেখছি।
ওকে প্রাণে মেরো না, জিনেই।
ও ই একমাত্র ব্যক্তি যে মাকড়শার জাল দিয়ে আফিম শোধনের পদ্ধতি জানে।
এছাড়া যা খুশি করতে পারো, বাত্তোসাই!
আপনিই আমাদের কাছে নিজের নিরাপত্তা চাইছেন।
তাই আপনাকে ওসব সম্পর্কে আরও বিস্তারিত আমাকে বলতে হবে।
তাহলে, আমার আর কিছুই করার নেই…
কি হয়েছে?
হেই!
এদিকে! এদিকে!
হেই, কি হয়েছে?
সরুন, সরে যান!
তুমিই সেই বাত্তোসাই, তাইনা?
নড়বে না!
ক্ক্ কে?…
নড়বে না!
থামো!
বলেছি, নড়বে না!
এটা কোন জাদুবিদ্যা নয়।
এটা নিগাইদো হেইহো এর পক্ষাঘাতি আক্রমণ পদ্ধতি।
মানুষ ভয়ের কাছে দুর্বল।
আর আমি এটা করে মানুষের মনে ভয়ের সঞ্চার করি, এবং তাঁর নড়াচড়া বন্ধ করে দেই।
কষ্ট হচ্ছে?
তোমার মনে যত বেশি ভয় থাকবে, কষ্ট তত বেশি হবে।
একটা বিড়াল ছানা!
হেই…
মিয়াঁও, বিড়ালছানা!
আরে…
দাঁড়াও!
তুমিই কি বাত্তোসাই?
তুমি কেন…
অপরাধ করার সময় কামিয়া কাশিন পদ্ধতির কথা উল্লেখ করছ?
তোমার মতো বেজন্মার জন্য… আমার বাবা…
বাবা আমাদের যে কামিয়া কাশিন পদ্ধতি শিখিয়েছিলেন, তাতে-!
তোমার বাবা কি শিখিয়েছেন?
তিনি মানুষকে সাহায্য করার জন্য তলোয়ার ব্যবহার করতে শিখিয়েছেন।
তিনি শিখিয়েছেন, এটা মানুষ হত্যার হাতিয়ার নয়।
বরং... মানুষের উপকার করার হাতিয়ার।
তোমার দেখছি ভালোই সাহস, আমার সাথে কাঠের তলোয়ার নিয়ে লড়তে এসেছ।
চুপ করো!
এই কাঠের তলোয়ার দিয়ে তুমি আমার কি করবে?
তলোয়ারের জন্মই হয়েছে রক্তের স্বাদ আস্বাদনের জন্য।
মৃত্যুর পরেই ব্যাপারটা বুঝতে পারবে।
No comments yet. Be the first to leave one.