نخستین 200 خط.
আরে রাস্তার মাঝখানে এরা কারা?
থামো, থামো।
থামুন...
আরে...
কী এক ফালতু ড্রাইভার।
ড্রাইভারের বাড়ি কোথায়?
রাস্তার মাঝখানে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে...
ড্রাইভারের দোষ কী?
আমি এখানে সার্কাস দেখানোর জন্য দাঁড়ায়নি।
জরুরী কথা আছে। নিচে নামুন।
বলুন..
এখন কথা হলো গ্রামে ৭২ ঘন্টার এক প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
আচ্ছা, আচ্ছা। জয় প্রভু..
সেটা বললে কাজ হবে না।
মাল-কড়ি বের করুন।
চাঁদা দিতে হবে নাকি?
আচ্ছা আচ্ছা..
এই নিন।
ভিক্ষা দিচ্ছেন নাকি!
টাকা!
মাত্র ৫০ রুপি!
এত বড় বাস কমপক্ষে ১০১ রুপি দেওয়ার কথা..
১০০ রুপি একটু বেশী হয়ে গেলো না।
কথা শুনুন, প্রলাধ চাচা।
এত সংকোচ কেনো ভাই?
টাকা তো আর তোমার পকেট থেকে যাচ্ছে না।
টাকা তো মালিকের পকেট থেকে যাবে।
মালিককে টাকার হিসাব দেওয়া লাগে।
দেখি...
একশ রুপির নোট দেখতে পাচ্ছি...
- নিন। - দেন।
একটা রশিদ দেন।
আরে রশিদ অবশ্যই দেবো, আমরা এখানে কোন দু-নম্বরি কাজ করছি না।
তাকে রশিদ দিয়ে দাও।
নাম বলুন?
প্রাজেশ মিশরা।
প নাকি প্র?
- মানে? - প্রাজেশ লিখুন।
প্রাপ্তির 'প' হবে।
আচ্ছা প্রাজেশ!
জলদি করুন। আমাকে বিবিপুর যেতে হবে।
এই নেন।
- অসংখ্য ধন্যবাদ। - প্রসাদ খেতে অবশ্যই আসবেন।
পুরো বাস নিয়ে চলে আসবো।
- তাহলে আরো এক হাজার টাকা দেন। - এখন যান।
চলুন ড্রাইভার।
চলুন, চলুন।
দেখা হবে...
প্রলাধ চাচা, ১০০ রুপি পেয়ে গেলাম।
দেখুন, ট্যাক্সিকে দাঁড় করাবো নাকি?
আরে যেতে দাও।
ট্যাক্সি থেকে টাকা নেওয়ার দরকার নেই।
যেতে দাও...
মনে হয় চাঁদা দেবেন।
আরে....
এটাই তো...
সাইনবোর্ডে ফুলেরা লেখাও আছে।
ভাই এই রোড দিয়ে কি ফুলেরা যাওয়া যাবে?
হ্যাঁ কিন্তু আপনি ফুলেরাতে কোথায় যাবেন?
আমার বন্ধুর কাছে যাবো। নাম অভিষেক।
সেখানে পঞ্চায়েত অফিসে কাজ করে।
আপনি সচিব স্যারের বন্ধু?
হ্যাঁ, আমি তাঁর বন্ধু।
আমি ভিকাস, অফিস সহকারী।
উনি প্রলাধ পান্ডে, গ্রামের উপ-প্রধান।
নমস্কার...
অভিষেক সবসময় আপনাদের কথা আমাকে বলে।
পঞ্চায়েত প্রধানের কথাও বলে। আমি আপনাদের সম্পর্কে সব জানি।
আসলে আমি দিল্লি থেকে কলকাতা বেড়াতে যাচ্ছি।
তাই আজ একটা দিন সময় নিলাম।
আস রবিবার।
মজা করবো অনেক।
এই তো এটাকেই বলে সত্যিকারের বন্ধুত্ব।
আমি সচিব স্যারকে কল দিয়ে জানিয়ে দেই, চা বানিয়ে রাখুক।
না, না ভাই।
কেনো?
তাকে সারপ্রাইজ দেবো।
সারপ্রাইজ দেবো।
কী?
বুঝেননি?
উনি হঠাৎ অভিষেক স্যারের কাছে যাবেন...
গিয়ে বলবেন এই দেখো আমি এসে গিয়েছি।
আচ্ছা পেছন থেকে বলবেন।
হ্যাঁ, সেটাই।
এই রাস্তা দিয়ে সোজা চলে যান।
এটাই পঞ্চায়েত অফিসের রাস্তা।
আচ্ছা, আচ্ছা। পরে দেখা হবে।
৫০ রুপির বেশী ভাড়া দেবেন না।
আচ্ছা, আচ্ছা।
আচ্ছা গেলাম।
এজন্য আমি এখানে ভাড়ায় আসি না।
বুঝতেই পারিনা যে, ক্ষেতের উপর রাস্তা বানাইছে নাকি...
রস্তার উপর ক্ষেত।
আরে ভাই এটাই তো গ্রামের মজা।
উপভোগ করুন।
মজা সব আপনার জন্য।
৫০ রুপি ভাড়া বাড়িয়ে দেবেন।
আচ্ছা ঠিক আছে দেবো।
এটা রাখো, রাখো, রাখো, রাখো, রাখো,
- আমার কাছে ভাংতি নেই। - আরে পুরোটা রেখে দাও।
- সত্যি? - আরে আবার জিগায়!
সচিব স্যার, আমার একটা জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট বানিয়ে দিন...
আরে বন্ধু এখানে!
সারপ্রাইজ....
একটা ফোন করলিনা? এটা কেমন সারপ্রাইজ?
কল দিলে সেটা আর সারপ্রাইজ হতো না।
বন্ধু মেইন রোডে অফিস পেয়ে গেলি!
হ্যাঁ বন্ধু।
বাংলা অনুবাদেঃ শাহনেওয়াজ চৌধুরী
সাবটাইটেল ভালো লাগলে রেটিং এবং ফিডব্যাক জানাবেন।
ভেতরে আয়।
তোর রুম জোস তো বন্ধু।
আর তোই কেঁদে মরছিস?
আমিও একটা চাকরি নিয়ে নেবো এখানে।
হ্যাঁ শুধু রাতে কারেন্ট থাকেনা, বাকীসব জোস...
বন্ধু...
কী দেখলি?
সরিষার ক্ষেত দেখছি না যে?
সারা বছর সরিষা হয় নাকি?
সরিষা শীতকালীন ফসল। শুধু শীতকালে হয় এটা।
গ্রামে এসে অনেক চালু হয়ে গিয়েছিস।
কোন মাসে কোন ফসল হবে?
গ্রামে এসে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হয়ে গিয়েছিস তোই!
বকবক না করে ফ্রেশ হয়ে নে।
টিউবওয়েলের পানি খাবো নাকি?
হ্যাঁ
আরে বন্ধু কত বছর পর টিউবওয়েলের পানি খাবো?
হ্যাঁ, খেতে একটু মিষ্টি।
আমায় কোন আদেশ দিবি না।
আজ তোর বন্ধু টিউবওয়েল থেকে পানি তুলবে।
আরে ভাই, যত ইচ্ছে ততো তুলতে পারবি। সমস্যা নেই।
আরে বালতি নে বন্ধু। আমি বালতি ভরে পানি তুলবো।
- গোসল করবো। - আরে চল।
জোরে হ্যান্ডেল মার...
জোরে, জোরে, জোরে, জোরে, জোরে চালা।
গ্রামে কি ওয়াসার লাইন নেই বন্ধু?
গ্রামে আছে তবে এখানে আগামী বছর থেকে চলে আসবে।
চালা, চালা, চালা।
তোর অফিসেও পানির লাইন নিয়ে নে বন্ধু।
কেনো? টিউবওয়েল থেকে পানি তুলার শখ মিটে গেছে নাকি?
কী লাভ প্রার্থনা সভার আয়োজন করে?
যখন সারাদিন শুয়ে থাকবেন?
আরে ভিকাস আর প্রলাধকে চাঁদা তুলতে পাঠিয়েছি।
আমি গিয়ে কী করবো?
কী করবেন মানে?
আরে বাইরে গেলে লোকজনের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ হবে।
তারাও দেখবেন যে, প্রধান স্যার রাস্তা তৈরী করতে না পারলেও...
অন্তত কিছু তো করছেন।
আরে তারা গ্রামের বাইরে রাস্তা থেকে চাঁদা সংগ্রহ করছে,
তারা ফিরে আসলে আমিও চলে যাবো।
চুপ থাকো তুমি।
'চুপ থাকো' শুধু এটাই বলতে পারেন।
আমরা চাঁদা কত দেবো?
কৃষকদের জন্য ৫০০,
যারা চাকরি করে তাদের জন্য ২৫০০,
আর আমরা দেবো ১০,০০০।
আমাদের বিশ হাজার দেওয়া দরকার।
কী? কতো?
২০,০০০
- ২০,০০০ - হ্যাঁ
যেখানে টাকা দেওয়ার দরকার সেখানে দিবেন না।
আর যেখানে দরকার নেই সেখানে আপনি টাকার অপচয় করেন।
রিংকি...
হ্যাঁ বাবা।
এদিকে আসো, মা।
হ্যাঁ
হ্যাঁ বলো, বাবা।
আমরা ২০,০০০ দেবো?
হ্যাঁ, বাবা। দিয়ে দেন।
আচ্ছা ঠিক আছে।
তোর মা ধীরে ধীরে কূটনীতি শিখছে।
এটা রাখ
বোরিং লাগছে বন্ধু, চল মাঠের দিকে যাই।
আরে এত রোদের মধ্যে মাঠে গিয়ে কী করবি?
চাষীরা পর্যন্ত এই সময়ে মাঠে যায় না।
জানিনা তোই কী দেখতে চাস।
খাবার খেয়েছিস। এখন বিশ্রাম কর।
তোর জন্য একটা বিছানা লাগবে।
সন্ধ্যায় প্রধান স্যারের বাসায় গিয়ে একটা বিছানা নিয়ে আসবো।
সন্ধ্যায় না। চল এখনই যাই।
দুজন আরাম করে ঘুমাবো।
আরে চল বন্ধু।
আরে বন্ধু চলো, চলো যাই।
আরে ভাই দেখ, মহিলারা কূপ থেকে পানি তুলছে।
আরে কী করছিস? মহিলাদের ভিডিও করা বন্ধ কর।
নিজেও মাইর খাবি, আমারেও খাওয়াবি।
বুঝলাম বন্ধু, বুঝলাম
ভাই এটা রাস্তা নাকি কামরাঙ্গীরচরের গলি? তোই এই রাস্তা দিয়ে কীভাবে চলাফেরা করিস?
প্রথম প্রথম ঘাবড়ে যেতাম,
তবে এখন অভ্যাস হয়ে গেছে।
আরে ভাই মানতে হবে।
লোকজন এভাবে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে কেনো?
আমার দিকে না। তোর দিকে তাকাচ্ছে।
তোই এখানে নতুন তাই।
নতুন লোকদের দিকে তারা এভাবে তাকিয়ে থাকে।
আচ্ছা
এটা নাকি বাড়ি?
হ্যাঁ, এটাই।
ভাই প্রধানকে তো প্রধান স্যার ডাকবো।
কিন্তু মনজু দেবিকে কী বলে ডাকবো?
No comments yet. Be the first to leave one.