نخستین 200 خط.
অনুবাদ অংশগ্রহণে প্রান্ত ঘোষ সাজিম রাজ আহমেদ জয়নুদ্দিন
সম্পাদনায় আহমেদ জয়নুদ্দিন
আমার নাম রাম্মিয়া গোয়ারিকর
সহকারী পুলিশ কমিশনার!
অপরাধীদের ধরতে আমার সারা জীবন ব্যয় করেছি।
যারা অপরাধ করে তাদের আমি সহজেই ছেড়ে দেই না।
অনেক অপরাধীকে নির্দয়ভাবে হত্যা করেছি।
তবে একজনকে গুলি করার সময় আমাকে দ্বিধাগ্রস্ত করে।
আমি জানতাম সে অপরাধী।
কিন্তু ওকে মারার কথা অনুভব হয় নি।
আমার পুলিশের মস্তিষ্ক বলতে থাকে মেরে ফেল।
তবে আমার হৃদয় বলে না।
আমি ট্রিগার চাপতে চাই নি।
আমি গোয়ায় একজন অপরাধীকে ধরতে এসেছি।
সে ছোট ছিল।
তার বয়স প্রায় ২৫ বছর গেছে।
আমি তার " লাভ স্টোরি " বলতে চাই৷
এই রক্তপাতের পেছনে রয়েছে একটা গল্প।
ভালোবাসার গল্প।
আর সে ভালোবাসাকে ভয় পায়৷
তবে সে ওই মেয়েকে ভালোবাসেছে৷
তাকে এতই ভালোবাসে যে তার জন্য যেকোনো কিছু করতে রাজি।
তার নাম ভাস্কো ডি গামা।
এই নিয়ে তিনটা মামলা।
তুই কী জানিস তিনটা মামলার জন্য কী হতে পারে?
তারা তোর বিরুদ্ধে পেশাগত অপরাধী হিসেবে মামলা করতে পারে ।
তোর বাবা একজন সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন।
আর তুই এরকম বদমাশ হয়ে গেলি?
চোরাচালান, অবৈধ কার্যকলাপ বাদ দিয়ে সম্মানজনক জীবনযাপন কর।
যদি না করিস,আমিই পেশাগত অপরাধী হিসেবে তোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করব।
কীরে ?
মামলা লিখব নাকি?
আমার বিরুদ্ধে পেশাগত অপরাধী হিসেবে অভিযোগ দায় করবেন।
এখনো গুন্ডামি করিছ ?
আমি এভাবেই বড় হয়েছি, আর গুন্ডাদের ধুলাই করি।
তোর দাঁত ভেঙ্গে দিবো।
তোকে পুলিশের কনস্টেবল হতে সাহায্য করব।
এসব ছেড়ে কাজে লেগে পড়৷
স্যার, একজন কনস্টেবল মাসে ২০,০০০ টাকা কামায়।
এটা কী যথেষ্ট?
মা- বাবা,স্ত্রী-সন্তানের খেয়াল রাখা আর তাদের লেখাপড়ার খরচ...
আমাকে বলো নি কেন?
প্রতিটি থানায় গাড়ির তেলের খরচের টাকায় এক সপ্তাহও চলে না।
তাহলে আপনি কী করবেন?
আপনি এটা জনগণের কাছ থেকে আদায় করেন।
আপনার জীবন-ধারণের জন্য জনগণকে চাপ দেয়া দরকার নেই।
স্যার, পুলিশ ডিপার্টমেন্টেই নিজের ভুলের জন্য কর্মকতাকে অজুহাত দেয়৷
এখানে চুরি করার চেয়ে, সেখানে গিয়ে লুটপাট করা ভালো।
তুই কী করবি?
আমি জানি না কী করতে যাচ্ছি ...
তবে এটা জানি বড় কিছু করতে যাচ্ছি।
তোর বাবার প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা আছে।
এটার জন্যই তুই রেহাই পাচ্ছিস ।
স্যার আমার বাবার প্রতি আপনার শ্রদ্ধা নিয়ে কোনো মাথাব্যাথা নেই।
যদি আমার জন্য উপকার করতে চান, তাহলে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায় করুন।
অন্তত এভাবে কিছুটা দুর্নাম অর্জন করব।
তুই এখানে থাক। বোর্ড নিয়ে আসো৷
তোকে সতর্ক করেছিলাম৷
এটা মানিস নি, তোর ইচ্ছা।
ছবি তুলো।
ছবি তুলো।
স্যার।
আমার সারা জীবন এটার জন্যই কষ্ট করেছি।
আমার ক্যারিয়ার সবে শুরু হচ্ছে।
প্লিজ একবার জড়িয়ে ধরুন৷
স্যার, আমি আন্তরিকতার সাথে বলছি।
একবার জড়িয়ে ধরুন।
বেরিয়ে যা৷
হেই তাকে বের করে দাও৷
চলো।
আমি নিজেই চলে যাবো, স্যার৷
আমার সাথে আবার দেখা হলে, বলিস তুই বদলে গেছিস।
অ্যানি!
আরে, ভাস্কো!
সাইকেল নিয়ে আসি।
চল।
তার দিকে তাকিয়ে,
সবাই মনে করে সে তার গার্লফ্রেন্ড।
কিন্তু আসলে তা নয়।
সে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
তার নাম অ্যানি৷
-তোকে ছেড়ে দিয়েছে? - হ্যা৷
দাদিমা...
আমি এসে গেছি।
রাগ করে আছ?
পুলিশ কী বলেছে?
তারা কী বলতে পারে?
তারা ক্ষমা চেয়ে বলল আর আমাকে গ্রেফতার করবে না।
পুলিশ ডিপার্টমেন্ট লম্বা কাগজে ক্ষমা চেয়ে সাক্ষর করে সিল মেরে দিলো।
সত্যি?
হে৷
কাগজ দেখা তো৷
দেখা৷
দেয়।
- এই নাও৷ - এত ছোট কেন?
এটা জেরক্স,দাদিমা। এভাবেই থাকে।
পোতা, তুই অনেকদিন বাঁচবি৷
অনেক টাকা উপার্জন করবি।
আর আমাদের সবাইকে ভাগ করে দিবি।
এতটুকুই চাই৷
পরের রবিবার….
পরের রবিবার, তুমি টাকা বিলি করে দিবে৷
ঠিক আছে।
-সত্যি? -তুই কত্ত ভালো।
দারুণ।
তুমি কী ভগবানের সাথে কথা বলেছো? হ্যা৷
চল, ভগবানের সাথে দেখা করবি৷
গোয়াতে প্রচুর গ্যাং এবং অবৈধ ব্যবসা চলছে।
শুধু ইন্ডিয়ানই নয়।
ব্রিটিশ, ফরাসি, ইতালীয়,ইসরায়েলি ও রাশিয়ান মাফিয়া গোয়াতে রয়েছে।
কায়া আর স্যামসাং, তারা দুই ভাই।
তারা অঞ্জুনা, ভ্যাগাটর আর চাপোরা উপকূলরেখায় কাজ করে।
গত দুই বছর ধরে এই মালের জন্যই আমরা প্ল্যান করেছি।
এটা আমার স্বপ্ন।
এটা নিয়ে তদন্ত করতে আমার সারা জীবন ব্যয় করেছি।
সময় এসেছে আমাকে সহযোগিতা করো৷
তুমি যা চাও তাই দিবো।
যখন মাল আসবে, এখানের মাটি পরিষ্কার রাখবে৷
আমাদের কোনো শত্রু নেই।
বিশেষ করে এই রদ্রিগেজ…
দেখে! হেই৷
উঠ।
আরে, সর।
আরে বাইক সরা৷
ভাস্কো।
আবার এটা দেখালে, তোকে অন্যকিছু দেখাব।
তোর নাম কী?
তোর নাম কী?
তুই কী করিস?
তুই কী করিস ?
আমি টাকার জন্য যেকোনো কিছু করি।
আমিও তাই করি৷
কাজ করতে চাস?
আমাকে অফার দিচ্ছিস?
তোকে ডেলিভারির জন্য দশ পার্সেন্ট দিব...
দশ পার্সেন্ট৷
চল।
গাড়িতে বস৷
আমি বাইকে যাবো৷
তার নাম রদ্রিগেজ।
সে ভাস্কোর মতো কিশোর ছেলেদের নিয়ে তার ব্যবসার কাজে লাগায়৷
কালাঙ্গুট, বাগা, আরপোড়া এলাকা তার নিয়ন্ত্রণে।
তাদের এলাকায় মাল বিক্রি করায়, আমাদের লোকে তারা আটকে রেখেছে।
যা তাকে ধরে নিয়ে আয়৷
তার নাম কী?
চিকো।
চিকো?
এটা চিকো?
অবশ্যই সে৷
কেলমা দেখাানি শুরু কর৷
চিকো ! অনেক দিন পর তোকে খুঁজে পেয়েছি!
এসব কী?
আমাদের এলাকায় এসব জিনিস বিক্রি করার সাহস হয় কি করে?
শালার পুত।
ভাস্কো। থাম৷
থাম ভাস্কো।
আরে!
তুই বাল কে?
কতবার তোকে বলল আমাদের এলাকায় আসবি না?
কেউ তাকে থামতে বল৷
এটা আমাদের এলাকা৷
-তুই কে? - বন্দুক, বন্দুক৷
বন্দুক৷
বন্দুক।
আমাকে কিছু দেও তো৷
বাইনচোতকে শেষ করে দিবো৷
তুই!
তুই কে রে?
আমি তোর মায়ের জামাই৷
তোর বাপ।
দারুণ!
তুমি ব্রিল্যান্ট ব্রো৷
তোমার নাম কী, ব্রো?
ভাস্কো ডি গামা৷
আমাদের নতুন গ্যাং সদস্যকে স্বাগতম।
এটা আমাদের গ্যাং আর সে হলো মার্কো।
হায়৷
সান্তা, আমাদের ইঞ্জিনিয়ার।
রোজারিও, আমাদের PRO।
আর আমাদের পোলাপান।
অবশেষে আমাদের গ্যাংয়ে একজন মেয়ে পেলাম৷
অ্যানি ডি ক্রুজ।
হায়৷
পুরো তর-তাজা মাল।
সে তর-তাজা মাল নয়।
সে উত্তর কোরিয়ার মিসাইলেয়র মতোই বিপজ্জনক।
তাকে পছন্দ হয়েছে।
তো,
তোকে কিছু করতে দিবো না।
যে মেয়েরা বলে কিছু করতে দিবো না ...
তাদের কিছু করার জন্য প্রলুব্ধ করতে হয়।
এটার ওজন ৫০ কেজি৷
তোকে এটা দক্ষিণ গোয়াতে পৌঁছে দিতে হবে।
তোর বাইক নিয়ে যাস নি৷ চেকপোস্টে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
আমি খেয়াল রাখতে পারব। কাজ শেষ করে ফেলব৷
তোর হাতে ৫০ কেজি মাল দিচ্ছি।
যদি কোনো গড়বড় হয়, তোকে শেষ করে দিবো।
আমি ভুল লোক নই।
তোকে বিশ্বাস করব কেন?
ইতিমধ্যেই বিশ্বাস করেছিস, ভায়া।
No comments yet. Be the first to leave one.