نخستین 200 خط.
এই ছবিটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন
খালেদ মাহমুদ খান
১৮৯৩ সালের ঘটনা.....
১৮৯৩ সালের ঘটনা.....
চাম্পানিয়ার ।
ইন্ডিয়ার ছোট্ট একটা গ্রাম ।
এই গ্রামের মানুষ দেশের অন্যান্য গ্রামের মানুষের মত...
...কৃষি কাজ করেই তাদের জীবিকা চালায় ।
এই গ্রামের সীমানাতে ছিলো ইংরেজদের ছাউনি ।
আর ছাউনি থেকে দু কিলোমিটার দূরেই ছিলো...
... এই এলাকার রাজার দুর্গ ।
ইংরেজরা রাজাদেরকে প্রতিবেশী রাজাদের হাত থেকে নিরাপদে রাখতো ।
তারা অন্যান্য রাজাদেরও এই রাজা থেকে নিরাপদে রাখতো ।
এই রাজনীতির কারনেই...
... ইংরেজ শাসকরা উভয় রাজার কাছ থেকে...
...খাজনা নিতো ।যা কৃষকদের দিতে হতো ।
খাজনা:
কৃষক তার মেহনতের একটা অংশ...
... খাজনা হিসেবে রাজাকে দিতো ।
আর এই খাজনা সব রাজা যার যার এলাকা থেকে উসুল করতো ।
রাজার খাজনার একটা অংশ রেখে...
...বাকিটুকি ইংরেজদের দিয়ে দিতো ।
এভাবেই ইংরেজদের মুঠোতে বন্দী ছিলো জনগন ।
দেশের হাজারো কৃষকের মত...
... চামপানের এক কৃষক মেহনত করে...
...রাজাকে খাজনা দিতো ।
গত বছর বৃষ্টি হয়েছিলো ।কিন্তু অল্প ।
আর এ বছর কোন বৃষ্টিই হয়নি এখন পর্যন্ত ।
পিপাসার্ত দৃষ্টি...
...আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে ।
তুমি আবার এখানে এসেছো ! কি দেখছো মা ?
কবে নাগাদ আকাশ থেকে বৃষ্টি আসবে এটাই দেখছি ।
অনেকদিন বৃষ্টি হয় না ।
বর্ষাকাল চলে যাচ্ছে তবু এক ফোটা বৃষ্টিও নেই ।
এসো ।
খোদার কৃপা যে অন্তত খাবার পানিটা পাচ্ছি ।
নয়তো সব গলা শুকিয়ে মরতো ।
কিন্তু খেত তো আর সইবে না ।আর কতদিন !
আশা ছেড়ো না হরি ভাই ।
আকাশ থেকে না পাই পৃথিবী থেকেই কিছু তো পাবো ।
মাটি খুড়ে পানি বের করবো ।
আমি এটাই বলছিলাম ভূবনকে ।
সে কোথায় ?
ও তো সকালেই বেরিয়ে গেছে ।
খাবার সময় হয়েছে ।দেখা হলে ওকে ঘরে পাঠিয়ে দাও ।
তোর ঠ্যাং ভেংগে দিমু শালা !
আবার শুরু হইছে মুরগীর লড়াই !
আরে গলীর বাচ্চা দাড়া !
তোরে যদি ছাইড়া দেই তো নামই পাল্টায় ফেলমু !
গুষ্টি কিলাই তোর !
আরে সামনে আয় !
দাড়া রে আসতাছি !
-মাইরা বিছানায় শুইয়ে দিমু । -আমার ছেলেকে কেন মারছো ?
শয়তানি করলে ছেড়ে দেবো নাকি ?
আমার মুরগীদের উত্ত্যক্ত করছে ।
আর তুই বেশী কথা বলিস না ।
বন্ধ করো ঝগড়া ।
কুত্তা বিলাইয়ের মত লড়াই করছো তোমরা !
আমার মুরগী ধরছে ছাইড়া দিমু নাকি !
সামান্য মুরগীই তো ধরছে ।বাঘ ধরলে তো ইজ্জত লুটে নিতি !
তোর মুরগীরে তো আর বিয়া করতাছে না !
আরে ওরা তো বাচ্চা ।আর নিজের বাচ্চাকে সামলে রাখো ।
আচ্ছা বলো ভুবনকে কোথাও দেখছো তোমরা ?
না ।
কেন ?
হারামখোর !
ভাব নিয়া চলে !
ওদেরকে ওদের দেশে ফিরিয়ে দিতে হবে ...
হয়তো আমার হাতেই তোদের সর্বনাশ আছে !
গুরান ওদের ভাগ্য কেন দেখছিস !
ওরা যেখানে খুশী যাক ।আমার ভাগ্যটা দেখে দে !
আমি কি আমার স্বপ্নের রাজকুমারকের পাবো ?
কেন নয় ?
তুমি যদি সত্যিই তাকে ভালোবাসো তাহলে...
...ওর সাথেই বিয়ে হবে ।
সত্যি ? শুনেছিস তুই ?
কিন্তু....
কিন্তু কি ! ?
আমি একটা বাধা দেখতাছি !
কেমন বাধা ? জলদি বলো ।
গৌরী ।
পরে আসবো ।
আমার ভাগ্য দেখো ।
কি হইছে কাকা ?
-গুরান তোকে ভবিষ্যত বলছিলো নাকি ? -না ।
-হ্যা । -ও তো পাগল !
বর্তমানে কি হবে সেটাই জানে না সে কি না বলে ভবিষ্যত !
না হরি কাকা ।সে পাগল নয় ।
দুর্গা ভাবীর কথা ভুলে গেছেন ?
বিয়ের ৯ বছর পরও তার সন্তান হচ্ছিলো না ।তারপর বুরান বললো ছেলে হবে ।
তারপরে সমুর জন্ম হয়নি ? মনে নাই আপনার ?
ঠিক আছে ওই পাগলা পাগল নয় !
এখন বল ভূবনকে কোথাও দেখেছিস ?
না ।কিন্তু জানি সে কোথায় আছে !
দারুন !
সব খবরই তো জানো ওর !
তোর তাতে কি হইছে ?
বাপরে ! আমার সাথেই সব হবে আর আমার মুখই দেখছিস না ! ?
তুই তো আমার জন্য বিয়ের চুড়ি করবি ।
-আজেবাজে কথা কেন বলছিস ? -সত্যি করে বলছি !
আপনি তো বুড়া হয়ে গেছেন...
...আর এদিকে গৌরী আমাকে পাত্তাই দেয় না ।
এই যে দেখো ।
-কত জখম হইছে দেখো । -জখম ?
তোর তাহলে আমার বাবাকে দরকার ।আমাকে নয় !
-বাবা ! -কি হইছে ?
লাখার হাতে জখম হইছে ।
আজ্যাইরা ! হাত কাইটা ফেল !
কি করুম ইসার চাচা ? কেটেই তো যায় !
কাকা আমি ভুবনের কাছে গেলাম ।
দেখা হলে বলিস মা জলদি বাড়ি যেতে বলছে ।
কাকা আমি বলে দেবো ।
১
২
৩
আবার মিস করলাম !
ওকে এরেস্ট করো ।
স্যার এই চোর লুকিয়ে...
...আমাদের বিভ্রান্ত করছিলো ।
হরিনটাকে মারতে দিচ্ছিলো না ।
এখন আমি বুঝতে পারলাম !
কেন ৫ বার মিস করছি !
তুমি তাহলে প্রানী বাচাইতে আসছো ?
সে চামনারের একজন কৃষক ।
তুমি তাহলে বেশ ভালো দৌড় জানো ।
এটাকে বাচাও পারলে !
এরপরে আমি তোমাকে গুলি করবো ।
তুমিই হবে আমার শিকার !
ক্যাপ্টেন ,রাজা পুরান সিং আপনার জন্য ওয়েট করছে ...
পুরান সিং এখন কি চায় !
চেচামেচি কেন করছিস ?
আমি তো তোকেই খুজছিলাম ।
-আমি কি মারা গেছি নাকি ? -মরলেই বা কেমনে জানমু ?
খাইছে ! কি কইলাম ! ?
এত রাগ কেন করছিস ?
বাদ ।তুই কি বলবি বল ?
-একটা ভালো কথা বলবো । -কি ?
আগে বসে পড় ।
তো বল আমাকে ।
গুরান আজ আমার ভাগ্য দেখছে ।
তাহলে ভাগ্যের দুর্দশা কবে হবে ! ?
যা ! আমি আর বলবো না !
ঠিক আছে বল ।
গুরান বলেছে ...
...এ বছরই আমার হাতে বিয়ের চুড়ি আসবে ।
মানে বিয়ে হবে !
দারুন খবর !
খুশীতে নাচবে তোর পায়েল ।ছেলেটা কে ?
আমি করে জানবো ?
গুরান আমাকে বলেনি ।
তবে গুরান এটা বলেছে...
যে বাড়িতে আমার বিয়ে হবে ...
...সে বাড়ীতে একটা নিম গাছ থাকবে ।
ঘরের কাছেই একটা বড় খেত থাকবে ...
...দুটো গাই গরু থাকবে ...
...আর তিনটা ছাগল ।
গুরান বলেছে আমার ঘর...
..একটা ছোট্ট স্বর্গ হবে ।
সত্যিই তুই অনেক ভাগ্যবতী !
তুই আমাকে ভাগ্যবতী বলছিস ! ?
ঘরের মধ্যেই স্বর্গ ! আর কি চাস রে ?
রাম জানে কি হবে ।
একটা কথা বল ভুবান ।
-কেমন মেয়ে তোর পছন্দ ? -আমি ?
আমি তো সেই মেয়েকেই পছন্দ করবো যাকে আমার মা পছন্দ করবে ।
-মায়ের পছন্দ ! ? -হ্যা ।
কি হইছে !
আমি তো এটাই বলতে এসেছিলাম যে ...
...মা তোকে যেতে বলেছে !
এতখন ঘ্যান ঘ্যান করে আসল কথা বললি !
তুই বস আমি গেলাম ।
ভুবান আমি দু:খিত ।
শিকার কেমন হলো ?
ব্রটিশরা সব সময়ই শিকার করতে পটু ।
-কিন্তু আমি চিন্তিত ? -কিসের জন্য ?
যখন সব শিকার জংগলে শেষ হয়ে যাবে...
...তারপরে কি শিকার করবো ! ?
আপনি এখানে এসেছেন দেখে ভালো লাগলো ।
কিন্তু আমি কারনটা জানি না ।
আমি আমার প্রজাদের তরফ থেকে একটা অনুরোধ নিয়ে এসেছি ।
অনুরোধ ?
শুভ সকাল এলিজা ।
পরিচিত হোন ।আমার আদরের বোন এলিজাবেথ ।
সে মাত্রই লন্ডন থেকে এসেছে ।
এলিজা উনি হলেন রাজা পুরান সিং ।
আপনার সাথে পরিচিত হয়ে ভালো লাগলো ।
রাজাজী সে হিন্দি জানে না ।
পরিচিত হয়ে আনন্দিত হলাম ।
তাহলে রাজাজী কি কাজ বলুন ।
গত ৩ বছর যাবত আমাদের প্রজা সিদ্ধেশ্বর মন্দিরে পুজা দেয়নি...
ওদের বিশ্বাস...
...আগের বছর যেসব বিপদ তাদের জীবনে এসেছে পূজার ফলে তা কমে যাবে ।
-কিন্তু -কিন্তু যে রাজ্যে সেই মন্দির...
...সেখানকার রাজা দালের সিং আপনার চাচাতো ভাই আপনার দুশমন ।
আর সে আপনার প্রিয় বন্ধু ।
আপনি যদি তাকে অনুরোধ করেন সে না করতে পারবে না ।
লাগবে না ।
আমি ভেজেটেরিয়ান ।
তাহলে আপনি বলুন এটা কি সম্ভব ?
আপনার কাজ হতে পারে ।
No comments yet. Be the first to leave one.