نخستین 200 خط.
মিস কেলি, আমি কি আপনার সাথে পরে কথা বলতে পারি?
যদিনা তোমার কথাটা কোন না কোনভাবে আমার জন্য সমস্যার সৃষ্টি করে।
৯টার প্রার্থনা শেষ হয়েছে, মেয়েরা।
- এই যে। - ধন্যবাদ।
- এক মিনিট, প্লিজ। - মাফ করবেন।
কিছু শুকরের মাংস ফালি আর কিছু পনির।
মিসেস ব্র্যাডি, আজ কি চাই আপনার?
- আধা ডজন শুকরের মাংস ফালি, প্লিজ। - অবশ্যই।
এইলিশ আপনাকে এনে দেবে।
- এরপর আমার পালা ছিল। - আপনার পালা এরপরেই।
- জী? - আমার কিছু জুতোর পালিশ প্রয়োজন।
জুতোর পালিশ? এটা কি রবিবার কেনার মতো কোন জিনিস হল?
এখানে সবাই তাঁদের রাতের খাবারের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছেন।
গতকাল কেন কেনার কথা মনে পড়ল না?
কারণ জুতো দেখে মনে হচ্ছে কালও ওটার দরকার ছিল আপনার।
আমি দুঃখিত।
মিস কেলি...
আমি ভুলে যাইনি। তা, যা বলার জলদি বলে ফেল।
আমি অ্যামেরিকা যাচ্ছি।
এই বুদ্ধিটা কে দিয়েছে তোমাকে?
নিউইয়র্কে ফাদার ফ্লাড এসবের বন্দোবস্ত করেছেন।
রোজ তাঁর সাথে গলফ খেলত।
তিনিই আমার ব্যায়ভার বহন করবেন।
উনি আমার জন্য একটা চাকরি আর ভিসার ব্যবস্থা করেছেন।
আচ্ছা, তাহলে তোমার আর কাজে আসা লাগবে না।
যাবার আগ পর্যন্ত প্রতি রবিবার আমি কাজে আসতে পারি।
না, ধন্যবাদ।
- বেচারা বোন তোমার! - আমার বোন?
আসলে এদেশে সবাই তাঁদের মায়েদেরকে একা ফেলে যায়।
আর রোজ,
ও ই এখন তোমার মায়ের শেষ সম্বল?
ও ওর বাকিটা জীবন তোমার মায়ের দেখাশোনা করে কাটিয়ে দেবে।
তোমার জন্য ফাদার ফ্লাডকে একটা চিঠি লিখলে ভালো হতো, রোজ।
আমার জন্য? আমার তো একটা চাকরি আছেই।
তুমি প্রতি রোববার ওই দজ্জাল কেলি'র দোকানে কয়েক ঘণ্টা কাজ করতে পারো।
কাউকে এভাবে সম্বোধন করা উচিৎ না।
আমার তো মনে হয় দজ্জাল শব্দটা তাঁর জন্য খুবই কোমল।
আসলে উনি তো এক ডাইনি বুড়ি।
আসলে, আমি তাঁর সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না।
ভালো।
সবাই বলে ওখানকার শীত আর গ্রীষ্ম এখানকার থেকে বেশি তীব্র।
হায় ঈশ্বর, ওর নতুন জামাকাপড় কিনতে হবেনা?
ও নিজেরটা কিনে নেবে, মা।
ও জামাকাপড়ের পেছনে নিজের টাকা কেন নষ্ট করবে?
কোন না কোন সময় ওর কিনতেই হবে। ও তো ওখানে...
- তোমাকে অপূর্ব লাগছে, ন্যান্সি। - ধন্যবাদ।
তোমাকে এতটাই সুন্দর লাগছে যে, আমাকে আর এখানে মানাচ্ছে না।
কেন?
কারণ, তুমি কাউন্টি ওয়েক্সফোর্ড এর সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে।
তুমি তোমার পছন্দমত যেকোনো পুরুষ বেছে নিতে পারো...
আর আমি আশা করছি রাগবি ক্লাব এর জর্জ শেরীডন সেরকমই কেউ একজন।
তোমার কি মনে হয়, ও...?
অবশ্যই।
আমি জানি তুমি ওকে পছন্দ করো, ন্যান্সি, কিন্তু ও তো আর গ্যারি কুপার নয়, তাই না?
আর ওই ছেলেগুলো আছে ওদের ব্লেজার আর তেলতেলে চুল নিয়ে।
- ওর চোখগুলো অসাধারণ। - হুমম...
আর ও বাজারে একটা সুন্দর দোকান দিতে যাচ্ছে।
তুমি তোমার নীল জামাটা পড়লেনা কেন?
তুমি কি জানতে চাইছ, আমি কেন কাউকে পটানোর চেষ্টা করছিনা?
কারণ আমি এখান থেকে চলে যাচ্ছি।
বুঝলে এবার?
চলো।
ও ইতোমধ্যে দু'বার এদিকে তাকিয়েছে।
না, তাকায়নি!
- ও এদিকেই আসছে। - ভুল দেখছো তুমি!
জর্জ শেরীডন কি করছে না করছে এ নিয়ে আমি মিথ্যা বলবো কেন?
আমার সাথে নাচবে তুমি?
তোমার সম্বল কি এগুলোই?
ওহ, এইলিশ।
আমার উচিৎ ছিল ভালো করে তোমার দেখাশোনা করা।
এই ব্যাগের বেশিরভাগ জামাকাপড়ই তোমার দেয়া।
আমি এবার অ্যামেরিকা যাচ্ছি যাতে নিজেই নিজেরটা কিনতে পারি।
তোমার যাবার কারণ যদি কেবলমাত্র এটাই হয়, তবে আমি আমার সব টাকা তোমার জন্য খরচ করতে রাজি।
এবং সানন্দেই।
কিন্তু আমি টাকা দিয়ে তোমার জন্য ভবিষ্যৎ কিনতে পারবো না।
তোমার যেমন জীবনযাপন দরকার তা ও কিনতে পারবো না।
আমি জানি।
কিন্তু তুমি আমার সাথে দেখা করতে একদিন ওখানে আসবে তো?
হ্যাঁ।
আর... তুমি নিজের খেয়াল রাখবে তো?
আমাকে নিয়ে তোমার চিন্তা করতে হবে না।
আর আমি মাঝে মাঝে বাড়িতেও আসবো, তাই না?
কারণ, আমাকে যদি চিরজীবনের জন্য...
তুমি এখনো তোমার জুতোগুলো ব্যাগে নাওনি।
ওগুলোর জন্যেও কিছু জায়গা লাগবে তো।
এই তো।
ওহ! আমি দুঃখিত।
সরো এখান থেকে।
এক নম্বর বিছানার নিচেরটা আমার জন্য।
তোমারটা উপরে।
নরকও এর থেকে ভালো।
- আর না। - আর অ্যামেরিকা যাবেন না?
অ্যামেরিকা থেকে বাড়িতে এসেই ভুল হয়েছে।
যেভাবেই হোক আমাকে এই ভয়ঙ্কর কেবিন থেকে বের হতে হবে।
চলো ধূমপান করতে যাই।
আমি ধূমপান করিনা।
তবে তৈরি হয়ে নাও। পরে দেখা হবে।
যদিনা ধূমপান করার সময় কোন সুদর্শন পুরুষের সাথে দেখা হয়ে যায়।
দেখে ভালোই লাগছে যে আবহাওয়া পূর্বাভাস দেখেও কেউ কেউ তাঁদের রাতের খাবার খাওয়া বন্ধ করেনি।
রাতে ভালোই ঝড় উঠবে মনে হচ্ছে,
তাই অন্য যাত্রীদের কেউই খাওয়া-দাওয়া করেনি।
হয়তো কয়েক চামচ স্যুপ খেয়েছে, কিন্তু খাসির ঝোল অন্তত না।
প্লিজ, খুলুন।
দূর হও এখান থেকে!
আমি দুর্গন্ধের জন্য দুঃখিত।
আর ওই বালতি।
চিন্তা কোরো না। পুরো নৌকাটাই দুর্গন্ধে ভরা।
এমনকি প্রথম শ্রেণীতেও।
যদিও আমাকে ওখান থেকে একটু আগে বের করে দেয়া হয়েছে।
বাথরুমের দরজা সারারাত লক ছিল।
ওহ, শুয়োরের দল।
এইতো। যদিও খুব আরামদায়ক হবে না, কিন্তু অন্তত এটা আমাদের।
- দরজা খোলো। - দূর হও।
- এক্ষুনি দরজা খোলো। - আমার কথা শুনতে পাচ্ছ না? দূর হও।
গত রাতে আমাদের সাথে ভালো আচরণ করলে আমরাও হয়তো ভালো আচরণ করতাম ।
- এখন তোমাদের কোন টয়লেট নেই। - বাথরুম থেকে বের হও।
তুমি একটা বেজন্মা।
যাও, এবার তুমি এটা ব্যবহার করতে পারো।
আমি কিছুটা পানি নিয়ে আসি। আর আপাতত এটাই তোমার খাবার।
তুমি কি অ্যামেরিকায় থাকার জন্য যাচ্ছ?
হ্যাঁ।
সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সব আছে তো?
হ্যাঁ। আর একটা চাকরিও।
এতকিছুর ব্যবস্থা কিভাবে করলে?
আমি কিছু করিনি। আমার বোনের পরিচিত একজন যাজক সবকিছুর ব্যবস্থা করেছেন।
তা, তোমার অনুভূতি কি?
আয়ারল্যান্ড থেকে চিঠি পৌঁছুতে কতক্ষণ লাগে?
আমার বোন রোজ বলেছে ও কিছুদিনের মধ্যেই পাঠাবে একটা।
প্রথমবার বেশ কিছুদিন সময় নেবে।
কিন্তু এরপর থেকে বেশি সময় লাগবে না।
অ্যামেরিকায় তোমার পরিবারের কেউ আছে? কিংবা বন্ধু?
না।
ব্যাপার না, তুমি সহজেই অনেকের সাথে পরিচিত হয়ে যাবে।
কোথায় থাকবে তুমি? ব্রুকলিন?
- আপনি কিভাবে জানলেন? - অনুমান মাত্র।
মনে রেখো, মাঝে মধ্যে অপরিচিত লোকের সাথে কথা বলাটা ভালো।
তাই নাকি?
হ্যাঁ, ঠিক তাই।
অনেকক্ষণ যাবৎ আমার অসুস্থ লাগছে না।
ব্যাপারটা ভালো, তাইনা?
আমি খুব ক্ষুধার্ত।
এজন্যই তুমি তোমার সুস্থতার কথা বললে!
আমরা আগামীকাল খাব।
অথবা তার পরের দিন।
বেচারি, তোমার একটা ব্যবস্থা করতে হবে।
এমন বেশে ওদেশে ঢুকতে গেলে ওরা তো তোমাকে রোগাক্রান্তদের দলে ঢুকিয়ে দেবে।
তেমন কিছু করা লাগবে না। বেশি জমকালো সাজও দরকার নেই।
ওহ, জমকালো সাজ দিলেও অবশ্য কোন সমস্যা নেই।
এটা খুব একটা খারাপ লাগছে না।
আমার বোন আমাকে এটা দিয়েছিলেন।
এর সঙ্গে এটাও পড়বে।
আর...
এটাও।
পরীক্ষার জন্য আপনাদের ব্যাগ প্রস্তুত রাখুন।
একেবারে গোবেচারা ভাব নিয়েও থেকো না।
আমি তোমাকে একটু মেকআপ আর মাস্কারা লাগিয়ে দিচ্ছি।
আর একটু আই লাইনার।
লাইন থেকে বেড়িয়ে আসুন, প্লিজ। ধন্যবাদ। পরের জন। ধন্যবাদ।
এই পথ ধরে যান, প্লিজ। লাইন থেকে বের হউন।
পরের জন। পাসপোর্ট, প্লিজ।
মাথা উঁচু করে হাঁটবে।
নিয়মিত জুতো পালিশ করবে।
আর সবকিছুই সবাইকে বলে বেড়াবে না।
এই পথে যান।
রুক্ষ আচরণ বা জবরদস্তি করবে না কখনো, কিন্তু বেশি কোমলও হওয়া চলবে না।
এদিকে যান।
চিন্তাভাবনা করবে একজন অ্যামেরিকানের মতো।
তোমাকে নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে নিশ্চিত থাকতে হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আপনাকে স্বাগতম, ম্যা'ম।
নীল দরজা দিয়ে এগোন, প্লিজ।
পরের জন, প্লিজ।
হে পালনকর্তা, আমাদের আশীর্বাদ করুন,
তুমি আমাদের খাবার দিয়েছ...
আর দিয়েছ প্রভু যীশুকে, আমিন।
আমিন।
আজ তো তোমার চিঠি এলো, ডায়ানা। কোন খবর আছে?
মিঃ ডি ভ্যালেরা'র চোখে আবারও অস্ত্রোপচার হয়েছে, আর উনি এজন্য হল্যান্ডে ছিলেন।
যে সমস্ত খবর সংবাদপত্রেই পাওয়া যায় সেসব খবর আমার চাই না।
যাই হোক, মিঃ ডি ভ্যালেরা আর রাজনীতি একই জিনিস
তাই না, মিসেস কিও?
আর আমরা খাবার টেবিলে রাজনীতি পছন্দ করি না।
অবশ্যই না।
চোখের অস্ত্রোপচার নিয়ে কথা বলাটা রাজনীতি নয়।
কিন্তু চোখটা একজন রাজনীতিবিদের!
আর আমি হাসপাতাল বিষয়ক কথাবার্তা বলতেও খুব একটা পছন্দ করিনা।
প্যাটি, ওই কোল্ড ক্রিমটির কি কোন খবর আছে?
না, মিসেস কিও। আমি প্রসাধনী বিভাগের মিস টাইলারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম।
আর তাঁকে বিজ্ঞাপনটাও দেখিয়েছি।
আমি এক কৌটা কোল্ড ক্রিমের জন্য সেই ম্যানহাটনে যেতে চাই না।
এইলিশ তুমি হয়তো বার্টোচিতে এ ব্যাপারে একটু খোঁজ নিতে পারো।
জী, মিসেস কিও।
ওহ, বার্টোচিতে এটা অবশ্যই আছে।
ও নিশ্চিতভাবে তা জানেনা, মিসেস কিও।
ও বলতে চাইছে বার্টোচি ওয়েবস্টারের চেয়ে ভালো দোকান...
যাতে প্যাটি রেগে যায়।
দু'টো দোকানই ভালো।
আর তোমরা যে সেখানে কাজ করতে পারছ সেটা তোমাদের ভাগ্য।
এইলিশ, তোমার ত্বক দেখে তো তৈলাক্ত মনে হচ্ছে।
ঠিক বললাম নাকি? তুমি কি করো এজন্য?
আমি... আমি শুধুমাত্র... সাবান ব্যবহার করি, মিসেস কিও।
No comments yet. Be the first to leave one.